পৃথিবীর সব চাইতে এফিশিয়েন্ট উপায়ে রান্না করে এমন দুইটা জাতির নাম বলতে হলে, চাইনিজদের নাম বলতেই হবে।

দুনিয়াতে মনে হয় এক মাত্র চায়নিজদের কিচেনে চুলার উপরেই পানির কল থাকে। রান্না করার সাথে সাথেই তারা বড় বড় করাই আগুনের উপরেই ধুয়ে ফেলে, একই কড়াইয়ে নতুন করে রান্না শুরু করতে পারে।

আমি কর্নেলে পড়ার সময় তিন জন চায়নিজ ছেলের সাথে থেকেছি। তাদের রান্না করার স্টাইল এবং এফিশিয়েন্সি দেখে আমি মুগ্ধ হয়েছিলাম। ওরা অতি মজার মজার রান্না মাত্র কয়েক মিনিটে বানিয়ে ফেলতো।

আমার এক রুম মেট ছিল চায়নার প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে আসা। নাম ছিল শিয়ান। ওর বাবা ছিল মাটির হাড়ি বানানোর কারিগর। চীনের অতি গরীব পশ্চিম অঞ্চলের এই ছেলে এসেছিল আমেরিকার শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর একটাতে ফিজিক্স-এ পিএইচডি করতে।

শিয়ানের গরু মাংস রান্নার টেকনিক আপনাদের বলবো আজকে।

হাড়িতে গরুর মাংস পানির মধ্যে ছেড়ে, অল্প একটু লবণ দিয়ে, সারা রাত খুব অল্প তাপে সিদ্ধ করতে দিয়ে ঘুমিয়ে পড়তো শিয়ান।

ঘুম থেকে উঠে চুলার আগুন নিভিয়ে দিয়ে কাজে চলে যেত। অর্থাৎ কোনো পরিশ্রম ছাড়াই লবণ সহ সিদ্ধ গরুর মাংস সকালে প্রস্তুত করে ফেলতো শিয়ান।

কাজ থেকে এসে সেই সিদ্ধ গরুর মাংসকে ছোট ছোট পিস করে কাটতো। তার পরে গোল একটা করাইয়ে তেল, মসলা, নানা ধরনের চায়নিজ সস সহ বিভিন্ন সব্জির মধ্যে সেই সিদ্ধ গরুর মাংসের টুকরাগুলোকে ঢেলে দিয়ে ৫ মিনিট নাড়াচাড়া করেই উঠিয়ে ফেলতো।

এই কাজ করার এক ফাঁকে রাইস কুকারে ভাত বসিয়ে দিতো। দশ মিনিটের মধ্যে ভাত, গরুর মাংস ও সব্জির তরকারি, এবং কিছু কাঁচা ফলমূল নিয়ে ডিনার করতে বসতো। এই মজার খাবার প্রিপারেশনের টাইম খুব বেশি হলে ওর লাগতো ২০ মিনিট।

এত কম সময় লাগার কারণ হচ্ছে, আমাদের রান্নার সব চাইতে বেশি সময় নষ্ট হয় মাংস ভুনা করতে এবং সিদ্ধ করতে। শিয়ানের টেকনিকে সিদ্ধ করার টাইমটাতে আপনি ঘুমাতে পারবেন। খুব অল্প তাপে সারারাত খুব ভালো মতো মাংস সিদ্ধ হবে এবং মাংসের গভীরে লবণ ঢুকে যাবে। পরে অন্যান্য মশলা যোগ করে হালকা নাড়াচাড়া করলেই মজার রান্নার কাজ শেষ হয়ে যাবে ।

এই একই স্টাইলে যে কোনো প্রোটিন রান্না করতে পারবেন আপনি (মাছ, মাংস, মুরগী ইত্যাদি)।

অ্যাকসিডেন্ট এড়াতে শিয়ানের মতো অল্প তাপে মাংস সিদ্ধ করতে দিয়ে ঘুমাতে হবে না। আপনি বেশি তাপে মাংসটাকে দ্রুত সিদ্ধ করেও নিতে পারেন। তাতেও আপনার একই পরিমাণ সময় বাঁচবে।

আগে থেকে সিদ্ধ মাংস রান্নার কায়দাটা যদি ঠিক মতো বুঝে যান, দেখবেন যে আপনার ফাইনাল রান্না বেশ সুস্বাদু হচ্ছে এবং সশরীরে উপস্থিত থেকে রান্না করার সময় অনেক অনেক কমে গেছে।

Recommended Posts

No comment yet, add your voice below!


Add a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *