জনসন অ্যান্ড জনসন এর করোনা ভ্যাকসিন—সেপ্টেম্বরে টেস্ট শুরু, বাজারে আসবে ২০২১ সালে

গত ৩০ মার্চ বিশ্বের বৃহত্তম হেলথকেয়ার কোম্পানি জনসন অ্যান্ড জনসন, করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন নিয়ে তাদের কাজের আপডেট জানিয়েছে। তাদের হিসাব মতে, সামনের বছরের শুরুর দিকেই তারা ভ্যাকসিনটি বাজারে ছাড়তে পারবে।

এরই মধ্যে ভ্যাকসিন সিন্থেসিসের মূল অংশটি চিহ্নিত করার কাজ শেষ বলে জানিয়েছে কোম্পানিটি। গ্রীষ্মের পর পরই তারা হিউম্যান ট্রায়াল শুরু করবে। আর ট্রায়াল চলবে এ বছরের শেষ পর্যন্ত। এর মধ্যে তারা চেষ্টা করবে ভ্যাকসিনটাকে যতটা সম্ভব কার্যকরী ও নিরাপদ করা যায়।

জনসন অ্যান্ড জনসন এর চিফ সায়েন্টিফিক অফিসার পল স্টফেলস একথা বলেন, আমরা আমাদের নির্ধারিত টাইমলাইনের চেয়ে অনেক এগিয়ে আছি। আশা করছি সেপ্টেম্বর এর মধ্যে PHASE-1 অর্থাৎ হিউম্যান ট্রায়াল শুরু করতে পারব। এর মধ্যে আমাদের ফ্যাক্টরিগুলির উৎপাদন ক্ষমতা বাড়ানোর চেষ্টা করছি, যাতে বৈশ্বিক চাহিদা মেটানোর মত সাপ্লাই আমরা দিতে পারি।

নিউ জার্সি ভিত্তিক ফার্মাসিটিকাল জায়ান্টটি নিশ্চিত করেছে, তাদের ভ্যাকসিন হবে সাধারণ মানুষের জন্যে। মুনাফা নয়, প্যানডেমিক থেকে বিশ্বকে বাঁচানোই তাদের মূল উদ্দেশ্য বলে তারা করছে দাবি। এজন্য অন্তত ১ বিলিয়ন ভ্যাকসিন উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে প্রোডাকশন লাইন প্রস্তত করছে জনসন অ্যান্ড জনসন।

এ বছরের জানুয়ারি মাস থেকে করোনাভাইরাসের জেনেটিক সিকোয়েন্স নিয়ে গবেষণা চালাচ্ছে জে অ্যান্ড জে। তাদের সহযোগী প্রতিষ্ঠান হিসেবে আছে বেথ ইসরায়েল ডিকন্স মেডিকেল সেন্টার। সম্ভাব্য বেশ কয়েকটি ভ্যাকসিনের মধ্যে যে ভ্যাকসিনটির ইমিউন রেসপন্স সবচেয়ে ভালো এর মধ্যে সেটি শনাক্ত করতে পেরেছে তারা।

পুরো উদ্যোগের পেছনে আরো সহায়তা করছে বায়োমেডিকেল অ্যাডভান্সড রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অথরিটি ‘BARDA’। জে অ্যান্ড জে এবং BARDA ভ্যাকসিন আবিষ্কারের জন্য মিলিতভাবে ১ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করবে বলে সম্মত হয়েছে।

জে অ্যান্ড জে’র আগের পরিকল্পনা ছিল নভেম্বর মাসে হিউম্যান ট্রায়ালে যাওয়ার। কিন্ত কাজের অগ্রগতি দ্রুত হয়েছে বলে এখন তারা দুই মাস আগেই হিউম্যান ট্রায়ালে যেতে পারবে। সব নিরাপত্তা আর রেগুলেশন বজায় রেখে একটা ভ্যাকসিন বাজারজাত করতে সাধারণত ৫-৭ বছর লেগে যায়। কিন্ত এরকম সংকটের সময়ে দরকার হলে ১ বছরের মধ্যে জরুরি অনুমোদন নিয়ে ভ্যাকসিন বাজারে ছাড়বে বলে জানিয়েছে জে অ্যান্ড জে।

করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিনের জন্য এখন বিশ্বজুড়ে অন্তত ৪০টি ভিন্ন ভিন্ন গবেষণা প্রোগ্রাম চলছে। সবারই উদ্দেশ্য যত কম সময়ে ভ্যাকসিন তৈরি করা যায়। করোনাভাইরাসের ক্ষেত্রে, সবচেয়ে দ্রুততম সময়ে ভ্যাকসিনের হিউমান ট্রায়াল করার রেকর্ড হয়েছে এবার।

তবে সংক্রামক ব্যাধির নামকরা বিশেষজ্ঞ অ্যান্থনি ফসি-সহ ইউএস আমেরিকার বড় বড় বিশেষজ্ঞরা বার বার মনে করিয়ে দিচ্ছে, একটা ভ্যাকসিনের সক্ষমতা এবং নিরাপত্তা যাচাই করতে অন্তত এক বছর দেখতে হবে। 

অনুবাদ. আমিন আল রাজী
সূত্র. বিজনেস ইনসাইডার, ৩০ মার্চ ২০২০