জেগে থাকার জন্য কফির বদলে বরং চা খান

চা

রাত জেগে পড়ালেখা বা অফিসের কাজ করার জন্য বেশিরভাগ মানুষের প্রথম আশ্রয় কফি। দিনের বেলায়ও মনোযোগ ধরে রাখতে কর্মব্যস্তদের কাছে কফির গ্রহণযোগ্যতাই বেশি। কিন্তু জেগে থাকা ও মনোযোগ ধরে রাখা—এ দুই চাহিদা একসঙ্গে পূরণের জন্য কফির চাইতে চায়ের দিকে গেলেই বরং আপনার জন্যে ভালো হবে।

ক্যাফেইন, কফি আর চায়ে পার্থক্য কতটুকু?

কফি আর চা এর মাঝে নিজস্ব অনেক প্রকার ভেদ আছে। তবে গড় হিসাব করলে, চা পাতা আর কফি বীনে ক্যাফেইনের পরিমাণ প্রায় সমান। কিন্তু প্রতি কাপ চা বানানোর জন্য এক চা চামচ চা পাতা লাগে, যেখানে কফির একেক কাপে কফি বীন দরকার হয় প্রায় এক টেবিল চামচ। এর ফলে এক কাপ কফিতে ক্যাফেইনের পরিমাণ চায়ের চাইতে প্রায় দুই থেকে তিন গুণ বেশি হয়।

দ্য গার্ডিয়ান পত্রিকার দেওয়া তথ্যমতে, ১০০ গ্রাম জ্বাল দেওয়া চায়ে ক্যাফেইন থাকে ২০ মিলিগ্রাম। আর কফিতে সেই পরিমাণ প্রায় ৪০ মিলিগ্রামের মতো। তাছাড়া কফি বা চা কতক্ষণ ধরে জ্বাল দেওয়া হচ্ছে তার ওপরেও অবশিষ্ট ক্যাফেইনের পরিমাণ নির্ভর করে। পাঁচ মিনিট যাবৎ জ্বাল দেওয়া চায়ে প্রথম ৩০ সেকেন্ডে মাত্র ২০% থেকে ৩০% ক্যাফেইনের নির্যাস মিশ্রিত হয়। অথচ চায়ের বাকি যেসব পুষ্টিগুণ রয়েছে, তার একটা বড় অংশ প্রথম ত্রিশ সেকেন্ডেই পাতা থেকে পানির সাথে মিশে যায়।

চায়ের ক্যাফেইনের বিশেষত্ব কী?

চায়ে বিশেষ ধরনের কিছু এনজাইম (এল-থিয়েনিন) থাকে, যা আপনার শরীরে ক্যাফেইনের প্রতিক্রিয়াকে ধীরগতির করে আনে। এতে করে আপনার দেহ অনেক সময় ধরে এনার্জি পায়; একই সাথে ক্যাফেইনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসাবে যে ডিহাইড্রেশন দেখা যায় তা বাধাপ্রাপ্ত হয়। ফলে কফির ক্ষেত্রে যেমন হুট করে ক্যাফেইনের মাত্রা অতিরিক্ত বেড়ে যাওয়া বা কমে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে, তেমনটা চায়ের ক্ষেত্রে হয় না।

চা আপনার এনার্জি লেভেল বাড়াতে সাহায্য করে। ফলে আপনি লম্বা সময় ধরে কোনো কাজে মনোনিবেশ করতে পারবেন। গড় হিসাবে প্রতি মগ চা আপনাকে প্রায় ত্রিশ মিনিট বাড়তি সজাগ রাখে।

গ্রীন টি ও চায়ের অন্যান্য উপকারিতা

গ্রীন টি-তে ইজিসিজি নামের এক প্রকার ট্যানিন থাকে। ইজিসিজির কারণে চায়ে হালকা কষা একধরনের স্বাদ পাওয়া যায়। এ বৈশিষ্ট্যের কারণেই চা খাওয়ার পর আমাদের মুখের ভেতরটা বেশ পরিষ্কার আর ফ্রেশ মনে হয়। ইজিসিজি সক্রিয় যৌগ হওয়ায় তা অন্যান্য জৈব অণুর সাথে বিক্রিয়া করে কোষের নানারকম প্রক্রিয়ায় অংশ নেয়।

তাছাড়া ইজিসিজি শক্তিশালী অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট হিসাবে পরিচিত। অক্সিডেশন প্রক্রিয়ায় আমাদের কোষের যে ক্ষয় হয় তা ইজিসিজি রোধ করতে পারে। ক্যান্সার প্রতিরোধে তাই এর ভূমিকা আছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আমেরিকার দ্য ন্যাশনাল ক্যান্সার ইন্সটিটিউটের গবেষণার তথ্যমতে, নানা রকমের ক্যান্সারের জন্য ইজিসিজি বাধা হিসেবে কাজ করে, যদিও তা কীভাবে ঘটে তা স্পষ্ট জানা যায় নাই।

নিউট্রিয়েন্টস নামক এক জার্নালে ২০১৫ সালের একটি গবেষণার ফল থেকে জানা যায়, ‘মেটাবোলিক সিন্ড্রোম’ নামক বিভিন্ন প্রকার ব্যাধির ঝুঁকি কমাতে ইজসিজির ভূমিকা আছে। এর মধ্য থেকে কিছু ব্যাধির কারণেই শরীর মোটা হয়। তাই গ্রীন টি আপনার পরিমিত ডায়েটের সাথে নিয়মিত খেলে স্থূলতা থেকে দূরে থাকা সম্ভব।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here