হার্ভার্ডের একটি গবেষণায় দেখা গেছে, দই টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমায়। তবে দই ছাড়া অন্যান্য দুগ্ধজাত খাবার ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমায় না।

দই-এ থাকে ক্যালসিয়াম, ভিটামিন, প্রোটিন এবং কিছু কিছু দই-এ প্রোবায়োটিক থাকে। কারো কারো মতে, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসে দই থাকা উচিৎ। আবার অনেকে দাবি করেন, এটা আয়ু বাড়ায়। এবার হার্ভার্ডের একটি গবেষণায় দেখা গেল দই ডায়াবেটিস হওয়ার ঝুঁকিও কমায়।

হার্ভার্ডের স্কুল অব পাবলিক হেলথের অধ্যাপক ও সিনিয়র গবেষক ড. ফ্র্যাঙ্ক হু এক বিবৃতিতে বলেন, বেশি পরিমাণে ইয়োগার্ট বা দই খেলে টাইপ-২ ডায়াবেটিস হওয়ার ঝুঁকি কমে। কিন্তু দুধ বা অন্যান্য দুগ্ধজাত খাদ্যের এর সাথে কোনো সম্পর্ক নেই।

পৃথিবীতে প্রায় ৩৬৬ মিলিয়ন মানুষের ডায়াবেটিস আছে। যাদের রক্তে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি মাত্রায় সুগার আছে তাদের ডায়াবেটিস হওয়ার ঝুঁকি বেশি। রক্তে সুগার বেশি থাকাকে ডায়াবেটিকের পূর্বাবস্থা বিবেচনা করা হয়। ডায়াবেটিসের পূর্বাবস্থায় আছে কিন্তু যারা ওজন কমাতে ব্যর্থ হয়েছেন এবং ব্যায়াম করেন না তাদের আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে টাইপ-২ ডায়াবেটিস হওয়ার আশঙ্কা আছে।

ডায়াবেটিসের ওপর দই এর প্রভাব বোঝার জন্য এক গবেষক দল তিনটি গবেষণামূলক পর্যবেক্ষণ চালান। তারা যুক্তরাষ্ট্রের মেডিকেল হিস্টোরি এবং স্বাস্থ্য সম্পর্কিত পেশার সাথে জড়িত থাকা মানুষের জীবনাচরণের অভ্যাস পর্যবেক্ষণ করেন। পর্যবেক্ষণ করা লোকদের মধ্যে ছিলেন, নারী নার্স ও পুরুষ ডেন্টিস্ট, ফার্মাসিস্টস, পশু চিকিৎসক ও ফিজিশিয়ান।

তাদেরকে তাদের লাইফস্টাইল এবং তাদের দীর্ঘস্থায়ী অসুখ নিয়ে প্রশ্ন করা হয়। তারপর তাদের প্রতি দুই বছরে একবার করে পর্যবেক্ষণ করা হয়। তাদের সকল তথ্য যাচাইয়ের আগে, যেসকল সদস্য তাদের দুগ্ধজাত খাদ্য গ্রহণের তথ্য যুক্ত করেননি এবং যাদের ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, ক্যান্সার আছে তাদের শুরুতেই বাদ দিয়েছিলেন গবেষকরা।

আর বাকিদের মধ্যে দেখা যায় ১৫৬ জনের মধ্যে ১৫ জনের টাইপ-২ ডায়াবেটিস হয়েছে এই পর্যবেক্ষণকালীন সময়ের মধ্যে। গবেষকরা দেখেন টাইপ-২ ডায়াবেটিসের সাথে কী পরিমাণ দুগ্ধজাত খাবার বা দুধ খাওয়া হয় তার সম্পর্ক নেই। এরপর গবেষকরা আলাদা আলাদা একেকটি দুগ্ধজাত পণ্যের ওপর নজর দেন। এই তালিকায় ছিল স্কিম মিল্ক, পনির এবং দই।

তারা দেখতে পান টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমার সাথে দই খাওয়ার সম্পর্ক আছে। আরো নির্দিষ্ট করে বললে তারা দেখেন, প্রতিদিন ২৮ গ্রাম পরিমাণ দই খেলে টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি ১৮ শতাংশ কমে যায়।

গবেষণা প্রতিবেদনের শেষে বলা হয়, যেহেতু আমরা নির্দিষ্ট কোনো ধরনের বা ব্র্যান্ডের দই এর ওপর পর্যবেক্ষণ কর নি সুতরাং দই এর কোন কোন বৈশিষ্ট্যের কী কী উপকারিতা তা বলা কঠিন।

গবেষকরা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে দইকে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের তালিকায় যুক্ত করার পরামর্শ দেন। আপনি চাইলে বাড়িতেই দই তৈরি করতে পারেন, অনলাইনেই দই বানানোর প্রচুর রেসিপি পেয়ে যাবেন।