গত ১২-১৩ মার্চ ডেনমার্কের মানুষজন করোনা ভাইরাসের ভয়ে বেশি করে দ্রব্যসামগ্রী মজুদ করে রাখার জন্য আতঙ্কিত হয়ে ‘প্যানিক বায়িং’ শুরু করে। কিন্তু পরে সরকার এ ব্যাপারে তাদেরকে আশ্বস্ত করলে পরিস্থিতি শান্ত হয়।

ডেনমার্কের এক সুপারমার্কেট ফ্র‍্যাঞ্চাইজের মালিক জানান, ক্রেতাদের আতঙ্কিত কেনাকাটার কারণে বাজারে শুরুতে ঈস্ট ও টয়লেট টিস্যুর অভাব দেখা দিলেও এখন সেগুলি পুনরায় মজুদ করা হয়েছে। তবে ডেনমার্কের মালামাল সাপ্লাই দেওয়ার ক্ষেত্রে হাসপাতালগুলির দিকে সবচেয়ে বেশি মনোযোগ দেওয়া হচ্ছে। তাই বর্তমানে সুপারমার্কেটগুলিতে অ্যালকোহল-জেল হ্যান্ড স্যানিটাইজারের সংকট আছে।

প্যানিক বায়িংয়ের সময় এই ফ্র‍্যাঞ্চাইজের মালিক সিদ্ধান্ত নেন—কেউ যদি একটার বেশি হ্যান্ড স্যানিটাইজার কিনতে চায়, তাহলে প্রথমটার জন্য তাকে ৪০ ড্যানিশ ক্রোন দিতে হবে (যা একটি স্যানিটাইজারের স্বাভাবিক দাম), আর দ্বিতীয়টা তাকে কিনতে হবে ১০০০ ড্যানিশ ক্রোন দিয়ে। এই নির্দেশনা দিয়ে তার মার্কেটে যে সাইন ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছিল, সেটা সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে।

কেউ যদি একটার বেশি হ্যান্ড স্যানিটাইজার কিনতে চায়, তাহলে প্রথমটার জন্য তাকে ৪০ ড্যানিশ ক্রোন দিতে হবে (যা একটি স্যানিটাইজারের স্বাভাবিক দাম), আর দ্বিতীয়টা তাকে কিনতে হবে ১০০০ ড্যানিশ ক্রোন দিয়ে।

ফ্র‍্যাঞ্চাইজ মালিক জানান, তারা এর আগেও কিছু কিছু পণ্যে এরকম ব্যবস্থা নিয়েছিলেন; যেখানে কোনো দ্রব্যের এক পিস কেনার জন্য স্বাভাবিক দাম দিতে হলেও আরেক পিস বাড়তি নিতে চাইলে সেটা বেশি দাম দিয়ে নিতে হয়। তবে এইবার হ্যান্ড স্যানিটাইজারের ক্ষেত্রে এক পিস বেশি কেনার জন্য দ্বিতীয়টার দাম অতিরিক্ত বাড়িয়ে দেন তারা, যাতে ক্রেতারা অযথা জিনিসপত্র মজুদ করে রাখতে নিরুৎসাহিত হয়।

১৭ মার্চের একটি সংবাদ সম্মেলনে ডেনমার্কের খাদ্যমন্ত্রী জানান, তারা এখনো আন্তর্জাতিক বাণিজ্য চালু রেখেছেন, যাতে খাদ্যপণ্যের আমদানি-রপ্তানিতে কোনও বাধা তৈরি না হয়। সংবাদ সম্মেলনে আরেকটি সুপারমার্কেট চেইনের প্রতিনিধি জানান, তাদের ৩০০০ মার্কেটের সবগুলিতেই এবং তাদের গুদামঘরেও সকল পণ্যের পূর্ণাঙ্গ সাপ্লাই আছে। কাজেই ক্রেতারা ঠাণ্ডা মাথায় কেনাকাটা করতে পারেন।

সুপারমার্কেটে কাজ করার জন্য বেশি করে লোক নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে ডেনমার্কে। তাছাড়া খাদ্য সরবরাহের দায়িত্বে থাকা কোম্পানিরা তাদের কর্মীদেরকে দুইটি দলে ভাগ করে নিয়েছে। একদল বাসায় থাকছে, যাতে করে খোলা জায়গায় যারা কাজ করছেন তারা অসুস্থ হয়ে পড়লে দ্রুতই তাদের খালি জায়গা পূরণ করে ফেলা যায়।

সূত্র. দ্য লোকাল ডেনমার্ক

Recommended Posts