নতুন জামা

0
50

এই জামাটা গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই জামাটা আমি বানাইছিলাম একটা ছেলেকে ইমপ্রেস করার জন্য।

ছেলেটা হইল তনয়, আমার কাজিনের কাজিন।

আমি তখন ক্লাস নাইনে পড়ি। পদ্ম আপুর বিয়েতে প্রথম দেখছিলাম তনয় ভাইয়াকে। দেইখাই আমার ভাল লাগছিল। ওই বিয়েটা ছিল ময়মনসিংহে। বিয়ে শেষ কইরা আমাদের গাড়িতে কইরা ফিরার সময় জানালা দিয়ে বাতাস আসতেছিল। বৃষ্টি হওয়ার পরের ঠাণ্ডা বাতাস, হুহু বাতাস না। আর আমারও খুব ভাল লাগতেছিল। মনে হইতেছিল প্রেম হয়ে গেছে, বা প্রেমে পড়ার আনন্দ—তখন কী মনে হইছিল জানি না।

এরপরে অনেকদিন পরে একবার গ্রামে গিয়া আমরা ঠিক করি কিশোরগঞ্জ যাব, তনয় ভাইয়ার সাথে দেখা করতে। ওরা কিশোরগঞ্জে থাকত। আমরা সব কাজিনরা অটোতে কইরা আমাদের গ্রাম থেকে কিশোরগঞ্জ গেলাম।

অটোটা থামতেই তনয় ভাইয়া আর ইহাম ভাইয়াকে দেখলাম।

একটা গোল চশমা পরছিল তনয় ভাইয়া, এত সুন্দর লাগতেছিল! আমি তাকায়েই ছিলাম ওর দিকে। আমার মুখ হাত ওই ঠাণ্ডার মধ্যেও গরম হয়ে যাইতেছিল লজ্জায়।

বিশ সেকেন্ডও হবে না আমরা পৌঁছাইছি, প্রীতি অটো থেকে নাইমা সাথে সাথে তনয় ভাইয়ার চশমাটা নিয়া নিল। আমার এত মন খারাপ হইল। তনয় ভাইয়াকে দেইখা মনে হইতেছিল চশমাটা প্রীতি নেওয়ায় সে খুশি হইছে, আর ওর জন্যই ও চশমাটা পইরা আসছে।

আসলেই খুব খুশি লাগতেছিল তনয় ভাইয়াকে। দেখা হওয়ার পরে যেমন ছিল, তার চেয়ে অনেক হাসিখুশি লাগতেছিল প্রীতি চশমাটা পরার পরে।

একটা ব্রিজের সামনে আমরা দাঁড়াইলাম। প্রীতি শুধু ব্রিজের উপরে উইঠা বসছিল। তখন তনয় ভাইয়া ওর মুখোমুখি দাঁড়ায়েছিল। প্রেমিক প্রেমিকারা যেভাবে দাঁড়ায় সেভাবেই।

আমার মনে হইল আমি কেন আসলাম কিশোরগঞ্জ! আর কখন চইলা যাইতে পারব এখান থেকে। আর কোনো কিছু চিন্তা করতেছিলাম না, ব্রিজের নিচের পানির দিকে তাকায়ে ছিলাম। রাহাত ভাইয়া একবার জিজ্ঞাসাও করল আমার মন খারাপ কিনা। আমি বললাম, “না।”

ব্রিজে ওরা দুইজন আমাদের থেকে আলাদা হয়ে কথা বলতেছিল। তনয় ভাইয়া আর প্রীতি একজন আরেকজনের সাথে কথা বলতেছিল আর বাকিরা সবাই একসাথে কথা বলতেছিল।

আমরা যতটা সময় হাঁটলাম, খাইলাম, ওরা দুইজন আলাদা হইয়া আমাদের সামনে সামনে হাঁটল। তাই পিছন থেকে আমার ওদেরকে দেখতেই হইল।

সারাটা সময় প্রীতি চশমাটা পইরা ছিল। ঠিক আসার সময় চশমা ফিরত দিল।

পরের বার আমাদের গ্রামে যাওয়ার অকেশন ছিল দাদির মৃত্যুবার্ষিকী। খুব বড় কইরা কাকা অনুষ্ঠান করবে। তাই অনেকদিন আগে থেকেই জানতাম যে বাড়িতে যাওয়া হবে। তখন তনয় ভাইয়া আর ইহাম ভাইয়ার সাথে আমাদের নিয়মিত কথাও হইত হোয়াটসঅ্যাপে কাজিনদের গ্রুপে। তনয় ভাইয়া আসবে শোনার পরে আমি জামাকাপড় দেখা শুরু করলাম।

মনে মনে চাইলাম তনয় ভাইয়াকে ইমপ্রেস করতে। কিন্তু মনমতো কোনো জামা পাইলাম না। পরে একদিন কোচিং থেকে ফিরার সময় আব্বুর সাথে রাজধানীতে গিয়া এই জামার কাপড়টা কিনলাম। ওইখানে কালেকশন খুব কম ছিল এবং কোনোটাই বেশি সুন্দর না। আমার এটাই একটু ভাল লাগল। এটা কিনলাম আর আস্তরের জন্য একটা কালো কাপড় কিনলাম। ওইটার কোয়ালিটিও খারাপ।

ওইদিনই বাসায় যাওয়ার পথে টেইলার্সে দিয়া আসলাম জামাটা। লুজ কইরাই বানাইতে বললাম। তখনো অত অশালীন হওয়া সম্ভব ছিল না আমার পক্ষে। জামাটার ডিজাইন প্রীতির একটা কামিজের ডিজাইনের মতো দিছিলাম। কিন্তু ওরটা ছিল হাতাকাটা আর আমারটার হাতা ফোর কোয়ার্টার।

জামা পরার পরে বেশি পছন্দ হয় নাই আমার। কালারটা এমন অন্ধকার। তবে অনুষ্ঠানের দিন ভালই লাগতেছিল। অনেকক্ষণ আয়নায় চেহারা দেইখা আমি বের হইলাম।

তনয় ভাইয়ার সাথে ভালভাবে দেখা হইল সেদিন বিকালে। আমার দিকে কিছুক্ষণ তাকায়ে ছিল তনয় ভাইয়া। আমার ভাল লাগল, প্রীতি পাশে শুইয়া ছিল, কিন্তু ও আমাকে দেখতেছে।

কিন্তু সাথে সাথেই খারাপ লাগল। একটা জামা পরাতে আমার দিকে তনয় ভাইয়া তাকাচ্ছে বোঝার পরে আমার ওকে বেশি ভাল লাগল না। কিন্তু ওই ভাল না লাগা অল্পসময়ের জন্যই। আসলে ওর জন্য অনেকদিন আমার ভালবাসা ছিল।

(জামাটা বানানোর সময় ফোর কোয়ার্টার স্লিভ ছিল, পরে স্লিভলেস করা হইছে।)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here