নাগরীর পথ ধ’রে

0
52

নাগরীর পথ ধ’রে ফেরার পথে তোলা। তিতাস ভাই (রফিক-উম-মুনীর চৌধুরী) তুলেছিলেন এই ছবিটা। বামপাশে ফলের রস পানরত যিনি, তিনি আমাদের মনসুর মুসা স্যার। মানুষ যে কত বড় হতে পারেন, তা মনসুর মুসা স্যার সহ জনকয়েক মানুষের সাথে পরিচয় না হলে হয়তো জানাই হতো না আমার। গভীর জ্ঞানের কথাকে হালকা রসিকথার ছলে কখনো কয়েকটামাত্র শব্দে, কখনোবা কেবলই একটা স্বরভঙ্গির ভিতর দিয়ে মুহূর্তে আমার সারা অস্তিত্বজুড়ে অর্থবান ক’রে দিতে পারেন তিনি। দিয়ে থাকেন প্রায় প্রতিদিনই।

মনসুর মুসা স্যারের সাথে আমার যোগাযোগের প্রথম সূত্র বিশ্ববিদ্যালয়-জীবনের প্রিয়তম শিক্ষক ড. মনিরুজ্জামান স্যার। মনসুর মুসা স্যারেরও শিক্ষক ছিলেন তিনি। আমাদের বাঙলা বিভাগের ক্লাসরুমে প্রথম যেদিন স্যারকে দেখেছিলাম সেদিন থেকে আজকের দিন প‏র্যন্ত আমার সমগ্র সত্তাকে স্নেহের, প্রেমের, জ্ঞানের আলোয় ভ’রে রেখেছেন তিনি।

তিতাস ভাই আর আমাকে মানুএল দা আসুম্পসাওঁ-এর ঘরটা দেখাতে নিয়ে গিয়েছিলেন মনসুর মুসা স্যার। ঘর মানে গীর্জার লাগোয়া কাজকামরা। যেহেতু পাদ্রী ছিলেন আসুম্পসাওঁ। খ্রীষ্টধর্ম প্রচারের কাজে ঢাকার কাছে ভাওয়ালের নাগরীতে এসে বাঙলা শেখেন তিনি। ওখানেই বসে লিখেন প্রথম বাঙলা শব্দকোষ ও ব্যাকরণগ্রন্থ। ছাপা হয় পোর্তুগালের লিসবন শহরে, রোমান হরফে, ১৭৪৩ খ্রীষ্টাব্দে।

২০১৭ সালের ১৫ই ডিসেম্বর সকালে রওয়ানা হই মনসুর মুসা স্যার, তিতাস ভাই ও আমি। বাঙলাভাষার প্রথম শব্দকোষ সঙ্কলক ও ব্যাকরণ রচয়িতার স্মৃতিবিজড়িত গীর্জাপ্রাঙ্গনে কখনো আড্ডামুখর, কখনো ধ্যানমগ্ন, সকাল, দুপুর, বিকেল কাটিয়ে ফেরার পথে মৌসুমী ফলের রসে ভরা এই দোকানে থামলাম আমরা। কাটালাম আরও কিছু সরস সময়। সেই সময়েরই একটা মুহূর্ত তিতাস ভাইয়ের হাতে ধরা ক্যামেরায় হ’য়ে রইলো স্থির ও বাঙ্ময়।

কোবার্গ, ভিক্টোরিয়া, ২১শে জুলাই ২০২০

Previous articleআমাদের হাঁস-মুরগি
Next articleসুখী মানুষেরা কী করে
ভাষাতাত্ত্বিক ও অনুবাদক।  জন্ম ১৯৮০ খ্রিস্টাব্দ, কক্সবাজার। বর্তমান নিবাস মেলবোর্ন। সাহিত্য, ভাষাতত্ত্ব, অনুবাদ প্রভৃতি বিষয়ে প্রবন্ধ লিখে থাকেন। সম্পাদিত স্যাটায়ার অণুকাগজ “গুরুচণ্ডাল”। সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান ‘বিশদ বাঙলা’র ঘরোয়া কাগজ “বিশদ সংবাদ”-এর নির্বাহী সম্পাদক ছিলেন। ‘কাঠামোবাদ, উত্তর কাঠামোবাদ ও রলাঁ বার্থ’ শিরোনামে বক্তৃতা করেছেন ‘বিশদ বাঙলা’ থেকে বিবর্তিত প্রতিষ্ঠান ‘বিস্তার : চিটাগাং আর্ট কম্পেক্স’ এর ডাকে সাড়া দিয়ে। অনুবাদভিত্তিক সাহিত্যপত্র “সিন্দাবাদ”-এর ‘মারিয়ো বার্গাস ইয়োসা’ সংখ্যার অতিথি সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন। “আগুনখোলা”, “উলুখাগড়া”, “কথা”, “উত্তরাধিকার” (নব পর্যায়), “আর্টস্‌” (বিডিনিউজ২৪), “সত্যজিৎচর্চা”, “প্রথম আলো”, “পোনামাছের ঝাঁক” সহ নানান মুদ্রণ ও বৈদ্যুতিন মাধ্যমে প্রবন্ধ, নিবন্ধ ও কবিতা প্রকাশিত হয়েছে। এহসানুল কবির। আলোকচিত্রী. কার্লি ব্রান্সউইক। ৩ এপ্রিল ২০১২। ভিক্টোরিয়া, অস্ট্রেলিয়া।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here