“যে কাজগুলির জন্য আপনি এই প্ল্যাটফর্ম বেছে নিয়েছিলেন, একবার যখন সেই পছন্দের কাজগুলির সাথে নিজের কাজের পার্থক্য দেখতে শুরু করেন, তখনই আপনার কাজের ব্রেকথ্রু শুরু হয়।”

পটভূমিকা

আর্নো রাফায়েল মিনকিনেন: ‘স্টে অন দ্য বাস। স্টে অন দ্য ফাকিং বাস’ (‘Stay on the bus. Stay on the f*cking bus’), ফাইন্ডিং ইওর ওউন ভিশন, নিউ ইংল্যান্ড স্কুল অফ ফটোগ্রাফি, ২০০৪। 

২০০৪ সালে ‘নিউ ইংল্যান্ড স্কুল অফ ফটোগ্রাফি’র ডিগ্রি প্রদান অনুষ্ঠানে আর্নো রাফায়েল মিনকিনেন এই বক্তৃতাটি দেন। বক্তৃতার শিরোনাম ‘দ্য হেলসিঙ্কি বাস স্টেশন থিওরি: ফাইন্ডিং ইওর ওউন ভিশন ইন ফটোগ্রাফি’।

জুন, ২০০৪, নিউ ইংল্যান্ড স্কুল অফ ফটোগ্রাফি, ওয়ালথাম, ম্যাসাচুসেটস, যুক্তরাষ্ট্র

নিজের দৃষ্টিভঙ্গি
আর্নো রাফায়েল মিনকিনেন, ফিনিশ আমেরিকান ফটোগ্রাফার
বক্তৃতার প্রতিলিপি

ফটোগ্রাফি মিডিয়ামটি নিয়ে আমরা একটি সমুদ্রসম পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। এই পরিবর্তনের সাথে সমুদ্রের জলোচ্ছ্বাসের তুলনা করলে বেশি যথাযথ হবে। যদিও ক্যামেরার বডিতে লেন্স এখনও দৃঢ়ভাবে স্থির অবস্থায় আছে, ক্যামেরার বডিই নানান ভাঙ্গা-গড়ার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।

ট্যালবটের আমল থেকে (যখন তার স্ত্রী ক্যামেরাকে ‘মাউসট্র্যাপ’ বলতেন, সবসময় এগুলির ওপর হোঁচট খেয়ে পড়তেন) ক্যামেরাগুলির ইনার-ওয়ার্কিংস বা বলা যায় ক্যামেরার গাটস যে কারো প্রত্যাশার চেয়ে দ্রুত বদলেছে।

ডিজিটাল ক্যামেরা, বিশেষ করে ডি-এসএলআর, লেন্স-বেসড পেশাদারদের জন্য ও শিল্পীদের জন্য রাতারাতি নতুন হাতিয়ার হয়ে উঠেছে। এসব ক্যামেরা এখন সর্বত্র। আমাদের সবার কাছেই আছে। কিন্তু ছবি বদলায়নি। কিংবা ছবি তৈরির মৌলিক আইনও পাল্টে যায়নি। যেসব ছবি আমাদের জীবনে ছাপ রেখে যায়, যা অভিজ্ঞতাকে অর্থ দেয়, আমাদের চেতনার একদম গভীরে স্থান তৈরি করে নেয়, যেভাবে নতুন কোনো গান আমাদের আছন্ন করে, এরকম ছবির প্রয়োজনীয়তা এখনকার মতো আগে আর কখনোই ছিল না। লেন্স-বেজড ভিজুয়াল কালচারের প্রতি যে আকাঙ্ক্ষা বা চাহিদা, তা অন্য অধিকাংশ কমিউনিকেশন মিডিয়ামকে হার মানিয়ে স্বমহিমায় নিজেকে প্রকাশ করছে।

শিল্প জগতে ফটোগ্রাফি আমাদের সময়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শিল্প মাধ্যম হিসেবে এগিয়ে গেছে

রবার্টা স্মিথ, কয়েক বছর আগে নিউইয়র্ক টাইমসের জন্য একটা লেখায় এ বিষয়ে যা বলেছিলেন, আমি শব্দান্তরিত করে অন্যভাবে বলছি: “গত ৩০ বছরে শিল্পক্ষেত্রে ফটোগ্রাফি মাধ্যমটির চেয়ে অন্য কোনো মাধ্যমই বেশি গভীর প্রভাব ফেলেনি।” মনে রাখবেন, এই মন্তব্যটি আমেরিকার অন্যতম প্রধান ভাষ্কর্য-সমালোচকের কাছ থেকে এসেছে!

হেলসিঙ্কি শহরে একটা বাস স্টেশন আছে। এটার সাথে আমি আপনাদেরকে পরিচয় করিয়ে দিতে চাই। এই বাস স্টেশনটা এলিয়েল সারিনেন-এর বানানো বিখ্যাত ট্রেন স্টেশনের ঠিক পাশেই। এর চারপাশে আছে ন্যাশনাল থিয়েটার ও ন্যাশনাল আর্ট মিউজিয়ামের মতো ইয়ুগেনস্টিল (Jugendstil / Art Nouveau) আর্কিটেকচারাল জেম। বাস-স্টেশনটা ডি-এসএলআর ও ভিনটেজ লাইকা ক্যামেরা সজ্জিত ম্যাগনাম ওয়ানাবিদের (Magnum wannabee বলতে যারা গ্রেট ফটোগ্রাফার হওয়ার অনুশীলনে রত, তাদের বোঝাচ্ছে) জন্য একটা দুর্দান্ত প্রেক্ষাপট তৈরি করে রাখে।

আপনিও হয়তো কোনো একদিন নিজেকে সেখানে আবিষ্কার করবেন

বাস স্টেশনের কথায় ফিরে আসা যাক, বলা যাক কী কারণে তা এত বিখ্যাত। অন্তত ইউমাস লোয়েল, ইউনিভার্সিটি অফ আর্ট অ্যান্ড ডিজাইন হেলসিঙ্কি, ইকোলে ডি’আর্ট অ্যাপ্লিকে ইন ল’জ্যান ইত্যাদি প্রতিষ্ঠানে আমার শিক্ষার্থীদের কাছে বা তাসকানি, মেইন, সান্তা ফে-তে আমি যেসব ওয়ার্কশপগুলি করেছি, সেখানে উপস্থিত শিক্ষার্থীদের কাছে। এই বাস স্টেশন বিখ্যাত এর মেটাফোরের কারণে। বাস স্টেশনের এ রূপক বা মেটাফোর স্টুডেন্ট ও প্রফেশনালদের সমানভাবে ফটোগ্রাফিতে, জীবনব্যাপী ধারাবাহিক সৃজনশীলতায় উদ্বুদ্ধ করে। রূপকটা তরুণ শিল্পীদের একদিন তাদের নিজস্ব অনন্য দৃষ্টিভঙ্গি আবিষ্কার করতে যথাযথ প্রস্তুতি গ্রহণ করায়।

দ্য হেলসিঙ্কি বাস স্টেশন: সেখানে কী ঘটে, তা আমাকে বর্ণনা করতে দিন

হেলসিঙ্কি শহরের প্রাণকেন্দ্রে একটা স্কয়ারে প্রায় দুই ডজন প্ল্যাটফর্ম বিন্যাস্ত ছিল। প্রতিটা প্ল্যাটফর্মের ওপর সেই নির্দিষ্ট প্ল্যাটফর্ম থেকে যেই বাস ছেড়ে যাবে সেগুলির নাম্বার খোদাই করা ছিল। বাসগুলির নম্বর হতে পারে অনেকটা এরকম: ২১, ৭১, ৫৮, ৩৩ ও ১৯।

প্রতিটা বাস একই রাস্তা ধরে একসাথে শহরের বাইরে কমপক্ষে এক কিলোমিটার যায়। যাত্রাপথে বিভিন্ন বিরতিতে স্টপগুলিতে থামে। যেখানে একই নম্বরের পুনরাবৃত্তি হয়: ২১, ৭১, ৫৮, ৩৩ ও ১৯৷

আচ্ছা, তাহলে এবার বলা যাক, মেটাফোর ব্যবহার করেই বলছি, প্রতিটা বাস স্টপ একজন ফটোগ্রাফারের জীবনে একটা বছরের প্রতিনিধিত্ব করে। অর্থাৎ, তৃতীয় বাস স্টপ তিন বছরের ফটোগ্রাফিক কার্যকলাপের প্রতিনিধিত্ব করবে। ওকে, তাহলে ধরা যাক, আপনি তিন বছর ধরে ন্যুডের জন্য প্ল্যাটিনাম স্টাডি করছেন। এটাকে বলা যাক ২১ নম্বর বাস।

আরো পড়ুন: প্রাণীদের পূর্বাভাস ব্যবস্থাপনা

তিন বছর ধরে যে কাজগুলি করলেন, সেগুলিকে আপনি বোস্টনের ‘মিউজিয়াম অফ ফাইন আর্টস’—এ নিয়ে গেলেন এবং সেখানে মিউজিয়ামের কিউরেটর জানতে চাইলো, আপনি ইরভিং পেন-এর ন্যুড ছবির সাথে পরিচিত কিনা!

পেন-এর ছবি আপনার একই লাইনের, ৭১নং বাস। অথবা আপনার কাজগুলিকে নিয়ে গেলেন প্যারিসের একটি গ্যালারিতে, সেখানে আপনাকে বিল ব্র্যান্ড-এর কাজ চেক করে দেখতে বলা হলো, তার বাস ৫৮, ইত্যাদি ইত্যাদি। এতে করে আপনি অবাক হলেন, বুঝতে পারলেন আপনি তিন বছর ধরে যা করেছেন, তা অন্যেরা ইতিমধ্যেই করে ফেলেছে।

সুতরাং বাস থেকে নেমে গেলেন। জীবন যেহেতু সংক্ষিপ্ত, আপনি একটা ক্যাব ধরে সরাসরি অন্য প্ল্যাটফর্মের সন্ধানে বাস স্টেশনে ফিরে গেলেন। এইবার আপনি চেরি পিকার ক্রেন থেকে সমুদ্র-সৈকতে শুয়ে আছে, এমন মানুদের ৮ x ১০ ভিউয়ের কিছু কালার স্ন্যাপশট তৈরি করতে যাচ্ছেন।

তিন বছর ও তিন গ্র্যান্ড (৩,০০০/=) ব্যয় করে যে কাজ করলেন, তাতে ঠিক আগের মতো একই মতামত পেলেন। আপনি রিচার্ড মিসরাচের কাজ দেখেননি? বা ছবিগুলি যদি বাষ্পীয় সাদা-কালো রঙের ৮ x ১০ ভিউয়ের কিছু খেজুর গাছের ছবি হয়, সৈকতে সারিবেধে দুলছে, তখন হয়তো আপনার কাছে জানতে চাওয়া হচ্ছে, আপনি স্যালি ম্যানের কাজ দেখেননি?

আরো একবার আপনি বাস থেকে নেমে গেলেন। ক্যাব ধরলেন। অল্প সময়ের মধ্যে একটা নতুন প্ল্যাটফর্ম খুঁজতে থাকলেন। জিনিসটা আপনার সমস্ত ক্রিয়েটিভ লাইফ জুড়ে চলতে থাকে। আপনি প্রতিবার নতুন কাজ দেখান আর আপনার কাজকে অন্যদের সাথে তুলনা করা হয়।

এক্ষেত্রে কী করা যায়?

এটা সিম্পল একটা বিষয়। বাসেই থাকুন। যেই বাসে আছেন, সেই বাসেই থাকুন। যদি একটা বাসেই থাকেন, তাহলে সময়ের সাথে সাথে পার্থক্য দেখতে শুরু করবেন।

হেলসিঙ্কি থেকে ছেড়ে আসা সব বাস একই লাইনে থাকে। কেবল কিছু সময়ের জন্য, সম্ভবত এক বা দুই কিলোমিটার এগুলি একসাথে যায়। তারপর বিচ্ছিন্ন হতে শুরু করে। প্রতিআ বাস তার মৌলিক গন্তব্যের দিকে যায়। দেখা গেল, বাস ৩৩ হঠাৎ উত্তরে চলে গেল। বাস ১৯ দক্ষিণ-পশ্চিমে।

কিছু সময়ের জন্য হয়তো ২১ আর ৭১ একে অন্যের পিছু পিছু যায়, কিন্তু শীঘ্রই তারা আলাদা হয়ে যায়। এদিকে ইরভিং পেন অন্যখানে চলে যাচ্ছেন।

আরো পড়ুন: বাম দিকে মোড় নেয়া ৬১% অ্যাকসিডেন্টের কারণ

এই বিচ্ছেদই সমস্ত পার্থক্য স্পষ্ট করে। যেই পছন্দের কাজের জন্য আপনি এই প্ল্যাটফর্ম বেছে নিয়েছিলেন, একবার যখন সেটার সাথে নিজের কাজের পার্থক্য দেখতে শুরু করেন, তখনই আপনার কাজের ব্রেকথ্রু শুরু হয়।

হঠাৎ করেই দেখবেন মানুষ আপনার কাজ লক্ষ্য করা শুরু করেছে। এখন সেগুলিকে সমৃদ্ধ করছেন। যে কাজগুলি দ্বারা আপনার কাজ প্রভাবিত, সেগুলি থেকে নিজেরটাকে আলাদা করে ফেলছেন।

আপনার দূরদর্শিতা পাখা মেলছে

বছর পার হতে থাকা ও আপনার কাজ জমে স্তুপ হওয়ার সাথে সাথে সমালোচকদের আপনার কাজের বিষয়ে আগ্রহী হয়ে উঠতে দেরি হচ্ছে না। তাদের আগ্রহের বিষয় শুধু  স্যালি মান বা রালফ গিবসনের থেকে আপনার কাজগুলি আলাদা, সেখানে নয়। বরং আপনি শুরু থেকে কীভাবে কাজটা করেছেন, তা জানতে তারা বেশি আগ্রহী।

আপনি আসলে পুরো বাস রুট ফিরে পেয়েছেন। বিশ বছর আগে তৈরি করা ভিন্টেজ প্রিন্টের হঠাৎ মূল্যায়ন হতে শুরু হলো। কাজর সঠিক মূল্য দিতে, প্রিমিয়াম দরে বিক্রি করা হলো।

লাইনের শেষে যেখানে বাস বিশ্রামে আসে, চালক ধূমপানের জন্য বের হতে পারে বা আরো ভালো হয় যদি এক কাপ কফি সে পায়—সেখানে পৌছানো মানেই যাত্রা সমাপ্ত। এটা হতে পারে একজন শিল্পী হিসেবে আপনার ক্যারিয়ারের সমাপ্তি বা আপনার জীবনের সমাপ্তি, কিন্তু আপনার পুরো আউটপুট এখন আপনার সামনে। তথাকথিত আর্লি ইমিটেশন, ব্রেকথ্রু, তারপর পিক ও আশেপাশের ভ্যালি, সদ্য সমাপ্ত মাস্টারপিস, এই সব কিছুতেই আপনার ইউনিক ভিশনের ছাপ।

কেন? কারণ আপনি বাসে ছিলেন

আমি যখন ফটোগ্রাফি শুরু করি, রালফ গিবসন, ডুয়েন মিশালস আর জেরি উয়েলসমান-এর কাজের প্রতি প্রচন্ড আকৃষ্ট ছিলাম, প্রেম-মুগ্ধ ছিলাম। আমি তাদের প্ল্যাটফর্মে ছিলাম। প্রত্যেকেই আমাকে বলেছিল, ছবি তৈরি করতে তোমার নিজের মন ব্যবহার করা সম্ভব। মিনোল্টা অ্যাকাউন্টে একজন কপিরাইটার হিসাবে যখন আমি কাজ করি (ফটোগ্রাফার হওয়ার আগে) তখন লিখে রেখেছিলাম: “মনের মধ্যে যা ঘটে, তা ক্যামেরার মধ্যেও ঘটতে পারে।” আমি এই বিশ্বাস গ্রহণ করেছি, এটাকে নিজের করে নিয়েছি। উয়েলসমানের মতো একাধিক ইমেজ বা মিশালসের মতো সিকোয়েন্সের ছবি আমাকে অতটা টানেনি। কিন্তু রালফ গিবসনের ছবিই আমাকে তাড়িত করেছিল।

“যেই বাসে আছেন, সেই বাসেই থাকুন। যদি একটা বাসেই থাকেন, তাহলে সময়ের সাথে সাথে পার্থক্য দেখতে শুরু করবেন।”

বিশেষ করে ১৯৭০ সালে তোলা তার একটা ছবির আমি খুব অনুরাগী। যেটাতে এক জোড়া হাত উঠে আসছে নৌকার গলুইয়ের ওপর দিয়ে। আমার নিজেরও একটা ছবি আছে ১৯৭৬ সালের, আমার পা একটা ফিনিশ দাড়নৌকার গলুইয়ে ঝুলে আছে। আমি নিশ্চিত, রালফের ও ছবিটা আমাকে অনুপ্রাণিত করেছিল। যদিও আমি আমার ছবি তোলার সময় এটা নিয়ে একদমই ভাবিনি।

১৯৮৯ সালে ফ্রান্সের অ্যান্টিবেস শহরে ‘থ্রি মাস্টার্স অফ দ্য সাররিয়াল’ নামে একটি শো হয়। সেখানে ছিলেন এইকোহ হোসোয়ে—একজন জাপানিজ মাস্টার, রালফ গিবসন আর, বিনীতভাবে বলছি, আমি নিজে। ভ্যানিসাজের (ভ্যানিসাজ অর্থ সর্বসাধারণের জন্য প্রদর্শনীর আগে কাজের একান্ত প্রদশর্নী) পরে পার্টিতে, যে সময়টা প্রথম ফটোগ্রাফি শুরু করি, তখন আমার আমার সচকিত ভাব। উত্তেজিত মনোভাবের কথা বলেছিলাম রালফকে। তিনি মাথা নেড়ে বললেন, “আমি আপনার কাজ যখন প্রথম দেখি (১৯৭৫ বা তার কাছাকাছি সময়ে), আমার পরিচিত কিছু দেখার অনুভূতি হয়েছিল।” তার পরপরই তিনি বলেন: “কিন্তু বিষয়টা হলো, নিজের পথ খুঁজে পেতে আপনার বেশি সময় লাগেনি।”

আরো পড়ুন: মানুষের আয়ুর সীমা—১৫০ বছর?

আমি পার্থক্য খুঁজে পেয়েছি। রালফ চললেন নারী ও দেয়াল, রঙ ও পরাবাস্তব আলোর ছবি তুলতে। আমি আমার বাস রুট কম হন্টেড, আরো নিশ্চিত ও আশ্বস্ত রাখলাম।

সুতরাং, আমাদের ভয়েস ও ভিশন অবহিত করার জন্য আমাদের সবচেয়ে ভালো সুযোগ হলো সেই কমন বৈশিষ্ট্য খুঁজে পাওয়া, যা দিয়ে কাজটি স্বীকৃত হতে পারে, যা দ্বারা অডিয়েন্সকে কৌতূহলী করে তোলা যায়। এটা একদম প্রাথমিক পর্যায়ে ঘটতে পারে। যেমন আমার শিক্ষক হ্যারি ক্যালাহান বলেছিলেন: আপনি কখনোই আপনার প্রথম গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলির চেয়ে বেশি ভালো কিছু পাবেন না, এগুলি তাড়াতাড়িই এসে থাকে।

কয়েক বছর আগে লন্ডনে সোদেবি’স (Sotheby’s)-এ নিলামে আমার একক সৃষ্টিগুলির মধ্যে একটা বিডিংয়ের জন্য ছিল। এই ছবিতে দেখা যায়, রোড আইল্যান্ডের নারাগানসেট টাউনের সমুদ্র তীরবর্তী রাস্তার পাশে কাঠের তক্তা বিছানো ফুটপাথে আমার গাল হা করে রাখা অধো-মুখমন্ডল। নিলামকারী যখন আমার ছবি অ্যানাউন্স করেন, নিঃসন্দেহে তিনি এটাকে একজন ছাত্রের কাজ হিসাবে পরিচয় দেননি। যদিও এটা আসলেই তাই ছিলো। আমি হ্যারি স্যারের ক্লাসের জন্য এটা বানিয়েছিলাম। ঠিক এই কারণেই আমি পড়াই। যে শিক্ষকরা বলেন, “ওহ, ইট’স জাস্ট স্টুডেন্ট ওয়ার্ক,” তাদের হয়তো শিক্ষকতা বিষয়ে দুইবার ভাবা উচিৎ।

“আমাদেরকে এই পৃথিবীর কাছে নাম্বার ওয়ান হতে হবে না। আমাদেরকে শুধু নিজেদের কাছে এক নম্বর হতে হবে।”

জর্জেস ব্র্যাক বলেছেন, “সীমিত উপায়ের বাইরে নতুন ফর্ম আবির্ভূত হয়।” আমি বলি, “আমরা কী করব তা খুঁজে পাবো, আমরা কী করব না তা জানার মাধ্যমে।”

তাইই, যদি আপনার মন পড়ে থাকে কুয়াশাচ্ছন্ন দক্ষিণ ভূখণ্ডে ৮ X ১০ প্ল্যাটিনাম ল্যান্ডস্কেপে, তাহলে আপনাকে অনুপ্রাণিত করা ব্যক্তিদের বাসের রুটে চড়ে নিজের পথ ধরে কাজ করুন। যারা বলে, আগে যা করা হয়েছে তার পুনরাবৃত্তি করছেন, তাদেরকে কোনো প্রকার পাত্তা দেবেন না। অপেক্ষা করুন, মাস ও বছর কেটে যাবে, শীঘ্রই আপনার কাজের পার্থক্য স্পষ্টতা ও বুদ্ধিমত্তার সাথে দৃষ্টিগোচর হতে শুরু করবে। তখন আপনার অরিজিনালিটি দৃশ্যমান হয়ে উঠবে। সেই সচকিত ভাবের, ভীত সময়ের প্রথম দিককার কাজগুলিতেও। যখন আপনি যা’ই করেছেন, তা আগেই করা হয়েছে বলে মনে হয়েছিল।

শিল্পে আমরা অনেক কিছুই করতে পারি, ভিন্ন ভিন্ন দশজন শিল্পী হতে পারি। কিন্তু তা করলে, সমুহ বিপদ থেকে যায়। শেষ পর্যন্ত আমরা খুব অল্পই যোগাযোগ করতে পারবো। তাই আমি বলি, নিজের স্বপ্নের বাসে চড়ুন এবং অবশ্যই পুরো কোর্স বাসেই কাটান।

আমি এখন আপনাদেরকে সুইজারল্যান্ডে নিয়ে যেতে চাই, যেখানে আমি শিক্ষকতাও করি

পেছন দিকে সরে দাঁড়ান, আরো পেছনে, এতটাই দূরত্বে যেখান থেকে আপনার গন্তব্যের পাহাড়ের চূড়া দেখতে পাবেন। তারপরে সোজা চলা শুরু করে দিন। জেনে রাখুন, পাহাড়ের চূড়া আপনার জীবনের বেশিরভাগ সময় দৃষ্টির আড়ালে থেকে যাবে। আপনি বনের গোপন সর্পিল পথ ধরে এঁকেবেকে উঁচুতে উঠতে থাকবেন। বনের অনেকগুলি অংশ যখন জোর করে আপনাকে হতাশা ও নিরাশার গর্তে ফেলে দেবে, তখনো। কিন্তু নিরাশ না হয়ে যত দ্রুত সম্ভব চুড়ায় উঠতে থাকুন, সবসময় লক্ষ্যের দিকে আগাতে থাকুন।

এরপর আসবে কিছু উপযুক্ত সময়। সংখ্যায় বেশ কয়েকটি আসতে পারে। যখন আপনার শ্রমের ফল হঠাৎ করেই দৃশ্যমান হবে উদযাপিত হওয়ার জন্য। আপনি সেসময় আবার চূড়াটি দেখতে পাবেন। সেটা এখন আরো কাছে। আপনাকে আরো সামনে আগানোর আত্মবিশ্বাস দেবে। আরো দ্রুত ও সাহসীভাবে।

আরো পড়ুন: গবেষণা: ছবি যত বড় হবে মনে রাখতে তত সুবিধা

এক পর্যায়ে ট্রি-লাইন (ট্রি লাইন পাহাড়ে দেখা যায়, গাছপালা শেষ হয়ে যেখানে স্থল স্তর শুরু হয়) পাতলা হয়ে আসতে থাকবে। যেভাবে বৃদ্ধের মাথার চুল টাক হয়ে যেতে শুরু করে। তখন বাতাস হবে পরিষ্কার, পথ হবে নিশ্চিত।

শীর্ষে পৌছে আপনি যা অর্জন করেছেন তাতে আনন্দিত হবেন এবং আপনি যা কল্পনা করেছিলেন তা থেকে যে চূড়াগুলি আরো অনেক উঁচু, তা বুঝতে পারবেন। যে দূরত্ব থেকে আপনি চূড়াগুলি প্রথম দেখেছিলেন, সেটার জন্যই এই বিচারটা করা কঠিন ছিল।

এখন আপনি তাদের দেখতে পাচ্ছেন কিন্তু আপনার আরোহণের দিন শেষ

আপনি যদি প্রচণ্ড ঈর্ষার সাথে সেই উচ্চ শিখরের দিকে তাকান, আপনার দিন দুঃখ ও অনুশোচনায় পরিণত হবে।

আপনি যে পথে এসেছেন তা যদি নীচের দিকে তাকিয়ে দেখেন, আপনি গর্বিত এমনকি অহংকারীও হয়ে উঠতে পারেন। যদি আপনি আপনার নেয়া প্রতিটা পদক্ষেপ পছন্দ করে থাকেন।

কিন্তু যদি দিগন্তে চোখ বুলিয়ে যান, আপনার সামনে বিস্তৃত অবাধ দৃশ্যপটে ক্রমাগত চলমান দৃশ্যে নজর দেন, আপনি শান্তি ও বিরল বিনয়ের সাক্ষাত পাবেন।

আমাদেরকে এই পৃথিবীর কাছে নাম্বার ওয়ান হতে হবে না। আমাদেরকে শুধু নিজেদের কাছে এক নম্বর হতে হবে। এই ধরনের নম্র  চিন্তার হাত ধরে আসে এক প্রকার বিশেষ শান্তি। যা আপনার স্তর, মেধা ও গুণে যারা আপনার সমকক্ষ (আপনার উপরে বা নিচে উভয়ের), তাদের কাছ থেকে আপনার প্রতি সম্মান শ্রদ্ধার বর্ষণ নিয়ে আসে।

আপনি যখন জীবনের এই উচ্চতায় পৌঁছেছেন, আপনি আসলে সাফল্যের সর্বোচ্চ পর্যায়ে আছেন। ঈশ্বর একটা ফুটবল মাঠের উভয় পক্ষকে সমান আশীর্বাদ করতে পারেন না।

তিন, চার, পাঁচ, ছয় নাম্বারগুলি ছাড়া আপনি কখনোই এক নম্বর হতে পারবেন না। এই লেসনটা আমেরিকার ক্লাসরুমে ছোটবেলাতেই আমরা সকলে শিখি (আশা করি)।

যখন আমার ছেলের বানানো বাম্পার স্টিকার আমি ডিন’স লিস্টে স্থান পেতে দেখি, সাথে সাথে খেয়াল করি যে ছেল মেয়েদের এটা করতে পারেনি। ট্রেসি মফ্যাটের মর্মস্পর্শী সিরিজের কাজগুলি সেইসব অ্যাথলেটদের জন্য উৎসর্গ করা হয়েছে, যারা চতুর্থ স্থান অর্জন করেছে: সোনা নেই, রূপা নেই, ব্রোঞ্জও নেই। নাম্বার উনো?

স্টারডমের পেছনের দৌঁড়ানো (তারকা হওয়া) কোনো স্বপ্ন হতে পারে না। আমাদের শুধু ভালো হতে হবে। ভালো ভালো কাজ করবেন।

তাহলে, নিজের ভিশনের দায়িত্ব নিন। ভবিষ্যৎ চিন্তাকে জনপ্রিয় করে তুলুন। সবসময় মনে রাখবেন, আর্ট ইজ রিস্ক মেড ভিজিবল।

সবাইকে শুভকামনা। আবার দেখা হবে। ইউ আর গোয়িং টু বি গ্রেট।

বক্তৃতা: আর্নো রাফায়েল মিনকিনেন
অনুবাদ: যুবায়েদ দ্বীপ