ফেসবুক থেকে জন্ম নেওয়া হতাশা সম্পর্কে জানতে চাইলে ২৯.৬৫ বলেছেন তাদের ঈর্ষার কথা। ১৯.৫ শতাংশ জানিয়েছেন লাইক ও কমেন্টের সংখ্যা কম হওয়ায় তারা হতাশ!

— ফেসবুক ডিপ্রেশনের বড় কারণ ফেসবুক এনভি বা ঈর্ষা। অনেকে বলছেন লাইক ও কমেন্টের সংখ্যা কম তাই তারা হতাশ! —

আমেরিকায় ফেসবুকের চাহিদা দিন দিন কমে আসছে। ইন্দোনেশিয়া, জার্মানি, ইংল্যান্ডসহ বাকি সব গুরুত্বপূর্ণ জায়গায়ও ফেসবুক কমতির দিকে।facbook2ফেসবুকে আগ্রহ কমে যাওয়া, অতি ব্যস্ততা বা নিরাপত্তাবোধের অভাবও হতে পারে এর কারণ। তবে এসব চলতি কারণের বাইরেও আরেকটি কারণের দেখা মিলছে, যেটার ওপর ৬০০ ফেসবুক ব্যবহারকারীদের নিয়ে বছরের শুরুর দিকে কাজ করেছিল জার্মানির দুটি বিশ্ববিদ্যালয়।

কারণের নাম–ইর্ষা! ফেসবুক ফলো করে সহজেই এখন যে কেউ অন্য কাউকে জেনে নিতে পারছে। জানতে পারছে তার কাজকর্ম আর গতিবিধি। ফলে কমে যাচ্ছে অনিশ্চয়তা। পারস্পরিক সম্পর্ক ও বিশ্বাস বাড়ছে, বাড়ছে সামাজিক দায়বদ্ধতা। কিন্তু এই শুভ দিকগুলির সঙ্গে সঙ্গে ভারি হচ্ছে মন্দের পাল্লাও। বাড়ছে ঈর্ষা বা হিংসা নির্ভর কর্মকাণ্ড।

গবেষণায় ৬০০ জন ব্যবহারকারী তাদের মধ্যে ক্রিয়াশীল হিংসা বা ঈর্ষার ২১.৩ শতাংশ দায় চাপিয়েছেন ফেসবুকের ওপর। তাদের হিংসার অন্য ৭.২ শতাংশ অনলাইনের আর সব বিষয়আশয় নির্ভর এবং বাকি ৭১.৫ শতাংশ দায় অফলাইনের অন্যবিধ ঘটনার। মোটকথা, ব্যবহারকারীদের ৪৩.৮% শেষ ফেসবুক ব্যবহার করার পর তাদের ভালো অনুভূতির কথা বলেছেন, যেখানে অন্য ৩৬.৯% বলেছেন

Image courtesy of Stuart Miles at FreeDigitalPhotos.net

খারাপ অনুভূতির কথা। ফেসবুক থেকে জন্ম নেওয়া হতাশা সম্পর্কে জানতে চাইলে ২৯.৬৫ বলেছেন তাদের ঈর্ষার কথা।

১৯.৫ শতাংশ জানিয়েছেন লাইক ও কমেন্টের সংখ্যা কম হওয়ায় তারা হতাশ! ১৩.৭% বলেছেন ফেসবুক করলে সময় নষ্ট হয়; ১০.৪% বলেছেন সামাজিক বিচ্ছিন্নতার কথা,৫.৫% বলেছেন কোন অনুষ্ঠানের দাওয়াত না পাওয়ার কথা এবং বাকি ২% বলেছেন সাবেক সঙ্গী বা বন্ধুদের প্রতি ঈর্ষাপরায়ণতার কথা।
facbook3jpg

Image courtesy of Master isolated images at FreeDigitalPhotos.net

হতাশ করে দেওয়ার মত ফেসবুকের নিজস্ব যেসব দিকের কথা তোলা হয়েছে তার মধ্যে ৫৬.৩% ভোট পেয়ে এগিয়ে ছিল ভ্রমণ ও অবসর। ফেসবুকের মনোরম স্থানের ছবি ব্যস্ত মানুষকে হতাশ করে দিতে যথেষ্ট। এর অনেক পিছনে ১৪.১% ভোট পেয়েছে সামাজিক যোগাযোগ, ৭.১% পেয়েছে বেশভুষা। একদম তলানির দিকে আছে চাকুরিতে সাফল্য, জীবনে সাফল্য, অর্থ-সম্পদের মত বিষয়গুলি।

গবেষকদের মতে এই ঈর্ষা মানুষকে ক্রমশঃ জীবন সম্পর্কে অসন্তুষ্ট করে তুলছে। ফলে তারা কিছু কৌশল তৈরি করে নিচ্ছে নিজেদেরকে এই হিংসা বা ঈর্ষা থেকে বাঁচাতে। যেমন:

  • ফ্রেন্ড না হওয়া বা যার প্রতি ঈর্ষা তাকে আনফ্রেন্ড করে দেওয়া।
  • তার কাছ থেকে বিভিন্ন খবর চেপে যাওয়া।
  • ঈর্ষার মানসিকতা থেকে নিজের সম্পর্কে অতিরঞ্জন করা।
  • পরোক্ষ ফলোয়িং থেকে অব্যাহতি নেয়া। যার কারণে বিভিন্ন তথ্য ও ইভেন্ট অজ্ঞাত থেকে যায়। তাতে ফেসবুকে ক্রমশ নিজের মূল্যের অবনতি দেখতে পায় তারা।

ফেসবুককে অনেকেই এখন একটি মানসিক চাপপূর্ণ স্থান হিসেবে নেয় এবং ব্যবহার করে যায়, যা এর টিকে থাকার জন্য হুমকিস্বরূপ। গবেষকদের মতে এই ব্যাপারটি মাথায় রেখে প্রতিষ্ঠানটির উচিত এর পরবর্তী কার্যক্রম চালানো।