ব্যবসার ক্ষেত্রে আপনাদের লক্ষ্য সম্পর্ক গভীর করা নয়। ব্যবসায় ব্যক্তিস্বাধীনতাকে অগ্রাধিকার না দিয়ে বরং দলগত ভাবে সিদ্ধান্ত নিন।

ব্যবসার শুরুতেই নিয়মগুলি ঠিক করে নিন। যারা বন্ধুদের সাথে ছোটখাটো ব্যবসা করছেন বা করতে যাচ্ছেন তাদের জন্যে নিচের ৩টি পরামর্শ।

১. দ্রুত এবং নিয়মিত যোগাযোগে কোনো ঢিলামি চলবে না

পার্টনারদের সাথে কতদিন পর পর মিটিং করবেন তার রুটিন তৈরি করুন এবং সে রুটিন কঠিন ভাবে মেনে চলুন।

ব্যবসা সংক্রান্ত নানা রকম শলাপরামর্শ চলতে পারে তার অর্থ এই না যে আপনার ইচ্ছাই সবাই ফাইনাল সিদ্ধান্ত হিসেবে মেনে নিবে। জরুরি এবং কঠিন সিদ্ধান্তগুলির ব্যাপারে খোলামেলা থাকলে এবং চুক্তিগুলিতে যৌথ সম্মতি থাকলে ব্যবসা এবং সম্পর্ক দুইই পোক্ত হয়।

অন্য দিকে ব্যবসা সংক্রান্ত অস্পষ্টতা সম্পর্কে ফাটল ধরায় এবং ভবিষ্যতে এই অস্পষ্টতাই ফাঁদে পরিণত হতে পারে। নিয়ম করে খোলামেলা এবং সৎ যোগাযোগ সফল পার্টনারশিপের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

২. নিজের কাজ এবং দায়িত্বের ব্যাপারে স্পষ্ট থাকুন, অন্যদের কাজ ও এখতিয়ার সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা রাখুন

শুরুতেই প্রত্যেকের নিজের কাজ এবং দায়িত্ব নির্দিষ্ট করে নেওয়া উচিত।

কিন্তু এটাই যথেষ্ট নয়। ব্যবসার অগ্রগতি এবং বিবর্তনের সাথে সাথে অংশীদারদের দায়িত্বেরও বদল ঘটে।

শুরুতেই ঠিক করে নেওয়া ভালো কোন পার্টনার কোন কাজগুলি করবেন। পরে নতুন কাজ তৈরি হলে তখনও নিজেদের কাজ ও দায়িত্ব নির্দিষ্ট রাখার ব্যাপারে আলোচনা করে ঠিক করুন কে কোন কাজগুলি করবেন। তাছাড়া অন্য পার্টনারদের কাজ সম্পর্কেও সুস্পষ্ট ধারণা থাকা জরুরি। এতে করে আপনি অন্যদের কাজের গুরুত্ব ও অবস্থা সম্পর্কে জানতে পারবেন।

ব্যবসার ক্ষেত্রে অন্য পার্টনারের কাজের ব্যাপারে সুস্পষ্ট ধারণা না থাকলে কখনো কখনো ছোটখাট অসুবিধা থেকে বড় ধরনের ক্ষতি হওয়ারও আশঙ্কা থাকে। এমনকি হঠাৎ যদি কখনো পার্টনার অসুস্থ হয়ে পড়ে তখনও তার গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলি সম্পন্ন করতে গিয়ে আপনি বা আপনারা ঝামেলায় পড়তে পারেন। তাই আগে থেকেই সবার কাজ সম্পর্কে ধারণা থাকা জরুরি।

৩. বন্ধুত্ব সবসময়ই গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু ব্যবসার ক্ষেত্রে ব্যবসাই সবার আগে

ব্যবসার ক্ষেত্রে হয়তো কখনো এমন কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে যেটা হয়তো কোনো একজন পার্টনারের ভালো লাগে নি। কিন্তু সেক্ষেত্রে ব্যবসার ভালোর জন্য ইগো বা আত্মসম্মানকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।

বন্ধুত্ব যত ঘনিষ্ঠই হোক না কেন ব্যবসার ক্ষেত্রে এক পার্টনার অন্য পার্টনারকে যোগ্য সম্মান দেবেন  এবং ব্যবসার সাফল্যকে সিরিয়াসলি নিবেন—এ ব্যাপারটি মাথায় রাখা জরুরি। ব্যবসায়িক লাভকে ইগোর উপরে স্থান দিতে হবে।

 

পার্টনারশিপে ব্যবসা করতে গেলে অবশ্যই সেখানে কিছু চ্যালেন্জ থাকবে। ব্যক্তিগত বা পেশাদারি যে কোনো দিক থেকে এই চ্যালেন্জ আপনি গ্রহণ করতে পারেন।

একা মালিকানার ব্যবসায় যে স্বাধীনতা পাওয়া যায়, পার্টনারশিপের ব্যবসায় পার্টনাররা তার থেকে বেশি স্বাধীনতা পেলে আপনাদের সম্পর্ক আরো গভীর হবে। ব্যবসার ক্ষেত্রে আপনাদের লক্ষ্য সম্পর্ক গভীর করা নয়। ব্যবসায় ব্যক্তিস্বাধীনতাকে অগ্রাধিকার না দিয়ে বরং দলগত ভাবে সিদ্ধান্ত নিন। তবে পার্টনারশিপে ব্যবসা করার চাপ সামলানোর জন্য আপনাদের বন্ধুত্বের সম্পর্ককে গভীর করতে ব্যবসায়িক আলাপ ছাড়াও নিজেদের মাঝে সময় কাটান, এর ফলে সব পার্টনারই উপকার পাবেন।