বিল গেটস: করোনাভাইরাস থামাতে ভ্যাকসিন লাগতে পারে ১৪ বিলিয়ন ডোজ

বিল গেটস

বিল গেটস বললেন, কভিড-১৯ নির্মূল করতে আমাদের প্রয়োজন হতে পারে ১৪ বিলিয়ন ডোজ ভ্যাকসিন। তার হিসেবে এ পুরো প্রক্রিয়া শেষ করতে ৯ মাস থেকে দুই বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।

বিল গেটস তার ব্যক্তিগত ব্লগসাইট GatesNotes এ প্রকাশিত সর্বশেষ ব্লগ পোস্টে (৩০ এপ্রিল ২০২০) এই মতামত দেন। সে পোস্টে তিনি ভ্যাকসিন বিষয়ক বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু নিয়ে কথা বলেন, যেমন কীভাবে নিরাপদ ও কার্যকরী ভ্যাকসিন পাওয়া সম্ভব হবে, ভ্যাকসিন আবিষ্কারে কারা প্রধান ভূমিকা রাখছে, কাদেরকে সবার আগে ভ্যাকসিন দিতে হবে—এসব বিষয় নিয়ে কথা বলেন তার লেখাতে।

“আমাদের প্রথমে অন্তত সাত বিলিয়ন ভ্যাকসিন লাগবে। যদি এটা মাল্টি ডোজের ভ্যাকসিন হয় তবে সংখ্যাটা চৌদ্দ বিলিয়ন পর্যন্ত লাগতে পারে। ভ্যাকসিন এর প্রথম ব্যাচ উৎপাদন হওয়ার পরেই আর দেরি না করে মানুষকে ভ্যাকসিন ওর ডোজ দেয়া শুরু করতে হবে আমাদের।”—বলেন ফোর্বসের হিসাবে ১৯ বার বিশ্বের শীর্ষ ধনী হওয়া বিল গেটস।

বিল গেটসের মতে, সবার আগে ভ্যাকসিন দিতে হবে হেলথকেয়ার ওয়ার্কারদের। এরপর ভ্যাকসিন এর সুবিধা দিতে হবে গরিব দেশগুলিকে। এসব দেশের চিকিৎসা সেবা ব্যবস্থা ভঙ্গুর, গণস্বাস্থ্যের অবস্থা দুর্বল এমনকি অধিক জনবসতির কারণে মানুষজনের পক্ষে সোশ্যাল ডিসটেন্সিং মেনে চলাও কঠিন। ফলে সবকিছু মিলিয়ে করোনায় প্রাণহানির ঝুঁকি তাদের সবচেয়ে বেশি—বিল গেটস বলেন।

তিনি আরও বলেন, বিশ্বের সবার সম্মিলিত চেষ্টা ছাড়া একটি নিরাপদ ও কার্যকরী ভ্যাকসিন তৈরি করা, এর সংরক্ষণ করা এবং বিতরণ করার মত এত বিশাল কর্মযজ্ঞ সুসম্পন্ন করা সম্ভব হবে না।

তবে শঙ্কা থাকলেও বিল গেটস আশাবাদী। মাইক্রোসফট এর প্রতিষ্ঠাতা এই দানবীর বলেন, “আমি জানি শেষ পর্যন্ত আমরা সফল হবো। কারণ এ ছাড়া বিকল্প পথ নেই। করোনা ভাইরাস থেকে মানুষকে ইমিউন করার মতো চ্যালেঞ্জিং কাজ আমাদের এ মানবজাতির সামনে আর কখনো আসেনি। আমাদেরকে বিলিয়ন বিলিয়ন ডোজ ভ্যাকসিন বানাতে হব এবং দুনিয়ার প্রতিটি প্রান্তে পৌঁছে দিতে হবে। এই সবকিছু করতে হবে অসম্ভব দ্রুততার মধ্যে।”

করোনাভাইরাসে এখন পর্যন্ত ৩.২ মিলিয়ন মানুষ আক্রান্ত হয়েছে। এর মধ্যে মারা গেছে ২,৩৩,০০০ জন। সাধারণত এরকম ভাইরাসের ভ্যাকসিন তৈরি করতে একাধিক বছর লেগে যায়, কিন্ত করোনার জন্য অবিশ্বাস্য গতিতে ভ্যাকসিন আবিষ্কারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন গবেষকরা। এত চেষ্টার পরেও এক্সপার্টরা বলছেন মানুষজনকে ভ্যাকসিনেইট করতে আরও সময় লাগতে পারে।

ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট ফর অ্যালার্জিস অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিসিজ এর পরিচালক এন্থনি ফাউসি, যাকে এ মুহূর্তে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হিসেবে বলা হচ্ছে, তার মতে আমেরিকার আরও ১২ থেকে ১৮ মাস লাগবে ভ্যাকসিন এর কাজ শেষ করতে। অনেক এক্সপার্ট যদিও বলছেন ঠিক মতো ট্রায়াল না দিয়ে যদি তাড়াহুড়া করে ভ্যাকসিন ছাড়া হয়, তবে বিপদ আরও বাড়তে পারে।

তবুও বিল গেটস আশা দিয়ে বলেছেন যে কয়েকটা রিসার্চ টিম এর কাজ বেশ ভালোমতো আগাচ্ছে এবং তারা টেস্টিংও শুরু করে দিয়েছেন। “এপ্রিলের ৯ তারিখ পর্যন্ত ১১৫টা ভিন্ন ভিন্ন রিসার্চ চলছে কভিড-১৯ এর ভ্যাক্সিন ডেভেলপ করার জন্য। এর মধ্যে ৮ থেকে ১০ টা রিসার্চ টিমের অগ্রগতি খুবই আশা দেওয়ার মতো। (আমাদের ফাউন্ডেশন বাকি রিসার্চ টিমগুলি কাজের দিকেও নজর রাখছে যাতে আমরা অন্যদের ভালো কাজগুলি মিস না করি)”—জানিয়েছেন বিল গেটস।

বিল গেটস ও তার স্ত্রীর জনহিতৈষী প্রতিষ্ঠান বিল অ্যান্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশন বলেছে তারা ২৫০ মিলিয়ন ডলার সাহায্য দেবে নভেল করোনাভাইরাস এর বিরুদ্ধে এই বৈশ্বিক যুদ্ধে। সম্প্রতি গেটস আরও কথা দিয়েছেন তার প্রতিষ্ঠানের সম্পূর্ণ সামর্থ্য তিনি ব্যবহার করবেন এই মহামারির হাত থেকে দুনিয়াকে বাঁচানোর জন্য।

সূত্র. বিজনেস ইনসাইডার, ২ মে ২০২০