ছোট বেলায় দাদুর সাথে বোররচরে যাইতাম চাচির বাড়ি। তখন নৌকা চলত। নৌকা বাইচও প্রথম ওইখানে দেখেছি। একটা চিকন নৌকায় অনেকগুলা মানুষ। সবার হাতে একটা করে বৈঠা। পরনে লাল-সবুজ গেঞ্জি। সবগুলি নৌকার গঠনই অন্যরকম। সাধারণ নৌকার মত না। সরু ও লম্বাটে। প্রত্যেকটা নৌকাতে উজ্জ্বল রঙ আর কারুকাজ করা।

বর্ষার সময় চাচিদের উঠানে নৌকা গিয়া ভিড়ত। তাদের বাড়ির পাশে পাট মজানোর গন্ধ পাইতাম। এখন আর নৌকায় যাওয়া যায় না। নৌকায় যাওয়ার রাস্তা শুকায় গেছে। এরপর অবশ্য বেশ কয়েকবার গেছি পাকা রাস্তা দিয়া। সরাসরি বাস চলে না। নসিমন নামে এক প্রকার ট্যাম্পু আছে, ওইগুলা যায়। সিএনজিও চলে। আরেকটা রাস্তা আছে যেইটা ধরে এইবার গিয়েছি, ব্রহ্মপুত্র নদ পার হয়ে প্রথমে কাঁচা রাস্তা তারপর ইটের সলিং তারপর আবার পাকা। নির্দিষ্ট করে ওই রাস্তার নাম নাই।

কাকার কথামতে এই রাস্তা দিয়া গেলে সময় কম লাগে। তার একটা মটর সাইকেল আছে কাগজপত্র ছাড়া। সেই ভয়ে সে পাকা রাস্তা দিয়া চলে না।

আগে যখন যাইতাম তখন সব চেয়ে চোখে পড়ত মরিচ গাছ। লাল-লাল হয়ে আছে। কাঁচা মরিচ কম দেখতাম। ওই মরিচগুলা ক্ষেতেই শুকায়া শুকনা মরিচ বানায়। মাঝে মাঝে চোখে পড়ত কলাই, বাদাম, আলু খেত।  অনেক প্রকারের শাকও দেখতাম।

বিশাল জায়গা জুড়ে ফসল চাষ হয় ৩নং বোররচর ইউনিয়নের বাঘেরকান্দা ও মৃধাপাড়া চরে। ঢাকার বিভিন্ন স্থানে সেই  ফসল যায়। এমন কথা শুনে চাচাকে বললাম আমার সাথে যেতে। চাচি যাওয়ার সময় বলে দিল কোন জায়গায় ফসলাদি বেশি দেখতে পাব। মোটর সাইকেলে তেল ভরলাম এবং কাকার সেই শর্টকার্ট রাস্তা ধরে যেতে থাকলাম। কিছুদূর গিয়েই নৌকায় বাইক নিয়ে নদী পার হতে হল। এরপর কাঁচা রাস্তা ধরে কিছুদুর যেতেই ইটের সলিং। কাকা বলল একটু পরেই পাকা রাস্তা। বলার কারণও আছে। রাস্তাতে এত গর্ত ছিল যে, ঝাকুনিতে নাড়ি-ভুড়ি এক হয়ে যাচ্ছিল। তবে তার মাঝেও চোখের শান্তি ছিল।

চাচির বাড়ির কাছেরই একটা বাজার থেকে মিষ্টি কিনে বাসায় ঢুকলাম। আমাদের দেখে চাচির বাসার সবাই আশ্চর্য হল। বিশেষ করে আমাকে দেখে। নানি  চুলার পাড় থেকে বলেই ফেলল, কী ব্যাপার পথ ভুলে বাড়িতে ঢুকে গেছো নাকি! আমি কথার উত্তর দেয়ার আগেই কাকা আমাকে বলল, চলো চলো যেই কাজে আসছি সেই কাজ আগে শেষ করি। পরে আইসা গল্প কইরো।

মামাকে সঙ্গে নিয়া আমি আমার ছোট বোন ও চাচা এক বাইকে বাঘেরকান্দা ও মৃধাপাড়া চরের দিকে গেলাম। যেতে যেতে দেখি ছোট ছোট ট্রাক ভর্তি সবজি ফুলকপি নিয়ে যাচ্ছে পাইকাররা। চরে তেমন কোনো বসতি নাই। নদী এলাকা। ভেতর দিয়ে একটা বালুমাটির  রাস্তা। সত্যিই দূর থেকে কুল কিনারা পাচ্ছিলাম না। শেষ সীমানা খুঁজতেছিলাম মনে মনে। মামা বলল এটার কোনো শেষ নাই। সব দিকেই সবজির চাষ। বেশি টমেটো আর বাঁধাকপি। বাগুন খেত কম। যেই কয়টা বাগুন খেত আছে তাতেও পোকা ধরা গাছে। মামাকে বললাম বাগুন খেত এমন কেন! জানতে পারলাম কী যেন একটা রোগের কারণে ফলন মইরা গেছে।

ওখানে ধান চাষ খুব একটা করা হয় না। এক ফসল হয়ত হয় নিজেদের খাওয়ার জন্য। বর্ষার পুরাটা সময় তাদের বসে থাকতে হয়।

আমি রসুন খেতের ছবি তুলছিলাম। এক চাচা আমাকে ডেকে জিজ্ঞেস করল আমি কী করছি। তারা শহরের মানুষকে কদর দিয়ে কথা বলে। বললাম ফসল দেখতে আসছি। সে খুশি হল ও  তার খেত দেখিয়ে দিল। আমি তার ছবি তুললাম, তার গরুর ছবি তুললাম। এরপর আরেক জনের সাথে কথা হল। তার কাছ থেকে জানতে পাইলাম আশ্বিন মাস থেকে শুরু করে সবজি চাষ। পাইকাররা ও বিভিন্ন কোম্পানি চাষীদের লোন দেয় ফসল বোনার আগে। শর্ত থাকে তাদের ছাড়া অন্য কোথাও ফলন বিক্রি করতে পারবে না।

ময়মনসিংহ সদর উপজেলার একটি অঞ্চল বোররচর ইউনিয়ন। নাম ৩নং বোররচর ইউনিয়ন পরিষদ। এই ইউনিয়নে ১৩টি গ্রাম রয়েছে। হাট বাজার আছে ৭টির মত।

টমেটো ক্ষেত
টমেটো
মরিচ ক্ষেত
বাঁধাকপি
রসুন লাগানো হয়েছে
ফুলকপি ক্ষেত
টমেটো গাছ
বাঁধাকপি ক্ষেত
হাল চাষ করা হয়েছে এবং একটা শ্যালো মেশিন
পেঁয়াজ ক্ষেত
গরু
লাউ জাংলা
বস্তাবন্দি মরিচ ও বেপারি
বাড়ির আঙিনায় সরিষা ক্ষেত
পাকা টমেটো কেইসে ভরা হচ্ছে
পাকা টমেটো বাছাই চলছে
ধানের বীজ রোপণ করা হয়েছে
মরিচ ধরা গাছ
ক্ষেত থেকে তুলে কাঁচা টমেটো খাচ্ছে বাচ্চা মেয়ে
রাস্তা ও জোড়া শালিক
ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে ফুলকপি চাষ
ফুলকপি চাষ
শালিকের গোসল
ব্রহ্মপুত্র নদে ধান চাষ
ব্রহ্মপুত্র নদ
বাগানে লাউ
আখ ক্ষেত
করলা ক্ষেত
আলু ক্ষেত
সরিষা ফুল ঝরতে শুরু করেছে
রসুন ক্ষেত, মাঝে মাঝে লাল শাকের গাছ
ফুলকপি গাছ
মুলা শাক
লাউ চারার মাচার নিচে লালশাক

Recommended Posts