জুনের ৪ তারিখে প্রকাশিত হলো বেস্টসেলিং বইয়ের লেখক জেমস প্যাটারসন ও যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের যৌথভাবে লেখা থ্রিলার উপন্যাস  ‘দ্য প্রেসিডেন্ট ইজ মিসিং’। 

দ্য প্রেসিডেন্ট ইজ মিসিং’ এর গল্প আমেরিকার একজন ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্টকে নিয়ে, যিনি এক আন্তর্জাতিক সঙ্কটের সময় নিখোঁজ হয়ে যান। এর পরবর্তী তিন দিনে আমেরিকার ইতিহাসে সবচেয়ে নাটকীয় ও ভয়ঙ্কর সময় কাটে।

বইটি প্রকাশের আগে ৩১ মে দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস পত্রিকার  ‘বাই দ্য বুক’ সেকশনে বিল ক্লিনটনের এই সাক্ষাৎকারটি ছাপা হয়।

বই পড়া নিয়ে বিল ক্লিনটন

অনুবাদ: আয়মান আসিব স্বাধীন

আপনার বেডসাইড টেবিলে কোন বইগুলি আছে এখন?

মাশা গেসেনের ‘দ্য ফিউচার ইজ হিস্টোরি’। বইটা খুব চমৎকার আর সোজাসাপ্টা ও স্পষ্ট ভাষায় লেখা। বইয়ের বিষয়বস্তুর হিসাবে ভাষাটা একদম উপযুক্ত। অল্প সময়ের মধ্যেই শেষ করে ফেলব। মিচিও কাকু’র ‘দ্য ফিউচার অফ হিউম্যানিটি’ আছে। এছাড়া আছে স্টিভেন পিংকারের ‘এনলাইটেনমেন্ট নাও’ আর ডেভিড কেসলারের ‘ক্যাপচার: আ থিওরি অফ মাইন্ড’। এরপরে আসবে জ্যাসন ম্যাথুসের ‘রেড স্প্যারো’ ট্রিলজির পরবর্তী বইটা।

কোন জায়গায় আর ঠিক কোন সময়টায় পড়তে পছন্দ করেন আপনি?

আমার অফিসের টেবিলে, ইজি চেয়ারে বসে, খাটে শুয়ে বা প্লেনে। খুব ক্লান্ত না থাকলে গাড়িতে বসেও বই পড়ি।

সর্বশেষ কোন বইটা পড়ে গ্রেট লেখা বলে মনে হয়েছিল?

ডেভিড গ্র্যানের ‘কিলারস অফ দ্য ফ্লাওয়ার মুন’ খুব ভালো লেগেছিল আমার। এছাড়া ম্যাডেলিন অলব্রাইটের লেখা ‘ফ্যাসিজম: আ ওয়ার্নিং’ আর সভেন বেকার্টের ‘এম্পায়ার অফ কটন’।

আপনি কি এক বই আবার পড়েন? কোন বইটা বার বার পড়া হয়েছে?

হ্যাঁ, মারকাস অরেলিয়াসের ‘মেডিটেশনস’ পড়েছি আবার। কবি শেমাস হেনি’র ‘দ্য কিউর অ্যাট ট্রয়’ এবং উইলিয়াম বাটলার ইয়েটসের ‘দ্য কালেক্টেড পোয়েমস’ অনেকবার করে পড়া হয়েছে আমার।

ছাত্র অবস্থায় পড়া কোন বইটা সবচাইতে ভালো বলে মনে হয় আপনার কাছে?

কলেজে থাকতে উইলিয়াম স্টাইরনের ‘দ্য কনফেশনস অফ ন্যাট টার্নার’। ল’ স্কুলে থাকতে গ্যাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেজের ‘ওয়ান হান্ড্রেড ইয়ারস অফ সলিচ্যুড’ (তাছাড়া ছাত্রাবস্থায় পড়া সব বইয়ের মধ্যে এটাই সবচেয়ে ভালো লাগে আমার)। অক্সফোর্ডে পড়ার সময় হিউ থমাসের ‘স্প্যানিশ সিভিল ওয়ার’ ও এডমান্ড উইলসনের ‘টু দ্য ফিনল্যান্ড স্টেশন’ অনেক ভালো লেগেছিল।

”ল’ স্কুলে থাকতে গ্যাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেজের ‘ওয়ান হান্ড্রেড ইয়ারস অফ সলিচ্যুড’ (তাছাড়া ছাত্রাবস্থায় পড়া সব বইয়ের মধ্যে এটাই সবচেয়ে ভালো লাগে আমার)”

আপনার চিন্তাভাবনাকে প্রভাবিত করেছে এমন কী কী বই আছে? কোনো সাহিত্যকর্ম কি কখনো প্রেসিডেন্ট হিসাবে আপনার কোনো নীতিগত অবস্থানের ওপর প্রভাব রেখেছে?

ক্যারোল কুইগলি’র ‘দ্য এভোল্যুশন অফ সিভিলাইজেশনস’, ম্যাক্স ওয়েবারের ‘পলিটিকস অ্যাজ আ ভোকেশন’, আর্নেস্ট বেকারের ‘দ্য ডিনায়াল অফ ডেথ’, থমাস আ কেম্পিসের ‘ইমিটেশন অফ ক্রাইস্ট’, মার্কাস অরেলিয়াসের ‘মেডিটেশনস’, শেমাস হেনি’র ‘দ্য কিওর অ্যাট ট্রয়’ এবং বারবারা টাকম্যানের ‘দ্য গানস অফ অগাস্ট’— এই বইগুলি আমার চিন্তাভাবনায় গভীর প্রভাব রেখেছে।

আমি জানি না এরকম কোনো বই আছে কিনা যা প্রেসিডেন্ট হিসাবে আমার নীতিগত অবস্থানের ওপর প্রভাব ফেলেছে। কিন্তু রিচার্ড রাইট এবং রালফ এলিসনের বইগুলি পড়ার পর সিভিল রাইটস নিয়ে আরো কাজ করার ইচ্ছা জাগে আমার। ১৯৯২ সালে ডনাল্ড এল বারলেট ও জেমস বি স্টীলের লেখা ‘আমেরিকা: হোয়াট ওয়েন্ট রং’ পড়েছিলাম আমি। এরপর থেকে ট্রিকল-ডাউন অর্থনীতির বিপরীতে আরো বেশি ন্যায়সঙ্গত ও উন্নত অর্থনীতি অর্জনের সঙ্কল্প দৃঢ় হয় আমার মধ্যে।

অ্যাল গোরকে আমার ভাইস প্রেসিডেন্ট হবার জন্য প্রস্তাব দেওয়ার পেছনে তার লেখা ‘আর্থ ইন দ্য ব্যালেন্স’ বইটা বড় ভূমিকা রেখেছিল। আমরা দুইজনে মিলে জলবায়ু পরিবর্তনের ধারা পাল্টে দিতে যে সকল কাজ করেছি তাতেও এ বইয়ের প্রভাব আছে।

প্রেসিডেন্টের জীবনীগুলির মধ্যে পছন্দের কোনোটা আছে কি? কিংবা কোনো প্রেসিডেন্টের আত্মজীবনী? (আপনারটা সহ!)

পছন্দের মধ্যে ডেভিড হার্বার্ট ডনাল্ডের ‘লিঙ্কন’ আছে, রন চারনাও এর ‘গ্র‍্যান্ট’ আছে, এইচ ডব্লিউ ব্র‍্যান্ডসের ‘টি আর: দ্য লাস্ট রোমান্টিক’ও ভালো লাগে। জিওফ্রে সি ওয়ার্সের ‘আ ফার্স্ট ক্লাস টেম্পারমেন্ট’ খুব প্রিয়। ডেভিড ম্যাকক্যালৌ’র ‘ট্রুম্যান’ আর রবার্ট ক্যারো’র লেখা লিন্ডন বি জনসনের উপর সিরিজটাও ভালো লাগে। সিডনি ব্লুমেন্থালের ‘লিঙ্কন সিরিজ’ও দারুণ লেগেছে, কারণ তিনি এমন সব তথ্য খুঁজে পেয়েছেন যা আমার কাছে পুরাই নতুন ছিল।

বই সংগ্রহ করে রাখেন নাকি মানুষদেরকে দিয়ে দেন?

দুইটাই করি। মাঝে মাঝে কাউকে কোনো বই দিয়ে দেওয়ার পর বইটার আরেক কপি সংগ্রহ করে ফেলি।

ছোটবেলায় কোন বইগুলি প্রিয় ছিল? কোনো পছন্দের চরিত্র বা হিরো ছিল কি?

বিবলিকাল এপিক পড়তে পছন্দ করতাম তখন; লয়েড সি ডগলাসের ‘দ্য রোব’, থমাস বি কস্টেইনের ‘দ্য সিলভার চ্যালিস’, লী ওয়ালেসের ‘বেন-হার’— এসব। নেটিভ আমেরিকান উপজাতি আর চীফদেরকে নিয়ে পড়তে ভালো লাগতো। বিশেষ করে নেজ পার্সের আদিবাসীদের মধ্যে ওসিওলা এবং চীফ জোসেফকে নিয়ে।

হতাশ হয়েছেন, ওভাররেটেড মনে হয়েছে বা ভালোই লাগে নি; এমন কোন বই আছে যা আপনার ভালো লাগার কথা ছিল কিন্তু পড়ার পর আর ভালো লাগে নি?

স্বীকার করতে অস্বস্তি লাগছে কিন্তু সত্যি কথা হলো দুই বার চেষ্টা করেও আমি ‘ডন কিহোতে’ পুরাটা পড়ে শেষ করতে পারি নাই। বড় বই আমার ভালো লাগে। ২২ বছর বয়সে ‘ওয়ার অ্যান্ড পিস’ অনেক দ্রুত পড়ে শেষ করেছিলাম। কিন্তু ‘কিহোতে’ পারলাম না। অন্তত আরো একবার চেষ্টা নিয়ে দেখব।


‘দ্য প্রেসিডেন্ট ইজ মিসিং’ বইটির নির্বাচিত অংশের অনুবাদ পড়ুন নিচের লিংক থেকে

বিল ক্লিনটন ও জেমস প্যাটারসনের থ্রিলার ‘দ্য প্রেসিডেন্ট ইজ মিসিং’


জীবিত অথবা মৃতদের মাঝে যদি কোনো লেখকের সাথে দেখা করার সুযোগ পেতেন, তাহলে কার সাথে দেখা করতেন? ঠিক কী জানতে চাইতেন তার কাছে?

মার্ক টোয়েন। জানতে চাইতাম তিনি কোন জিনিসগুলি আসলেই বিশ্বাস করতেন আর কোনগুলি লোক দেখানো ছিল।

ই-বুক নাকি কাগজের বই?

কাগজের বই।

কোন বইগুলি পড়ে লেখক হবার ইচ্ছা জাগে আপনার? আর কোন বইগুলি আপনাকে রাজনীতিবিদ হতে উদ্বুদ্ধ করেছিল?

এই বইগুলি আমাকে লেখক হবার অনুপ্রেরণা দেয়— উইলি মরিসের ‘নর্থ টুয়ার্ড হোম’, উইলিয়াম স্টাইরনের ‘দ্য কনফেশনস অফ ন্যাট টার্নার’, জেমস বল্ডউইনের ‘দ্য ফায়ার নেক্সট টাইম’, উইলিয়াম ফকনারের ‘দ্য সাউন্ড অ্যান্ড দ্য ফিউরি’, গ্যাব্রিয়েল গার্সিয়া মারকেজের ‘ওয়ান হান্ড্রেড ইয়ারস অফ সলিচ্যুড’ এবং মায়া অ্যাঞ্জেলু’র লেখা ‘আই নো হোয়াই ইউ কেজড বার্ডস’। আমি রাজনীতিবিদ হতে চেয়েছিলাম কারণ জনগণ, পলিসি আর রাজনীতি আমাকে মুগ্ধ করতো। রাজনীতিবিদের কাজ কীভাবে আরো ভালো করে করা যায় তা জানার জন্যই বরং আমি অনেক বই পড়েছি।

লেখালেখি করার সময় কেউ যদি আপনার অফিসে ঢুকে পড়ে, সে ঠিক কী দেখতে পাবে?

গবেষণার জন্য যোগাড় করা অনেক কাগজ দেখতে পাবে। আমি যেসব নোটবুকে হাতে লিখি সেগুলি থাকবে। আর টাইপিংয়ে নতুন করে লেখা অনেক কাগজ দেখা যাবে।

সরকারের কাজে আগ্রহ আছে এমন কাউকে যদি কোনো বই রেকমেন্ড করতে চান, তাহলে কোন বইটা পড়তে বলবেন?

ম্যাক্স ওয়েবারের ‘পলিটিকস অ্যাজ আ ভোকেশন’।

আপনার নতুন বইয়ের সহ-লেখক জেমস প্যাটারসন। তার কোন বইগুলি প্রিয়?

তার ‘অ্যালেক্স ক্রস’ এবং ‘মাইকেল বেনেট’ সিরিজের সব বই আমার ভালো লেগেছে। এছাড়া ‘দ্য ব্ল্যাক বুক’ বইটাও দারুণ হয়েছিল।

প্রিয় থ্রিলার বই?

থ্রিলার বই আমি গোগ্রাসে গিলি। ডেভিড বল্ড্যাচির ‘দ্য ফলেন’ পড়ে শেষ করলাম মাত্র, তার লেখা সেরা বই মনে হলো। এ.জে ফিন এর ‘দ্য ওমেন ইন দ্য উইন্ডো’, নেলসন ডেমিল এর ‘দ্য কিউবান অ্যাফেয়ার’, জ্যাকলিন উইনস্পিয়ারের ‘টু ডাই বাট ওয়ান্স’। জ্যাকলিনের মা তার ‘মেইজি ডবস সিরিজ’ আমাকে ও হিলারিকে গিফট করেছিলেন। লিসা স্কটোলিনের ‘আফটার অ্যানা’, জেমস লী বার্কের ‘রোবিশো’, অ্যালেক্স বেরেনসনের ‘দ্য ডিসিভার্স’ আর নিউ ইয়র্কের উপর ওয়াল্টার মোজলির চমৎকার নতুন বই ‘ডাউন দ্য রিভার আনটু দ্য সী’। লী চাইল্ড, হারলান কোবেন, লুইস পেনি, রবার্ট ক্রেইস, স্যারা প্যারেটস্কি, সুজান এলিয়া ম্যাকনিল এবং ড্যানিয়েল সিলভা—এদের নতুন বইয়ের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি। এছাড়া এমন লেখকদেরকেও খুঁজে বের করার চেষ্টা করি যাদের কাজ তেমন একটা পরিচিতি পায় নি, যেমন ডেভিড পেপার। আর সু গ্র‍্যাফটনের লেখাও খুব মিস করি।

আপনার জীবনী লেখার জন্য যদি ইতিহাস থেকে কাউকে বেছে নিতে পারতেন, তাহলে কে হতেন সেই লেখক?

ডেভিড হার্বার্ট ডনাল্ড, ভদ্রলোক মারা গেছেন। এছাড়া রন চারনাও অথবা স্ট্রোব ট্যালবটকে বেছে নিতাম। তারা সবাই প্রথম সারির একেকজন ইতিহাসবিদ, দুর্দান্ত সব লেখক। তারা আমাকে ভালো বুঝতে পারেন বলে মনে হয়।

সামনে কোন বইটা পড়ার ইচ্ছা আছে?

মার্টিন পুখনার এর লেখা ‘দ্য রিটেন ওয়ার্ল্ড : পাওয়ার অফ স্টোরিস টু শেপ পিপল, হিস্ট্রি, সিভিলাইজেশন’।

Recommended Posts

No comment yet, add your voice below!


Add a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *