আগাথা ক্রিস্টির এই  বইটি কয়েক নামে প্রকাশিত হয়েছে।  প্রথমে ইউকেতে, ১৯৩৯ সালে, টেন লিটল নিগার্স  নামে। পরের বছর আমেরিকা থেকে প্রকাশিত হয়। ২০ শতকের শুরু থেকেই আমেরিকায় ‘নিগার’ শব্দটি বর্ণবাদী শব্দ হিসেবে চিহ্নিত ও নিন্দিত হতে শুরু করে। তাই আমেরিকায় প্রকাশের সময় প্রথম সংস্করণেই বইয়ের নাম হয় অ্যান্ড  দেন দেয়ার ওয়ের নান এবং বই থেকে ‘নিগার’ শব্দটি সম্পূর্ণভাবে বাদ দেয়া হয়।

অনেকে অ্যান্ড  দেন দেয়ার ওয়ের নানকে আগাথা ক্রিস্টির শ্রেষ্ঠ উপন্যাস বিবেচনা করেন। উপন্যাসের কাহিনি আবর্তিত হয়েছে জটিল ও ভয়াবহ কিছু হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে। জনবিচ্ছিন্ন এক দ্বীপে ছুটি কাটাতে আসা ১০ ব্যক্তি একে একে খুন হতে থাকে। খুনির পরিচয় কিংবা খুনের কারণ সম্পর্কে কিছু জানা যায় না।

আগাথা ক্রিষ্টি গল্পের প্লট সাজিয়েছিলেন ফ্র্যাঙ্ক গ্রিনের কুখ্যাত রাইম বা ছড়াগান ‘টেন লিটল নিগার্স’ ভিত্তি করে। ১৮৬৯  সালে লেখা এই রাইমে ফ্র্যাঙ্ক গ্রিন ১০টি ছেলের মৃত্যুর গল্প তুলে ধরেছিলেন।

১৯৬৪ সালে বইটি পুনরায় প্রকাশিত হয় টেন লিটল ইন্ডিয়ানস  নামে। এ নামটিও বর্ণবাদী ভাব বহন করে।

শুধুমাত্র নামের কারণেই নয়, আরো অনেক কারণেই বইটি বিতর্কিত। বর্ণবাদ ও পশ্চিমা শ্রেষ্ঠত্বের অহমিকা বইটির সর্বত্র ছড়িয়ে আছে। যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে অনেক দেশেই এখনো বইটি মূল নামেই প্রকাশিত হয়। তবে যতই বিতর্কিত হোক, অ্যান্ড দেন দেয়ার ওয়ের নান এখনো পুরো পৃথিবীতে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হওয়া রহস্যোপন্যাসগুলির অন্যতম। এ পর্যন্ত  ১০০ মিলিয়ন কপিরও বেশি বিক্রি হয়েছে এই বই।

লরা থম্পসনের মূল লেখাটি উপস্থাপনের আগে প্রাসঙ্গিকতা বিবেচনা করে ফ্র্যাংক গ্রিনের ‘টেন লিটল নিগার্স’ এর বাংলা অনুবাদ দেওয়া গেল:

টেন লিটল নিগার্স
ফ্র্যাংক গ্রিন
অনুবাদ: দীপ্র আসিফুল হাই

দশটা ছোট্ট নিগ্রো ছেলে রাতের খাবার খায়
বিষম লেগে একটা মরল, নয়টা রয়ে যায়।

নয়টা ছেলে ঘুমায়, ভীষণ আরামদায়ক খাট
ঘুমের ঘোরেই মরল একটা, রইল বাকি আট।

আটটা ঘুরে ডেভন প্রদেশ সকাল, বিকাল, রাত
একটা সেথায় রয়েই গেল, রইল বাকি সাত।

সাতটা গেল কাঠ কাটতে, নাই কোনো ডর ভয়
নিজের কোপেই মরল একটা, রইল বাকি ছয়।

মৌচাকে ঢিল ছুঁড়তে ছুঁড়তে ছয়টা করে নাচ
হুলের বিষে মরল একটা, রইল বাকি পাঁচ।

পাঁচটা ছোট্ট নিগ্রো ছেলে মামলায় জেরবার
একটা জেলে পচতে গেল, রইল বাকি চার।

চারটা নিগ্রো সাগর তীরে কাটায় অলস দিন
একটা গেল মাছের পেটে, রইল বাকি তিন।

চিড়িয়াখানায় তিনটা করে আনন্দে হৈ চৈ
ভালুক দিল সাবড়ে একটা, রইল বাকি দুই।

দুইটা গেল দুপুর বেলা নিতে রোদের সেঁক
রোদের আঁচে পুড়ল একটা, রইল বাকি এক।

বইতে কি আর পারে ছেলে একলা থাকার ভার
গলায় দড়ি দিল সেও, রইল না কেউ আর।
(১৮৬৯)

ইংরেজি লিংক: TEN LITTLE NIGGERS


যে কারণে আগাথা ক্রিস্টির ‘অ্যান্ড দেন দেয়ার ওয়ের নান’ একটি মাস্টারপিস

লরা থম্পসন

অনুবাদ: দীপ্র আসিফুল হাই

এই বছর (২০১৫) বিবিসি’র ক্রিসমাস আয়োজনের মূল আকর্ষণ আগাথা ক্রিস্টির বেস্ট সেলিং রহস্যোপন্যাস অ্যান্ড দেন দেয়ার ওয়ের নান  অবলম্বনে তৈরি টিভি সিরিজটি। তিন পর্বের সিরিজটির প্রথম পর্ব প্রচারিত হবে বক্সিং ডে অর্থাৎ ২৬ ডিসেম্বর, বুধবারে। প্রিভিউ ক্লিপসগুলি দেখে এটুকু আশা করা যেতেই পারে যে ক্রিস্টির এই মাস্টারপিসটি অবশেষে যথাযথ স্ক্রিন অ্যাডাপটেশন পেতে যাচ্ছে।

এ কথা বলার কারণ, এর আগের সবগুলি অ্যাডাপটেশনের অবস্থাই ছিল করুণ। সবার নিশ্চয়ই মনে আছে ১৯৭৪ সালের ফিল্ম ভার্সনটির কথা? এই সিনেমায় চার্লস আজনাভোর অভিনয় করেছিলেন অ্যানথনি মার্সটনের ভূমিকায়। সিনেমার একটি দৃশ্যে আজনাভোর পিয়ানোর সামনে বসে উন্মত্তভাবে বাজিয়ে চলেছিলেন শিশুতোষ একটি গানের সুর। গানটি ছিল টেন লিটল ইন্ডিয়ানস। এই গানের শেষ পাঁচটি শব্দ থেকেই ক্রিস্টি বইটির শিরোনাম ও প্লট নিয়েছিলেন।

ডিসেম্বর ২০১৫ তে প্রচারিত উপন্যাসটির বিবিসি অ্যাডাপটেশনের দৃশ্য।

তবে, এই উপন্যাস থেকে নির্মিত প্রথম সিনেমাটি বানিয়েছিলেন রেনে ক্লেয়ার, ১৯৪৫ সালে। এই সিনেমাটি বরং দ্বিতীয়টির থেকে ভাল ছিল। যদিও আগাথা ক্রিস্টি নিজে এই নিয়ে খুব একটা উৎসাহ দেখান নি। এরপরেও বলা যায় ক্লেয়ারের ফিল্ম অ্যাডাপটেশন এবং উপন্যাসে ক্রিস্টির নিজস্ব নাটকীয়তা একসাথে মিলিত হয়ে প্রচণ্ড উত্তেজনার সৃষ্টি করেছিল। এর ফলে ক্রিস্ট্রির ক্যারিয়ারে নতুন জোয়ার শুরু হয়। সেইসাথে এই বিষয়টিও প্রমাণিত হয় যে পঞ্চাশ পেরিয়েও একজন সার্থক লেখক দুর্দান্তভাবে পুনরায় আবির্ভূত হতে পারেন।

ক্রিস্টির মতই তার অ্যান্ড দেন দেয়ার ওয়ের নান -এর চমক কখনোই ফুরিয়ে যায় নি। প্রথমবার উপন্যাসটি পড়লে যে কোনো পাঠকই ভয় পেতে বাধ্য। আমি উপন্যাসটি প্রথমবার পড়েছিলাম ১২ বছর বয়সে। বইটিতে ডেভন উপকূলের একটি দ্বীপে ১০ জন মানুষকে সিস্টেমেটিকভাবে খুন করার বর্ণণা দেয়া হয়েছে যা পড়ে আমি সত্যিই আঁতকে উঠেছিলাম। অশুভ কিছু বর্ণনা করার ক্ষেত্রে ক্রিস্টির রয়েছে নিজস্ব একটা স্টাইল। আর ভয়টা তৈরি হয় ক্রিস্টির এই নিজস্ব ভঙ্গিমার বর্ণনা থেকেই।

কাহিনি বর্ণনায় ক্রিস্টি বরাবরই মিনিমালিস্টিক। গল্প বলার সময় তিনি কোনো অতিরিক্ত শব্দ বলেন না। আর এই গল্পের বর্ণনায় তো ক্রিস্টি ভয়ঙ্কর ভাবে সংযত। রহস্য গল্প লেখার ক্ষেত্রে এটি একটি শক্তিশালী দক্ষতা যা বিষয়বস্তুর সাথে মানানসই। ক্রিস্টির এই দক্ষতা উপন্যাসটিকে করে তুলেছে নিখুঁত সাহিত্যকর্ম।

রেমন্ড চ্যান্ডলার (১৮৮৮-১৯৫৯)

যদিও বিখ্যাত রহস্যরোমাঞ্চ লেখক রেমন্ড শ্যান্ডলার এই বিষয়ে ভিন্নমত পোষণ করেন। তার মতে, অ্যান্ড দেন দেয়ার ওয়ের নান  হল একটি ব্যর্থতা। কারণ এতে বর্ণিত বেশিরভাগ হত্যাকাণ্ডই বাস্তবে ঘটতে পারে না। ক্রিস্টির বিষয়ে একটি গৎবাঁধা সমালোচনা চালু ছিল যে তিনি যা লেখেন তা হল ‘অ্যানিমেটেড অ্যালজেবরা’। শ্যান্ডলারের সমালোচনাও এই অতি পরিচিত সমালোচনার মতই শোনায়। মেথড বা পদ্ধতির উপরে বেশি মনোযোগ দেয়ার কারণেই এই সমালোচনাটি তৈরি হয়েছিল। কিন্তু বেশিরভাগ পাঠককেই  এই উপন্যাসে ক্রিস্টি যে সুপরিকল্পিত প্লট তৈরি করেছেন তা রীতিমত সম্মোহিত করে রাখে। তবে চূড়ান্ত বিচারে অ্যান্ড দেন দেয়ার ওয়ের নান  আসলেই কিছুটা ফর্মুলেইক বা পদ্ধতি নির্ভর গল্প।

উপন্যাসটি পড়তে গিয়ে মনে হয় একটি খেলা ধাপে ধাপে সমাপ্তির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। এটি ক্রিস্টির অন্যান্য গল্পের চাইতে কিছুটা আলাদা। এই উপন্যাসে তিনি খুব পরিকল্পনা করে সবকিছু সাজিয়ে নিয়েছেন। এতটা সচেতন পরিকল্পনা তিনি অন্য কোনো গল্পের ক্ষেত্রে করেন নি। গল্পের এই নিখুঁত বুননই পাঠককে সম্মোহিত করে দেয়।

আগাথা ক্রিস্টির গল্পে প্লট বা কাহিনির বাইরেও কিছু একটা থাকে যা পাঠককে টানে। অ্যান্ড দেন দেয়ার ওয়ের নান  এর ব্যতিক্রম নয়। উপন্যাসটি পড়ে বোঝা যায় এটি অপরাধ বিষয়ে ক্রিস্টির গভীর চিন্তাভাবনার বহিঃপ্রকাশ। শ্যান্ডলার যখন বইটির কিছু অস্বাভাবিক হত্যাকাণ্ডের সমালোচনা করছিলেন, তখন তিনি উল্লেখ করতে ভুলে যান যে এগুলি ছাড়াও আরো কিছু হত্যাকাণ্ড ঐ দ্বীপে সংঘটিত হয়। গল্পটি পড়ে পাঠক বুঝতে পারেন খুন হওয়া দশটি চরিত্রই অতীতে কোনো না কোনো হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত ছিল।

অপরাধগুলি এতই ভয়াবহ যে পাঠকের মনে হবে সেগুলি সত্যিই ঘটছে। সবচেয়ে নিকৃষ্ট হত্যাকাণ্ডটি ঘটে ভালোবাসার কারণে। বিষয়গুলি ফুটে ওঠে চরিত্রগুলির অভ্যন্তরীণ চিন্তা ও সংলাপের মধ্য দিয়ে। অতীতের সাথে এই গভীর ও অন্ধকার সম্পর্কের মধ্যেই নিহিত আছে বইটির মূল আকর্ষণ।

ক্রিস্টি ছিলেন হাসিখুশি প্রকৃতির একজন নারী যিনি কখনোই অশুভের মুখোমুখি হতে ভয় পান নি। অশুভর উপস্থিতি তিনি খুঁজে পেয়েছেন সমাজ ও রাষ্ট্রের সর্বত্র। সম্প্রদায়ের মধ্যে, বিভিন্ন রকমের পেশায়—বিশেষত ডাক্তারিতে, পরিবারে, এমনকি শিশুদের মধ্যেও। সমাজের শ্রদ্ধেয় ও সম্মানিত শ্রেণির মধ্যেও তিনি অপরাধী চরিত্র খুঁজে পেয়েছেন এবং তাদের নিয়ে লিখেছেন। শুধুমাত্র চাঞ্চল্যকর হবে বলেই তিনি এমনটি করেন নি। তিনি সত্যিই বিশ্বাস করতেন, মানুষ যদি বুঝতে পারে যে অপরাধ করেও সে পার পেতে পারে, তাহলে অনেক মানুষই, তা তারা যত শ্রদ্ধেও শ্রেণিরই হোক না কেন, ভয়ঙ্কর সব কাজ করতে পারে।

আগাথা ক্রিস্টির অন্তর্ধানের সময়ে পরিত্যক্ত অবস্থায় পাওয়া যায় তার গাড়ি, ডিসেম্বর ১৯২৬।

মানুষের আদিম প্রবৃত্তি সম্পর্কে ক্রিস্টির ভাল জ্ঞান ছিল। সেই জ্ঞানের প্রতিফলন ঘটেছে তার বইগুলিতে। এই জ্ঞান তিনি অর্জন করেছিলেন কঠিন বাস্তব অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে। ১৯২৬ সালে ক্রিস্টির প্রাক্তন স্বামী অন্য এক নারীর প্রতি তার আসক্তির কথা প্রকাশ করেন। এই নিয়ে টানাপোড়েন চলাকালীন ক্রিস্টি হঠাৎ অন্তর্ধান করেন। প্রায় ১১ দিন পরে তাকে খুঁজে পাওয়া যায়। তার এই অন্তর্ধানের সময় তার স্বামীর বিরুদ্ধে তাকে হত্যা করার অভিযোগ ওঠে এবং ভদ্রলোক এমনকি গ্রেফতারও হতে যাচ্ছিলেন। ক্রিস্টি কি একবার হলেও ভেবেছিলেন যে তার স্বামী সত্যিই তাকে খুন করতে পারেন?

খুন করাটা আসলে সহজ একটি কাজ, রহস্য গল্প লেখার ক্ষেত্রে এই ছিল ক্রিস্টির মন্ত্র। সমস্যা হল, পরবর্তী সময়ে অপরাধীর মনে পড়ে যায় তার অপরাধের কথা। অ্যান্ড দেন দেয়ার ওয়ের নান  এর সেই দ্বীপে সবগুলি অপরাধী চরিত্রের বিবেককে নাড়া দেয় ছোটবেলায় পড়া বাইবেলের একটি শ্লোক—“নিশ্চিত থাকো যে তোমার পাপ তোমাকে খুঁজে বের করবে।” তীব্র আতঙ্ক তাদেরকে বাধ্য করে নিজেদের অপরাধের মুখোমুখি দাঁড়াতে। বইটি যতই উপভোগ্য হোক, এটি স্নায়ুর উপর নিদারুণ চাপ সৃষ্টি করে।

এমন নয় যে গল্পের এই মেজাজটি সরাসরি ক্রিস্টির নিজের জীবন থেকে এসেছে। ১৯৩৮ সালে তিনি উপন্যাসটি লিখেন। এই সময়ে তার নিজের জীবন ছিল যথেষ্টই সুস্থির। ১৯৩০ সালে তিনি ম্যাক্স ম্যালোওয়ান নামের এক আর্কিওলজিস্টকে বিয়ে করেন যিনি বয়সে তার চাইতে ১৬ বছরের ছোট ছিলেন। এর ফলে তিনি এক ধরনের দ্বৈত অস্তিত্ব যাপন করতে শুরু করেন। একদিকে একজন স্ত্রী হিসেবে, অন্যদিকে ‘আগাথা ক্রিস্টি’ হিসেবে। এই সময়ে প্রচুর টাকাও তিনি উপার্জন করেছিলেন এবং পৌঁছেছিলেন সৃষ্টিশীলতার চূড়ায়।

দ্বিতীয় স্বামী ম্যাক্স ম্যালোওয়ানের সঙ্গে আগাথা ক্রিস্টি, ডেভনশায়ার, মার্চ ১৯৪৬।

ক্রিস্টি তার আত্মজীবনীতে উল্লেখ করেন, ত্রিশের দশকে তার জীবন প্রশ্নাতীতভাবেই সুখের ছিল। বাইরের কোনো ছায়া তার জীবনে কোনো প্রভাব ফেলতে পারে নি। যদিও মনের অভ্যন্তরে তিনি কখনোই ১৯২৬ সালের সেই আঘাত থেকে বের হয়ে আসতে পারেন নি। বইটি তিনি উৎসর্গ করেন শার্লট, তার প্রাক্তন সহকারী, এবং মেরি ফিশার নামের দুই বোনকে। ক্রিস্টি মনে করতেন তার অন্তর্ধানের সময় যে মানুষগুলি তার প্রতি বিশ্বস্ত ছিল, এই দুই বোন তাদের অন্যতম। নিজের গল্পের চরিত্রের মতই ক্রিস্টি সব সময় তার অতীতের অন্ধকারে আচ্ছন্ন ছিলেন।

ক্রিস্টির সেরা কাজগুলি যেমন তার প্রখর বুদ্ধিমত্তার পরিচয় বহন করে, তেমনি তার জটিল অনুভূতিগুলির ছাপও বহন করে। স্পষ্টতই অ্যান্ড দেন দেয়ার ওয়ের নান  ক্রিস্টির সবচেয়ে নৈর্ব্যক্তিক কাজ। এতে বলা হয়েছে এমন এক চরিত্রের কথা যে ভালবাসার জন্য খুন করে। আকস্মিক দ্রুততার সাথে ক্রিস্টি কাহিনি টেনে নিয়ে গেছেন এবং তুলে ধরেছেন অপরাধ ও এর ফলাফলের মধ্যকার বেপরোয়া দ্বন্দ্বকে। বিষয়গুলি খুব দ্রুতই লেখকের ব্যক্তিগত জীবনকে ছাড়িয়ে যায়। যুদ্ধকালীন সময়ে একদল যুদ্ধবন্দি উপন্যাসটি মঞ্চস্থ করে বুচেনওয়াল্ডে। তাদের নেতা পরবর্তী সময়ে ক্রিস্টিকে লিখেছিলেন, এটি ছিল স্মরণ করিয়ে দেয়া যে পৃথিবীতে ন্যায়বিচার রয়েছে, তা সে যতই হিংস্ররূপে থাকুক না কেন।

সূত্র. দ্য টেলিগ্রাফ

Recommended Posts

No comment yet, add your voice below!


Add a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *