Subscribe Now
Trending News

Blog Post

অ্যানেকডট

রুজভেল্ট ৩ চোরকে পড়ে শোনালেন ‘আন্না কারেনিনা’ 

যুক্তরাষ্ট্রের দুইবারের প্রেসিডেন্ট ও মিলিটারি কমান্ডার থিওডোর রুজভেল্টকে (১৮৫৮ – ১৯১৯) ‘টেডি’ রুজভেল্ট নামে ডাকা হত। টেডি রুজভেল্টের জীবনে কয়েকবার এমন হয়েছে যে তিনি কঠিন বিপদে পড়ে খুব সহজভাবে ও কৌতুকপূর্ণভাবে সেগুলি মোকাবিলা করেছেন।

১৮৮৬ সালে বছরের প্রথম দিকে প্রচণ্ড শীতে টেডি রুজভেল্ট নর্থ ডাকোটার মিসৌরি নদীর তীরে এলকহর্ন র‍্যান্চে কিছুদিন কাটিয়েছিলেন। এ সময় তিনি মাঝে মাঝে শিকারে বের হতেন। শিকারের জন্য তার দুইজন সহকারী ছিলেন—বিল সেওয়াল ও উইলমট ডিউ।

প্রচণ্ড শীতে তখন নদী জমে বরফ হয়ে গেছে। এই বরফের নদী পারাপারের জন্য রুজভেল্ট ও তার দুই সহকারী খুবই শস্তা একটা বিশেষ ধরনের নৌকা কিনেছিলেন।

একদিন সকালে তারা তিনজন শিকার থেকে ব্যর্থ হয়ে ফিরে আসছিলেন, নদীর তীরে এসে দেখলেন তাদের নৌকার দড়ি কাটা, নৌকা চুরি হয়ে গেছে।

সাধারণত শস্তা নৌকা চুরি হওয়ায় কারো বিশেষ একটা বিচলিত হওয়ার কথা না। রুজভেল্টের সহকারী দুজনের প্রতিক্রিয়াও সে রকমই ছিল। কিন্তু রুজভেল্ট ব্যাপারটিকে সহজে ছেড়ে দিলেন না।

রুজভেল্ট, সেওয়াল ও ডিউ মিলে একটা নৌকা বানাতে শুরু করলেন। তিনদিন পরিশ্রম করে তারা মোটামুটি চলনসই একটা নৌকা বানিয়ে ফেললেন।

এরপর রুজভেল্ট তার দুজন সহকারীকে নিয়ে বরফ জমা নদীতে চোর ধরার অভিযানে বের হলেন। আবহাওয়া ছিল খুবই অস্বাভাবিক। প্রচণ্ড ঝোড়ো বাতাস, খুবই কম তাপমাত্রা, নদীর উপরে জমাট বরফ। তাছাড়া এই এলাকা সম্পর্কে বদনাম ছিল যে এর ভৌগলিক অবস্থান খারাপ হওয়ার কারণে এখানে বিভিন্ন স্থান থেকে অপরাধীরা পালিয়ে এসে লুকিয়ে থাকে।

রুজভেল্ট আশা করছিলেন কোনো ধরনের সংঘর্ষ ছাড়াই তারা চোরদের ধরতে পারবেন, কারণ, চোরেরা যদি তাদের দেখতে পায়ও, তাহলেও তারা তাদের চিনতে পারবে না এবং বুঝতেও পারবে না যে তাদেরকে ধরতেই এসেছেন। তাছাড়া চোরেরা ধরেই নিয়েছে যে সেখানকার একমাত্র নৌকাটি তারা নিয়ে গেছে।

ঝোড়ো বাতাস ও বরফের মধ্যে তিনদিন যাওয়ার পরে তারা চোরদের দেখা পেলেন। চোরেরা ছিল তিনজন। এই দলের নেতা ছিল ফিনিগান নামের এক কুখ্যাত বন্দুকবাজ।

রুজভেল্টের দল কিছুটা সমস্যা মোকাবিলা করে হলেও চোরদের ধরে বেঁধে ফেলল। আসল ঝামেলা দেখা দিল র‍্যান্চে ফেরার পথে। নদীপথে তিনজন বন্দি নিয়ে ফেরার সময় তাদের পথে পড়ল বরফের একটি বাঁধ। এই বাঁধ পার হতে তাদের ৮ দিন সময় লেগে যায়। এসময় রুজভেল্ট তার সহকারী ও বন্দিদেরকে তার সাথে থাকা তলস্তয়ের আন্না কারেনিনা উপন্যাসটি পড়ে শোনান। একটানা চল্লিশ ঘণ্টা না ঘুমিয়ে রুজভেল্ট বন্দিদের পাহারা দেন।

তখন প্রথা ছিল চোর ধরতে পারলে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে দেওয়া। তবে রুজভেল্ট চোরদের বন্দি করে নিয়ে ফিরে এসে তাদেরকে ফাঁসিতে না ঝুলিয়ে ডেপুটি শেরিফের দায়িত্ব পালন করে তাদেরকে গ্রেপ্তার করেন। তখনকার দিনে আইনগতভাবে এটি খুবই অগ্রসর একটি সিদ্ধান্ত ছিল।

Related posts

সাম্প্রতিক © ২০২১ । সম্পাদক. ব্রাত্য রাইসু । ৮১১ পোস্ট অফিস রোড, বাড্ডা, ঢাকা ১২১২