রাশিয়ার একই রকম একটি নৌঘাটি আছে সিরিয়ার তারতাস বন্দরে, সেখানে রাশিয়ার এয়ারবেসও রয়েছে।

সুদান উপকূলে রাশিয়ার নৌঘাটি স্থাপনের পরিকল্পনা অনুমোদন করেছেন প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। নৌঘাটিটি পোর্ট সুদানের কাছাকাছি বানানো হবে। এতে পারমানবিক শক্তি চালিত সারফেস ভ্যাসেল নোঙর করা যাবে, এছাড়াও সর্বোচ্চ তিন শ সামরিক এবং বেসামরিক লোকের থাকার বন্দোবস্ত সম্ভব। এর ফলে ভারত মহাসাগরের নিয়ন্ত্রণ এবং আফ্রিকাকে প্রভাবিত করার সক্ষমতা অর্জন করবে রাশিয়া। সোভিয়েত পতনের পর আফ্রিকায় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে এটা রাশিয়ার প্রথম পদক্ষেপ মনে করা হচ্ছে।

গত বছর পুতিনের সভাপতিত্বে রাশিয়া-আফ্রিকা সামিট অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকের উদ্দেশ্য ছিল আফ্রিকা মহাদেশে রাশিয়ার সামরিক সক্ষমতার মহড়া দেয়া। সেটার অংশ হিসেবে দক্ষিণ আফ্রিকায় পারমাণবিক বোমা বহনে সক্ষম দুটি বম্বার অবতরণ করে।

চলতি মাসের প্রথম দিকে এই নৌঘাটি সম্পর্কিত বেশ কিছু নথিপত্রে জানা যাচ্ছিল, নৌঘাটিতে ৪টির বেশি জাহাজ এক সাথে নোঙর করতে পারবে না। আর ঘাটিটি মূলত মেরামত, সরবরাহ ও রাশিয়ার নৌসেনাদের বিশ্রামের কাজে ব্যবহৃত হবে।

এরই ধারাবাহিকতায়, গত সোমবার প্রেসিডেন্ট পুতিন সরকারি ডিক্রিতে জানান, রাশিয়া সরকারের নৌঘাটি বানানোর প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়কে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

নৌঘাটির জন্য প্রয়োজনীয় জায়গা রাশিয়াকে বিনামূল্যে দেবে সুদান। রাশিয়া চুক্তি অনুযায়ী নৌঘাটির জন্য প্রয়োজনীয় যেকোনো অস্ত্র, গোলাবারুদ ও যন্ত্রপাতি সুদানের বিমান এবং নৌবন্দরের মাধ্যমে আনতে পারবে।

রাশিয়ার একই রকম একটি নৌঘাটি আছে সিরিয়ার তারতাস বন্দরে, সেখানে রাশিয়ার এয়ারবেসও রয়েছে।

আফ্রিকায় জাতিসংঘের সদস্য দেশের সংখ্যা ৫৪, খনিজ সমৃদ্ধ এই মহাদেশটির জিবুতিতে চীন, যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্সের নৌঘাটি রয়েছে। যারা পোর্ট অফ সুদান নিয়মিত ব্যবহার করে থাকে। ভূ-রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণের বাইরেও, সবসময় রাজনৈতিক অস্থিতিশীল আফ্রিকায় অস্ত্র ব্যবসার বেশ বড় বাজার আছে এবং তা ক্রমবর্ধমান। যেটা রাশিয়ার আফ্রিকা নিয়ে আগ্রহ আরো বাড়িয়ে দিয়েছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে ঘাটির আশেপাশের কয়েক মাইল ‘নো ফ্লাই জোন’ ঘোষণা করার জন্য রাশিয়া সারফেস টু এয়ার মিসাইল সিস্টেম বসাবে।

সরকার নিয়ন্ত্রিত তাস নিউজ এজেন্সি জানাচ্ছে, এর ফলে ভারত সাগরে নিয়োজিত নৌবহরের জন্য রাশিয়ার নিজস্ব স্বার্থরক্ষার পথ সহজ হবে। রসদ, অস্ত্র ইত্যাদি আনা-নেয়ার বাইরেও এই ঘাটিটি আফ্রিকায় প্রভাব বিস্তারকারী অন্যান্য রাষ্ট্রগুলিকে চেক অ্যান্ড ব্যালান্সের আওতায় আনবে বলে সংবাদ সংস্থাটি মনে করে।