১৯০২ সালে এই আগ্নেয়গিরিতেই এক ভয়ঙ্কর বিস্ফোরণে আনুমানিক ১,৬০০ লোক মারা গিয়েছিল।

গত ৯ এপ্রিল ক্যারিবিয়ান দ্বীপ সেন্ট ভিনসেন্টে আবস্থিত লা স্যুফ্রিয়ার আগ্নেয়গিরিতে বেশ কয়েকটি বিস্ফোরণ ঘটে। ও সময় মাটি থেকে প্রায় ২০,০০০ ফুট উঁচু পর্যন্ত বায়ুমণ্ডলে উষ্ণ ছাইয়ের মেঘ সৃষ্টি হয়। বিস্ফোরণের কারণে দ্বীপের বেশির ভাগ অংশেই ছাই ছড়িয়ে পড়ে। একই সঙ্গে দ্বীপে বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের সিসমিক রিসার্চ সেন্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক রিচার্ড রবার্টসনের মতে, গত কয়েক দিনের মধ্যে রবিবার ঘটা বিস্ফোরণটা ছিল সবচেয়ে বিরাট আর তীব্র। এর ফলে আগ্নেয়গিরির উত্তপ্ত গ্যাস, ছাই এবং পাথরগুলি জ্বালামুখ থেকে ছিটকে পাহাড়ের তলদেশ পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে।

সেন্ট ভিনসেন্টের প্রধানমন্ত্রী রালফ গনজালভেসের সাথে এক অনলাইন সাক্ষাৎকারে অধ্যাপক রবার্টসন বলেন,  “আমার ধারণা, পর্বতটিতে ঘরবাড়ি দালানকোঠা যা ছিল, সব ধ্বংস, ক্ষতিগ্রস্থ বা ছিন্নভিন্ন হয়ে গিয়েছে।” তিনি যোগ করেন, “সেখানে কোনো জীবিত প্রাণীর কথা চিন্তা করলেও আমার গা শিউরে ওঠে। কারণ সেখানে মানুষ প্রাণী বা অন্য কিছু যাই ছিল সব ছাই হয়ে গেছে।”

তবে এখনো পর্যন্ত এই দুর্যোগের ফলে কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি। তাছাড়া বিস্ফোরণের আগেই আগ্নেয়গিরির নিকটে বসবাসরত প্রায় ১৬,০০০ বাসিন্দাকে সরিয়ে নেয়া হয়েছিল।

বিস্ফোরণের আগেই বিজ্ঞানীরা আগ্নেয়গিরির হাবভাব নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছিলেন। কারণ ১৯০২ সালে এই আগ্নেয়গিরিতেই এক ভয়ঙ্কর বিস্ফোরণে আনুমানিক ১,৬০০ লোক মারা গিয়েছিল।