রিটায়ার্ড জেনারেল জর্জ নাদের জানিয়েছেন, যতক্ষণ বর্তমান শাসনব্যবস্থা বিলুপ্ত না হচ্ছে, ততক্ষণ এই প্রতিবাদ চলতে থাকবে।

গত শুক্রবার লেবাননের রাজধানী বৈরুতে শত শত নাগরিক প্রতিবাদের উদ্দেশ্যে রাস্তায় নামে। তাদের ক্ষোভ ছিল মূলত জীবনযাত্রার মান নেমে আসা এবং জাতীয় মুদ্রা লেবানিজ পাউন্ডের মূল্যমান কমে যাওয়া নিয়ে। প্রতিবাদকারীরা সরকারের অর্থনৈতিক নীতিকে নিন্দা জানাতে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে শুরু করে সংসদ পর্যন্ত পদযাত্রা করে ।

বিভিন্ন প্রতিবাদ কর্মসূচিতে সক্রিয় থাকা রিটায়ার্ড জেনারেল জর্জ নাদের জানিয়েছেন, যতক্ষণ বর্তমান শাসনব্যবস্থা বিলুপ্ত না হচ্ছে, ততক্ষণ এই প্রতিবাদ চলতে থাকবে।

রাজধানীর পাশাপাশি লেবাননের অন্যান্য অঞ্চলও প্রতিবাদে ফেটে উঠেছে। এর মধ্যে আছে উত্তর লেবাননের বৃহত্তম শহর ত্রিপলি, যেখানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়া সহ বেশ কিছু কারণে প্রতিবাদকারীরা অনেক রাস্তা আটকে রেখেছে।

দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের সিদন এবং জিয়েহ শহরেও বিক্ষোভ দেখা গিয়েছে মুদ্রার মূল্য কমে যাওয়ার কারণে।

গত সপ্তাহে লেবানিজ পাউন্ডের মূল্য কমে প্রতি ১০,০০০ পাউন্ডের বিপরীতে মাত্র ১ মার্কিন ডলারে গিয়ে ঠেকেছে। তাতে এমনিতেই নিম্নগামী লেবাননের অর্থনীতির  ওপর দ্বিগুণ চাপ পড়েছে।

গত বছরের আগস্টে বৈরুত বন্দরের ভয়ানক বিস্ফোরণের ৬ দিন পর প্রধানমন্ত্রী হাসান দিয়াব এবং তার সরকার পদত্যাগ করে। যার পরিপেক্ষিতে নতুন সরকার গঠন করতে না পারায় দেশটির অর্থনৈতিক অবস্থা খারাপের দিকে যায়। উল্লেখ্য, সেই বিস্ফোরণে ২০০-রও বেশি মানুষ মৃত্যুবরণ করে।

হাসান দিয়াব সরকারের পদত্যাগের পরে নতুন সরকার গড়ে তোলার জন্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী সা’দ হারিরিকে মনোনীত করা হয়। কিন্তু রাষ্ট্রপতি মিশেল আউনের সঙ্গে কিছু মতভেদের কারণে এই প্রক্রিয়াও ঝুলে রয়েছে।