বিশ্বজুড়ে মানুষেরা করোনা ভাইরাসের ভয়ে আতঙ্কিত হয়ে কেনাকাটা করায় নিরাপত্তামূলক মাস্কের সঙ্কট দেখা দিয়েছে। এমনকি অ্যামেরিকার রোগ নিয়ন্ত্রণ সংস্থাও (সিডিসি) জানিয়েছে, মাস্কের অভাবে মেডিকেল কর্মীরা যেন শেষ পর্যন্ত দরকার হলে স্কার্ফ বা পেঁচানো কাপড় ব্যবহার করেন।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, সাধারণ মানুষের সারাক্ষণ মাস্ক পরে থাকার দরকারও নাই। শুধু করোনায় আক্রান্ত কারও কাছাকাছি যেতে হলেই মাস্ক পরাটা জরুরি। তাছাড়া মাস্ক কীভাবে পরতে ও খুলতে হয় এবং এর কার্যকারিতা কী কী—এসব ঠিকমতো না জানলে মাস্ক পরে থাকা তেমন কাজেও আসে না।

এরকম পরিস্থিতিতে মেডিকেল যন্ত্রপাতি ও অন্যান্য অনুষঙ্গের ঘাটতি মেটানোর জন্য বিশ্বের টেক জায়ান্টরা নিজেদের কোম্পানির পক্ষ থেকে মাস্ক অনুদানের ঘোষণা দিয়েছেন।

অ্যাপলের সিইও টিম কুক বলেছেন, তারা অ্যামেরিকা ও ইউরোপের স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য কয়েক লাখ মাস্কের ব্যবস্থা করবেন। তাছাড়া অ্যামেরিকার ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স আলাদা করে জানান, অ্যাপল তাদেরকে অন্তত ২ মিলিয়ন মাস্ক দিবে।

মার্ক জাকারবার্গ একটি ফেসবুক পোস্টে জানিয়েছেন, ক্যালিফোর্নিয়া দাবানল সামাল দেবার জন্য ফেসবুক যতগুলি মাস্ক সংগ্রহ করেছিল তার মধ্য থেকে ৭ লাখ ২০ হাজার মাস্ক রয়ে গেছে। সেগুলি তৎক্ষণাৎ কর্মীদের মাঝে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। এছাড়া আরো কয়েক মিলিয়ন মাস্ক অতি শীঘ্রই সরবরাহ করবে তারা।

টেসলা ও স্পেসএক্স প্রায় আড়াই লাখ এন-৯৫ মাস্ক প্রস্তুত করে রেখেছিল অনুদানের জন্য। ২২ মার্চ, ২০২০ থেকে সেগুলি হাসপাতালে সরবরাহ করা শুরু হয়েছে। একই দিনে ইউনিভার্সিটি অফ ওয়াশিংটন মেডিকেল সেন্টারের একজন গবেষক টেসলা ও স্পেসএক্স এর সিইও এলন মাস্কের কাছ থেকে ৫০,০০০ মাস্ক পেয়েছেন। এলন মাস্ক আরও জানিয়েছেন, তার কোম্পানির রিসোর্স ব্যবহার করে দরকার হলে হাসপাতালের জন্য ভেন্টিলেটরও বানানো হবে।

সেলসফোর্সের সিইও মার্ক বেনিওফ টুইটারে জানান, তারা এরই মধ্যে ইউনিভার্সিটি অফ ক্যারোলাইনা মেডিকেল সেন্টারে ৯ হাজার মাস্ক দিয়েছেন। এক সপ্তাহের মধ্যেই আরো ৫ মিলিয়ন মাস্ক এবং সাথে প্রোটেক্টিভ ইকুইপমেন্ট সরবরাহ করবেন তারা।

অন্যদিকে চাইনিজ বিলিয়নেয়ার জ্যাক মা গোটা বিশ্বের কথাই চিন্তা করছেন। সব মিলিয়ে ৯০ টি দেশে মাস্ক দেওয়া হবে তার পক্ষ থেকে। তার দাতব্য সংস্থা অ্যামেরিকাকে দিবে ১ মিলিয়ন মাস্ক ও ৫ লাখ টেস্টিং কিট। প্রতিটা আফ্রিকান দেশে যাবে ১ লাখ করে মাস্ক। ২৪ টা লাতিন আমেরিকান দেশে দুই মিলিয়ন এবং বাংলাদেশ, আফগানিস্তান, কম্বোডিয়া, লাওস, মালদ্বীপ, মঙ্গোলিয়া, মায়ানমার, নেপাল, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কায় দেওয়া হবে ১.৮ মিলিয়ন মাস্ক।

মাইক্রোসফটের সিইও সত্য নাদেলা জানিয়েছেন কীভাবে তার কোম্পানি মেডিকেল ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলির সাথে একজোট হয়ে করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় সফটওয়্যার টুলস বানাচ্ছে। এছাড়া কোম্পানি প্রেসিডেন্ট ব্র‍্যাড স্মিথ বলেছেন মাইক্রোসফটের সাপ্লাই চেইন কাজে লাগিয়ে স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য প্রোটেক্টিভ ইকুইপমেন্ট দেওয়ার কথা। তারা প্রায় ১৫ হাজার নিরাপত্তা চশমা ও অন্যান্য যন্ত্রের ব্যবস্থা করেছেন অ্যামেরিকার জন্য।

সূত্র. বিজনেস ইনসাইডার

Recommended Posts