প্রতিনিয়ত বিভিন্ন রকমের থ্রিলার আবিষ্কৃত হচ্ছে। তবে সব ধরনের থ্রিলারের একটি সাধারণ বৈশিষ্ট্য হলো দর্শকের মধ্যে তীব্র আবেগ তৈরি করা।

থ্রিলার মুভি নানা রকম হয়। লিগাল থ্রিলার, স্পাই থ্রিলার, অ্যাকশন-অ্যাডভেঞ্চার থ্রিলার, রাজনৈতিক থ্রিলার, মেডিকেল থ্রিলার, পুলিশ বা অপরাধ বিষয়ক থ্রিলার, রোমান্টিক থ্রিলার, ঐতিহাসিক থ্রিলার, ধর্মীয় থ্রিলার, হাই-টেক থ্রিলার, মিলিটারি থ্রিলার। থ্রিলারের ধরনের কোনো শেষ নেই। আর প্রতিনিয়ত বিভিন্ন রকমের থ্রিলার আবিষ্কৃত হচ্ছে।

তবে সব ধরনের থ্রিলারের একটি সাধারণ বৈশিষ্ট্য হলো দর্শকের মধ্যে তীব্র আবেগ তৈরি করা। থ্রিলার মুভি আশংকা, উল্লাস ও শাসরুদ্ধকর উত্তেজনার পরিস্থিতি তৈরি করে। কিন্তু সব থ্রিলারের জন্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো থ্রিল তৈরি করা। যদি কোনো থ্রিলার থ্রিল তৈরি না করে তাহলে থ্রিলার তার কাজ করতে পারছে না।

নিচে গেল বছরের সেরা ১৫ থ্রিলার ছবির তালিকা। সূত্র: imdb.com.

১. দ্য হেইটফুল এইট (The Hateful Eight)

গৃহযুদ্ধের পরের সময়। বাউন্টি হান্টার জন রুথ এবং তার বন্দি ডেইজি ডোমার্গ রেড রক শহরের দিকে চলেছে। রেড রক শহরে ডেইজির বিচার হবে। পথে তাদের সাথে দেখা হয় কুখ্যাত বাউন্টি হান্টার মেজর মার্কুইস ওয়ারেন ও ক্রিস ম্যানিক্সের সাথে। ক্রিস ম্যানিক্স নিজেকে রেড রক শহরের নতুন শেরিফ হিসাবে দাবি করে।

তুষার ঝড় শুরু হয়, সবাই আশ্রয় খুঁজতে ছোটে মিনি’র দোকানে। কিন্তু তারা মিনিকে পায় না, অপরিচিত ববের সাথে দেখা হয় তাদের। তাদের দলে আরো যোগ দেয় রেড রক শহরে অপরাধীর ফাসি দেয়ার কাজ করা অসওয়াল্ডো মবরে, কাউ পাঞ্চার জো গেজ ও কনফেডারেট জেনারেল স্যানফোর্ড স্মিথারের। আটজনের এই দল রেড রকের দিকে যাত্রা করে, কিন্তু ঝড়ের তীব্রতা বাড়ার সাথে সাথে তাদের মনে সন্দেহ দেখা দেয় তারা হয়ত রেড রকে পৌঁছতে পারবে না।

২. দ্য রেভানেন্ট (The Revenant)

ছবিটির কাহিনী সত্য ঘটনা অবলম্বনে। কিংবদন্তী শিকারী হিউ গ্লাসের (ডি ক্যাপ্রিও) কাহিনী দ্য রেভানেন্ট। হিউ গ্লাসকে ভাল্লুক আক্রমণ করে এবং তার দলের লোকেরা তাকে মৃত ভেবে ফেলে রেখে চলে যায়। টিকে থাকার চেষ্টায় মারাত্মক প্রতিকূল অবস্থায় পড়তে হয় গ্লাসকে। তাছাড়া তার বিশ্বস্ত সহচর জন ফিটজেরাল্ড (টম হার্ডি) বিশ্বাসঘাতকতা করে তার সঙ্গে। নিজের প্রচণ্ড ইচ্ছাশক্তি এবং পরিবারের প্রতি গভীর ভালোবাসাই মারাত্মক শীতে গভীর বনের মধ্যে গ্লাসকে অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার শক্তি জোগায়।

৩. সিসারিও (Sicario)

ড্রাগের কারণে যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকো বর্ডারে সহিংসতা বেড়ে গেলে এফবিআই একজন আদর্শবান এজেন্ট কেট মেসারকে (এমিলি ব্লান্ট) পাঠায় এক মাদক সন্ত্রাসীকে ধরার জন্য। সেই মাদক সন্ত্রাসীর বোমা হামলায় কেটের দলের এক সদস্য মারা গেছে।

৪. ইন দ্য হার্ট অব দ্য সী (In the Heart of the Sea)

১৮২০ সালের শীতের সময় নিউ ইংল্যান্ডের তিমিশিকারী জাহাজ এসেক্সকে ম্যামথ আকৃতির একটি তিমি আঘাত করে। তিমিটি প্রতিশোধ নেয়ার জন্য জাহাজটিকে আঘাত করে। জাহাজের ক্রুরা অস্তিত্বের সংকটে পড়ে। ঝড়, অনাহার, আতঙ্ক, হতাশা সব মিলিয়ে জাহাজের ক্রুদের নৈতিকতা প্রশ্নের মুখে পড়ে। খোলা সমুদ্রে জাহাজের ক্যাপ্টেন দিক খুঁজতে থাকে আর তার ফার্স্ট মেট বিশাল আকৃতির তিমিটিকে বশে আনার চেষ্টা করে।

৫. পয়েন্ট ব্রেক (Point Break)

এক তরুণ এফবিআই অফিসার কয়েকজন স্পোর্টসের অ্যাথলেটের একটি দলকে একটি কর্পোরেট অপরাধের ঘটনায় সন্দেহ করে। সে এই দলটিকে ওয়ার্ল্ড ফিন্যান্সিয়াল মার্কেটে চরম বিপর্যয় আনা এই দুর্দান্ত ঘটনার পরিকল্পনাকারী হিসেবে প্রমাণ করার চেষ্টা করতে থাকে। উত্তর আমেরিকা, ইউরোপ, দক্ষিণ আমেরিকা ও এশিয়া এই চার মহাদেশে ছবিটির শুটিং হয়েছে। এই ছবিতে বিশ্বের সেরা সেরা এথলেটদের দেখানো হয়েছে। স্নোবোর্ডিং, উইংস্যুটফ্লাইং, ফ্রি রক ক্লাইম্বিং, হাই স্পিড মোটরক্রসের মত স্পোর্টসও এই ছবিতে দেখানো হয়েছে।

৬. ব্রিজ অব স্পাইজ (Bridge of Spies)

কোল্ড ওয়ারের সময় একজন উকিল জেমস বি ডোনোভানকে সিআইএ নিয়োগ দেয়। সিআইএ’র একজন পাইলট ফ্র্যান্সিস জি পাওয়ারস রাশিয়াতে বন্দি আছে। আর কেজিবির ইন্টেলিজেন্স অফিসার রুডলফ আবেল গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রে বন্দি  রয়েছে। ডোনোভানকে এই দুই বন্দি বিনিময়ের দায়িত্ব দেয় সিআইএ।

৭. লিজেন্ড (Legend)

রেগি ক্রে ও ফ্রান্সেস শীয়া’র মধ্যকার সম্পর্ক বর্ণনা করে ফ্রান্সেস। রেগি ক্রে কে সবচেয়ে ভালোভাবে জানত ফ্রান্সেস। ফ্রান্সেস আরো বর্ণনা করে রনি ক্রে’র মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যার কথা এবং তাদের দুজনের লন্ডনের সবচেয়ে ক্ষমতাধর গ্যাংস্টার হওয়ার কথা।

৮. স্পটলাইট (Spotlight)

বোস্টন গ্লোবের রিপোর্টারদের নাছোড়বান্দা দল ‘স্পটলাইট’। দীর্ঘ সময় ধরে তদন্ত করে তারা ক্যাথলিক চার্চের কলংক বের করে আনে। তারা বোস্টনের ধর্ম, আইন এবং সরকারের প্রতিষ্ঠানের ভিতরের দীর্ঘদিনের গোপন সত্যগুলি উন্মোচন করে।

৯. স্পেকটার (Spectre)

অতীত থেকে আসা একটি সাংকেতিক মেসেজ জেমস বন্ডকে দুর্বৃত্ত ধরার মিশনে পাঠায় মেক্সিকো সিটিতে এবং তা শেষ পর্যন্ত গিয়ে দাঁড়ায় রোমে। রোমে জেমস বন্ডের সাথে দেখা হয় সুন্দরী ও কুখ্যাত এক অপরাধীর বিধবা স্ত্রী লুসিয়া সিয়ারার (মনিকা বেলুচ্চি)। জেমস বন্ড একটি গোপন মিটিং থেকে স্পেকটার নামের এক অপরাধ সংগঠনের সন্ধান পায়। এরই মধ্যে লন্ডনে দ্য সেন্টার ফর ন্যাশনাল সিকিউরিটির নতুন প্রধান ব্যক্তি ম্যাক্স ডেনবিগ (অ্যান্ড্রু স্কট) বন্ডের কাজকর্ম ও এম (রালফ ফিয়েনেস) এর নেতৃত্বাধীন এমআই সিক্সের প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে চ্যালেন্জ করে। বন্ড তার পুরাতন শত্রু মি. হোয়াইট (জেসপার ক্রিসটেনসেন) কে খোঁজার জন্য হোয়াইটেরই মেয়ে ম্যাডেলেইন সোয়ান (লীয়া সেডাওক্স) এর সাহায্য নেয়। হোয়াইটকে ধরতে পারলেই হয়ত স্পেকটারের সূত্র উদ্ধার করা সম্ভব হবে।

১০. মিশন ইম্পসিবল: রোগ নেশন (Mission: Impossible – Rogue Nation)

ইথান হান্টের খুবই কার্যকরী ও ধংসাত্মক ইমপসিবল মিশন ফোর্স (আইএমএফ) ওয়াশিংটনের প্রতিশোধপরায়ণ আমলাদের কারণে অকার্যকর হয়ে পড়ে। এই আমলাদের মধ্যে প্রধান সিআইএ চীফ (অ্যালেক বাল্ডউইন)। কিন্তু অপশক্তি ‘দ্য সিন্ডিকেট’ ও এর প্রধানের (শন হ্যারিস) বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য হান্ট নিজের দলকে (জেরেমি রেনার, সিমন পেগ এবং রেবেকা ফার্গুসন) একত্রিত করে।

১১. দ্য ওয়াক (The Walk)

বারোজন মানুষ এ পর্যন্ত চাঁদে হেঁটেছে। কিন্তু মাত্র একজন, ফিলিপ পেটিট (জোসেফ গর্ডন লেভিট) ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের মাঝখানের এই ফাঁকা জায়গায় হেঁটেছে। মেন্টর পাপা রুডির (বেন কিংসলে) গাইড অনুসরণ করে, অপ্রত্যাশিতভাবে পাওয়া আন্তর্জাতিক সহায়তায়, অনেক বাঁধা বিপত্তি পেরিয়ে পেটিট ও তার দল তাদের এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত করে। ফরেস্ট গাম্প, কাস্ট অ্যাওয়ে, ব্যাক টু দ্য ফিউচার, পোলার এক্সপ্রেসের মত বিখ্যাত ছবির পরিচালক রবার্ট জেমেকিস দ্য ওয়াক নির্মাণ করেছেন। এই ছবিটিতে এমন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে যে ছবি দেখার সময় দর্শককে অনেক উপরে হাঁটার সত্যিকারের থ্রিল দিবে ছবিটি।

১২. ম্যাড ম্যাক্সঃ ফিউরি রোড (Mad Max: Fury Road)

ম্যাড ম্যাক্সকে তার ভয়ঙ্কর অতীত তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে। ম্যাড ম্যাক্স বিশ্বাস করে টিকে থাকার সবচেয়ে ভালো উপায় হলো একা একা ঘুরে বেড়ানো। তারপরও সে যুদ্ধনেতা ফিউরিওসা তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে এমন একটি দলের সাথে মিশে যায়। ইমমরটান জো আক্রান্ত একটি দুর্গ থেকে তারা পালাচ্ছিল। জো এর কাছ থেকে মূল্যবান কিছু একটা নিয়ে নেওয়া হয়েছে। জো মারাত্মক ক্ষেপে গিয়ে তার সব গ্যাংগুলিকে একত্রিত করে বিদ্রোহীদের সাথে প্রচণ্ড যুদ্ধ শুরু করে।

১৩. হি নেভার ডাইড (He Never Died)

মারাত্মক ডিপ্রেশন এবং অসামাজিক আচরণের জন্য জ্যাকের অস্তিত্ব এখন শুধু টেলিভিশন দেখা আর ঘুমানোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ। সে মানব প্রজাতিকে অন্য প্রাণীদের থেকে খুব একটা বিশেষ কিছু হিসাবে দেখে না, কারো সাথে কোনো সম্পর্ক বা বন্ধনের ব্যাপারেও তার তেমন আগ্রহ নাই। ঘটনা জমে উঠে জ্যাকের অতীতের কাহিনী তার জীবনে হঠাৎ ফিরে আসলে। নিজের ব্যক্তিগত দায়িত্বের জন্য জ্যাককে সহিংসতায় জড়িয়ে পড়তে হয়। তাকে চেষ্টা করতে হবে যত সম্ভব কম লোক হত্যা করে তার উদ্দেশ্য সম্পূর্ণ করার।

১৪. মেজ রানার: দ্য স্কর্চ ট্রায়ালস (Maze Runner: The Scorch Trials)

মেজ রানারের এই পর্বে থমাস (ডিলান ও’ব্রিয়েন) ও গ্লেডার্স এ পর্যন্ত সবচেয়ে কঠিন চ্যালেন্জের মুখোমুখি হয়। শক্তিশালী ও রহস্যময় সংগঠন WCKD এর সূত্র খুঁজতে থাকে তারা। তাদের এই অনুসন্ধান তাদেরকে স্কর্চে নিয়ে যায়, সেখানে তারা অকল্পনীয় বাধার মুখোমুখি হয়। প্রতিরোধ বাহিনী মিলে গ্লেডার্স WKC’র ভয়ঙ্কর পরিকল্পনার কথা জানতে পারে।

১৫. দ্য লবস্টার (The Lobster)

দ্য লবস্টারের কাহিনী নিকট ভবিষ্যতের। সেখানে সিঙ্গেল লোকদের গ্রেপ্তার করে একটি হোটেলে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। সেখানে ৪৫ দিনের মধ্যে তাদেরকে নিজের জন্য পারফেক্ট সঙ্গী খুঁজে বের করতে হয়। এটা করতে ব্যর্থ হলে তাদেরকে এক ধরনের পশুতে পরিণত করে বনে পাঠিয়ে দেয়া হয়।