স্যাভিওলা: সিদ্ধান্ত নিতে মেসি’কে সময় দিন

আর্জেন্টিনা ফুটবল দলের সাবেক ফরোয়ার্ড হাভিয়ের স্যাভিওলা বলেছেন, বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে পড়ার কারণ হিসেবে মেসিকে টেনে আনা উচিৎ নয়। এবং তা আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্যে তাকে যথেষ্ট টাইম দেওয়া উচিৎ।

স্যাভিওলা বলেছেন, আমরা সবাই জানি আর্জেন্টিনা গত বিশ্বকাপের ভালো পারফর্ম করতে পারে নি। কিন্তু আমি মনে করি মেসিকে এখন শুধু তার মত থাকতে দেওয়া উচিৎ। তাকে শুধু রিলাক্স করতে দেওয়া উচিৎ। আর্জেন্টিনা দলে সে খেলবে কিনা সে ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য তার সময় দরকার হবে। আশা করি, যদি অন্য কিছু না ঘটে তাহলে সে ফিরে আসবে, এটা তার ব্যক্তিগত ইচ্ছা।

মেসি ও স্যাভিওলা ২০০৬ সালে আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপ দলে ছিলেন। স্যাভিওলা আশা করেন এর পরের আর্জেন্টিনা যখন মাঠে নামবে তখন একটা ‘সত্যিকার দল’ এর মত খেলবে।

অ্যাডিডাসের বার্সেলোনা স্টোরে এফ-৫০ বুটের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্যাভিওলা ও মেসি, সাল ২০০৭।
অ্যাডিডাসের বার্সেলোনা স্টোরে এফ-৫০ বুটের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্যাভিওলা ও মেসি, সাল ২০০৭।

তিনি বলেছেন, আর্জেন্টিনার অনেক প্রতিভাবান খেলোয়াড় আছে যারা পৃথিবীর সেরা ক্লাবগুলিতে খেলে, কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ কোনো প্রতিযোগিতায় খেলতে গেলে আপনাকে একটা সত্যিকার দল হতে হবে। আমি মনে করি পরের বার আমরা যখন কোনো টুর্নামেন্ট খেলব তখন একটা দল হিসেবে খেলব, কয়েকজন আলাদা আলাদা ব্যক্তির একটা সেট নিয়ে নয়। শুধুমাত্র তখনই আমরা আমাদের কাঙ্ক্ষিত জায়গায় যেতে পারব।

স্যাভিওলা ২০০১-০৭ পর্যন্ত বার্সেলোনায় খেলেছেন।

বার্সেলোনার সাবেক খেলোয়াড় হিসেবে তিনি বার্সেলোনা লিজেন্ড টিমের হয়ে ২৮ সেপ্টেম্বর, শুক্রবার বিকালে ইন্ডিয়ার কলকাতায় সল্টলেক স্টেডিয়ামে মোহনবাগান লিজেন্ডসের বিরুদ্ধে প্রীতি ম্যাচে খেলতে নামবেন।

বার্সেলোনা লিজেন্ড টিমে তার সাথে আরো থাকবেন সাবেক ব্রাজিলিয়ান খেলোয়াড় এডমিলসন ও জুলিয়ানো বেলেত্তি, পর্তুগালের সাবেক খেলোয়াড় সিমাও সাবরোসা।

এই ম্যাচে বার্সেলোনা লিজেন্ডস দলের কোচ থাকছেন আলবার্ট চাপি ফেরের। জোহান ক্রুফের তত্ত্বাবধানে ১৯৯২ সালে চ্যাম্পিয়নস লিগ শিরোপা জয়ী বার্সেলোনা দলে ছিলেন ফেরের।

ফিফার বেস্ট অ্যাওয়ার্ডে মেসি-রোনালদোর কড়া সমালোচনা ফ্যাবিও চাপেলোর

এবার ফিফা মেন’স বেস্ট প্লেয়ার পুরস্কার জিতেছেন ক্রোয়েশিয়ার লুকা মদ্রিচ। রোনালদো’র অবস্থান দ্বিতীয়। আর মেসি সেরা তিনের মধ্যে এবার থাকতে পারেন নি, তিন নম্বর অবস্থানে আছেন মিশরের মোহাম্মদ সালাহ।

২৪ সেপ্টেম্বর লন্ডনে অনুষ্ঠিত অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানে রোনালদো ও মেসি দুজনের কেউই উপস্থিত ছিলেন না। অথচ ফিফার সেরা বিশ্ব একাদশে দুজনই রয়েছেন।

আর দুজনের এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত না থাকার সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছেন ইংল্যান্ড দলের সাবেক ম্যানেজার ফ্যাবিও চাপেলো।

চাপেলো বলেছেন, এটার মানে হচ্ছে অন্যান্য খেলোয়াড়, ফিফা ও বিশ্ব ফুটবলের প্রতি তাদের সম্মানের অভাব। এটা হয়ত এ কারণে যে তারা খুব বেশিবার জিতেছে এবং এখন আর হারতে ভাল লাগে না তাদের। বাস্তব জীবনে আপনি জিতলে আপনাকে ভাল হতে হবে এবং হারলেও ভাল হতে হবে।

২৯ পার্সেন্ট ভোট পাওয়ায় এবার মদ্রিচ সেরা খেলোয়াড় হয়েছেন। রোনালদো পেয়েছেন ১৯ পার্সেন্ট ভোট। লিভারপুলের সালাহ পেয়েছেন ১১ পার্সেন্ট আর চতুর্থ অবস্থানে থাকা ফ্রান্স ও পিএসজির কিলিয়ান এমবাপ্পেও পেয়েছেন ১১ পার্সেন্ট।

মেসি আছেন পঞ্চম অবস্থানে। যথাক্রমে বাকি স্থানগুলি দখল করেছেন, আতোয়ান গ্রিজম্যান, এডেন হ্যাজার্ড, কেভিন ডি ব্রুয়নে, রাফায়েল ভ্যারেন ও হ্যারি কেন।

রিয়াল মাদ্রিদ ক্লাবকে টানা তৃতীয়বারের মত চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শিরোপা জেতানো ও ক্রোয়েশিয়া জাতীয় দলকে বিশ্বকাপের ফাইনালে নিয়ে যাওয়ার জন্য মদ্রিচ সেরা খেলোয়াড়ের এই অ্যাওয়ার্ড জিতলেন।

ট্রফি নেওয়ার পরের বক্তব্যে প্রতিযোগিতায় থাকা অন্যান্য খেলোয়াড়দের প্রশংসা করেছেন মদ্রিচ।

মদ্রিচ বলেছেন, এখানে এই ট্রফি নিয়ে দাঁড়ানোটা অনেক সম্মানের ও সুন্দর একটা অনুভূতি। প্রথমে আমি মোহাম্মদ সালাহ ও ক্রিশ্চিয়ানোকে অভিনন্দন জানাই। আমি নিশ্চিত আপনারা ভবিষ্যতে এই ট্রফির জন্য প্রতিযোগিতা করার আরো সুযোগ পাবেন। এই অ্যাওয়ার্ড শুধু আমার না। এটা আমার রিয়াল মাদ্রিদ ও ক্রোয়েশিয়া দলের সহ-খেলোয়াড়দের। আমার কোচদের ছাড়া আমি এটা জিততে পারতাম না। আমার পরিবারের সাহায্য ছাড়া আমি আজকের এই খেলোয়াড় হতে পারতাম না।  আমার ভক্তদেরকে ধন্যবাদ তারা যে সমর্থন ও ভালবাসা আমাকে দেখিয়েছেন তার জন্য। যারা আমাকে ভোট দিয়েছেন তাদেরকে ধন্যবাদ। আমি আমার ফুটবলের আইডল ও ১৯৯৮ এর ক্রোয়েশিয়া দলের ক্যাপ্টেনের নাম উল্লেখ করতে চাই। তিনি আমার অনেক বড় অনুপ্রেরণা ছিলেন এবং ১৯৯৮ এর সেই দল আমাদের বিশ্বাস যুগিয়েছিল যে আমরা রাশিয়াতে কিছু করতে পারব।

বোররচরের সবজি ক্ষেতে

ছোট বেলায় দাদুর সাথে বোররচরে যাইতাম চাচির বাড়ি। তখন নৌকা চলত। নৌকা বাইচও প্রথম ওইখানে দেখেছি। একটা চিকন নৌকায় অনেকগুলা মানুষ। সবার হাতে একটা করে বৈঠা। পরনে লাল-সবুজ গেঞ্জি। সবগুলি নৌকার গঠনই অন্যরকম। সাধারণ নৌকার মত না। সরু ও লম্বাটে। প্রত্যেকটা নৌকাতে উজ্জ্বল রঙ আর কারুকাজ করা।

বর্ষার সময় চাচিদের উঠানে নৌকা গিয়া ভিড়ত। তাদের বাড়ির পাশে পাট মজানোর গন্ধ পাইতাম। এখন আর নৌকায় যাওয়া যায় না। নৌকায় যাওয়ার রাস্তা শুকায় গেছে। এরপর অবশ্য বেশ কয়েকবার গেছি পাকা রাস্তা দিয়া। সরাসরি বাস চলে না। নসিমন নামে এক প্রকার ট্যাম্পু আছে, ওইগুলা যায়। সিএনজিও চলে। আরেকটা রাস্তা আছে যেইটা ধরে এইবার গিয়েছি, ব্রহ্মপুত্র নদ পার হয়ে প্রথমে কাঁচা রাস্তা তারপর ইটের সলিং তারপর আবার পাকা। নির্দিষ্ট করে ওই রাস্তার নাম নাই।

কাকার কথামতে এই রাস্তা দিয়া গেলে সময় কম লাগে। তার একটা মটর সাইকেল আছে কাগজপত্র ছাড়া। সেই ভয়ে সে পাকা রাস্তা দিয়া চলে না।

আগে যখন যাইতাম তখন সব চেয়ে চোখে পড়ত মরিচ গাছ। লাল-লাল হয়ে আছে। কাঁচা মরিচ কম দেখতাম। ওই মরিচগুলা ক্ষেতেই শুকায়া শুকনা মরিচ বানায়। মাঝে মাঝে চোখে পড়ত কলাই, বাদাম, আলু খেত।  অনেক প্রকারের শাকও দেখতাম।

বিশাল জায়গা জুড়ে ফসল চাষ হয় ৩নং বোররচর ইউনিয়নের বাঘেরকান্দা ও মৃধাপাড়া চরে। ঢাকার বিভিন্ন স্থানে সেই  ফসল যায়। এমন কথা শুনে চাচাকে বললাম আমার সাথে যেতে। চাচি যাওয়ার সময় বলে দিল কোন জায়গায় ফসলাদি বেশি দেখতে পাব। মোটর সাইকেলে তেল ভরলাম এবং কাকার সেই শর্টকার্ট রাস্তা ধরে যেতে থাকলাম। কিছুদূর গিয়েই নৌকায় বাইক নিয়ে নদী পার হতে হল। এরপর কাঁচা রাস্তা ধরে কিছুদুর যেতেই ইটের সলিং। কাকা বলল একটু পরেই পাকা রাস্তা। বলার কারণও আছে। রাস্তাতে এত গর্ত ছিল যে, ঝাকুনিতে নাড়ি-ভুড়ি এক হয়ে যাচ্ছিল। তবে তার মাঝেও চোখের শান্তি ছিল।

চাচির বাড়ির কাছেরই একটা বাজার থেকে মিষ্টি কিনে বাসায় ঢুকলাম। আমাদের দেখে চাচির বাসার সবাই আশ্চর্য হল। বিশেষ করে আমাকে দেখে। নানি  চুলার পাড় থেকে বলেই ফেলল, কী ব্যাপার পথ ভুলে বাড়িতে ঢুকে গেছো নাকি! আমি কথার উত্তর দেয়ার আগেই কাকা আমাকে বলল, চলো চলো যেই কাজে আসছি সেই কাজ আগে শেষ করি। পরে আইসা গল্প কইরো।

মামাকে সঙ্গে নিয়া আমি আমার ছোট বোন ও চাচা এক বাইকে বাঘেরকান্দা ও মৃধাপাড়া চরের দিকে গেলাম। যেতে যেতে দেখি ছোট ছোট ট্রাক ভর্তি সবজি ফুলকপি নিয়ে যাচ্ছে পাইকাররা। চরে তেমন কোনো বসতি নাই। নদী এলাকা। ভেতর দিয়ে একটা বালুমাটির  রাস্তা। সত্যিই দূর থেকে কুল কিনারা পাচ্ছিলাম না। শেষ সীমানা খুঁজতেছিলাম মনে মনে। মামা বলল এটার কোনো শেষ নাই। সব দিকেই সবজির চাষ। বেশি টমেটো আর বাঁধাকপি। বাগুন খেত কম। যেই কয়টা বাগুন খেত আছে তাতেও পোকা ধরা গাছে। মামাকে বললাম বাগুন খেত এমন কেন! জানতে পারলাম কী যেন একটা রোগের কারণে ফলন মইরা গেছে।

ওখানে ধান চাষ খুব একটা করা হয় না। এক ফসল হয়ত হয় নিজেদের খাওয়ার জন্য। বর্ষার পুরাটা সময় তাদের বসে থাকতে হয়।

আমি রসুন খেতের ছবি তুলছিলাম। এক চাচা আমাকে ডেকে জিজ্ঞেস করল আমি কী করছি। তারা শহরের মানুষকে কদর দিয়ে কথা বলে। বললাম ফসল দেখতে আসছি। সে খুশি হল ও  তার খেত দেখিয়ে দিল। আমি তার ছবি তুললাম, তার গরুর ছবি তুললাম। এরপর আরেক জনের সাথে কথা হল। তার কাছ থেকে জানতে পাইলাম আশ্বিন মাস থেকে শুরু করে সবজি চাষ। পাইকাররা ও বিভিন্ন কোম্পানি চাষীদের লোন দেয় ফসল বোনার আগে। শর্ত থাকে তাদের ছাড়া অন্য কোথাও ফলন বিক্রি করতে পারবে না।

ময়মনসিংহ সদর উপজেলার একটি অঞ্চল বোররচর ইউনিয়ন। নাম ৩নং বোররচর ইউনিয়ন পরিষদ। এই ইউনিয়নে ১৩টি গ্রাম রয়েছে। হাট বাজার আছে ৭টির মত।

টমেটো ক্ষেত
টমেটো
মরিচ ক্ষেত
বাঁধাকপি
রসুন লাগানো হয়েছে
ফুলকপি ক্ষেত
টমেটো গাছ
বাঁধাকপি ক্ষেত
হাল চাষ করা হয়েছে এবং একটা শ্যালো মেশিন
পেঁয়াজ ক্ষেত
গরু
লাউ জাংলা
বস্তাবন্দি মরিচ ও বেপারি
বাড়ির আঙিনায় সরিষা ক্ষেত
পাকা টমেটো কেইসে ভরা হচ্ছে
পাকা টমেটো বাছাই চলছে
ধানের বীজ রোপণ করা হয়েছে
মরিচ ধরা গাছ
ক্ষেত থেকে তুলে কাঁচা টমেটো খাচ্ছে বাচ্চা মেয়ে
রাস্তা ও জোড়া শালিক
ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে ফুলকপি চাষ
ফুলকপি চাষ
শালিকের গোসল
ব্রহ্মপুত্র নদে ধান চাষ
ব্রহ্মপুত্র নদ
বাগানে লাউ
আখ ক্ষেত
করলা ক্ষেত
আলু ক্ষেত
সরিষা ফুল ঝরতে শুরু করেছে
রসুন ক্ষেত, মাঝে মাঝে লাল শাকের গাছ
ফুলকপি গাছ
মুলা শাক
লাউ চারার মাচার নিচে লালশাক

ময়মনসিংহ জং

ট্রেনের পরিবেশ ভাল লাগে নি। মুতের গন্ধ, নোংরা। একটা ভয় ছিল টিকিট কাটি নাই, যদি টিটি ধরে।

Continue reading