আড্ডার গল্প (১৩) — খোশনূর আলমগীর

এ বাড়িতে অনেক তরুণ কবি-সাহিত্যিক যেমন যেত, অনেক ধান্ধাবাজও যেত। বেশিরভাগই যেত আলমগীরের আকর্ষণে, চলচ্চিত্রে অভিনয়ের সুযোগ খুঁজতে।

Continue reading

আড্ডার গল্প (১২) — আবদুল মান্নান সৈয়দ

আশির দশকের মাঝামাঝি, এক পড়ন্ত বিকেলে, ব্রাত্য রাইসু আর আমি আবদুল মান্নান সৈয়দকে খুঁজতে বের হই। রাইসু তার সাথে দেখা করার জন্য ব্যাকুল।

Continue reading

আড্ডার গল্প (১১) — শামসুর রাহমান

একদিন আন্‌ওয়ার আহমদ আমাকে ফোন করে বলেন, শামসুর রাহমান চাচ্ছেন না তুমি তার সাথে যোগাযোগ রাখো।

Continue reading

আগামী মার্চে আর্জেন্টিনা জাতীয় দলে ফিরবেন মেসি

মেসি

মেসির আন্তর্জাতিক ফুটবলে ফেরার জন্য আর্জেন্টিনাকে ২০১৯ সালের মার্চ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। সংবাদ মাধ্যম টিএনটি স্পোর্টসের হার্নান কাস্তিলো জানিয়েছেন আগামি মার্চ থেকে মেসি তার জাতীয় দলের জন্য খেলবেন।

গত মঙ্গলবারে মেসিকে ছাড়াই আর্জেন্টিনা মেক্সিকোর বিপক্ষে ২-০ গোলে জিতেছে। ২০১৮ এর বিশ্বকাপে দ্বিতীয় রাউন্ড থেকে আর্জেন্টিনা দলের বাদ পড়ার পরে মেসিকে আর আন্তর্জাতিক ফুটবলে দেখা যায় নি। ফ্রান্সের সাথে পরাজিত হয়ে বিশ্বকাপ থেকে বাদ পড়ার পর থেকে মেসি জাতীয় দলের কোনো স্কোয়াডেই ছিলেন না। গত অক্টোবরে ইরাকের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার ৪-০ গোলে জয়ের ম্যাচে ও ব্রাজিলের বিপক্ষে ০-১ পরাজয়ের ম্যাচে মেসি ছিলেন না।

মেসিকে ছাড়াই আর্জেন্টিনা দল তাদের সর্বশেষ চার ম্যাচের তিনটিতে জিতেছে। এতে বোঝা যায় ভবিষ্যতের জন্য ভালো ভাবেই গোছানো হচ্ছে আর্জেন্টিনা জাতীয় ফুটবল দল। অন্তর্বর্তীকালীন কোচ তার স্কোয়াডে আক্রমণ ভাগের উপর বেশি জোর দিয়েছেন।

আর্জেন্টিনার বর্তমান জাতীয় দলে আছে সিরি এ লিগে খেলা প্রতিভাবান দুই ফরোয়ার্ড, মাউরো ইকার্দি ও পাওলো দিবালা। মেক্সিকোর সাথে সর্বশেষ ম্যাচে ইকার্দি ও দিবালা দুজনেই গোল করেছেন।

তবে ম্যাচ শেষে ইকার্দি জাতীয় দলে মেসিকে দেখার ইচ্ছার কথা জানিয়েছেন। ইকার্দির কথায়, সে পৃথিবীর সবচেয়ে সেরা। প্রতিটা দল তাই-ই চায়, তার মত একটা খেলোয়াড়কে দলে রাখতে। আমি চাই আসছে বছর কোপা আমেরিকার আগেই সে আমাদের সাথে যোগ দিবে।

ইকার্দি ও দিবালার সাথে মেসিকে আক্রমণ ভাগে রাখাটা আর্জেন্টাইন কোচ স্কালোনির জন্য একটু কৌশলের ব্যাপারই হবে

ইকার্দির মত একই কথা জানিয়েছেন পাওলো দিবালাও। তিনি বলেছেন, আমরা সবাই চাই মেসি জাতীয় দলে ফিরে আসুক। আমরা সবাই আমাদের জন্য মেসির গুরুত্বের কথা জানি, তবে ব্যাপারটা সম্পূর্ণ তার উপর।

ইকার্দি ও দিবালার সাথে মেসিকে আক্রমণ ভাগে রাখাটা আর্জেন্টাইন কোচ স্কালোনির জন্য একটু কৌশলের ব্যাপারই হবে। স্কালোনিকে একই সাথে সার্জিও আগুয়েরো ও গঞ্জালো হিগুয়েনকেও আক্রমণভাগে রাখার ব্যাপারে ভাবতে হবে।

আর্জেন্টিনা দলে এখন ম্যাচ-উইনার খেলোয়াড়ের অভাব না থাকলেও সবার ইচ্ছা মেসি জাতীয় দলে ফিরে আসুক।

আগামী বছর কোপা আমেরিকা জেতার জন্য মেসির উপস্থিতি ও অনুপ্রেরণা জাতীয় দলের প্রয়োজন হবে।

তবে মেসি জাতীয় দলের জন্য অপরিহার্য হলেও, কেউ কেউ হয়ত চাইবেন দিবালা এবং ইকার্দির মত তরুণ খেলোয়াড়দেরকে আরো বেশি সুযোগ দেওয়া হোক, যাতে তারা মেসির ছায়া থেকে বেরিয়ে আসতে পারে।

বাই নাথিং ডে—কিছুই না কেনার দিন

বাই নাথিং ডে
  • প্রায় ৬৫টি দেশে এই দিবস পালন করা হয়
  • প্রথম পালিত হয় কানাডায়, ১৯৯২ সালে
  • জনপ্রিয় রীতি কাঁচি দিয়ে ক্রেডিট কার্ড কেটে ফেলা
কেনাকাটা না করার দিন

বাই নাথিং ডে হল কিছুই না কেনার দিন। কনজ্যুমারিজমের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের একটি পদক্ষেপ হিসেবে আমেরিকাসহ বিশ্বজুড়ে প্রায় ৬৫টি দেশে এই দিবস পালন করা হয়।

আমেরিকা, ব্রিটেন, ফিনল্যান্ড এবং সুইডেনে সাধারণত থ্যাংসগিভিং ডে’র পরের দিন অর্থাৎ নভেম্বরের শেষ শুক্রবারে বাই নাথিং ডে পালন করা হয়। নভেম্বরের শেষ শুক্রবারটি আবার ব্ল্যাক ফ্রাইডে হিসেবে পালিত হয়। কিন্তু অন্যান্য দেশগুলিতে এটি পালিত হয় তার পরের দিন, অর্থাৎ নভেম্বরের শেষ শনিবারে।

পশ্চিমা দেশগুলিতে ওভার-কনজাম্পশন বা অতিরিক্ত খরচ করার প্রবণতা থেকে ক্রেতাদের সরিয়ে আনার উদ্দেশ্যে কানাডিয়ান শিল্পী টেড ডেইভ ‘বাই নাথিং ডে’ চালু করেন। পরবর্তীতে কানাডা ভিত্তিক এডবাস্টার্স ম্যাগাজিন বাই নাথিং ডে-কে খুব অল্প দিনের মধ্যেই জনপ্রিয় করে তোলে। এডবাস্টার্স ম্যাগাজিন আরো অনেক জনপ্রিয় প্রথা বিরোধী কর্মকাণ্ডের প্রচারণার জন্যে বিখ্যাত, যেমন ‘টিভি টার্ন অফ ডে’ এবং ‘অক্যুপাই ওয়াল স্ট্রিট’ ইত্যাদি।

যেভাবে শুরু হয়েছিল

প্রথম বারের মত ‘বাই নাথিং ডে’ পালিত হয় কানাডায়, ১৯৯২ সালের সেপ্টেম্বরে। পরবর্তীতে ১৯৯৭ সাল থেকে ‘বাই নাথিং ডে’ উদযাপন করা হয় ব্ল্যাক ফ্রাইডে’র সাথে একই দিনে। ব্ল্যাক ফ্রাইডে হল আমেরিকার সবচেয়ে বড় কেনাকাটার দিন। এই একই দিনে বাই নাথিং ডে উদযাপন করার মাধ্যমে কনজ্যুমারিজম বিরোধীরা ক্রেতাদেরকে ক্রমশ ভোগবাদী জীবনে অভ্যস্ত হয়ে পড়া সম্পর্কে সতর্ক করে দিতে চান।

ব্ল্যাক ফ্রাইডে হল আমেরিকার সবচেয়ে বড় কেনাকাটার দিন
কাঁচি দিয়ে ক্রেডিট কার্ড কেটে ফেলা

বিশ্বজুড়ে নানান ধরনে ও রীতিতে ‘বাই নাথিং ডে’ উদযাপন করা হয়। এর মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় হল ক্রেডিট কার্ড কেটে ফেলা। অংশগ্রহণকারীরা শপিং মল বা শপিং সেন্টারে কাঁচি আর একটি পোস্টার নিয়ে উপস্থিত হন। পোস্টারের বিষয়বস্তু হল সেইসব মানুষকে সাহায্য করা যারা পাহাড় সমান ঋণের বোঝা কিংবা ইন্টারেস্ট রেট এর থাবা থেকে মুক্তি চান। সোজা কথায় অংশগ্রহণকারীরা এইসব মানুষকে সাহয্য করেন কাঁচি দিয়ে তাদের ক্রেডিট কার্ড কেটে দিয়ে।

জম্বি ওয়াক ও হুইর্ল মার্ট

আরেকটি জনপ্রিয় রীতি হল ‘জম্বি ওয়াক’। উদযাপনকারীরা শপিং সেন্টারের ভিতরে ‘ওয়াকিং ডেড’ মুভির জম্বিদের মত চোখেমুখে শূন্যতা নিয়ে ঘুরে বেড়ান। তাদেরকে এমন অদ্ভুত ভঙ্গি নিয়ে ঘুরে বেড়ানোর কারণ জিজ্ঞেস করলে তারা ‘বাই নাথিং ডে’র উদ্দেশ্য ও গুরুত্বের কথা তুলে ধরেন।

২০০৯ সালে অস্ট্রেলিয়ার সিডনি শহরের রাস্তায় ব্ল্যাক ফ্রাইডের বিরোধিতায় জম্বি ওয়াক

জম্বি ওয়াকের মতই আরেকটি আজব রীতি হল ‘হুইর্ল মার্ট’। ‘বাই নাথিং ডে’ উদযাপনকারীরা মার্কেটের ভিতরে খালি ট্রলি নিয়ে ঘুরাঘুরি করেন কোনো কিছু না কিনেই। সাধারণত এতে অংশগ্রহণকারীরা লম্বা একটা সারিতে দলবদ্ধভাবে খালি ট্রলি নিয়ে মার্কেটের ভিতরে ঘুরতে থাকেন।

২০০৯ সালে ‘বাই নাথিং ডে’তে অংশগ্রহণকারীরা ব্যতিক্রমী একটি পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। এ দিন ২৪ ঘণ্টা ধরে কোনোকিছু না কেনার পাশাপাশি তারা বাসার লাইট, টেলিভিশন, কম্পিউটার, মোবাইল ফোন ইত্যাদি বন্ধ করে রেখেছিলেন। এমনকি অনেকে এদিন গাড়ি নিয়েও বের হন নি।

কনজ্যুমারিজমের বিপক্ষে সমাজতাত্ত্বিকদের অবস্থান

কনজ্যুমারিজম বিরোধিতার ইতিহাস বেশ পুরনো। বিশেষ করে উনিশ ও বিশ শতকের বামপন্থী সমাজতত্ত্বে কনজ্যুমারিজমের বিরোধিতার মূল খুঁজে পাওয়া যায়। এই ধারার সমাজতাত্ত্বিকদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন নরওয়েজিয়ান-আমেরিকান সমাজতাত্ত্বিক থরস্টেইন ভেবলেন। তার ১৮৯৯ সালে প্রকাশিত ‘এ থিওরি অব লিজার ক্লাস: অ্যান ইকনোমিক স্টাডি অব ইন্সটিটিউশনস’ বইয়ে তিনি দাবি করেন অবকাশ ও বিলাসিতা নিয়ে আধুনিক ধ্যান-ধারণা হল ‘সামন্ততান্ত্রিক অবশেষ’ বা ‘ফিউডাল হোল্ডওভারস’।

ব্ল্যাক ফ্রাইডে কবে থেকে চালু হল তা নিয়ে মতবিরোধ আছে। কারো কারো মতে এটি শুরু হয়েছিল ১৯৫১ সালে, ফিলাডেলফিয়ায়। তবে ব্ল্যাক ফ্রাইডে উন্মাদনার তুঙ্গে ওঠে ২০১১ সালে। সে বছর অনেক বড় বড় দোকান যেমন টার্গেট, কোল’স ও ম্যাসি’স মধ্যরাতের দিকেই ক্রেতাদের জন্যে প্রবেশদ্বার খুলে দেয়। সে বছর ক্রেতাদের এত বেশি ভিড় ছিল যে মধ্যরাতে দ্বার খুলে না দিলে সবার পক্ষে কেনাকাটা করা অসম্ভব হত।

বাই নাথিং ডে সম্পর্কে ভিন্ন অভিমত

বাই নাথিং ডে নিয়ে অনেক সমালোচনাও রয়েছে। অনেকেই মনে করেন এটি একটি শূন্যগর্ভ কাজ। এদের মতে বাই নাথিং ডে একদিনের জন্যে কিছু সংখ্যক ক্রেতাকে কেনাকাটা থেকে দূরে রাখলেও আসলে এতে বাজারের ওপরে বড় মাপের কোনো প্রভাব পড়ে না। পণ্যের কেনাবেচা সম্পর্কে ক্রেতাদের মনোভাব পরিবর্তনেও বাই নাথিং ডে’র সাফল্য খুবই সীমিত।

আরো পড়ুন: মাইকেল পোলান এর ‘ইন ডিফেন্স অফ ফুড’ থেকে

আবার অনেকেই মনে করেন বাই নাথিং ডে উদযাপনে যারা অংশগ্রহণ করছেন তারাই আবার পরের দিন একই শপিং মলে শপিং করতে যাবেন। তাহলে আর একদিনের জন্যে কোনো কিছু না কিনে বসে থাকার মানেটা কী!

 

২৩ নভেম্বর, ২০১৮ সালের বাই নাথিং ডে
সমর্থকদের যুক্তি

তবে বাই নাথিং ডে’র সমর্থকদের যুক্তি হল, এটি উদযাপনের মাধ্যমে কিছুটা হলেও কনজ্যুমারিজমের লাগাম টেনে ধরা যায়। একদিনের জন্যে হলেও এটি বাজার কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত ক্রেতা সম্প্রদায়কে তাদের সত্যিকার অবস্থা সম্পর্কে সচেতন করে তোলে।

এডবাস্টার্স এর মতে, এটি শুধুমাত্র একদিনের জন্যে অভ্যাস পরিবর্তন নয়, বরং এটি হল সারাজীবনের জন্যে সীমিত ক্রয় করার ও অপব্যয় হ্রাস করার প্রতিজ্ঞা।

অক্যুপাই এক্সমাস

২০১১ সালে এডবাস্টার্স দিবসটির নাম পরিবর্তন করে রাখে ‘অক্যুপাই এক্সমাস’ যা ‘অক্যুপাই মুভমেন্ট’ এর সাথে দিবসটির সামঞ্জস্যকে নির্দেশ করে। এটি ‘বাই নাথিং ক্রিসমাস’ হিসেবেও পরিচিত।

বাই নাথিং ডে ২০১৮
চলতি বছরের বাই নাথিং ডে পালিত হতে যাচ্ছে ২৩ নভেম্বর।

মাইকেল পোলান এর ‘ইন ডিফেন্স অফ ফুড’ থেকে

পুনরায় নিজের খাবারের উপর দখল নেয়া, ইন্ডাস্ট্রি এবং সায়েন্সের হাত থেকে একে মুক্ত করাটা কোনো ছোটখাটো ব্যাপার না।

Continue reading

আড্ডার গল্প (৯) — সমুদ্র গুপ্ত

‘৯৬ সালের ২৯ মার্চ বিয়ে করে আমরা টোনাটুনির সংসার পেতেছি মোহাম্মদপুরের জাকির হোসেন রোডে। এক কামরার সংসার। এটাই আমাদের স্বপ্নের রাজপ্রাসাদ, এটাই আমাদের স্বর্গের বাগান। বিয়ের কিছুদিনের মধ্যেই আমি যোগ দেই সেইভ দি চিলড্রেন ফান্ড-ইউকে নামের একটি এনজিওতে। মুক্তি কাজ করে সেইভ দি চিলড্রেন ফান্ড-অস্ট্রেলিয়ায়। দুটি অফিসই আমাদের বাসা থেকে হাঁটা পথের দূরত্ব। দুপুরে আমরা হাঁটতে হাঁটতে বাসায় চলে আসি, খেয়ে দেয়ে আবার অফিসে যাই। কিছুদিনের মধ্যেই মুক্তির সেইভ দি চিলড্রেনের চাকরির মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। এবার সে চাকরি নেয় প্লান ইন্টারন্যাশনালে।

আমরা বাসা বদল করে চলে যাই শংকরে। বাসাটা মুক্তির নতুন অফিস আর আমার অফিসের মাঝখানে। একদিন দুপুরে খেতে বসে মুক্তি বলে, আমাদের একজন কনসালটেন্ট আছেন, কবি, তোমার কথা তাকে বলেছি, চেনেন তোমাকে। বলেছি তাকে তোমার বই, পুরুষ পৃথিবী, দিব।

আমি বলি কে সে? মুক্তি বলে তার নাম সমুদ্র গুপ্ত।

আমার চোখ কপালে। বলে কী? সমুদ্র দা একটি আন্তর্জাতিক এনজিওর কনসালটেন্ট? কিছুতেই তার অবাধ্য গোঁফ আর বেয়াড়া চুলের সাথে যায় না।

এরপর সমুদ্র দা’কে ভাল করে জানার সুযোগ ঘটে। তার সঙ্গে আমাদের একটি পারিবারিক সখ্য গড়ে ওঠে। তিনি বিভিন্ন অনুষ্ঠানে আমাকে দেখিয়ে বলতেন, ওর সঙ্গে আমার অন্য সম্পর্ক। জহির আমার ভগ্নিপতি। সেই থেকেই আমার ভগ্নিপতি হওয়া শুরু। এ যাবৎ বহু শ্যালক পেয়েছি, যদিও মুক্তির নিজের কোনো ভাই নেই। আমি কাউকে শ্যালক বানালে মুক্তিও খুশি হয়, ওর নিজের ভাই না থাকার অভাবটা যেন একটু হলেও ঘুচে যায়।

সেই সময়ে ঢাকা শহরে খুব কম মানুষের ঘরেই কম্পিউটার ছিল, টেলিফোন ছিল। সমুদ্র দা’র এ দুটোই ছিল। অথচ অর্থনৈতিকভাবে তিনি কিন্তু ততটা স্বচ্ছল ছিলেন না। তার বন্ধু কবি সৈয়দ আব্দুস সাদিক প্রায়শই আমাকে বলতেন, সমুদ্র এ মাসে বাড়ি ভাড়া দিতে পারছিল না, এর-ওর পকেট কেটে দিয়ে এলাম।

মুক্তি তাকে পুরুষ পৃথিবী দেয়, এই একটি মাত্র বই পড়েই আমার কবিতা সম্পর্কে তার কেন জানি খুব উচ্চ ধারণা হয়। আমাদের এক বন্ধু অর্থনীতিবিদ ইফতেখার হোসেনের লালমাটিয়ার বাড়িতে ২০০৩ সালে একবার আড্ডার আসর বসে। সমুদ্রদা সেদিন আমাকে কবি রবিউল হুসাইনের সাথে এমনভাবে পরিচয় করিয়ে দিচ্ছিলেন যেন আমি বাংলা কবিতার এক দিকপাল, মনে মনে বেশ লজ্জা পাচ্ছিলাম। বিভিন্ন জায়গায় তিনি আমাকে ‘সাংঘাতিক কবি’ বলে পরিচয় করিয়ে দিতেন। একদিন সমুদ্র দাকে জিজ্ঞেস করি, দাদা এটা কি প্রশংসা নাকি নিন্দা?

ধুর, নিন্দা হবে কেন। অবশ্যই প্রশংসা। প্রথম কবিতার বইয়ে যে কুড়িটা সনেট লিখতে পারে, তাকে সাংঘাতিক কবি বলব না তো কী বলব? এরপর সমুদ্রদা পুরুষ পৃথিবীর একটি রিভিউ লেখেন। সেই রিভিউ আমি কোনোদিন দেখি নি। তিনি আমাকে বলেছিলেন দক্ষিণবঙ্গের কোনো এক ছোট কাগজে নাকি সেটা ছাপা হয়েছে।

২০০৩ সালে আমি দেশে ফিরে এলে সমুদ্রদা খুব খুশি হন। আমাদের নিকেতনের বাসায় যে কয়টি আড্ডা হয়েছে প্রায় সবগুলোতেই তিনি ছিলেন। বইমেলার মাঠে আমার যুগল কাব্যগ্রন্থ ‘পাঁচতলা বাড়ির সিঁড়িপথ’ এবং ‘দ্বিতীয় ঘাসফড়িঙ’ এর মোড়ক উন্মোচনে তিনি ছিলেন। সেটা ২০০৪ সালের কথা। ২০০৮-এ প্রেসক্লাবে আমার তিনটি বইয়ের প্রকাশনা উৎসব হয়। সেখানে তিনি ছিলেন।

আমি এখন নিউ ইয়র্কে বাস করি। এই শহরে যারা শিল্প-সাহিত্যের চর্চা করেন তারা নিজেদের অতি প্রগতিশীল দাবি করার জন্য আল মাহমুদের নামও শুনতে চান না। কিন্তু সমুদ্র গুপ্ত, নির্মলেন্দু গুণ, কাজী রোজী, জাহিদ হায়দার বা নাসির আহমেদের মত প্রগতিশীল কবি-সাহিত্যিকরা আমার বাসার প্রতিটি আড্ডায় আল মাহমুদকে পেয়ে যারপরনাই আনন্দিত হয়েছেন। একদিন কবি ইকবাল আজিজ নিয়ে আসেন কবি শামসুল ইসলামকে। আমি দেখেছি তারা সবাই আল মাহমুদকে ঘিরে ধরতেন আর মুগ্ধ হয়ে তার কথা শুনতেন। সমুদ্র দাও আমাকে বহুবার বলেছেন, আল মাহমুদ যে কত বড় কবি এটা যারা বোঝার তারাই বোঝে।

চার কবি: সমুদ্র গুপ্ত, নাসির আহমেদ, আল মাহমুদ ও কাজী জহিরুল ইসলাম

অনেকেই হয়ত জানেন না সমুদ্রদা নানান রকম কবিরাজী চিকিৎসা করতেন। কারো অসুখ-বিসুখ হলে নানান রকম ভেষজ ওষুধ-পথ্য খাওয়ার পরামর্শ দিতেন। আমাকেও এসিডিটির যন্ত্রণা কমানোর জন্য দুয়েকবার তিনি এমন কিছু পরামর্শ দিয়েছেন কিন্তু আমি তা শুনি নি। না শুনলেও অবিশ্বাস করি নি। চুল এবং গোফ সব সাদা হয়ে গেলেও তার ছিল অফুরন্ত প্রাণশক্তি। ছুটতে পারতেন শিশুর মত। আমি মুক্তিকে প্রায়ই বলতাম, ভেষজ ওষুধ সেবন করেন বলেই হয়ত সমুদ্র দার এত প্রাণশক্তি।

একদিন বইমেলায় দেখা হয় কবি মতিন বৈরাগীর সঙ্গে। সাথে সমুদ্র গুপ্ত। মতিন ভাই আমাকে দেখেই জিজ্ঞেস করেন, আরে কবে এলেন বিদেশ থেকে? আমি মুখ খোলার আগেই সমুদ্রদা বলে দিলেন, আরে ও তো এখানেই থাকে, মাঝে মাঝে কাজের জন্য বিদেশে যায়। কথাটা আমার ভীষণ ভাল লেগেছিল। সেই থেকে আমি আর নিজেকে প্রবাসী বলি না। আমি তো দেশেই থাকি। আমার স্ত্রী, সন্তান, বাবা, মা, ভাই-বোন, আমার বইমেলা, আমার জাতীয় কবিতা উৎসব, সবাই তো এখানে থাকে, আমিও এখানেই থাকি। শুধু কাজের জন্য বিদেশে যাই, ২/৩ মাস কাজ করে ফিরে আসি।

২০০৭ এর বইমেলায় বের হয় আমার কবিতার বই ‘আকাশের স্ট্রিটে হাঁটে ডিজিটাল নারদ।’ প্রচ্ছদ করেছিলেন মাসুক হেলাল, বইটি প্রকাশ করে আগামী। আগামীকে দিয়ে বইটি বের করানোর ক্ষেত্রে কবি ফারুক মাহমুদ সাহায্য করেন। আমি দশটি বইয়ের একটি প্যাকেট হাতে নিয়ে টিএসসিতে যাই। দেখা হয় সমুদ্রদার সাথে।

বইয়ের মোড়ক নাকি রে? নতুন বই?

আমি বলি হ্যাঁ, আজই মেলায় এসেছে।

কিছুক্ষণ পরেই জাতীয় কবিতা উৎসব শুরু হবে। সমুদ্রদা বলেন, দে মোড়ক উন্মোচন করি।

সাথে সাথে উপস্থিত কবি সাহিত্যিকদের একটি জটলা তৈরি হয়ে গেল। হাবীবুল্লাহ সিরাজী, আনিসুল হক, সমুদ্র গুপ্ত, মতিন বৈরাগী, মুহাম্মদ সামাদ, সৈয়দ আব্দুস সাদিকসহ আরো অনেকেই ছিলেন। ব্যাস হয়ে গেল মোড়ক উন্মোচন। এবং সেটিই জাতীয় কবিতা উৎসব প্রাঙ্গনে প্রথম কোনো বইয়ের মোড়ক উন্মোচন। আমার যতদূর মনে পড়ে মোড়ক উন্মোচন হয়ে যাওয়ার পরে আসলাম সানী এসে সমুদ্রদার প্রতি উষ্মা প্রকাশ করেছিলেন এই কাজটি করার জন্য। তার সাথে থাকা আরো দুয়েকজন তরুণ সমুদ্রদাকে একটু চড়া গলায়ই বলছিলেন, আপনি তো জানেন, আমরা এটা করি না। এখন লেখকের লাইন পড়বে মোড়ক উন্মোচনের জন্য। সমুদ্রদা সহ মোড়ক উন্মোচনে অংশ নেয়া লেখক/কবিরা অবশ্য এসব উষ্মাকে তেমন পাত্তা দিচ্ছিলেন না। সৈয়দ আব্দুস সাদিক গজরাতে গজরাতে বলছিলেন, কবিদের উৎসবে কবিতার বইয়ের মোড়ক উন্মোচন হবে না তো কী হবে?

২০০০ সালের ত্রিশে জানুয়ারি। আমি সমুদ্রদাকে ফোন দেই। তিনি বলেন, “কাল সন্ধ্যায় টিএসসিতে আসিস।”

কয়টায়?

ছয়টায়।

আচ্ছা।

আসিস কিন্তু, তোকে একটা জিনিস দেব।

আমি সাড়ে পাঁচটায়ই চলে যাই। দেখি টিএসসির ভেতরে প্রায়ান্ধকার একটি কক্ষে কবিতার বিশাল এক স্তূপের ভেতরে বসে মফস্বল থেকে আসা কবিতা এডিট করছেন জাহিদ হায়দার। জাতীয় কবিতা উৎসবের আয়োজন চলছে। টিএসসিতে একটা উৎসব উৎসব পরিবেশ। অন্যপাশে রফিক আজাদ এবং  রবিউল হুসাইনকে ঘিরে তরুণ কবিদের আড্ডা চলছে। আমিও আড্ডায় যোগ দিতে পারতাম কিন্তু আমার আগ্রহ হল না। জাহিদ হায়দারকে হ্যালো করে, বাইরে, খোলা আকাশের নিচে এসে দাঁড়াই। ডাস-এর রেস্টুরেন্ট থেকে সিঙ্গারার ঘ্রাণ এসে নাকে লাগছে। তখন আমি ঘড়ি পরতাম। হাতঘড়িতে তাকিয়ে দেখি ছয়টা বাজতে মিনিট দশেক বাকি। ছিপছিপে এক তরুণ কবি, হলুদ পাঞ্জাবি পরা, ঝালমুড়ি চিবুতে চিবুতে আমার পাশে এসে দাঁড়ায়।

কাউরে খোঁজেন?

হুম।

কারে?

সমুদ্র গুপ্তরে।

ভিত্রে গিয়া বসেন। আসবে, তয় কখন আসে তার কোনো ঠিক নাই।

আমি বলি, ছয়টায় আসবেন। আমার সাথে কথা হয়েছে।

কয়টায়?

আমি যুবকের মুখের দিকে তাকাই। দেখি তার মুখে হাল্কা-পাতলা দাড়ি। ঝালমুড়ি চিবুনো মুখটাকে তখন ছাগলের মুখের মত লাগে। তিনি পকেট থেকে সিগারেট বের করে ফস করে আগুন ধরান। এরপর লম্বা একটা টান দিয়ে সিগারেটটা আমার দিকে বাড়িয়ে বলেন, চলবে?

আমি বলি, না, চলবে না।

ভিত্রে গিয়া বসেন। সমুদ্রদা ছয়টায় আইতে কইল আর আপনে ছয়টায় আইসা পড়লেন? আপনের সমস্যা আছে।

আমি আবারো যুবকের দিকে তাকাই।

কবিতা আনছেন?

কী?

কবিতা। আনেন নাই? ঠিক আছে, আমি আনছি, শোনেন, কবিতা শোনেন।

যুবক তার পাঞ্জাবির পকেট থেকে কবিতা বের করে পড়তে শুরু করে। তখনি শুভ্র গোঁফ জোড়া আমার চোখে পড়ে। সমুদ্রদা সোজা আমার সামনে এসে দাঁড়ান। আমি এবং হলুদ পাঞ্জাবি পরা তরুণ কবি, দুজনই একসঙ্গে ঘড়ি দেখি। ঠিক ছয়টা বাজে।

যুবক আমার বাহুতে হাত রেখে আমার মুখটা তার দিকে ঘোরাবার চেষ্টা করে, খাইছে, আপনে কেডায় ভাই? বলেই সে হন হন করে হেঁটে টিএসসির ভেতরে চলে যায়।

সমুদ্রদা আমার হাতে একটি বড়সড় বাদামি রঙের খাম তুলে দেন। আমি খুলে দেখি ‘সাত সমুদ্র’। বইটি হাতে নিয়ে বলি, ওয়াও। তিনি বলেন, পৃষ্ঠা উল্টা। পৃষ্ঠা উল্টিয়ে দেখি লেখা, “আমার বোন মুক্তি শরীফ ও বন্ধু কাজী জহিরুল ইসলাম, জীবন হোক দীর্ঘ, যাপন হোক সুখের।” বাসায় ফিরে আমি সারারাত ধরে বইটি পড়ি।

এর বছরখানেক আগে একদিন পাবলিক লাইব্রেরিতে দেখা। আমি বলি দাদা ফেব্রুয়ারি তো এসে গেল? বই বেরুবে না?

প্রকাশক কই? প্রকাশক নিয়ে আয়।

প্রকাশক তো পরে, আগে তো পাণ্ডুলিপি তৈরি করেন।

নারে, পাণ্ডুলিপি পরে, আগে প্রকাশক। প্রকাশক থাকলে বল, এক বইয়ের কবিতা এক রাতেই লেখা যায়।

আমি খুবই অবাক হই তার এই কথা শুনে। তার এই বক্তব্যে কবিতার প্রতি একটা হেঁয়ালি বা তাচ্ছিল্যও দেখতে পাই। বিষয়টা কি তাহলে এমন যে কবিতাগুলো তিনি মুখে মুখে, মনে মনে তৈরি করে রাখতেন, বই করার প্রয়োজন হলে তখন লিখবেন? জানি না। তবে তিনি যে একজন আপাদমস্তক কবি ছিলেন এতে আমার কোনো সন্দেহ নেই। কবি না হলে কি বইয়ের উৎসর্গপত্রে স্ত্রীকে এমন করে কেউ বলতে পারে, “হ্যাপি, আমার জামার বোতাম”। সমুদ্রদার বিশেষ গোঁফজোড়ার কারণে সাযযাদ কাদির তাকে ডাকতেন সমুদ্র গোঁফত বলে। আমি এবং মুক্তি মাঝে মাঝে মজা করে তাকে সমুদ্র গোঁফত বলতাম।

অন্যান্যদের সঙ্গে সমুদ্র গুপ্ত, ব্রাত্য রাইসু, জাহিদ হায়দার ও কাজী জহিরুল ইসলাম

কবি সমুদ্র গুপ্ত-র ভেতরে একটা প্রচণ্ড দ্রোহ ছিল। তিনি এই সমাজ সংসারের সকল কিছুতে ব্যাপ্ত থেকেও অসঙ্গতিগুলোর বিরুদ্ধে খুব গোপনে বিদ্রোহ করতেন। আমার সব সময় মনে হত এই দ্রোহটাই তার গুপ্তধন, আর এজন্যই মিয়া আবদুল মান্নান না হয়ে তিনি হয়েছেন সমুদ্র গুপ্ত।

স্বাধীনতা জিনিসটা অন্যরকম

একেক পরিপ্রেক্ষিতে একেক বিষয়কেন্দ্রে

একেক পরিস্থিতিতে একেক চাহিদাক্ষেত্রে

স্বাধীনতার একেক চেহারা

আজ যা তোমার স্বাধীনতা

একই সাথে অন্যের ক্ষেত্রে বিপরীত

আবার

সহসাই এটির চিত্র ও ভঙ্গি পাল্টে যায়

(‘মানুষের নিয়ম’, সমুদ্র গুপ্ত)

হলিসউড, নিউ ইয়র্ক, ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮

আড্ডার সব গল্প >>

শহরে লুঙ্গি মার্চ

লুঙ্গি পইরা বিশেষ অঞ্চলে ঢুকতে পারবে না কেউ, এই আপত্তি বেআদবি। এই বেআদবি মানা হবে না। আমরা ঢঙ করেই লুঙ্গি পরব। লুঙ্গি পইরাই সাহিত্য, রাজনীতি ও কবিতা করব।
Continue reading

মাইকেল পোলান এর মত করে রান্না করবেন যেভাবে

মাইকেল পোলান অডানবন ম্যাগাজিনকে সম্প্রতি দেওয়া একটা সাক্ষাৎকারে বলেন, একটা কাঁটা চামচও জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে শক্তিশালী অস্ত্র হয়ে উঠতে পারে। মাইকেল পোলান একজন লেখক, সাংবাদিক, অ্যাক্টিভিস্ট এবং হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটির প্র্যাকটিস অব নন-ফিকশন এবং ইউএস বার্কেলি গ্র্যাজুয়েট স্কুল অভ জার্নালিজমে জার্নালিজমের প্রফেসর।

তার মতে, পরিবেশে প্রতিনিয়ত যে ক্ষতিকর গ্রিন হাউজ গ্যাস তৈরি হচ্ছে তার জন্য অনেকাংশে দায়ী আমাদের ফুড সিস্টেম। এই ব্যাপারে আমরা একটু সচেতন হলেই পানি, বাতাস এবং মাটি দূষণ কমে আসবে। তার পরিবর্তে প্রকৃতির এই উপাদানগুলিই পরিবেশকে পরিচ্ছন্ন রাখবে, এখান থেকেই আমরা স্বাস্থ্যকর খাবার উৎপাদন করতে পারব।

মাইকেল পোলান বলেন, বাজার করা, সবজি চাষ করা এবং বাজার করতে কাপড়ের ব্যাগ ব্যবহার করা জলবায়ুর পরিবর্তনের দ্রুত প্রক্রিয়াকে আটকানোর সব থেকে ভাল উপায়। তিনি আরো কিছু সহজ পদ্ধতির কথা উল্লেখ করেন যেগুলি আমরা সচরাচর এড়িয়ে যাই। কিন্তু, এগুলি থেকেই আমরা অনেক উপকার পেতে পারি।

এ বিষয়ে তিনি ৪টি পরামর্শ দেন:

১. হিমায়িত খাবার কিনুন

প্রক্রিয়াজাত খাবার সাধারণত অতটা সস্তা না। তবে কাঁচা উপাদান ব্যবহার করে রান্না করলে খুব অল্প খরচেই খাবার পা‌ওয়া সম্ভব। তিনি বলেন, হিমায়িত ভেজিটেবল খারাপ না। তা দামেও সস্তা। আপনি যদি চাষীর কাছ থেকে টাটকা পালং শাক নাও কিনতে পারেন, এক বাক্স হিমায়িত পালং শাক কিনে নিন। জিনিসটা পণ্য হিসেবে যেমন ভাল, তেমনি প্যাকেট করার আগে ধুয়ে নেওয়া হয় বলে ব্যবহারও সুবিধাজনক আর রান্না হতেও বেশি সময় লাগে না।

আমার মনে হয় মানুষের প্রবণতা হচ্ছে, সবসময় ফাস্ট ফুড অথবা চাষীদের কাছ থেকে কিছু একটা বাছাই করে কিনতে চায়। কিন্তু বিষয়টা হওয়া উচিত আসল আর প্রক্রিয়াজাত খাবারের মধ্যে কোনটা খাবে সেইটা। আসল খাবার প্রক্রিয়াজাত খাবারের তুলনায় সস্তা। খাবার শুধু চাষীদের কাছ থেকে কিনতে পারলেই সেটা ভাল, এমন না। খাবার বাছাইয়ে ওই ছোট্ট পরিবর্তন এনেও আপনি ভাল খাবার পেতে পারেন।

২. কুকিং শোতে আছেন এমন ভঙ্গিতে রান্না করবেন না

টাটকা খাবার বানানো আর যতটা সম্ভব প্রসেসড বা প্রক্রিয়াজাত খাবার কম খাওয়া যায়—তা’ই খাওয়ার উদ্দেশ্য হওয়া উচিত। পোলান বলেন, কিন্তু অনেকেই এই সামান্য কাজটা করতে হিমশিম খান। হয় তারা রান্না করতে পারে না, নইলে টিভিতে এক্সপার্টদের রান্না করতে দেখে রান্না বিষয়ে ভয় ঢুকে গেছে তাদের মধ্যে। বা হাতে সময় নেই হয়ত, অথবা টিভির ওই কুকিং শোগুলি দেখে তারা ধরেই নিয়েছে রান্না অনেক সময়সাপেক্ষ জিনিস।

কিন্তু প্রত্যেক দিন রাতের জন্য রান্না করার অর্থ তো একটা পুরো বিয়ে বাড়ির খাবারের আয়োজন করা না। এর পিছনে আধা ঘণ্টার বেশি সময় দেওয়ার প্রয়োজন নাই। ভাল খাবার রান্না করার বদলে অনলাইনে বসে থাকা বা কুকিং শো উপভোগ করাটা স্মার্ট ডিসিশন না। আমাদের দেখতে হবে আমরা আসলে কোথায় সময় ব্যয় করছি, কোন জিনিসটা আমাদের জন্য বেশি জরুরি।

৩. ফ্রিজে কী আছে দেখুন

কুকিং শো দেখে এক হাজারটা উপকরণ নিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা রান্নাঘরে ব্যয় না করে সেখানে যা যা আছে তা দিয়ে ঝটপট কিছু একটা বানিয়ে ফেলুন। পোলান বলেন, যেমন আমার ফ্রিজে সবসময় আমি ফ্রোজেন পালং শাক রাখি। সঙ্গে ক্যান করা ওয়াইল্ড স্যামন মাছ আর পাস্তা থাকে। ওই তিনটা উপকরণ দিয়ে আর সাথে হয়ত একটু অলিভ অয়েল, রসুন সঙ্গে বাগানে যদি ওইসময় পুদিনা পাতা পাই তা দিয়েই মাত্র ২০ মিনিটের মধ্যে আমি আমার পছন্দের রেসিপি বানিয়ে ফেলি।

পালং শাকগুলি ফ্রিজ থেকে বের করে ডিফ্রস্ট হতে রেখে দেই, পাস্তাটা রান্না করি, পালং শাকগুলি পাস্তায় দিয়ে তার সঙ্গে ভেজে নেই, স্যামন মাছের ক্যান খুলে তার উপর দিয়ে দেই। এরপরে হয়ত একটু পুদিনা পাতা দেই বা একটু বাড়তি অলিভ অয়েল ছিটিয়ে দেই, ব্যস আমার খাবার রেডি। এইটা স্বাদেও অসাধারণ।

আসলে রান্নার অভ্যাস থাকলে, ঘরে সবসময়ই কিছু না কিছু থাকবে আপনার। একটু কৌশলী হলেই ব্যাপারটায় অভ্যাস হয়ে যায়, এর পিছনে সারা জীবন ব্যয় করতে হবে না।

৪. কাজ ভাগ করে নিন

রান্না নিয়ে মূল সমস্যাগুলির একটা হল, কাজটাকে সম্পূর্ণই মহিলাদের দায়িত্ব বলে ধরা হয়। এই কারণেই জিনিসটা করা এত কঠিন হয়ে দাঁড়ায়, তার উপর যিনি করছেন তিনি যদি হন কর্মজীবী। তাই, আমার মনে হয় পরিবারের পুরুষ আর বাচ্চাদেরকেও এতে অংশগ্রহণ করানো উচিত। ভাগাভাগি করে করলে কোনো কাজই আর অত কঠিন থাকে না।

রান্না নিয়ে এই সমস্যাটা তৈরি হয়েছে এটাকে যখন আমরা একজন নির্দিষ্ট মানুষের কাজ হিসাবে আলাদা করে দিয়েছি। কিন্তু, আপনি যদি একবার আপনার বাচ্চাদের নিয়ে কাজটা করে দেখেন, তাহলে দেখবেন রান্নাটা বরং একটা আনন্দদায়ক কাজ।