আড্ডার গল্প (১৫) — জাহিদ হায়দার

ঢাকায় ফিরে এলে জাহিদ হায়দারের সাথে আমার বন্ধুত্ব আরো সঘন হয়। সপ্তাহে একদিন তো আমাদের দেখা হতোই। কোনো সাহিত্য-আড্ডায় গেলে আমাকে নিয়ে যেতেন।

Continue reading

গোল এর সামনে শান্ত থাকতে হবে — চেলসির ফরোয়ার্ড মোরাতা’কে কোচ সারি

গত রোববার ফুলহ্যামের সাথে ২-০ গোলে জয়ের পরে চেলসির কোচ দলের ফরোয়ার্ড মোরাতাকে গোল এর সামনে শান্ত থাকার আহবান জানিয়েছেন।

পেদ্রোর গোলে চেলসি ১-০তে এগিয়ে যাওয়ার পরে স্প্যানিশ খেলোয়াড় আলভারো মোরাতা দুর্দান্ত একটি গোলের সুযোগ মিস করেন। খেলার দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে নেমে গোল পোস্টের একেবারে কাছে থেকে গোল করতে ব্যর্থ হন মোরাতা, বল বারে লেগে ফিরে আসে।

এরপরে খেলার ৮২ মিনিটে চেলসির হয়ে আরেকটি গোল করেন ইংলিশ মিডফিল্ডার রুবেন লোফটাস-চিক। মোরাতা কোনো গোল করতে পারেন নি।

আলভারো মোরাতা স্পেন জাতীয় দল ও ক্লাব চেলসি’র ফরোয়ার্ড। তিনি অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ, গেতাফে ও রিয়াল মাদ্রিদের জুনিয়র দলের হয়ে খেলেছেন। পরে ২০১০ সালে রিয়াল মাদ্রিদের সিনিয়র দলের হয়ে অভিষেকের মাধ্যমে মোরাতার ক্যারিয়ার শুরু হয়। ২০১৪তে তিনি রিয়াল ছেড়ে জুভেন্টাসে যান এবং ২০১৬তে জুভেন্টাস ছেড়ে আবার রিয়ালে ফিরে গিয়েছিলেন। ২০১৭ থেকে তিনি চেলসিতে আছেন।

মোরাতা
মাউরিজিও সারি

সংবাদ সম্মেলনে চেলসির কোচ সারিকে মোরাতার গোল মিস প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে সারি জানিয়েছেন মোরাতা যেহেতু গোল করার ব্যাপারে খুব বেশি মরিয়া ছিল তাই সে গোলপোস্ট খুঁজে পায় নি।

সারি বলেন, হয়তো, হয়তো। আমার মনে হয়, তার বয়স এখন ২৫। সে বদলাতে পারে। কিন্তু তার চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যই এরকম। সুতরাং তাকে শুধু শান্ত থাকতে হবে, কারণ, গত ম্যাচে সে গোল মিস করেছে কারণ সে খুব বেশি চেয়েছিল গোল করতে।

সারিকে আরো জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল মোরাতার আরো একটু সাপোর্ট প্রয়োজন কিনা, এর উত্তরে সারি জানিয়েছেন মোরাতা তার ৮ ম্যাচে ৫ গোল করেছে এবং সে যদি তার এই  অবস্থার উন্নতি চায় তাহলে তার প্রয়োজন আত্মবিশ্বাস।

সারির কথায়, আমি জানি না। আমার খুব ভালোভাবে বুঝতে হবে তার আসলে কী প্রয়োজন। তবে আমি সবকিছু করতে প্রস্তুত। কিন্তু আমি মনে করি গত মাসে মোরাতা ভালো খেলেছে। সে ৫টি গোল করেছে। আমার মনে হয় তার শুধু ধারাবাহিকতা প্রয়োজন। তার আত্মবিশ্বাস, আত্মবিশ্বাস এবং আত্মবিশ্বাস প্রয়োজন। তাই আমি মনে করি আমাদের শুধু গোল করার ধারাবাহিকতা থাকা প্রয়োজন।

ইতিহাসের কাউকে রোনালদো ও মেসির সাথে তুলনা করা যাবে না—ব্যালন ডি’অর বিজয়ী লুকা মদ্রিচ

এইবারের ব্যালন ডি’অর বিজয়ী ফুটবলার লুকা মদ্রিচ বলেছেন, ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো ও লিওনেল মেসি ফুটবলে সর্বকালের সেরা খেলোয়াড় এবং তাদের স্থান অন্য লেভেলে।

ফুটবলের সম্মানজনক পুরস্কার ব্যালন ডি’অর এর গত ১০ বছরের রেকর্ড ভেঙে এবার পুরস্কার জিতেছেন লুকা মদ্রিচ। গত ১০ বছরে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো ও লিওনেল মেসি দুজনে ৫ বার করে এই পুরস্কার জিতেছেন। ১০ বছরে কেউ তাদের পুরস্কারে ভাগ বসাতে পারে নি।

এবার সেই ধারাবাহিকতা শেষ হল লুকা মদ্রিচের ব্যালন ডি’অর জয়ের মাধ্যমে। লুকা মদ্রিচ ক্রোয়েশিয়া জাতীয় দল ও রিয়াল মাদ্রিদ ক্লাবের হয়ে মিডফিল্ডার পজিশনে খেলেন। নিজের দেশ ক্রোয়েশিয়াকে বিশ্বকাপ ফুটবলের ফাইনালে নিয়ে যাওয়ায় ও ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদকে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ট্রফি জেতার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখায় মদ্রিচকে এই পুরস্কার দেওয়া হল।

মদ্রিচ
ফুটবলের সম্মানজনক পুরস্কার ব্যালন ডি’অর এর গত ১০ বছরের রেকর্ড ভেঙে এবার পুরস্কার জিতেছেন লুকা মদ্রিচ।

এবার ব্যালন ডি’অর পুরস্কারের তালিকায় মদ্রিচের পরে দ্বিতীয় অবস্থানে ছিলেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। তৃতীয় অবস্থানে ছিলেন ফ্রান্সের আতোয়ান গ্রিজম্যান। আর লিওনেল মেসির অবস্থান ৫ নাম্বারে।

ব্যালন ডি’অর ছাড়াও মদ্রিচ বিশ্বকাপ ফুটবলের প্লেয়ার অব দ্য টুর্নামেন্ট ও ফিফা’র সেরা পুরুষ খেলোয়াড়ের পুরস্কার জিতেছেন এই বছর।

ব্যালন ডি’অর জেতার পরে একটি সাক্ষাৎকারে মদ্রিচ মেসি ও রোনালদোকে নিয়ে তার মুগ্ধতার কথা জানিয়েছেন।

মদ্রিচ বলেন, ইতিহাসে কেউ তাদের সাথে তুলনীয় হতে পারে না। এই খেলায় তারা সবার সেরা, তারা অন্য লেভেলের। তারা এখনো তাদের খেলা শেষ করে নি। আমার ব্যালন ডি’অর-কে সব সময় চিহ্নিত করা হবে তাদের পরে জেতা পুরস্কার হিসাবে। আমি ছোট্ট ক্রোয়েশিয়ার একজন খেলোয়াড় মাত্র।

মদ্রিচ
ফ্রান্সের বিরুদ্ধে খেলে ক্রোয়াশিয়াকে ফাইনালে নিয়ে আসেন মদ্রিচ।

মদ্রিচ এই সাক্ষাৎকারে ফ্রান্সের সাবেক গ্রেট খেলোয়াড় ও রিয়াল মাদ্রিদের সাবেক কোচ জিনেদিন জিদানের কথাও বলেছেন। মদ্রিচ জানিয়েছেন যে জিদান তাকে বলেছিলেন সে এই বছর গোল্ডেন বল জিতবে।

মদ্রিচের কথায়, আমার নিজেকে দলের একজন গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় হিসাবে মনে করার প্রয়োজন ছিল, তার সাথে আমরা আসলেই ভালো ফুটবল খেলেছি। তিনি আমাকে বলেছিলেন যে একদিন আমি গোল্ডেন বল জিতব। জিদানের গল্প এটাই বলে যে, তিনি আপনাকে আত্মবিশ্বাস দেন। আমি তার প্রশংসা করি এবং একজন খেলোয়াড় হিসাবে তাকে সম্মান করেছি।

দিনে কত ঘণ্টা ঘুমানো স্বাভাবিক?

মানুষের কিভাবে ঘুমানো উচিৎ? প্রতিরাতে নিরবিচ্ছিন্নভাবে ৮ ঘণ্টা? নাকি এই ৮ ঘণ্টা সময়কে ভাগ করা উচিৎ দুইভাগে? অথবা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ৬ থেকে ৯ ঘণ্টা ঘুমালেই চলবে?

আমরা জানি মানুষের ঘুমের অভ্যাস গত কয়েক হাজার বছর ধরে ক্রমাগত পরিবর্তিত হয়েছে। কিন্তু আমরা জানি না কিভাবে এই পরিবর্তন মানব চৈতন্য, সমাজ এবং প্রযুক্তিগত উন্নয়নের সাথে সম্পর্কিত। আমাদের এটাও জানা নেই এই পরিবর্তনগুলো মানুষের বিশ্রামের ‘ন্যাচারাল মুড’ বা ‘স্বাভাবিক ধরন’ বিষয়ে কি ঈঙ্গিত করে।

সঠিকভাবে ঘুমের আয়োজন করা ও উপভোগ করার পদ্ধতি নিয়ে গবেষকদের মধ্যে বিতর্ক চলছেই। এক্ষেত্রে দুইটি প্রধান চিন্তাধারা বিতর্কটির গতিপ্রকৃতি নির্ধারণ করে। প্রথম চিন্তাধারার সমর্থনকারী বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ‘স্বাভাবিক’ বিশ্রাম সম্পর্কে আমাদের বর্তমান ধারণাটি, অর্থাৎ রাত থেকে ভোর পর্যন্ত একটানা ঘুমের ধারণাটি আসলে আধুনিকতার একটা বাইপ্রোডাক্ট এবং মানুষের বিবর্তনের রাস্তায় নেয়া একটি ভুল মোড়।

অন্য মতের সমর্থকরা বলেন, আমরা পূর্বপুরুষদের ঘুম নিয়ে জল্পনাকল্পনা করা বন্ধ রাখি। কারণ এটা স্পষ্ট নয় যে উজ্জ্বল আলো ও ‘বিগ টেক’ বা বৃহৎ প্রযুক্তিগুলো থেকে দূরে থাকলেই আমরা ‘বাইফেসিক স্লিপ’ বা দিনে দুইবার ঘুমানোর অভ্যাস পুনরুদ্ধার করতে পারব কি না।

গবেষকরা নিজেদের অবস্থানকে সঠিক প্রমাণ করার জন্য বিভিন্ন রকমের প্রমাণ ব্যবহার করেন। বিবর্তনবাদী বিজ্ঞানীরা মানুষ ও অন্যান্য স্তন্যপায়ী প্রাণীদের ঘুমের মধ্যে পার্থক্যগুলো পর্যবেক্ষণ করেন। বিশেষ করে গ্রেট এপস (আকা হমিনিডস) হিসেবে শ্রেণীভুক্ত ছয়টি প্রজাতির সাথে মানুষের ঘুমের পার্থক্যের উপরে তাঁরা বেশি জোর দেন।

অন্যান্য গবেষকেরা সমকালীন শিকারী-সংগ্রহকারী (হান্টার-গেদারার) গোত্রগুলোর ঘুমের ধরণকে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেন। আবার অন্য একদল গবেষক মানুষের ঘুমের ঐতিহাসিক দলিল নিয়ে ঘাটাঘাটি করেন। তাঁদের লক্ষ্য হলো কিভাবে সামাজিক ও প্রযুক্তিগত উন্নয়ন মানুষের বিশ্রামের সময়কে প্রভাবিত করেছে তা খুঁজে বের করা। স্বাভাবিকভাবেই, একেক গবেষণা পদ্ধতির ফলাফল হয়েছে একেক রকম।

প্রতিটি পক্ষেরই বিশ্বাসযোগ্য প্রবক্তা এবং শক্তপোক্ত প্রমাণ রয়েছে। কিন্তু কারোর কাছেই একদম শতভাগ নিশ্চিত কোনো প্রমাণ নেই। একটি সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে ডিউক ইউনিভার্সিটির একদল এনথ্রোপোলজিস্ট এবং সাইকিয়াট্রিস্ট এই বিতর্কের সারমর্ম তুলে ধরেন। এতে ঘুমের বিবর্তন সম্পর্কিত সব মতবাদই উঠে এসেছে।

প্রায় দুই মিলিয়িন বছর আগে হোমো ইরেকটাস গোত্রটি শারীরিকভাবে এতটাই বেড়ে ওঠে যে এদের পক্ষে গাছের উপর ঘুমানো অসম্ভব হয়ে পড়ে। ফলে এরা মাটিতে ঘুমানো শুরু করে। গাছের ডাল থেকে মাটিতে নেমে আসার এই পরিবর্তনকে মানুষের চেতনা ও সামাজিক উন্নয়নের একটি সন্ধিক্ষণ হিসেবে বিচেবচনা করা হয়। ডিউক প্রতিবেদনের সহ-রচয়িতা চার্লস নান, ডেভিড স্যামসন এবং এনড্রু ক্রিস্টাল এই বিষয়ে লিখেন, “গাছের উপর ঘুমানোর অসুবিধাগুলো থেকে মুক্ত হওয়ার ফলে তারা আরো দীর্ঘমেয়াদী ও উচ্চমানের ঘুম অর্জন করলো, যা হয়ত তাঁদের জাগ্রত চৈতন্যকে উন্নত করবে”।

মানুষের সাথে অন্যান্য গ্রেট এপসদের ঘুমের কিছু নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্যের মিল রয়েছে। ইভল্যুশনারি এনথ্রোপোলোজির দাবী অনুযায়ী, এই প্রজাতিটি মানুষের সবচেয়ে নিকটবর্তী পূর্বপুরুষ যারা ১৪ মিলিয়ন বছর আগে পৃথিবীতে বিচরন করত। তো, এদের সাথে মানুষের ঘুমের মিলের ব্যাপারে একটি উদারহরণ দেয়া যাক। পৃথিবীতে মানুষেরাই একমাত্র প্রাণী যারা ঘুমানোর সময় মাথার নিচে বালিশ দেয়। কিন্তু আমরাই একমাত্র প্রজাতি নই যারা ঘুমানোর জন্য আদর্শ পরিবেশ তৈরি করার চেষ্টা করি। গ্রেট এপস প্রজাতির সবগুলো প্রাণীই ঘুমানোর জন্য উপযুক্ত জায়গা বাছাই করে নিত এবং প্ল্যাটফর্মের মত কিছু একটা তৈরি করত ঘুমানোর জন্য। এই অভ্যাসটি সম্ভব্ত চৌদ্দ থেকে আঠারো মিলিয়ন বছর আগেই শুরু হয়েছিল।

কিন্তু কিছু দিক দিয়ে মানুষের ঘুম অন্যান্য প্রাণীদের থেকে স্বতন্ত্র। সব মানুষই ভূমিতে ঘুমায়। কিন্তু অন্যান্য গ্রেট এপসদের মধ্যে পুরুষেরা তখনই ঘুমানোর জন্যে মাটিতে নামে যখন অন্যের শিকারে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা কম থাকে।

স্লিপ আর্কিটেকচারের অনুযায়ীও মানুষের ঘুম অন্যদের তুলনায় বিশিষ্ট। স্লিপ আর্কিটেকচার বলতে বুঝায় ঘুমের বিভিন্ন পর্যায়ের গঠন ও বিন্যাস। অন্যান্য স্তন্যপায়ীদের তুলনায় মানুষ অনেক কম সময় ঘুমায়। তাদের বিশ্রামের বেশির ভাগ অংশ জুড়ে থাকে রেম (REM: রেপিড আই মুভমেন্ট)। রেম হলো ঘুমের একটা নির্দিষ্ট পর্যায় যখন মানুষ স্বপ্নের সবচেয়ে স্পষ্ট অংশটুকু দেখতে পায়।

সকল গ্রেট এপসদের ঘুমের ক্ষেত্রেই পরিবর্তন এসেছে। কিন্তু সবচেয়ে বেশি বিবর্তন এসেছে মানুষের ঘুমেই। আমরা এটা জানি কারণ বিজ্ঞানীরা একটা গোত্রের বিভিন্ন প্রজাতির মধ্যে তুলনা করে দেখাতে পারেন যে এদের মধ্যে কোনো একটি প্রজাতি অন্যান্যগুলোর চাইতে বিশেষভাবে বিবর্তিত হয়েছে কি না। উদাহরণস্বরূপ, মানুষেরা গ্রেট এপস গোত্রের প্রাণী। আবার অন্যান গ্রেট এপসদের তুলনায় মানুষের ঘুমের বিবর্তন ঘটেছে অনেক বেশি। বিবর্তনের উপর ভিত্তি করে তাই মানুষের ঘুম নিয়ে সঠিক ভবিষ্যতবাণী করা যায় না।

অন্যভাবে বলা যায়, গত কয়েক শত বছর ধরে শিম্পাঞ্জিদের ঘুমের ক্ষেত্রে যেসব পরিবর্তন এসেছে তার উপর ভিত্তি করে কি আমরা মানুষের ঘুমকে যাচাই করতে পারি? অবশ্যই পারি না। তার কারণ মানুষের ঘুমের বিবর্তন ঘটেছে অনেক বেশি স্বতন্ত্রভাবে, যা অন্যদের সাথে খাপ খায় না।

আমরা জানি শারীরিক আকৃতি, সামাজিক কাঠামো, জীবনধারণের পরিবেশ এবং অন্যান্য আচরণ ও বৈশিষ্ট্যের সাথে সাথে মানুষের ঘুমেরও বিবর্তন ঘটেছে ব্যাপকভাবে। এখন আমরা বড় একটি প্রশ্নের মুখোমুখি হতে যাচ্ছি। মানুষের ঘুম কি এতটা বিবর্তিত হওয়ার কথা ছিল? আমরা কি ইতিহাসের এমন একটি পর্যায়কে চিহ্নিত করতে পারি যখন মানুষেরা সেভাবেই ঘুমিয়েছে যেভাবে আমাদের আসলেই ঘুমানো ‘উচিৎ’?

ইতিহাসবিদ ই. রজার এরিক ২০০৫ সালে এই বিষয়ে একটি থিয়োরি প্রদান করেন। তাঁর মতে, বাইফেসিক অথবা দিনে দুইটি পর্যায়ে বিভক্ত ঘুমই ‘ন্যাচারাল’। কৃত্রিম আলো মানুষের বাইফেসিক ঘুমের অভ্যাসকে নষ্ট করেছে। মানব সভ্যতার কোনো একটি নির্দিষ্ট পর্যায়ে আমাদের পূর্বপুরুষেরা বাইফেসিক ঘুমের নিয়ম মেনে চলতেন। তাঁরা রাত নটা’র দিকে ঘুমাতে যেতেন আর মাঝরাতের দিকে উঠে পড়তেন। কয়েকঘণ্টা এই কাজ সেই কাজ করে আবার দ্বিতীয়বার ঘুমাতে যেতেন। বাইফেসিক ঘুম বিলুপ্ত হয় শিল্প বিপ্লবের সময়ে, যখন কৃত্রিম আলো সস্তা ও সহজলভ্য হয়ে ওঠে।

বাইফেসিক ঘুম কিভাবে বিলুপ্ত হলো সে বিষয়ে আমরা ইতিহাস থেকে স্পষ্ট ধারণা পাই। কিন্তু কিভাবে এটির উৎপত্তি হলো তা এখনো স্পষ্ট নয়। এটা নিশ্চিত যে মেশিন টুলস এর আবির্ভাবের আগে দুইটি পর্যায়ে বিভক্ত ঘুমের প্রচলন ছিল। কিন্তু এর আগে কি ছিল? এমনটা মনে করার মত যথেষ্ট কারণ কি আমাদের রয়েছে যে প্রাচীন যুগে মানুষের ঘুম দিনে একাধিক পর্যায়ে বিভক্ত ছিল? বিববর্তনবাদী বৈজ্ঞানিকেরা এই বিষয়ে এখনো ততটা নিশ্চিত নন।

এক্ষেত্রে আরো একটি তত্ত্বের উল্লেখ করা যেতে পারে যা বিবর্তনবাদীদের চোখে বেশি সমর্থনযোগ্য এবং যা প্রাচীন ও আধুনিক সমাজের মধ্যে তুলনার উপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে। বৈদ্যুতিক আলো আবিষ্কৃত হওয়ার আগেও মানুষ প্রতি রাতে একটানা প্রায় ৭ ঘণ্টা ঘুমাতো, ঠিক যেমন এখনকার দিনের মানুষেরা ঘুমায়। কয়েকবছর আগে প্রকাশিত ইউ সি এল এ গবেষণায় উঠে এসেছে এই তত্ত্বটি।

সাইকিয়াট্রিস্ট ও ঘুম বিশেষজ্ঞ জেরোমি সিয়েগেল এর নেতৃত্বে পরিচালিত এই গবেষণায় আধুনিক যুগের তিনটি শিকারী-সংগ্রহকারী (হান্টার-গেদারার) গোত্রের মানুষের মধ্যে তুলনা করা হয়েছে যারা ‘টেক-ফ্রি’ বা ‘শিল্প-বিযুক্ত’ জীবন কাটাতো যা প্রাক শিল্পায়ন যুগের মানুষদের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। গবেষোণায় উঠে এসেছে যে, তিনটি গোত্রের মানুষেরা আজকের দিনের স্মার্টফোন ব্যবহারকারীদের মতই প্রতি রাতে প্রায় সাত থেকে আট ঘণ্টা ঘুমাতো।

আমরা যদি এই তত্ত্ব গ্রহণ করি, তাহলে প্রাক শিল্পায়ন যুগের বাইফেসিক ঘুমের বাতিক সম্পর্কে আমরা কি বলব? দুটি পর্যায়ে বিভক্ত ঘুম সম্ভবত এসেছে বিষুবীয় অঞ্চল থেকে মানুষের অভিপ্রয়াণের ফলে। কারণ এই অভিপ্রয়াণের ফলে মানুষ পৃথিবীর এমন প্রান্তে এসে হাজির হয় যেখানে দিনের চাইতে রাত দীর্ঘতর। এই বিষয়ে ২০১৫ সালে সিয়েগেল দ্য আটলান্টিক কে বলেন, “রাত দীর্ঘ হওয়ার ফলেই ঘুমের এই বিশেষ ধরণ তৈরি হয়েছিল। আবার বৈদ্যুতিক বাতির আবির্ভাবের ফলে মানুষ প্রাচীন অভ্যাস পুনরুদ্ধার করে নিয়েছে”।

এই তত্ত্বের সমর্থনে আরো কিছু যুক্তি হাজির করা যাক। ডিউক টিম “স্লিপ ইনটেনসিটি হাইপোথিসিস” এর কথা বলে, যেখানে দাবী করা হয় যে প্রাচীন মানুষেরা যখন ঘুমানোর জন্য ভূমিকে বেছে নেয় তখন তাঁদের ঘুমের পরিমাণ কমে যায়।

ভূমিতে বসবাস করার ফলে মানুষ নতুন নতুন চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হয়, যেমন নিজেদের মধ্যে প্রতিযোগিতা, শিকারী পশুদের সাথে মোকাবিলা ইত্যাদি। এরফলে তাঁদের বেশিক্ষণ জেগে থাকার এবং উন্নত মস্তিষ্কের প্রয়োজন পড়ে এবং গভীর ঘুম তাঁদের সামাজিক ও চৈতন্যগত উন্নয়নকে অব্যাহত রাখে। তাই তাঁরা পূর্বপুরুষদের সাত ঘণ্টার “মনোফেসিক স্লিপ” বা নিরবিচ্ছিন্ন ঘুমকে বিবর্তনের একটি অত্যাবশ্যকীয় ধাপ হিসেবে বিবেচনা করে।

যাহোক, যেসব গবেষকেরা মনে করেন যে আধুনিক যুগের মনোফেসিক ঘুমের পিছনে কোনো যুক্তি সঙ্গত ব্যাখ্যা রয়েছে, তাঁরা হয়ত এই ধারণাকে বাতিল করে দিবেন যে কৃত্রিম আলো আমাদের স্বাভাবিক ঘুমের অভ্যাসকে ব্যাহত করেছে। কিন্তু তাঁরা ঠিকই লক্ষ্য করছেন কিভাবে প্রযুক্তিগত ও সামাজিক উন্নয়ন আমাদের ঘুমের উপর প্রভাব বিস্তার করছে। ডিউক প্রতিবেদনে গবেষকেরা তিনটি পূর্বানুমান উপস্থাপন করেছিলেন। এর মধ্যে দ্বিতীয়টি ছিল, উন্নত বিশ্বে কৃত্রিম আলোর ব্যবহার বৃদ্ধি, পৃথক বেডরুমের প্রচলন এবং দিনের বেলা ঘুমের পরিমাণ কমে যাওয়াকে আমরা ঘুমের ক্ষেত্রে পরিবর্তন ঘটানোর জন্য দায়ী করতে পারি।

একটি মধ্যবর্তী অবস্থান অবশ্য রয়েছে যা বিভিন্ন সমাজ ও গোত্রের মানুষের ঘুমের ঐতিহাসিক দলিল ও সাম্প্রতিক ঘুমের নিদর্শনের উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। এই মতবাদ অনুযায়ী, ঘুমের ক্ষেত্রে মানুষ অন্যান্য স্তন্যপায়ী প্রাণীদের চাইতে অনেক বেশি নমনীয় (ফ্লেক্সিবল)। একটু আগে উল্লেখ করা ইউ সি এল এ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে আধুনিক যুগের তিনটি শিকারী-সংগ্রহকারী সমাজের কথা। কিন্তু প্রযুক্তি থেকে বিচ্ছিন্ন সব সামাজিক গোত্রই এই সাত ঘণ্টা ঘুমের নিয়ম মেনে চলে না। যেমন, পিরাহা নামক উত্তর আমেরিকার শিকারী-সংগ্রহকারী গোত্র। এই গোত্রের মানুষেরা দিনে ও রাতে দুইবার ঘুমায় এবং তাঁদের দৈনন্দিন কাজ সাধারণত রাতেই করে থাকে। গবেষণায় আরো উঠে এসেছে যে, পেনসিলভানিয়া ওল্ডার অ্যামিশ গোত্রের লোকেদের অর্ধেকের বেশিই সপ্তাহে অন্তত একদিন দিনের বেলা ঘুমায়।

স্কুল-কলেজের সেরা শিক্ষার্থীরা কেন কম ধনী ও বিখ্যাত হয়

ত্যিকারের সফল হয় তারাই যারা সবকিছুকে জোরে একটা ঝাঁকি দিতে পারে।
বোস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক কারেন আর্নল্ড বলেন, “আপসকারী আর সিস্টেমকে মেনে নেয়াদেরকেই কিন্তু আমরা সাফল্যের স্বীকৃতি দিচ্ছি।”
মানে, সেরা রেজাল্ট করা শিক্ষার্থীরা আসলে শিক্ষকরা কী চায় তা ধরে ফেলতে পেরেছিল এবং সেটাই তারা নিয়মিত পরীক্ষার খাতায় দিয়ে যাচ্ছিল। এ কারণেই তারা সফল হতে পেরেছিল।
কিন্তু পৃথিবীর সবচেয়ে প্রভাবশালী চিন্তক ও নেতাদের বিশেষত্ব হলো তারা কিছু রাজনৈতিক ও বৈজ্ঞানিক সমস্যার অভূতপূর্ব সমাধান এনে দিয়েছিল। যে জিনিসটা অলরেডি ঠিকঠাকভাবে কাজ করছিল এমন কোনো কিছুকে পুনরাবৃত্তির মাধ্যমে চালিয়ে নিয়ে যাওয়ার মাধ্যমে কেউ কখনই বিখ্যাত হতে পারবে না।
বার্কার বলেন, “স্কুলে নিয়মকানুন একদম নির্দিষ্ট করে দেয়া। কিন্তু বাস্তব জীবনে নিয়মকানুনের ঠিকঠিকানা থাকে না। ফলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মতো বদ্ধ একটা সিস্টেম থেকে বের হওয়ার পর আসলে অল্পস্বল্প নিয়ম-না-মানারাই ভালো করতে পারে।”
২. জেনারেলিস্টরাই স্কুল কলেজে ভালো করে, কিন্তু বাস্তব জীবনে ভালো করে প্যাশনেট আর নির্দিষ্ট এক বিষয়ে দক্ষরা।
বার্কার বলেন, স্কুল বা কলেজে থাকাকালীন কেউ যদি ইতিহাস বিষয়ে খুব আগ্রহী হয়, তবু সে সবকিছু ছেড়ে কেবল ইউরোপিয়ান রেনেসাঁ নিয়ে পড়ে থাকতে পারবে না। আগ্রহ থাকুক বা না থাকুক, একসময় তাকে ম্যাথ হোমওয়ার্ক নিয়ে বসতে হবেই।
কিন্তু বাস্তব জীবনে তার উল্টোটা। আপনাকে কোনো এক নির্দিষ্ট বিষয় বা ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ হয়ে উঠতে হবে। এবং অন্যান্য জ্ঞান বা দক্ষতা তখন খুব একটা কাজে লাগে না।
এবং সবচেয়ে বড় চমকটা হলো: আর্নল্ড তার গবেষণায় এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন যে ইন্টেলেকচুয়াল শিক্ষার্থীরা, যারা কোনোকিছু শিখার ব্যাপারে সত্যিকারের আগ্রহী, স্কুল কলেজে ভালো করতে পারে না।
পুরো গবেষণাটি সামারাইজ করে বার্কার বলেন, “স্কুল কলেজের সেরা রেজাল্ট করা শিক্ষার্থীরা মূলত প্রচলিত সিস্টেমকে সাপোর্ট করে এমন সব কাজে ভালো করে। তারা প্রচলিত সিস্টেমেরই অংশ হয়ে ওঠে। কিন্তু তারা এই সিস্টেম ছুঁড়ে ফেলতে পারে না বা তাতে কোনো নতুন পরিবর্তন আনতে পারে না।”
তবে এর মানে এই নয় যে আপনি যদি স্কুল কলেজের সেরা রেজাল্টকারীদের একজন হয়ে থাকেন, আপনি কখনই বড় কোনো সাফল্য পাবেন না। আপনিও তেমন সফল হতেই পারেন।
কিন্তু সেক্ষেত্রে আপনাকে মাথায় রাখতে হবে যে প্রচলিত ও প্রত্যাশিত নিয়ম সবসময় মেনে চললে বাস্তব জীবনে সাফল্য পাওয়া যাবে না। ঝুঁকি নেয়া ও স্রোতের বিপরীতে সাঁতরে যাওয়া কঠিন বটে, কিন্তু কেবল এভাবেই আপনি যেতে পারবেন বহুদূর।

অর্থনৈতিক অসাম্য দূর করতে ধনীরা যেভাবে ভূমিকা রাখছে

অসংখ্য গবেষণায় দেখা গেছে, সম্পদ ও আয়ের ভারসাম্যহীনতার সমস্যা আমেরিকায় দিনকে দিন বেড়েই চলেছে। এই গবেষণাগুলির ফল হতে পারে আমেরিকার অর্থনৈতিক উন্নতি ও গণতন্ত্রের জন্য হুমকি। অথচ অর্থনৈতিক অসাম্য দূর করার ব্যাপারে ফেডারেল সরকারের তেমন কোনো আগ্রহ নেই। এছাড়াও, অনেক স্টেইট এর তা মোকাবেলা করার মতো অবস্থাও নেই।
কিছু গবেষণায় এও দেখা গেছে, সরকারের উপর প্রভাব সবচেয়ে বেশি আছে ধনীদেরই। অর্থাৎ, এই অসাম্য নিয়ে প্রভাব বিস্তারী কাজ করার ক্ষমতা আছে কেবল ধনীদেরই। অন্যদের পক্ষে তা অসম্ভব। আর অল্প সংখ্যক কিছু ধনী আমেরিকান সত্যিই সেই চেষ্টা করে যাচ্ছেন। তাদের সময় ও অর্থ দিয়ে তারা চেষ্টা করে যাচ্ছেন অর্থনৈতিক এই বৈষম্য দূর করতে।

বাড়তে থাকা বৈষম্য

সর্বশেষ ২০১৩ সালের সমীক্ষায় দেখা গেছে, ধনীরা (মোট জনগণের যারা মাত্র ১০%) পুরো দেশের ৭৬% সম্পদের মালিক। অর্থাৎ, প্রতি ১০ ডলারে ৭.৬০ ডলারেরই মালিক তারা এবং বাকি ৯০% জনগণের জন্য রয়েছে মাত্র ২.৪০ ডলার। এবং সম্পদের এই ভারসাম্যহীনতা প্রতিনিয়ত বেড়েই চলেছে। অথচ ১৯৮৯ সালে ১০% ধনী ব্যক্তিদের কাছে ছিল দেশের ৬৭% সম্পদ।

তবে কিছু ধনী ব্যক্তি রাষ্ট্রীয় নীতি ও কর্পরোরেশনগুলিকে প্রভাবিত করার মাধ্যমে বাড়তে থাকা এই বৈষম্য মোকাবেলা করতে এগিয়ে আসা শুরু করেছেন। তেমনই একজন হলেন ইনভেস্টমেন্ট ফার্ম ‘ব্ল্যাকরক’ এর সাবেক ম্যানেজিং ডিরেক্টর মরিস পার্ল। মরিস ‘ক্যারিড ইন্টারেস্ট’ নামক কর ফাঁকি দেয়ার একটি উপায় আইনি সহায়তায় বাতিল করেন। ‘ক্যারিড ইন্টারেস্ট’ এর মাধ্যমে অসংখ্য ফিনানশিয়াল ম্যানেজার তাদের করের পরিমাণ কমিয়ে ফেলত। আরেক উদাহরণ হলেন ‘চবানি ইয়োগার্ট’ এর প্রতিষ্ঠাতা হামদি উলুকায়া। তিনি তার কোম্পানিটি বিক্রি করে দেয়ার আগে সব এমপ্লয়িদেরকে কোম্পানিটির একটি ওউনারশিপ স্টেইক দিয়ে দেন। অথচ এটি না করলে তিনি একা অনেক লাভ করতে পারতেন।

আয়নায় তাকানো

এই অল্পসংখ্যক মানুষদের আরেক উদারণ টি. জে. জ্লোৎনিৎস্কি। সবার প্রথমে তিনি নিজে একটি টেক কোম্পানি গড়ে তুলে নিজেকে ধনীদের কাতারে তোলেন। এরপর তিনি দাবি তোলেন যেন কোম্পানিগুলি কর্মীদের বেতন বাড়ায় এবং সরকার যেন ধনীদের ট্যাক্সের পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়। জ্লোৎনিৎস্কি নিজে অর্থনৈতিক অসাম্য দূর করার চেষ্টায় থাকা ধনীদের একটি সংস্থা ‘পেট্রিওটিক মিলিওনেয়ার’ এর সদস্য। একটি ব্লগ পোস্টে তিনি বলেন:
“আমার পরিবার যে সমস্ত সুযোগ ও রাষ্ট্রীয় সুবিধাদি পেয়েছে সেগুলি কেবল আমেরিকাতেই সম্ভব, আর এইগুলি ছাড়া আমার এই গল্প ছিল অসম্ভব।”

তার মতো আরও ধনী ব্যক্তিদের সম্পর্কে জানার জন্য কিছু সাক্ষাৎকারের আয়োজন করা হয়েছিল। এই সাক্ষাৎকারগুলি নেয়া হয়েছিল সারা দেশের ২০ জন ব্যক্তির যারা অর্থনৈতিক বৈষম্য দূর করার চেষ্টায় নিয়োজিত অলাভজনক কিছু প্রতিষ্ঠানের সাথে জড়িত। প্রতিষ্ঠানগুলির নাম তারা প্রকাশ করতে চান নি। এই ২০ জনের প্রত্যেকেই নিজেদেরকে ‘ধনী বন্ধু’ বলে পরিচয় দিয়েছেন। তাদের দাবী, তারা অর্থনৈতিক বৈষম্য দূর করতে স্বল্প আয়ের মানুষদের সাথে কাজ করে যাচ্ছেন। এই ২০ জন ব্যক্তি আমেরিকার ধনী ব্যক্তিদের উজ্জ্বলতম উদাহরণ। তাদের বেশিরভাগই সাদা চামড়ার এবং পুরুষ। বয়সের দিক থেকে তারা সব প্রজন্মকেই প্রতিনিধিত্ব করেন। কেউ কেউ উত্তরাধিকারসূত্রেই ধনী। আবার কেউ কেউ স্বল্প আয়ের পরিবারে জন্ম নিলেও সময়ের সাথে সাথে নিজেই গড়ে নিয়েছেন নিজের ভাগ্য।
জ্লোৎনিৎস্কির মতো বাকিরাও বলেছেন যে এই ব্যাপারে কাজ করতে গিয়ে তারা সবার আগে এক ধরণের গভীর উপলব্ধির প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে গিয়েছেন। এই প্রক্রিয়ার লক্ষ্য ছিল আর্থিক বৈষম্য দূর করতে গিয়ে নিজেদের মর্যাদা ও অবস্থানের কারণে তারা যে বিশেষ সুবিধা পেয়েছেন তা চিহ্নিত করা।

প্রথমত, তারা এটা মেনে নেন যে তাদের সম্পদের জন্য তারা অংশত ঋণী এমন এক সিস্টেমের কাছে যে সিস্টেম তাদের যোগ্যতা ও চেষ্টার বাইরেও তাদেরই অনুকূলে ছিল। বিশাল সম্পদের জন্য সিস্টেমের এই সহায়ক ভূমিকা বা ভাগ্যের কাছে ঋণী থাকার এই উপলব্ধি সহজ কোনো কাজ নয়। কারণ ‘যেটা যার প্রাপ্য সেটাই সবাই পায়’ এমন একটা প্রচলিত ধারণা সবার মনেই গেঁথে আছে। ‘বর্ন অন থার্ড বেইজ’ নামক স্মৃতিকথায় চাক কলিন্স এমনই এক আত্মোপলব্ধির গল্প বলেছেন। অস্কার মায়ের এর সম্পত্তির উত্তরাধিকার হয়েছিলেন চাক কলিন্স যা তিনি গ্রহণ না করে দান করে দিয়েছিলেন। মৃত ব্যক্তির সম্পত্তি বণ্টনের আগে আরোপিত কর ‘এস্টেট ট্যাক্স’ সংরক্ষণের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন এখন কলিন্স। একই সাথে তিনি অর্থনৈতিক বৈষম্যের ব্যাপারে আরো গবেষণা করে যাচ্ছেন।

পরের ধাপটি হচ্ছে লজ্জ্বাকে দূর করা। বাড়তি সুবিধা পাওয়ার ব্যাপারটা উপলব্ধি করার ফলে ২০ জন ধনী ব্যক্তির অনেকেই লজ্জ্বিত হয়েছেন। উদাহরণ হিসেবে বলা যায় একজন বাইসেক্সুয়াল নারীর কথা যিনি ২১ বছর বয়সেই প্রায় ১ মিলিয়ন ডলারের মালিক হয়েছিলেন। তিনি বলেন, তার বন্ধুদের কাছে একজন লেসবিয়ান হিসেবে আত্মপ্রকাশ করাটা তার কাছে বরং সহজই ছিল। সে তুলনায় নিজেকে মিলিয়নেয়ার হিসেবে পরিচয় দেয়াটা তার জন্য বেশি কঠিন ছিল। ধনী হিসেবে নিজেকে পরিচয় দেয়ার ব্যাপারটা অস্বস্তিকর — সাক্ষাৎকার দেয়া ২০ জনের মধ্যে অনেকের কাছ থেকেই এই রকম প্রতিক্রিয়া পাওয়াটা বেশ অবাক করা ব্যাপার ছিল। কারণ বেশিরভাগ আমেরিকানদের কাছেই তাদের সম্পদের পরিমাণ তাদের যোগ্যতার পরিচয়।
অপরাধবোধ আর লজ্জ্বা কাটিয়ে ওঠার পাশাপাশি এই ‘ধনী বন্ধু’দের একটি ভয় ছিল তাদের প্রতি অন্য ধনী ব্যক্তিদের প্রতিহিংসা। ধনীদের উপর কর আরোপের পক্ষে কাজ করা জাতীয় তাদের কর্মকাণ্ডগুলি অন্য ধনীদের আর্থিক ক্ষতির কারণ হয়ে উঠছিল। ফলে তা ছিল অন্য ধনীদের জন্য উদ্বেগের।

তবে সাক্ষাৎকারে মুখোমুখি হওয়া ২০ জনের মধ্যে সবাই এই বিষয়ে একমত যে ‘ধনী বন্ধু’ হওয়ার জন্য এই কাজগুলি কঠিন হলেও জরুরি ছিল। অনেকেই বলেছেন নৈতিক সমর্থনের জন্য তারা একই মানসিকতার মানুষদের উপর ভরসা করেছেন।

জনসেবা বা ফিলানথ্রোপির সমস্যা

অর্থনৈতিক বৈষম্যের বিরুদ্ধে কিছু করতে চায় এমন বেশিরভাগ ধনী ব্যক্তিই তাদের কিছু টাকা দান করে দেন। তবে অর্থনীতিবিদ ইন্দ্রনীল দাসগুপ্ত ও রবী কানবুর এর গবেষণা অনুযায়ী, অর্থনৈতিক বৈষম্য দূর করার জন্য ফিলানথ্রোপি আদর্শ উপায় নয়।
ফিলানথ্রোপির ব্যাপারে অন্যান্য ধনী ব্যক্তির তুলনায় সাক্ষাৎকারের ২০ জন ধনী ব্যক্তির ছিল ভিন্ন ধারণা। সবাই তাদের সম্পদের অন্তত কিছু অংশ দান করেছেন। কেউ কেউ এমনকি তাদের অর্জিত পুরো সম্পদই দান করেছেন। কিন্তু বেশিরভাগই তাতেই থেমে না থেকে আরো কিছু কাজ করেছেন। যেমন, ধনীদের উপর কর বাড়ানোর জন্য লবি করা বা কর্মীদের বেতন বাড়ানোর জন্য কর্পোরেট বোর্ডগুলিকে চাপ দেয়া ইত্যাদি। অর্থনৈতিক সাম্যের জন্য যা সম্ভাব্য ২টি সমাধান।

কেউ কেউ বলেন, তাদের মনে হয়েছে তারা যেন আরো কার্যকর ভাবে ফিলানথ্রোপি করার অন্য আরেক পথ খুঁজে পেয়েছেন। যেমন, একজনের মনে হয়েছিল তার টাকা কোথায় খরচ হওয়া উচিত সেটা ঠিক করার জন্য তিনি সঠিক ব্যক্তি নন। প্রথমে তিনি তারই মতো উচ্চমধ্যবিত্তদের সৃষ্ট ও পরিচালিত বিভিন্ন চ্যারিটি সংস্থাসমূহে দান করতেন। তারপর তিনি এমন সংস্থাসমূহে দান করা শুরু করলেন যেগুলির পরিচালনায় রয়েছে গরীবরা নিজেরাই। এইভাবে তিনি তার এলিট ক্ষমতা হস্তান্তর করলেন গরীবদের কাছে। কারণ তার মনে হয়েছিল নিজেদের উন্নতি কীভাবে করতে হয় সেটা তারা তার চেয়ে ভালো জানে।

এই উদাহরণ থেকে বোঝা যায়, অর্থনৈতিক অসাম্য দূর করতে ‘ধনী বন্ধু’ হতে গেলে এমন প্যারাডাইম শিফট এর মধ্য দিয়ে যেতে হয়। সাক্ষাৎকারের ২০ জন ‘ধনী বন্ধু’ বলেন, তাদের কাছে অর্থনৈতিক অসাম্য দূর করার সবচেয়ে কার্যকর উপায় মনে হয়েছে গরীবদের কাছে নিজেদের ক্ষমতা স্বেচ্ছায় হস্তান্তর করা। এই হস্তান্তর প্রক্রিয়া অনেক ধনীদের জন্যই অস্বস্তিকর ও কঠিন একটা ব্যাপার হবে। কিন্তু তাদের এই চেষ্টা যদি আমেরিকার অর্থনীতি আর গণতন্ত্র বাঁচিয়ে রাখার ক্ষেত্রে সহায়ক হয়, তবে তা কঠিন হলেও জরুরি ।

আড্ডার গল্প (১৪) — কাজী রোজী

আমি বলি, আপনার আম্মা নাকি মাহমুদ ভাইকে খুব পছন্দ করতেন, জামাই-আদরে যত্ন করে খাওয়াতেন? আমার একথা শুনে রোজী আপা হাসেন।

Continue reading