Archive

May 2019

Browsing

মার্টিন স্করসেজি’র নতুন সিনেমা দ্য আইরিশম্যান এর কাহিনি আমেরিকান শ্রমিক ইউনিয়ন নেতা জিমি হফা ও তার খুনি ফ্র্যাংক শিরানকে নিয়ে। মুভিতে ফ্র্যাংক শিরানের চরিত্রে অভিনয় করেছেন রবার্ট ডি নিরো আর আল পাচিনো আছেন জিমি হফার ভূমিকায়

সিনেমার গল্প চলবে কয়েক দশক জুড়ে। তাই রবার্ট ডি নিরোকে একই সাথে বৃদ্ধ এবং তরুণ অবস্থায় দেখানোর জন্য কম্পিউটার জেনারেটেড ইম্যাজেরি (সিজিআই) ব্যবহার করা হচ্ছে। আর সেই সিজিআই এর কাজ নিখুঁত করার জন্যই পোস্ট-প্রোডাকশনে সময় লাগছে বেশি।

এটুয়েন্টিফোর পডক্যাস্টের সাথে এক সাক্ষাৎকারে স্করসেজি জানান, অভিনেতাদের চেহারার বলিরেখাগুলি দূর করার জন্য যে সিজিআই ব্যবহার করা হয়েছে, তাতে এখনো তিনি পুরাপুরিভাবে সন্তুষ্ট হতে পারেননি।

স্করসেজি বলেন, “আমি আসলে চিন্তিত যে, তাদের বয়স্ক চেহারা দেখতে দেখতে তো আমরা অনেক বেশি অভ্যস্ত হয়ে পড়েছি।… এখনো তাই কয়েকটা শটে তাদের চোখের পাশের কোঁচকানো জায়গায় আরেকটু কাজ করতে হবে আমাদের।”

জর্জ লুকাসের বিখ্যাত ভিজ্যুয়াল ইফেক্টস কোম্পানি এই প্রযুক্তির দায়িত্বে আছে। এর আগে তারা ২০০৮ সালে দ্য কিউরিয়াস কেস অফ বেনজামিন বাটন সিনেমায় একই তরিকায় অভিনেতা ব্র্যাড পিটের বয়স প্রয়োজনমতো কমিয়ে-বাড়িয়ে নিয়েছিল।

তাছাড়া অনলাইন প্রযোজনা সংস্থা নেটফ্লিক্সের সাথে সম্ভাব্য ১২৫ মিলিয়ন ডলার বাজেটের চুক্তি হলেও স্করসেজি সেই বাজেট বাড়িয়ে এর মধ্যেই ১৪০ মিলিয়নে নিয়ে গেছেন। সিজিআইয়ের কাজ শেষ না হওয়ায় ২০১৯ সালের কান ফিল্ম ফেস্টিভ্যালেও দ্য আইরিশম্যান প্রদর্শিত হয়নি। তবে ২০১৯ এর একেবারে শেষদিকে হলেও ছবিটি মুক্তি দেওয়া হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

স্করসেজির পুরানো দুই সহকর্মী হার্ভি কাইটেল (আই কল ফার্স্ট, মীন স্ট্রিটস, ট্যাক্সি ড্রাইভার) এবং জো পেশি (রেজিং বুল, গুডফেলাস, ক্যাসিনো) অনেকদিন পর তার কোনো ছবিতে অভিনয় করছেন। হলিউডে তাই ছবিটিকে কিংবদন্তীদের পুনর্মিলনী হিসাবে দেখা হচ্ছে।

তখন ভোর। বরিশালের হলুদ অটোতে বইসা দেখতেছি চোখফোলা এক মধ্যবয়সী মহিলারে। তড়িঘড়ি কইরা সে আমার দিকে আগাইতেছে না। আগাইতেছে স্বাভাবিক গতিতে। আমি ট্রলিব্যাগটা রাস্তার ওপর রাইখা নামলাম। মনে আনন্দ, তাই চেহারায় উচ্ছ্বাস। ভেঙে-ভেঙে, জোরে ডাকলাম, “সু-খী-আ-পু।”

সুখী আপু কাছে আইসা ভ্রু কুঁচকাইয়া বলল, “দাঁড়ায়া আছোস ক্যান? ভাড়া দ্যাস নাই?”

“তুমি ব্যাগ নিয়া বাসায় চইলা যাও। আমি পরে আসব।”

“কী অদ্ভুত! কই যাবি এই সকালে?”

“ত্রিশ গোডাউন। ওইখান থিকা ওপার।”

“আচ্ছা। নাস্তা খাইয়া নিস।”

আমি হাসলাম। অটো ঘুরায়ে শাই শাই করে চলা শুরু করল।

সুখী আপু আমার খালাত বোন। পাঁচ নাম্বার খালার বড় মেয়ে। আমার প্রতি অসম্ভব দুর্বল। আর আমার সব শেষের একমাত্র আশ্রয়। বয়স ত্রিশের ওপাশে কয়েক ঘর চইলা গেছে। দুই মেয়ের মা। বড় মেয়ে ক্লাস নাইনে পড়ে এবং ইনিসী খালামনি যেদিন আসবে, সেদিন সে কিছুতেই স্কুলে যাবার কথা ভাবতে পারে না। খালামনির বইয়ের কবিতার নামগুলি সিরিয়ালি তার মুখস্থ। তার মা’র কাছ থিকা জানা গেছে, বই সে পাওয়ার পরেই ‘খতম’ দিছিল।

এখন কী মাস চলে তা হুট কইরা আমার জানতে ইচ্ছা করে। গরম পড়তেছে। বৃষ্টি মাঝে মধ্যে অবশ্য হচ্ছে। অটো চলতে চলতে আমার এইটাকে অন্য কোনো অজানা মাস বইলা মনে হয়। যে মাস আগে কখনো আসে নাই। ভবিষ্যতে যদি আসে, তাও কবে আসবে বলা মুশকিল। আমি রিল্যাক্স হয়ে বসে ভাঙা রাস্তার ঝাঁকি খাই। বড় সড় খাদ দেখলে ড্রাইভারকে বলি, “ভাই, সাবধানে। দেইখেন। যে রকম ভাঙা, তাতে এইখানটাতে প্রতিদিন অ্যাক্সিডেন্ট হবার কথা।”

ড্রাইভার আমার সাথে একমত হন। মাথা ঝাঁকান।

“হ আপা। আমার এক বন্ধুর অটো-গাড়িই অ্যাকসিডেন্ট করছে কিছুদিন আগে।”

শোনার পরও আমার ভালো লাগা কমে না। ভাটিখানা থিকা স্ব-রোড, তারপর সদর রোড, বেলস পার্ক, ব্যাপ্টিস্ট মিশন রোড, মেডিকেলের পেছন দিয়া অটো ত্রিশ গোডাউন চইলা আসে। একদম নদীর পাড় পর্যন্ত না গিয়া আগেই থামতে বলি। থামে। ভাড়া দিই। নামি। মুগ্ধ হই। এত সুন্দর একটা রাস্তা এই শহরে আছে ভাবলে কী যে আনন্দ হয়। আমি জোরে গেয়ে উঠি—

“আজ রে-ব্যান দিয়ে তুমি যতই ঢেকে রাখো চোখ
লুকোতে পারবে না
এন্টালি সিনেমার পেছনের বস্তির
মৌলালির মালা”

এইখানে এক বৃহৎ বটগাছ, পেছনে কীর্তনখোলা। সকাল ছয়টার মত বাজে। চারদিক ফাঁকা। পাতাকুড়ানি মহিলা আছে কিছু। কী হাসি হাসি মুখ! রাস্তায় পড়ে থাকা ফুলের নাম জিজ্ঞেস করতে গিয়া তাদের সাথে কথা হয়। আমার মনে হচ্ছিল, ওনাদের যেরকম ভালোবেসে খালা ডাইকা ফেললাম, ঢাকায় এইটা পারি না। খালা ডাকতে তো পারি, কিন্তু এত ভালোবাসা সেইখানে থাকে না।

ত্রিশ গোডাউনের রাস্তা ধইরা সোজা হাঁটলে চানমারী খেয়াঘাট যাওয়া যায়। আগে যাওয়া যাইত না। ব্রিজ ছিল না। যাওয়ার রাস্তার পাশে পাশে নড়বড়ে ঘর। উদাস মুখের কয়েকজন মানুষ। আগের বার আইসা যখন এইখানে বইসা ছিলাম, ছয়-সাত বছরের একটা মেয়ে জিজ্ঞেস করতেছিল, আমার স্বামী কই গেছে। আমি তারে বললাম, কীর্তনখোলায় ডুইবা মরছে। সে কষ্ট পাইছিল। তেমন ছন্নছাড়া কষ্ট ঘরগুলির গায়ে লেপটায়ে আছে। তারপরও, এইগুলির মাঝে, এক মহিলা ‘চটা’ ভাজতেছে। এই জিনিস আমার অতি পছন্দের। চালের গুঁড়ির ওপর হাতের ছোঁয়ার ছাঁচ… আম্মু বানাইত। সবকিছু ভাইবা কেবল আনন্দ হইতেছে। আমি চটা কিনলাম না, খাইলাম না। হাঁটতেছি। চানমারী খেয়াঘাট যাব।

রাস্তা থিকা ব্রিজটা একটু উঁচু। প্রাসের মত হইয়া তা আবার নাইমাও গেছে। খেয়াঘাটে খেয়া নাই। আছে ইঞ্জিনের ট্রলার। এইগুলি ওপারে যায়। রিজার্ভ যায়, আবার অনেক লোক নিয়াও যায়।

রিজার্ভে গেলাম। আস্তে চালাইতে বললাম। ঝুঁইকা পইড়া পানিতে হাত দিতেই পানি ছিঁটতে শুরু করল। ইঞ্জিন, তাই। আমি হাত দিয়াই রাখলাম। রোদ পড়ছে পানিতে। চিকচিক করতেছে। এইখানেই যেন জীবন ফুরায়ে গেছে। কিছুসময় আমি ধার কইরা আনছি। ধার কইরা সময়, আমি নদীর জলে ভাসতেছি। হইতে পারে, এটা মৃত্যুর পর ঘটতেছে, সমস্তটাই। তাই হয়ত, আমি বলতে চাইতেছি শুধু আমারে, যেহেতু আমিই ধারণ কইরা আছি সব, যেমন নিজেরে, তেমন নিজের প্রেম আর প্রেম থিকা হওয়া আরও অধিক প্রেমরেও।

বরিশালের ওপারের নাম কাউয়ার চর। কাগজ-কলমের নাম চরকাউয়া। এইখানে আসলে আপনার মনেই হবে না, ওপারে বরিশাল। শহর। এত অনুন্নত। তাই যা স্বপ্ন তার মতই সুন্দর। যেইখানে নামলাম, তাও নিশ্চয়ই খেয়াঘাট। ওইখানকার দোকানপাটও বন্ধ। সরু পিচঢালা রাস্তা। সোজা গেছে। কোথায় গেছে জানি না। হাঁটতে শুরু করলাম। আগে আরেকবার কোথায় আইসা বসছিলাম তা খোঁজার চেষ্টা করলাম। আগে আইসা যেইখানে বসছিলাম, সেই জায়গার নিশানাস্বরূপ একটা খেঁজুর গাছ পাইলাম, কিন্তু এখন ওইখানে যাওয়ার অবস্থা নাই। তারচেয়ে রাস্তা দিয়া হাঁটতে থাকা ভালো। রাস্তার পাশের মাঠগুলিরে বলে ‘দিগন্ত-বিস্তৃত’। চোখ বাঁধা পায় না। দেখতে পায় আদি আর শেষ হইতে থাকা অনন্ত। অনেক দূরে যেন গহীন বনের অন্ধকার, তা দূরে, বেশ দূরে, এর আগে যে মাঠ, গড়নের ভেতরে ধুলোকাদা সে ধরে রাখছে, ধরে রাখছে দিনের থিকা আলাদা কইরা ভোরকে। ভোর কমলে দিন বাড়ে, রোদ আইসা পড়ে, তারে দেখবার মত করে মেলে ধরে রাখে সে।

খুব সামাজিক কোনো পাড়ায় ঢুকে গেছি। গৃহস্থের বউ, ছেলেমেয়েদের দেখা যাইতেছিল। ফেরার জন্য আরেকটা অটোতে চইড়া বসলাম। খেয়াঘাট নিয়া যাবে। ওপারে যাব। শহরে। বরিশালে।

ঘাটের আরও দূরে ছোট, কম-প্রশস্ত একটা জায়গা ছিল। নির্জন। আগেরবার গেছিলাম। এবার সেই জায়গা আর খুঁইজা পাই নাই।

বরিশাল আইসা নাস্তা কইরা ঘড়ি দেখলাম। দশটা বাজে তখন। এরমধ্যে নিজের সমস্ত অসুস্থতা নাই বইলা মনে হইতেছিল। অসুস্থ বইলাই বরিশাল আসছিলাম আমি। যখন আর কোথাও যাওয়ার নাই, তখন সুখী আপুর কাছে আইসা থাকি, থাকছি আগেও। এবারও তেমন ছিল। আর কোত্থাও আমার যাওয়ার ছিল না।

দুপুরে বাসায় ফিইরা আসছি তারপর। আইসাও তেমন, দেখি সুখী আপু নির্লিপ্ত মুখে মেয়েদের জামাকাপড় ভাঁজ করতেছে। গলায় কোনো ভাঁজ ছাড়াই বলল, “টেনশন হইতেছিল। ঘুরতে ডিস্টার্ব হবে তাই আগে ফোন দিই নাই। খালামনি জিজ্ঞেস করতেছিল, হসপিটাল থিকা সবে রিলিজ পাইল, অসুস্থ তো, অত ঘোরার কী দরকার। আমি মুখচোখ দেইখা বুঝছি, কী দরকার। কারও তো বুঝতে হয়… যা গোসল কর।”

আমি গোসল করলাম।

একটা দিনের শেষে প্রথম মনে হইল, চারপাঁচদিন কেটে গেছে। চারপাঁচদিন স্বপ্নের মত আনন্দে কেটে গেছে।

কভার. সানজিদা আমীর ইনিসী

আমরা বন্ধুরা মিলা একবার মেঘদলের কনসার্ট দেখতে গেছিলাম বুয়েটে। বিকালে ওইদিন যুঁথি আমাকে ফোন দিয়া বলল যে ওরা আজকে কনসার্ট দেখতে যাইতেছে। আমি কি যাব? তানজিম আর তন্ময়ও যাবে।

আমি রেডি টেডি হইয়া রওনা দিলাম। গাড়িতে ওঠার পর তন্ময় টেক্সট করল আমি আসব কিনা। আমি বললাম আসতেছি, গাড়িতে। জানালা দিয়া তাকাইয়া দেখলাম একই রকম বৃষ্টি হইতেছে আজকে সারাদিন। জোরে বৃষ্টি নামে, অনেকক্ষণ হইয়া আবার থামে। বাইরে বৃষ্টির ফোঁটা পড়েতেছে কিন্তু আকাশ কত কালো এইটা সন্ধ্যায় বোঝা যায় না।

তখন তন্ময়কে আমি অনেক পছন্দ করতাম। কিন্তু বলতে পারতাম না। কারোর সাথে শেয়ারও করতাম না। করলে জানাজানি হবে। এইটা আমার ভাল লাগত না।

অন্যদিনের তুলনায় অনেক তাড়াতাড়ি পৌঁছাইলাম ভার্সিটি। গলিতে আমার বন্ধুরা কেউ নাই। শুধু সামিরা আর ওর বয়ফ্রেন্ডকে দেখলাম একসাথে বইসা গল্প করতেছে। আমি তন্ময়কে ফোন দিলাম। ও ফোন ধইরা বলল, “কী বলো, আইসা পড়ছো? আচ্ছা আসতেছি।”

কথা শুইনা বুঝলাম ও দেরি করবে। আমি সামিরার কাছে গিয়া বললাম, “হাই।”

“হাই, কী অবস্থা, বসো।”

বইসা অপেক্ষা করতে থাকলাম। একটু পরে যুঁথি আর সাদমান ভাই আসল, আসতে আসতে ওরা আলাদা হইয়া গেল। যুঁথি আমাকে দেইখা বলল, তুই এত সেক্সি হইয়া ঘুরস কেন রে? আর আমার জামাকাপড়ের প্রশংসা করল। সাদমান ভাই তখন দূরে চা খাইতেছে। যুঁথি পরে বলল সামিরা কত সুন্দর—ওর জামা, জুতা, মালা। জামা, গয়নার ডিজাইন করত বইলা স্টাইলিশ কিছু দেখলেই আকর্ষিত হইত সে।

একটু পরে সামিরা রিকশা কইরা ওর বয়ফ্রেন্ডের সাথে বাসায় চইলা গেল। তখন আমি আর তানজিম মুনশী মামার চায়ের দোকানে গিয়া বসলাম। আর যুঁথি গলিতে বসল। চা খাইয়া আবার গলিতে গেলাম। দেখি অহনা অনেক ছেলেদের সাথে আলাপ করে। আর ফয়সাল অন্য জায়গায় ব্যাগ কোলে ওর অতি পরিচিত ভঙ্গিতে বইসা আছে। পাশে তন্ময় দাঁড়াইয়া লাজুক মুখে কথা শুনতে শুনতে হাসতেছে। আমার রাগ হইল, তন্ময় কেন আমাকে বলল না যে সে আসছে?

আমি চেষ্টা করলাম অহনার দিকে মনোযোগ দিতে। খুবই ক্লান্তভাবে অহনা কথা বলতেছে সবার সাথে। এইমাত্রই কাজ শেষ কইরা ফ্রি হইছে। তখন দেখি যুঁথি আর আরেকটা আপু বলল অহনার জামার কথা। সে এমন জামা পরে কেন? আমার ভাল লাগল না কথাটা। তাতে ওদের কী, ওরা কি জেলাস কারণ অহনা সুন্দর?

আমি আগাইয়া গেলাম তন্ময় আর ফয়সালের দিকে। ওরা আরো অনেকক্ষণ পরে কথা শেষ কইরা আমার সাথে কথা বলল। আমি জিগাইলাম, আমরা কখন যাবো? ওরা কিছু বলল না, কিন্তু একটু পরেই আমরা যাওয়ার জন্য রেডি হইলাম। দেখলাম অহনাও আমাদের সাথে যাইতেছে। কিন্তু ওর বয়ফ্রেন্ড বিধান যাইতেছে না। আমি কাউরে কিছু জিগাইলাম না এই ব্যাপারে।

বুয়েটে যাওয়ার জন্য রাস্তা পার হইলাম আমরা। আমি, অহনা, আর ফয়সাল আগে রিকশায় উঠলাম। সাদমান ভাই, যুঁথি, তন্ময়, আর তানজিম বাসের জন্য দাঁড়াইল।

আমাদের অনেকক্ষণ লাগল বুয়েট যাইতে। রাস্তার বেশিরভাগ দোকানপাট তখন বন্ধ কইরা দিতেছে, নীলক্ষেত অর্ধেক বন্ধ, অর্ধেক খোলা। যাইতে যাইতেই বৃষ্টি শুরু হইল। প্রথমে ফোঁটা ফোঁটা পড়ল, এরপরে জোরে আরম্ভ হইল, আবার কমল। অহনা জিগাইল আমার কাছে ওড়না আছে কিনা, ওর টপটা পাতলা, ভিজা গেলে সব দেখা যায়, তখন ওড়না লাগবে।

বুয়েটে গিয়া প্রথমে গান শুনতে গেলাম। আমি ফয়সাল আর তন্ময় পাশাপাশি হাঁটতেছিলাম, অহনা একটু দূরে। ফয়সাল তন্ময়রে জিগাইল, অহনা আসল যে, বিধানের সাথে কিছু হইছে? তন্ময় বলল, ভাল হইছে আসছে, এইখানে ঠিক আছে। আমার মনে হইল, তন্ময় এত খুশি অহনা আসাতে, সেটা প্রকাশও করতেছে!

তখনও মেঘদল‌ আসে নাই। বুয়েটের ছেলেরা গান গাইতেছে, আর পাশে ওদের বন্ধুরা গানের সাথে সাথে নাচতেছে। আমরা সিমেন্ট দিয়া বানানো ছোট একটা গোল জিনিসের উপর বসলাম। পরে একটা ছেলে আইসা আমাদেরকে পিছাইয়া বসতে বলল। তো আমরা ঘাসে গিয়া বসলাম।

বৃষ্টিতে ভিজা পুরাটা মাঠ। ওইখানে গোল হইয়া বসলাম সবাই। একটু পরে আমরা খাইতে যাব ঠিক করলাম। আমার ইচ্ছা ছিল নীলক্ষেতে বিরিয়ানি খাব। কিন্তু দেরি হইয়া‌ গেলে গান মিস হবে, আর নীলক্ষেত খোলা কিনা তাও জানি না, তাই পলাশীতে গেলাম খাইতে। একটা বড় স্টিলের ডেকচিতে খিচুড়ি বেচতেছে একটা ছেলে। প্লেটে খিচুড়ি দিয়া উনি আরেকটা হাঁড়ি থেকে ডিম আর ঝোল দিতেছেন। চল্লিশ টাকা প্রতি প্লেট। আমরা সবাই ডিম-খিচুড়ি খাইলাম রাস্তার পাশে দাঁড়াইয়া।

খিচুড়ি খাইয়া বুয়েটে যাইতে যাইতেই গান শুরু হইল। ভিতরে যাওয়ার পথে একটা জায়গায় সফট ড্রিংক্স, চিপস, আর ডাল ভাজা বেচতেছেন এক মহিলা।

মাঠে গিয়া দাঁড়াইলাম আমরা। মেঘদলের সাথে সাথে তখন অন্যরাও গাইতেছে গানগুলি। না গাইলেও রিকোয়েস্ট করতেছে অমুক গানটা গাইতে। আমি একলাই শুধু ব্যান্ডের নামটা ছাড়া আর কিছুই জানি না।

গান শুনতে শুনতে হঠাৎ ঝুম ঝুম কইরা জোরে বৃষ্টি নামল। আমি, তানজিম, যুঁথি, সাদমান ভাই ভিতরে গেলাম। যুঁথি বলল, অহনা আর ফয়সাল মাঠে, ওদের কাছে ছাতা আছে, আর তন্ময় কোনো গাছের নিচে দাঁড়াইছে।

তানজিম বলল সে পানি খাবে, আর ওয়াশ রুমে যাবে। আমিও গেলাম ওর সাথে। আমি আরেকবার একা দুইতলায় উঠছিলাম। একা গেছিলাম তাই সাথে সাথে চইলা আসছিলাম। এইবার গিয়া বারান্দা দিয়া হাঁইটা অনেকদূর গেলাম। রাত মনে হয় তখন দেড়টা বাজে। বিশাল বড় রুমে লাইট জ্বালাইয়া মেয়েরা ভিতরে কাজ করতেছে, পড়ালেখা করতেছে।

দুইতলার ফিল্টারে পানি নাই, তিনতলায় গেলাম, ওইখানেও পানি শেষ। তানজিম কয়েক ফোঁটা পানি অনেক চেষ্টা কইরা ভরল বোতলে, এরপর ওইটা খাইল। বৃষ্টিতে তখন বাইরে গিয়া পানি কিনারও উপায় নাই।

নিচে নামার পর বৃষ্টি আরও বাড়ল। মেঘদলও মনে হয় ভিতরে আসল একটু।

তানজিম ভিড়ের মধ্যে একজনরে দেখাইয়া বলল, সে তারে চিনে, কিন্তু গিয়া কথা বলল না। যুঁথি আর সাদমান ভাই একসাথে তখন দাঁড়াইয়া আছে। যুঁথি বলল সে অহনার কাছে তার আইফোনটা রাখছে। অ্যান্ড্রয়েডটা ওর সাথে আছে। অহনা ফোন ধরতেছে না, আর বৃষ্টিতে যুঁথি অহনার কাছ থেকে ফোন আনতে যাইতেও পারতেছে না। ফোনটা ঠিক আছে নাকি সেই ভাবনায় অস্থির হইয়া বৃষ্টি কমার জন্য সে ওয়েট করতেছে। বৃষ্টি কমলে তাড়াতাড়ি মাঠে গেল।

অহনা এক হাতে ব্যাগটা কোলে নিয়া আরেক হাতে ছাতা ধইরা বইসা আছে। যুঁথি ফোন চাইতেই ওর মনে হয় ঘোর কাটল। ব্যাগটা যুঁথিরে দিয়া ও আর ফয়সাল ভ্যান থেকে নামল।

আমরা বাইর হইলাম বুয়েট থেকে। পলাশী পর্যন্ত হাঁইটা গেলাম। মোড় থেকে তিনটা রিকশা নিয়া আমি তানজিম আর তন্ময় উঠলাম এক রিকশায়, অহনা আর ফয়সাল আরেকটায়, যুঁথি আর সাদমান ভাই আরেকটায়।

ততক্ষণে বৃষ্টি আরো কমছে। রাতে জীবনে এই প্রথম আমি বাইর হইছি। সবকিছু বন্ধ। আবার সবকিছু খুলবে, রাস্তায় জ্যাম হবে ভাইবা আমার অদ্ভুত লাগল। কিন্তু রিকশা চলতেছে। আর যাত্রীও আছে। দিনের বেলার মতোই মানুষ রিকশা কইরা যাইতেছে। একটা লোককে দেইখা আমার মনে হইল উনি বাসায় গিয়া ঘুমায় না কেন? শুধু শুধু এখন রিকশা কইরা যাইতেছেন!

খাবারের দোকান সব বন্ধ। শুধু একটা ছোট খোলা দোকান পাইলাম যেখানে কিছুক্ষণ বসলে ওরা খাবার দিবে। ওইখানে নাইমা আমরা অপেক্ষা করলাম। কয়টা পরোটা, কয়টা তেলছাড়া রুটি, আর কয়টা ডিম দিতে হবে আমাদেরকে জিজ্ঞাসা কইরা উনারা বানাইলেন।

আমি ছাড়া কেউ ডিম পোঁচ নিল না। অহনা বলল, সে কখনো ডিম পোঁচ খায় নাই‌। কুসুমটা দেইখা ওর মনে হয় কখনো ইচ্ছা করে নাই। ও ডিম ভাজি খাইল। খাওয়া শেষ কইরা যুঁথি আর সাদমান ভাই যাবে বলল। সাদমান ভাই যুঁথিরে তার খালার বাসায় নামায় দিবে। আর ফয়সাল ওর কোনো বড় ভাইয়ের বাসায় যাবে থাকতে। আমি, অহনা আর তানজিম থাকব তন্ময়ের বাসায়।

আমরা হাঁইটা হাঁইটা গেলাম ওর বাসায়। ওদের বাসায় তখন সবাই ঘুমায়। তন্ময় চাবি দিয়া দরজা খুইলা আমাদের ভিতরে ঢুকাইল। অন্ধকারে আমরা ওর রুমে গেলাম। এরপর কম্পিউটারে একটা মিউজিক ছাইড়া তন্ময় গেল ঘুমাইতে। আমি মোবাইলে তিন চারটা অ্যালার্ম দিয়া শুইলাম। অহনা ততক্ষণে একটু ঘুমায় গেছে। আর তানজিম শুইছে। আমি বললাম পাঁচটায় আমি বাইর হবো। তুমি দরজাটা লাগায় দিও।

বইলা আমি ঘুমায় গেলাম। পাঁচটায় কোনোমতে লাল চোখ নিয়া উইঠা মুখে পানি দিয়া তানজিমরে ডাকলাম। ও উইঠা দরজা লাগাইল কিন্তু ঘুমে কিছু বুঝল না কী হইতেছে।

আমি বাইর হইয়া শ্যামলী গিয়া জাহাঙ্গীরনগর ইউনিভার্সিটি যাওয়ার বাসে উঠলাম এক ফ্রেন্ডের সাথে। সে বলল, “কালকে ঘুমাও নাই তাইলে আরেকদিন যাইতা?”

“না আরেকদিন প্রিপারেশন নিতে পারব না।”

জাহাঙ্গীরনগর পৌঁছাইয়া আরেকজন বন্ধুর সাথে দেখা হইল। সে বলল কালকে সে বাসে উঠছিল বুয়েটে যাওয়ার জন্য। মেঘদলের কনসার্ট দেখতে। পরে আবার ফিরত আসছে জ্যামের জন্য। আমি বললাম, ও তুমি ওইটাতে যাইতে চাইছিলা? আমি তো কালকে গেছি। তিনটা পর্যন্ত কনসার্ট দেইখা পরে আজকে জাহাঙ্গীরনগর আসছি। ভালই কনসার্টটা। আর রাত্রে আমি কখনো বাইরে থাকি নাই। এইজন্য মনে হয় অন্যরকম লাগছে।

কভার. শৈলী নাসরিন

কোনো বিষয়ে নতুন অভ্যাস তৈরির কথা ভাবলে আগের চেয়ে সহজে আর তাড়াতাড়ি করা যাবে এমন অভ্যাসের কথা ভাবি আমরা। বই পড়ার ক্ষেত্রে  বই পড়ে শেষ করাই শেষ কথা নয়, বই থেকে পাওয়া অভিজ্ঞতাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। কাজেই ‘স্পিড-রিডিং’ এর মাধ্যমে কোনো বই শেষ করা সবসময় কাজে দেয় না, বিশেষ করে যদি টেক্সটের ধরন জটিল হয়ে থাকে। এতে বরং আপনার বুঝতে আরো সমস্যা তৈরি হয়।

তাই বলে এমন ভাবার কারণ নাই যে বই পড়া বাড়ানোর অভ্যাস তৈরিতে কোনো রকম কৌশলের কথাই আমাদের জানা নাই।

#০১. খাটে শুয়ে পড়বেন না

আমরা সবাই শুয়ে শুয়ে পড়তে পছন্দ করি। এভাবে পড়তে আরাম লাগে, রিল্যাক্সিং অনুভূতি হয়। কিন্তু দুই মিনিট পর দেখা গেল আপনি ঘুমিয়ে পড়লেন। সেই ঘুম হয়ত ভাঙল চার ঘণ্টা পর—আপনি কনফিউজড তখন, হাতের বইটাও কুঁচকে গেছে।

বই পড়ার অভ্যাস আরো কার্যকরী করে তুলতে চাইলে এখন থেকেই শুয়ে শুয়ে পড়া বাদ দিন।

চেয়ার, সোফা বা ডেস্ক, যেখানেই থাকেন না কেন, পিঠ টানটান রেখে বসে থেকে বই পড়ার চেষ্টা করুন। এমনকি খাটের উপর থাকলেও শুয়ে পড়বেন না। পড়ার সময় শরীরের উপরের অংশ খাড়া অবস্থায় রাখাটা জরুরি।

#০২. একা একা পড়ুন

দরকার হলে বই পড়ার জন্য আলাদা একটা রুম বেছে নিন, যেখানে টেলিভিশনের শব্দ বা ফ্যামিলি মেম্বারদের কথাবার্তা আপনার মনোযোগ কেড়ে নিতে পারবে না। আপনার ডিভাইসটাও বন্ধ রাখুন। ফেসবুক নোটিফিকেশন, টুইটার মেনশন, ইমেইল, স্ন্যাপচ্যাটের নতুন কোনো বন্ধুর পাঠানো স্ন্যাপ বা ইন্সটাগ্রাম লাইক—এসব অনবরত আসতে থাকলে আর পড়া হবে না।

অনলাইনে কানেক্টেড থাকা আমরা এতটাই অভ্যাসে পরিণত করে ফেলেছি যে, দুই পাতা পড়লেই মনে হয়, দেখি তো, ওই পোস্টটাতে কয়টা লাইক পড়ল। শেয়ার করার মত নতুন কিছু মিম আছে কিনা!

#০৩. সম্ভব হলে কাগজের বই পড়ুন

ডিভাইসের স্ক্রিনে ই-বুক পড়ার চাইতে কাগজে প্রিন্ট করা বই পড়লে লেখা বুঝতে ও মস্তিষ্কে সংরক্ষণ করতে সুবিধা হয় বেশি; এটা বিভিন্ন গবেষণা থেকে ইতোমধ্যেই জানা গেছে। তাই যেসব বইয়ের বিষয়বস্তু বেশি বিস্তৃত ও জটিল, সেগুলি প্রিন্টেড ভার্শনে পড়ার চেষ্টা করবেন।

#০৪. দাগ দিয়ে দিয়ে পড়ুন

বই কোনো পবিত্র জিনিস না যে তাতে দাগাদাগি করা যাবে না। এ মানসিকতা থেকে বের হয়ে আসুন। যেসব লাইন ভালো ও স্মরণীয় লাগে অথবা একটু বেশি কনফিউজিং মনে হয়, সেগুলির নিচে দাগ দিন। কলমের খোঁচা দিতে দ্বিধাবোধ করলে পেন্সিল ব্যবহার করুন। এভাবে মার্ক করে আপনি আসলে মস্তিষ্ককে সেসব নিয়ে চিন্তা করার জন্য জোর দিচ্ছেন। ফলে আপনার অবধারণ ক্ষমতা বাড়বে।

#০৫. চিন্তাভাবনা নোট করে রাখুন

দরকার হলে বই পড়ার সময় পৃষ্ঠার ফাঁকা জায়গাগুলিতে নোট করে রাখুন। অনেকদিন পর বইটা খুলে হয়ত নিজের প্রথম প্রতিক্রিয়াগুলি দেখে নিতে পারবেন।

যে বইটা পড়ছেন সেটার কাগজেই না, আলাদা নোটবুক বা প্যাডেও নোট নিন। এতে করে লেখক ও পাঠকের মধ্যে একটা সক্রিয় লেনদেন ঘটে৷ ফলে লেখকের বক্তব্য বোঝা যেমন সহজ হয়ে যায়, তেমনি কোনো লেখা সম্বন্ধে আপনি এমন কিছু ভাবনার জন্ম দিতে পারেন যা হয়ত লেখকের উদ্দেশ্যও ছিল না।

#০৬. আবার পড়ুন

একই জিনিস দুই-তিনবার করে পড়লে আপনার পড়ার গতি বাড়বে না ঠিকই, তবে কোনো বই আপনাকে সহজে দিশাহারাও করতে পারবে না। লেখার গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলি বাদ দিয়ে যাওয়ার আশঙ্কাও কমে যাবে এতে।

#০৭. আওয়াজ করে বা মুখ নেড়ে নেড়ে পড়ুন

জোরে জোরে পড়লে আপনি আঁতেল হয়ে যাবেন না। এতে বিব্রত বোধ করার কিছু নাই; বরং সাম্প্রতিক এক গবেষণা থেকে জানা গেছে, আওয়াজ করে পড়া আপনার ফোকাস ও মনোযোগ বাড়ানোর সহায়ক।

মুখ দিয়ে আওয়াজ করতে গিয়ে আপনি কাজটার সাথে শারীরিকভাবে জড়িত হতে পারছেন।  যে কারণে পড়ার সময় মনোযোগ অন্যদিকে বিক্ষিপ্ত হবে না। ভিন্ন একটি গবেষণা তো এমনটাও বলছে, যে শব্দগুলি আপনি উঁচুস্বরে পড়ছেন, সেগুলি মনে থাকে বেশি। তাই লেখার যে অংশ বেশি জরুরি বলে মনে হয়, সেটা আওয়াজ করে বা মুখ নেড়ে নেড়ে পড়ার চেষ্টা করবেন।

কোনো জরুরি কাজ হাতে নিলেই দেখা যায় দুই ধরনের বাধা আমাদের সামনে এসে দাঁড়ায়।

এক হলো, কাজটাকে বোঝা বলে মনে হয়। করতে গেলে কঠিন ও ক্লান্তিকর লাগে। তখন দেখা যায় আমরা সেই কাজ নিয়ে অভিযোগ করতে শুরু করেছি। তাই তাড়াহুড়া করে শেষ করতে গিয়ে কাজটা আর করতেই ইচ্ছা করে না।

দুই নম্বর বাধা হলো, কাজটাকে তেমন গুরুত্বপূর্ণ লাগে না। কেন কাজটা আসলে জরুরি না সেই যুক্তি খুঁজতে শুরু করি আমরা। তারপর ওই যুক্তি অনুসারে কাজটা না করে ফেলে রেখে দেই।

এই দুরকম বাধার একটাও কি আপনার কাছে পরিচিত লাগছে? লাগার কথা, কারণ প্রায় সবাই আমরা এধরনের সমস্যার মুখোমুখি হই।

প্রথম বাধার মতো করে কোনো কাজকে বোঝা মনে করলে কাজের প্রতি একটা নেগেটিভ মাইন্ডসেট তৈরি হয় আমাদের। যাকে কথা দিয়েছিলেন কাজ করে দিবেন বলে—সে আপনার ভাইবোন, স্ত্রী, বাবা-মা, স্কুল টিচার বা অফিসের কলিগ যেই হন না কেন—তিনি কিন্তু আপনার এই মাইন্ডসেট বুঝতে পারেন।

আর দ্বিতীয় ধরনের বাধার ক্ষেত্রে আমাদের প্রতি মানুষজনের বিশ্বাস কমে আসে। কারণ এতে আমরা কোনো কাজের গুরুত্ব কমিয়ে দেবার চেষ্টা করি। যেহেতু কঠিন সব প্রতিশ্রুতির ব্যাপারে আমাদের একটা সহজাত অনীহা এসে পড়ে, তাই নিজের প্রতিও আমাদের আস্থা কমে যায়।

এ ধরনের মাইন্ডসেট থেকে নিজেকে বের করে আনতে চাইলে নিচের এই ৩ রকম পদ্ধতি ফলো করতে পারেন—

১. কাজটাকে কেবল কাজ নয়, বরং মানুষের প্রতি উপহার ভাবুন

কোনো কাজকে বোঝা মনে হতে থাকলে সেই কাজটির অন্য এমন সব অনুষঙ্গের দিকে নজর দিন, যাতে কাজটাকে অন্যের প্রতি আপনার গিফট মনে হয়।

যেমন আমি এই আর্টিকেলটা লিখছি; লেখার সময় আমি কাজটাকে বাড়তি ঝামেলা হিসেবে যেমন নিতে পারি, তেমনি এভাবেও ভাবতে পারি যে আমার এই লেখাটা পড়ে পাঠকরা একটু হলেও তাদের স্ট্রাগল থেকে রেহাই পেতে পারেন। এভাবে যেকোনো কাজকে দ্বিমুখী লেনদেনের দৃষ্টিতে দেখলে কাজের প্রতি একটা বাড়তি আগ্রহ কাজ করে।

২. কাজের গুরুত্ব সম্বন্ধে বার বার নিজেকে মনে করিয়ে দিন

কাজকে যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ মনে হয় না, তার কারণ—হয় আপনি ভুল কাজের পেছনে সময় নষ্ট করছেন, এমন কাজ করছেন যেটার প্রতি আপনার যথেষ্ট আগ্রহ ও প্যাশন নাই; নয়তো কাজটার সঠিক গুরুত্ব সম্বন্ধে আপনি জানেন না অথবা ভুলে গেছেন।

বাচ্চার জন্য লাঞ্চ তৈরি করবেন? প্রিয়জনদের জন্য খাবারের ব্যবস্থা করে তাদের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করা যেকোনো সম্পর্কের জন্যই অনেক বেশি দরকারি। ফোনে কথা বলতে বিরক্ত লাগে? কিন্তু কয়েক মিনিট ফোনে কথা বলাটা মোবাইলের অপর পাশের ব্যক্তির সাথে আপনার সম্পর্কের গভীরতা ধরে রাখার খুব ভালো ইঙ্গিত হিসাবে কাজ করে। মেসেজিং ও ইমেইলের ব্যাপারেও একই কথা খাটে।

৩. জীবন ছোট—এই কথাটা মাথায় রাখার চেষ্টা করুন

আমাদের জীবন সংক্ষিপ্ত, আমরা যেকোনও সময় মারা যেতে পারি। এই সহজ ভাবনাটা অযথা বেদনাদায়ক বলে মনে হলেও সরল এ ফিলোসফির উপর নির্ভর করেই কিন্তু আপনার ব্যক্তিত্ব অনুযায়ী নিজের কাজের ধারাগুলি ঠিক করে নিতে পারবেন আপনি।

আমরা কেউই জানি না আমাদের হাতে ঠিক কতটা সময় বাকি আছে৷ এই অনিশ্চিত সময়টুকু অর্থপূর্ণ সব কাজে লাগাবেন নাকি সব কাজকে অগুরুত্বপূর্ণ ভেবে হাল ছেড়ে বসে থাকবেন, তা নির্ভর করছে আপনার দৃষ্টিভঙ্গির ওপর। তবে আপনার মাইন্ডসেটে এই মৃত্যুভাবনা থাকাটা প্রয়োজন।

১.
ফেসবুকে যারা লেখালেখি করেন সদর্থেই তাদের সবাই লেখক। তাদের নিজ নিজ টোটাল লেখালেখির দৈর্ঘ্য বিচার করতে গেলে প্রত্যেকেরই মোটামুটি দশটা বিশটা বই হইয়া যাবে ইতিমধ্যে।

অপ্রকাশিত সব সারমর্ম মূলক বই। আমি এই লেখালেখির পক্ষে আছি সব সময়।

এই যে এত এত লেখক তাদের প্রত্যেকেরই একটা একটা নিজস্ব ওয়ে অব এক্সপ্রেশন আছে। তা থাকবেই। লেখকদের ভিন্ন ভিন্ন বলার ভঙ্গি তো থাকবেই। কিন্তু তাদের মধ্যে কমন কিছু জিনিস আছে। তাগুলি কী কী?

দুর্ভাগ্যজনক একটা হইল: সবার প্রকাশভঙ্গিরেই বুদ্ধিবৃত্তিক মানদণ্ড দিয়া বিচার করা যায়।

অর্থাৎ স্মার্ট বুদ্ধিবৃত্তির ‘উইট’ নামক মাপক দিয়া এরা নিজেদের গড় কইরা রাখতেছেন। উইটের বাংলা অনেক আছে, আমি আপাতত করলাম—বুদ্ধিহাসি। বা টেটনাহাসি।

তীক্ষ্ণতা বা টেটনামির কারণে উইটরে মনে হবে হাস্যরস ও বুদ্ধির সমন্বয়। বস্তুত তা নয়। উইট হইল অন্যের সঙ্গে, বা বিদ্যমান ক্ষমতা কাঠামোর সঙ্গে যোগাযোগের পরিহাস পদ্ধতি। আত্মপরিহাস। তাতে হাস্যরস নামে যা আছে তা হাসির কঙ্কাল। রুচির নামে এই কঙ্কাল স্বাস্থ্য হিসাবেই গৃহীত আছে আর্টের জগতে। তা থাকা মনে হয় সমস্যাজনকই।

২.
ক্ষমতা, অর্থ ইত্যাদি ক্ষেত্রে মিডল ক্লাস নিজের অভাব পূরণের চেষ্টা করে উইট দিয়া। উইট জিনিসটা মিডল ক্লাসরে ক্ষমতাসীন বা বিত্তশালীদের বন্ধু থাকতে হেল্প করে। উইট দিয়া মিডল ক্লাস বিত্তশালীদের আউটস্মার্ট কইরা তাদের প্রিয়ভাজনও হইতে পারে। ঢাকাই টকশোতে এর দেখা পাইবেন অহরহই।

উইটই সেই কারণ যার কারণে বিত্তশালী নিজের নিচে হইলেও নিজেদেরই আপাতত একজন ধইরা নেয় উইটসমৃদ্ধ মিডল ক্লাস বা মিক্লারে।

তাই উইট একটি বিকল্প ধারা। যারা উইটের শরণ লন তারা মূলত নিজেদেরকে গ্রেটার্থে পরিহাসই করতেছেন উইটসর্বস্ব হওয়ার মাধ্যমে।

৩.
মিডল ক্লাসের যদি নিজের পন্থা না থাকে বা তার উদ্ভাবন সম্ভব না হয় তবে উইট দিয়াই বিকল্প ক্ষমতার সাধ লইতে হবে। কারণ ক্ষমতা দরকার। চেঞ্জের জন্যেই দরকার। উইট কেন্দ্রিকতার সম্ভাব্য অ-ফলাফল: রাজনৈতিক ভাবে সমাজের রূপান্তর সম্ভব হবে না।

ক্ষমতার বারান্দায় অল্পে তুষ্ট থাইকাই বুদ্ধিজীবীদের জীবন শেষ করতে হবে।

নয়তো?

নয়তো নিজেদের জন্যে নিজেদের যে সামাজিক ভ্যালু তাতে উইটরে বা বিকল্পরে অত জায়গা দেওয়া যাবে না। উইট টুইট করেন ঠিক আছে, নিজের অনুভূতিটা না লুকাইয়া বা নিজেরে ছোট না ভাইবাই বলতে পারতে হবে। হীনম্মন্যতা ঢাকার টুল বানাইয়েন না উইটরে।

এবং তা ফেসবুকেও। বিত্তশালীদের অনুভূতিহীন ডিটাচমেন্টের চারা উৎপাদনের ক্ষেত্র হিসাবে ফেসবুক বা শিল্পকলা বা লেখালেখিরে কেবল উইটের চাষাবাদে বর্গা দেওয়া যাবে না।

নিজের কান্দনটাও মাঝে মাঝে হাসিহীন, হাসির কঙ্কালহীন কানতে পারতে হবে।

তেমনি হাসি-কান্না-টিভি নাটকের বাইরে আর আর যে রস আছে তারও চর্চা চলতে পারে এখানে।

কেবলই বুদ্ধি মারাইলে হবে না।

২৬/২/২০১৯

হলিউড ফিল্ম ডিরেক্টর কুয়েন্টিন ট্যারান্টিনো তার প্রায় সব সিনেমা তৈরি করেছেন প্রযোজক ও পরিবেশক হার্ভি ওয়াইন্সটিনের সাথে। কিন্তু ২০১৭ সালের অক্টোবর মাসে হার্ভির নামে ৫০ জনেরও বেশি মহিলা ধর্ষণ ও যৌন হয়রানির অভিযোগ করলে তাকে নিজের প্রযোজনা সংস্থা ‘ওয়াইন্সটিন কোম্পানি’ থেকে বহিষ্কার করা হয়। সেই সাথে সোশ্যাল মিডিয়ায় হলিউডের যৌন হয়রানি সংশ্লিষ্ট ঘটনা প্রকাশের উদ্দেশ্যে চালু হয় ক্যাম্পেইন, যার ফলে অভিনেতা কেভিন স্পেসি, কমেডিয়ান লুইস সি.কে এবং পরিচালক ব্রেট র‍্যাটনার একইভাবে অভিযুক্ত হয়েছেন। মিডিয়ায় এই ঘটনাকে ‘ওয়াইন্সটিন ইফেক্ট’ নামে উল্লেখ করা হচ্ছে।

কাজেই ট্যারান্টিনো তার নতুন সিনেমার পরিবেশকের খোঁজে প্রথমবারের মতো অন্যান্য স্টুডিওর কাছে ধরনা দিয়েছেন। তার সিনেমার ডিস্ট্রিবিউটরের দায়িত্ব পাওয়ার জন্য হলিউডের প্রথম সারির স্টুডিওগুলির মাঝে নিলাম ডাকা হয়। কেবল ডিজনী এই নিলামে অংশ নেয় নাই, কারণ তারা ‘আর-রেটেড’ সিনেমা মুক্তি দেয় না। নিলাম শেষে ট্যারান্টিনোর নতুন সিনেমার ডিস্ট্রিবিউটর হিসাবে নিযুক্ত হয়েছে সনি পিকচার্স।

ষাট ও সত্তর দশকের কুখ্যাত খুনী চার্লস ম্যানসনকে নিয়ে বানানো হয়েছে ট্যারান্টিনো’র নতুন সিনেমার গল্প। তবে এর কেন্দ্রীয় চরিত্রে ম্যানসন থাকবেন না; এখনো পর্যন্ত পাওয়া তথ্যমতে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কাহিনি নিয়ে ট্যারান্টিনোর ২০০৯ সালের ছবি ‘ইনগ্লোরিয়াস বাস্টার্ডস’ এর অ্যাডলফ হিটলারের মতো হবে সেই চরিত্রের পরিধি। কাস্টিংয়ের জন্য অস্কারজয়ী অভিনেত্রী জেনিফার লরেন্সের সাথে ট্যারান্টিনোর কথাবার্তা হয়েছিল, এছাড়া দুই পুরুষ কেন্দ্রীয় চরিত্রে লিওনার্দো ডিক্যাপ্রিও, ব্র্যাড পিট কিংবা টম ক্রুজের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। পরিচালক রোমান পোলানস্কির প্রাক্তন স্ত্রী অভিনেত্রী শ্যারন টেইটের চরিত্রে (যাকে চার্লস ম্যানসনের দল হত্যা করেছিল) অস্ট্রেলিয়ান মারগো রবি’র অভিনয় করার কথা রয়েছে। তবে এখনো কোনো কিছু নিশ্চিত করা হয় নি।

অভিনেত্রী মারগো রবি (বামে) এবং শ্যারন টেইট

সনি পিকচার্সের হেড টম রথম্যানের সাথে দীর্ঘ আলোচনার পর কুয়েন্টিন তাদের সাথে কাজ করতে আগ্রহী হয়েছেন। ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে কুয়েন্টিন ট্যারান্টিনোর মতো সিনেমা সম্পর্কিত জ্ঞান খুব কম মানুষেরই আছে, তাই এক্ষেত্রে রথম্যানের ফিল্ম হিস্টোরি নিয়ে গভীর ধারণা সনি পিকচার্সের জন্য সহায়ক হয়েছিল। সনির সাথে ট্যারান্টিনোর চুক্তিবদ্ধ হওয়ার খবরটি অনলাইনে ফাঁস হয়ে যাবার পর রথম্যান ইমেইলের মাধ্যমে এর সত্যতা নিশ্চিত করেন।

সনি পিকচার্সের হেড টম রথম্যান

২০১৮ সালের মাঝমাঝিতে এর শুটিং শুরু হবে, আর ২০১৯ সালে ছবিটি মুক্তি দেওয়ার কথা রয়েছে। এটি হবে ট্যারান্টিনোর ক্যারিয়ারের ৯ নম্বর সিনেমা, তাই এর ওয়ার্কিং টাইটেল ঠিক করা হয়েছে #৯। ১০ টা সিনেমা বানানোর পরই অবসর নিবেন বলে এর আগে জানিয়েছিলেন তিনি।

সূত্র. ডেডলাইন

লিভার সুস্থ রাখবে যে খাবারগুলি

 

ওটমিল

উচ্চমাত্রার ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার লিভারের স্বাভাবিক কর্মক্ষমতা বজায় রাখার পক্ষে সহায়ক। দিনের শুরুটা সবচেয়ে ভালো খাবার দিয়ে করতে চান? তাহলে ওটমিল খান। গবেষণা বলে, ওটমিল ওজন এবং পেটের মেদ কমাতে সাহায্য করে। যা লিভারের রোগ দূরে রাখার ভালো উপায়।

ব্রোকোলি

লিভার সুস্থ রাখতে হলে প্রতিদিনের খাবারে বেশি বেশি সবজি রাখুন। ব্রোকোলি আপনার এই প্ল্যানের অংশ হতে পারে। গবেষণা অনুসারে, এই সবজি আপনাকে নন অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার ডিজিজ (এনএএফএলডি) থেকে বাঁচাতে পারে।

কফি

আপনার যদি কফির প্রতি আসক্তি থেকে থাকে, তাহলে জেনে খুশি হবেন লিভারের জন্য কফি কিছু উপকারী কাজ করে। গবেষণায় দেখা গেছে দিনে ২ বা ৩ কাপ আপনার লিভারকে অনেক বেশি অ্যালকোহল বা অস্বাস্থ্যকর খাবারের কারণে হওয়া ক্ষতি থেকে রক্ষা করতে পারে। কিছু গবেষণা এমনও দেখিয়েছে, কফি হয়ত লিভার ক্যান্সারেরও ঝুঁকি কমাতে সক্ষম।

গ্রিন টি

গ্রিন টি ক্যাটেকাইনস নামক অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে সমৃদ্ধ। গবেষণা অনুসারে, এটা লিভার ক্যান্সারসহ আরো কিছু ক্যান্সার প্রতিরোধে সাহায্য করে। আরো বেশি ক্যাটেকাইনস আপনি পেতে পারেন যদি তা নিজে বানিয়ে গরম গরম খান। আইসড টি এবং রেডি-টু-ড্রিংক গ্রিন টিতে ক্যাটেকাইনস কম মাত্রায় থাকে।

পানি

লিভারের সুস্থতার জন্যে সবচেয়ে ভালো কাজ যেটা আপনি করতে পারেন তা হলো একটা স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখা। সোডা বা স্পোর্টস ড্রিংকসের মতো চিনিযুক্ত পানীয়ের বদলে পানি পান করার অভ্যাস করুন। ফলাফল দেখে অবাক হবেন যে কী পরিমাণ ক্যালোরি এতে রক্ষা হচ্ছে প্রতিদিন।

কাঠবাদাম

বাদাম—বিশেষত এই বাদামে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ই’সহ এমন একধরনের পুষ্টি উপাদান থাকে যেটা আপনাকে ফ্যাটি লিভার ডিজিজ থেকে বাঁচাতে পারে। কাঠবাদাম আপনার হার্টের জন্যেও ভালো। তাই, এরপরে যখন কোনো স্ন্যাকস খেতে ইচ্ছা করবে কিছু কাঠবাদাম খেয়ে নিন, চাইলে তা সালাদে ব্যবহার করেও খেতে পারেন।

পালং শাক

সবুজ শাকে গ্লুটাথায়োন নামের এক ধরনের শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে। যা আপনার লিভারকে কর্মক্ষম রাখতে পারে। আর পালং তো রান্না করাও সহজ।

ব্লুবেরি

এতে থাকা পলিফেনল নামের পুষ্টি উপাদান আপনাকে নন অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার ডিজিজ থেকে রক্ষা করতে পারে, একই সঙ্গে তা স্থূলতা এবং উচ্চ কোলেস্টেরল থেকেও বাঁচায়। ব্লুবেরি যদি আপনার পছন্দের না হয়ে থাকে তাহলে পলিফেনল সমৃদ্ধ অন্যান্য খাবার যেমন ডার্ক চকলেট, জলপাই কিংবা বরই খেতে পারেন।

ভেষজ এবং মশলা

লিভার এবং হার্টকে একসঙ্গে সুস্থ রাখতে চান? তাহলে খাবারের ওপর কিছু অরিগ্যানো, সেইজ বা রোজমেরি ছিটিয়ে দিন। এগুলি স্বাস্থ্যকর পলিফেনলের ভালো উৎস। এই মশলাজাতীয় উপাদানগুলির আরেকটা ভালো দিক আছে, অনেক খাবারে এগুলি লবণের পরিবর্তে ব্যবহার করা যায়। দারুচিনি, কারি পাউডার, জিরাও লিভারের জন্যে ভালো।

 

লিভারের জন্যে ক্ষতিকর যে খাবারগুলি

 

চর্বিযুক্ত খাবার 

লিভার বা যকৃৎ সুস্থ রাখতে চাইলে ফ্রেঞ্চ ফ্রাই এবং বার্গার খুবই খারাপ চয়েস। প্রচুর পরিমাণে স্যাচুরেটেড ফ্যাট আছে এমন খাবার আপনার লিভারের কর্মক্ষমতা কমিয়ে দিতে পারে। সময় বাড়ার সাথে সাথে তার কারণে প্রদাহের সৃষ্টি হতে পারে যেটা পরবর্তীতে ক্ষত তৈরি করতে পারে লিভারে, এই অবস্থাকে বলে সিরোসিস। তাই এর পরে যখন কোথাও খাবার অর্ডার করবেন, মাথা ঠাণ্ডা রেখে স্বাস্থ্যকর কিছু অর্ডার করুন।

চিনি  

অতিরিক্ত চিনি আপনার লিভারের ক্ষতি করতে পারে। তার কারণ, লিভারের কাজ হলো চিনিকে ফ্যাটে পরিণত করা। চিনি যদি বেশি খান, তাহলে লিভারও অনেক বেশি ফ্যাট তৈরি করবে, আপনিও মুটিয়ে যাবেন। পরবর্তীতে হয়ত এর কারণে আপনার ফ্যাটি লিভার ডিজিজ হবে। তাই লিভারের সুস্থতার কথা মাথায় রেখে চিনি জাতীয় খাবারকে শুধু উৎসবেই সীমাবদ্ধ রাখুন।

লবণ  

লবণ অবশ্যই দরকারি শরীরের জন্যে, কিন্তু আপনি যেই পরিমাণে খান তত না। কিছুদিন আগের একটা গবেষণা দেখিয়েছে খাবারে উচ্চমাত্রার সোডিয়াম থাকলে তার কারণে ফাইব্রোসিস হয়, যা লিভারে ক্ষত হওয়ার প্রথম ধাপ। তবে কিছু সহজ উপায় আছে এই বিষয় করার। প্রক্রিয়াজাত খাবার এড়ান। ক্যানড সবজির বদলে মাছ কিনুন। খাওয়ার টেবিল থেকে লবণ সরিয়ে ফেলুন।

অ্যালকোহল

মাত্রাতিরিক্ত অ্যালকোহল লিভারের ব্যাপক ক্ষতি করতে পারে। এবং এই অবস্থা চলতে থাকলে পরবর্তীতে আপনার সিরোসিসও হতে পারে। এমনকি বিশেষ উপলক্ষে অনেক খেয়ে ফেলাও স্বাস্থ্যের জন্যে ক্ষতিকর।

প্যাকেটজাত স্ন্যাকস 

এর পরে এই ধরনের কিছু খেতে মন চাইলে স্বাস্থ্যেকর কিছু খেতে চেষ্টা করুন। এই চিপস এবং বেক করা খাবারগুলির সমস্যা হলো এগুলিতে প্রচুর পরিমাণে চিনি, লবণ এবং ফ্যাট থাকে। আর তা বাদ দিতে ছোট ছোট কিছু প্ল্যান করুন। যেমন একটা ভালো উপায় হলো, অফিসে যাওয়ার সময় সঙ্গে করে বেশ কিছু স্বাস্থ্যকর স্ন্যাকস নিন। ফল, বাদাম এবং এরকম স্বাস্থ্যকর খাবার সাথে নিন।