আড্ডার গল্প (১৫) — জাহিদ হায়দার

ঢাকায় ফিরে এলে জাহিদ হায়দারের সাথে আমার বন্ধুত্ব আরো সঘন হয়। সপ্তাহে একদিন তো আমাদের দেখা হতোই। কোনো সাহিত্য-আড্ডায় গেলে আমাকে নিয়ে যেতেন।

Continue reading

আড্ডার গল্প (১৪) — কাজী রোজী

আমি বলি, আপনার আম্মা নাকি মাহমুদ ভাইকে খুব পছন্দ করতেন, জামাই-আদরে যত্ন করে খাওয়াতেন? আমার একথা শুনে রোজী আপা হাসেন।

Continue reading

আড্ডার গল্প (১৩) — খোশনূর আলমগীর

এ বাড়িতে অনেক তরুণ কবি-সাহিত্যিক যেমন যেত, অনেক ধান্ধাবাজও যেত। বেশিরভাগই যেত আলমগীরের আকর্ষণে, চলচ্চিত্রে অভিনয়ের সুযোগ খুঁজতে।

Continue reading

আড্ডার গল্প (১২) — আবদুল মান্নান সৈয়দ

আশির দশকের মাঝামাঝি, এক পড়ন্ত বিকেলে, ব্রাত্য রাইসু আর আমি আবদুল মান্নান সৈয়দকে খুঁজতে বের হই। রাইসু তার সাথে দেখা করার জন্য ব্যাকুল।

Continue reading

আড্ডার গল্প (১১) — শামসুর রাহমান

একদিন আন্‌ওয়ার আহমদ আমাকে ফোন করে বলেন, শামসুর রাহমান চাচ্ছেন না তুমি তার সাথে যোগাযোগ রাখো।

Continue reading

আড্ডার গল্প (৯) — সমুদ্র গুপ্ত

‘৯৬ সালের ২৯ মার্চ বিয়ে করে আমরা টোনাটুনির সংসার পেতেছি মোহাম্মদপুরের জাকির হোসেন রোডে। এক কামরার সংসার। এটাই আমাদের স্বপ্নের রাজপ্রাসাদ, এটাই আমাদের স্বর্গের বাগান। বিয়ের কিছুদিনের মধ্যেই আমি যোগ দেই সেইভ দি চিলড্রেন ফান্ড-ইউকে নামের একটি এনজিওতে। মুক্তি কাজ করে সেইভ দি চিলড্রেন ফান্ড-অস্ট্রেলিয়ায়। দুটি অফিসই আমাদের বাসা থেকে হাঁটা পথের দূরত্ব। দুপুরে আমরা হাঁটতে হাঁটতে বাসায় চলে আসি, খেয়ে দেয়ে আবার অফিসে যাই। কিছুদিনের মধ্যেই মুক্তির সেইভ দি চিলড্রেনের চাকরির মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। এবার সে চাকরি নেয় প্লান ইন্টারন্যাশনালে।

আমরা বাসা বদল করে চলে যাই শংকরে। বাসাটা মুক্তির নতুন অফিস আর আমার অফিসের মাঝখানে। একদিন দুপুরে খেতে বসে মুক্তি বলে, আমাদের একজন কনসালটেন্ট আছেন, কবি, তোমার কথা তাকে বলেছি, চেনেন তোমাকে। বলেছি তাকে তোমার বই, পুরুষ পৃথিবী, দিব।

আমি বলি কে সে? মুক্তি বলে তার নাম সমুদ্র গুপ্ত।

আমার চোখ কপালে। বলে কী? সমুদ্র দা একটি আন্তর্জাতিক এনজিওর কনসালটেন্ট? কিছুতেই তার অবাধ্য গোঁফ আর বেয়াড়া চুলের সাথে যায় না।

এরপর সমুদ্র দা’কে ভাল করে জানার সুযোগ ঘটে। তার সঙ্গে আমাদের একটি পারিবারিক সখ্য গড়ে ওঠে। তিনি বিভিন্ন অনুষ্ঠানে আমাকে দেখিয়ে বলতেন, ওর সঙ্গে আমার অন্য সম্পর্ক। জহির আমার ভগ্নিপতি। সেই থেকেই আমার ভগ্নিপতি হওয়া শুরু। এ যাবৎ বহু শ্যালক পেয়েছি, যদিও মুক্তির নিজের কোনো ভাই নেই। আমি কাউকে শ্যালক বানালে মুক্তিও খুশি হয়, ওর নিজের ভাই না থাকার অভাবটা যেন একটু হলেও ঘুচে যায়।

সেই সময়ে ঢাকা শহরে খুব কম মানুষের ঘরেই কম্পিউটার ছিল, টেলিফোন ছিল। সমুদ্র দা’র এ দুটোই ছিল। অথচ অর্থনৈতিকভাবে তিনি কিন্তু ততটা স্বচ্ছল ছিলেন না। তার বন্ধু কবি সৈয়দ আব্দুস সাদিক প্রায়শই আমাকে বলতেন, সমুদ্র এ মাসে বাড়ি ভাড়া দিতে পারছিল না, এর-ওর পকেট কেটে দিয়ে এলাম।

মুক্তি তাকে পুরুষ পৃথিবী দেয়, এই একটি মাত্র বই পড়েই আমার কবিতা সম্পর্কে তার কেন জানি খুব উচ্চ ধারণা হয়। আমাদের এক বন্ধু অর্থনীতিবিদ ইফতেখার হোসেনের লালমাটিয়ার বাড়িতে ২০০৩ সালে একবার আড্ডার আসর বসে। সমুদ্রদা সেদিন আমাকে কবি রবিউল হুসাইনের সাথে এমনভাবে পরিচয় করিয়ে দিচ্ছিলেন যেন আমি বাংলা কবিতার এক দিকপাল, মনে মনে বেশ লজ্জা পাচ্ছিলাম। বিভিন্ন জায়গায় তিনি আমাকে ‘সাংঘাতিক কবি’ বলে পরিচয় করিয়ে দিতেন। একদিন সমুদ্র দাকে জিজ্ঞেস করি, দাদা এটা কি প্রশংসা নাকি নিন্দা?

ধুর, নিন্দা হবে কেন। অবশ্যই প্রশংসা। প্রথম কবিতার বইয়ে যে কুড়িটা সনেট লিখতে পারে, তাকে সাংঘাতিক কবি বলব না তো কী বলব? এরপর সমুদ্রদা পুরুষ পৃথিবীর একটি রিভিউ লেখেন। সেই রিভিউ আমি কোনোদিন দেখি নি। তিনি আমাকে বলেছিলেন দক্ষিণবঙ্গের কোনো এক ছোট কাগজে নাকি সেটা ছাপা হয়েছে।

২০০৩ সালে আমি দেশে ফিরে এলে সমুদ্রদা খুব খুশি হন। আমাদের নিকেতনের বাসায় যে কয়টি আড্ডা হয়েছে প্রায় সবগুলোতেই তিনি ছিলেন। বইমেলার মাঠে আমার যুগল কাব্যগ্রন্থ ‘পাঁচতলা বাড়ির সিঁড়িপথ’ এবং ‘দ্বিতীয় ঘাসফড়িঙ’ এর মোড়ক উন্মোচনে তিনি ছিলেন। সেটা ২০০৪ সালের কথা। ২০০৮-এ প্রেসক্লাবে আমার তিনটি বইয়ের প্রকাশনা উৎসব হয়। সেখানে তিনি ছিলেন।

আমি এখন নিউ ইয়র্কে বাস করি। এই শহরে যারা শিল্প-সাহিত্যের চর্চা করেন তারা নিজেদের অতি প্রগতিশীল দাবি করার জন্য আল মাহমুদের নামও শুনতে চান না। কিন্তু সমুদ্র গুপ্ত, নির্মলেন্দু গুণ, কাজী রোজী, জাহিদ হায়দার বা নাসির আহমেদের মত প্রগতিশীল কবি-সাহিত্যিকরা আমার বাসার প্রতিটি আড্ডায় আল মাহমুদকে পেয়ে যারপরনাই আনন্দিত হয়েছেন। একদিন কবি ইকবাল আজিজ নিয়ে আসেন কবি শামসুল ইসলামকে। আমি দেখেছি তারা সবাই আল মাহমুদকে ঘিরে ধরতেন আর মুগ্ধ হয়ে তার কথা শুনতেন। সমুদ্র দাও আমাকে বহুবার বলেছেন, আল মাহমুদ যে কত বড় কবি এটা যারা বোঝার তারাই বোঝে।

চার কবি: সমুদ্র গুপ্ত, নাসির আহমেদ, আল মাহমুদ ও কাজী জহিরুল ইসলাম

অনেকেই হয়ত জানেন না সমুদ্রদা নানান রকম কবিরাজী চিকিৎসা করতেন। কারো অসুখ-বিসুখ হলে নানান রকম ভেষজ ওষুধ-পথ্য খাওয়ার পরামর্শ দিতেন। আমাকেও এসিডিটির যন্ত্রণা কমানোর জন্য দুয়েকবার তিনি এমন কিছু পরামর্শ দিয়েছেন কিন্তু আমি তা শুনি নি। না শুনলেও অবিশ্বাস করি নি। চুল এবং গোফ সব সাদা হয়ে গেলেও তার ছিল অফুরন্ত প্রাণশক্তি। ছুটতে পারতেন শিশুর মত। আমি মুক্তিকে প্রায়ই বলতাম, ভেষজ ওষুধ সেবন করেন বলেই হয়ত সমুদ্র দার এত প্রাণশক্তি।

একদিন বইমেলায় দেখা হয় কবি মতিন বৈরাগীর সঙ্গে। সাথে সমুদ্র গুপ্ত। মতিন ভাই আমাকে দেখেই জিজ্ঞেস করেন, আরে কবে এলেন বিদেশ থেকে? আমি মুখ খোলার আগেই সমুদ্রদা বলে দিলেন, আরে ও তো এখানেই থাকে, মাঝে মাঝে কাজের জন্য বিদেশে যায়। কথাটা আমার ভীষণ ভাল লেগেছিল। সেই থেকে আমি আর নিজেকে প্রবাসী বলি না। আমি তো দেশেই থাকি। আমার স্ত্রী, সন্তান, বাবা, মা, ভাই-বোন, আমার বইমেলা, আমার জাতীয় কবিতা উৎসব, সবাই তো এখানে থাকে, আমিও এখানেই থাকি। শুধু কাজের জন্য বিদেশে যাই, ২/৩ মাস কাজ করে ফিরে আসি।

২০০৭ এর বইমেলায় বের হয় আমার কবিতার বই ‘আকাশের স্ট্রিটে হাঁটে ডিজিটাল নারদ।’ প্রচ্ছদ করেছিলেন মাসুক হেলাল, বইটি প্রকাশ করে আগামী। আগামীকে দিয়ে বইটি বের করানোর ক্ষেত্রে কবি ফারুক মাহমুদ সাহায্য করেন। আমি দশটি বইয়ের একটি প্যাকেট হাতে নিয়ে টিএসসিতে যাই। দেখা হয় সমুদ্রদার সাথে।

বইয়ের মোড়ক নাকি রে? নতুন বই?

আমি বলি হ্যাঁ, আজই মেলায় এসেছে।

কিছুক্ষণ পরেই জাতীয় কবিতা উৎসব শুরু হবে। সমুদ্রদা বলেন, দে মোড়ক উন্মোচন করি।

সাথে সাথে উপস্থিত কবি সাহিত্যিকদের একটি জটলা তৈরি হয়ে গেল। হাবীবুল্লাহ সিরাজী, আনিসুল হক, সমুদ্র গুপ্ত, মতিন বৈরাগী, মুহাম্মদ সামাদ, সৈয়দ আব্দুস সাদিকসহ আরো অনেকেই ছিলেন। ব্যাস হয়ে গেল মোড়ক উন্মোচন। এবং সেটিই জাতীয় কবিতা উৎসব প্রাঙ্গনে প্রথম কোনো বইয়ের মোড়ক উন্মোচন। আমার যতদূর মনে পড়ে মোড়ক উন্মোচন হয়ে যাওয়ার পরে আসলাম সানী এসে সমুদ্রদার প্রতি উষ্মা প্রকাশ করেছিলেন এই কাজটি করার জন্য। তার সাথে থাকা আরো দুয়েকজন তরুণ সমুদ্রদাকে একটু চড়া গলায়ই বলছিলেন, আপনি তো জানেন, আমরা এটা করি না। এখন লেখকের লাইন পড়বে মোড়ক উন্মোচনের জন্য। সমুদ্রদা সহ মোড়ক উন্মোচনে অংশ নেয়া লেখক/কবিরা অবশ্য এসব উষ্মাকে তেমন পাত্তা দিচ্ছিলেন না। সৈয়দ আব্দুস সাদিক গজরাতে গজরাতে বলছিলেন, কবিদের উৎসবে কবিতার বইয়ের মোড়ক উন্মোচন হবে না তো কী হবে?

২০০০ সালের ত্রিশে জানুয়ারি। আমি সমুদ্রদাকে ফোন দেই। তিনি বলেন, “কাল সন্ধ্যায় টিএসসিতে আসিস।”

কয়টায়?

ছয়টায়।

আচ্ছা।

আসিস কিন্তু, তোকে একটা জিনিস দেব।

আমি সাড়ে পাঁচটায়ই চলে যাই। দেখি টিএসসির ভেতরে প্রায়ান্ধকার একটি কক্ষে কবিতার বিশাল এক স্তূপের ভেতরে বসে মফস্বল থেকে আসা কবিতা এডিট করছেন জাহিদ হায়দার। জাতীয় কবিতা উৎসবের আয়োজন চলছে। টিএসসিতে একটা উৎসব উৎসব পরিবেশ। অন্যপাশে রফিক আজাদ এবং  রবিউল হুসাইনকে ঘিরে তরুণ কবিদের আড্ডা চলছে। আমিও আড্ডায় যোগ দিতে পারতাম কিন্তু আমার আগ্রহ হল না। জাহিদ হায়দারকে হ্যালো করে, বাইরে, খোলা আকাশের নিচে এসে দাঁড়াই। ডাস-এর রেস্টুরেন্ট থেকে সিঙ্গারার ঘ্রাণ এসে নাকে লাগছে। তখন আমি ঘড়ি পরতাম। হাতঘড়িতে তাকিয়ে দেখি ছয়টা বাজতে মিনিট দশেক বাকি। ছিপছিপে এক তরুণ কবি, হলুদ পাঞ্জাবি পরা, ঝালমুড়ি চিবুতে চিবুতে আমার পাশে এসে দাঁড়ায়।

কাউরে খোঁজেন?

হুম।

কারে?

সমুদ্র গুপ্তরে।

ভিত্রে গিয়া বসেন। আসবে, তয় কখন আসে তার কোনো ঠিক নাই।

আমি বলি, ছয়টায় আসবেন। আমার সাথে কথা হয়েছে।

কয়টায়?

আমি যুবকের মুখের দিকে তাকাই। দেখি তার মুখে হাল্কা-পাতলা দাড়ি। ঝালমুড়ি চিবুনো মুখটাকে তখন ছাগলের মুখের মত লাগে। তিনি পকেট থেকে সিগারেট বের করে ফস করে আগুন ধরান। এরপর লম্বা একটা টান দিয়ে সিগারেটটা আমার দিকে বাড়িয়ে বলেন, চলবে?

আমি বলি, না, চলবে না।

ভিত্রে গিয়া বসেন। সমুদ্রদা ছয়টায় আইতে কইল আর আপনে ছয়টায় আইসা পড়লেন? আপনের সমস্যা আছে।

আমি আবারো যুবকের দিকে তাকাই।

কবিতা আনছেন?

কী?

কবিতা। আনেন নাই? ঠিক আছে, আমি আনছি, শোনেন, কবিতা শোনেন।

যুবক তার পাঞ্জাবির পকেট থেকে কবিতা বের করে পড়তে শুরু করে। তখনি শুভ্র গোঁফ জোড়া আমার চোখে পড়ে। সমুদ্রদা সোজা আমার সামনে এসে দাঁড়ান। আমি এবং হলুদ পাঞ্জাবি পরা তরুণ কবি, দুজনই একসঙ্গে ঘড়ি দেখি। ঠিক ছয়টা বাজে।

যুবক আমার বাহুতে হাত রেখে আমার মুখটা তার দিকে ঘোরাবার চেষ্টা করে, খাইছে, আপনে কেডায় ভাই? বলেই সে হন হন করে হেঁটে টিএসসির ভেতরে চলে যায়।

সমুদ্রদা আমার হাতে একটি বড়সড় বাদামি রঙের খাম তুলে দেন। আমি খুলে দেখি ‘সাত সমুদ্র’। বইটি হাতে নিয়ে বলি, ওয়াও। তিনি বলেন, পৃষ্ঠা উল্টা। পৃষ্ঠা উল্টিয়ে দেখি লেখা, “আমার বোন মুক্তি শরীফ ও বন্ধু কাজী জহিরুল ইসলাম, জীবন হোক দীর্ঘ, যাপন হোক সুখের।” বাসায় ফিরে আমি সারারাত ধরে বইটি পড়ি।

এর বছরখানেক আগে একদিন পাবলিক লাইব্রেরিতে দেখা। আমি বলি দাদা ফেব্রুয়ারি তো এসে গেল? বই বেরুবে না?

প্রকাশক কই? প্রকাশক নিয়ে আয়।

প্রকাশক তো পরে, আগে তো পাণ্ডুলিপি তৈরি করেন।

নারে, পাণ্ডুলিপি পরে, আগে প্রকাশক। প্রকাশক থাকলে বল, এক বইয়ের কবিতা এক রাতেই লেখা যায়।

আমি খুবই অবাক হই তার এই কথা শুনে। তার এই বক্তব্যে কবিতার প্রতি একটা হেঁয়ালি বা তাচ্ছিল্যও দেখতে পাই। বিষয়টা কি তাহলে এমন যে কবিতাগুলো তিনি মুখে মুখে, মনে মনে তৈরি করে রাখতেন, বই করার প্রয়োজন হলে তখন লিখবেন? জানি না। তবে তিনি যে একজন আপাদমস্তক কবি ছিলেন এতে আমার কোনো সন্দেহ নেই। কবি না হলে কি বইয়ের উৎসর্গপত্রে স্ত্রীকে এমন করে কেউ বলতে পারে, “হ্যাপি, আমার জামার বোতাম”। সমুদ্রদার বিশেষ গোঁফজোড়ার কারণে সাযযাদ কাদির তাকে ডাকতেন সমুদ্র গোঁফত বলে। আমি এবং মুক্তি মাঝে মাঝে মজা করে তাকে সমুদ্র গোঁফত বলতাম।

অন্যান্যদের সঙ্গে সমুদ্র গুপ্ত, ব্রাত্য রাইসু, জাহিদ হায়দার ও কাজী জহিরুল ইসলাম

কবি সমুদ্র গুপ্ত-র ভেতরে একটা প্রচণ্ড দ্রোহ ছিল। তিনি এই সমাজ সংসারের সকল কিছুতে ব্যাপ্ত থেকেও অসঙ্গতিগুলোর বিরুদ্ধে খুব গোপনে বিদ্রোহ করতেন। আমার সব সময় মনে হত এই দ্রোহটাই তার গুপ্তধন, আর এজন্যই মিয়া আবদুল মান্নান না হয়ে তিনি হয়েছেন সমুদ্র গুপ্ত।

স্বাধীনতা জিনিসটা অন্যরকম

একেক পরিপ্রেক্ষিতে একেক বিষয়কেন্দ্রে

একেক পরিস্থিতিতে একেক চাহিদাক্ষেত্রে

স্বাধীনতার একেক চেহারা

আজ যা তোমার স্বাধীনতা

একই সাথে অন্যের ক্ষেত্রে বিপরীত

আবার

সহসাই এটির চিত্র ও ভঙ্গি পাল্টে যায়

(‘মানুষের নিয়ম’, সমুদ্র গুপ্ত)

হলিসউড, নিউ ইয়র্ক, ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮

আড্ডার সব গল্প >>

আড্ডার গল্প (৮) — আশরাফ সিদ্দিকী

দুই সপ্তাহ আগে বর্ষীয়ান সঙ্গীতজ্ঞ মুত্তালিব বিশ্বাস আমাকে ফোন করেন। মুত্তালিব ভাই ফোন দিলেই আমি এর কারণ বুঝে যাই। তিনি ৮৩ অতিক্রম করেছেন, কাছাকাছি বয়সের শিল্প সাহিত্যাঙ্গনের কারো কথা মনে পড়লেই আমাকে ফোন দেন, তাদের শারীরিক অবস্থার খোঁজ-খবর নেন।

আমি অবশ্য ফোন ধরেই বলি, মুত্তালিব ভাই কেমন আছেন? তিনি এর উত্তরে হেসে দেন। হেসে দিয়েই বলেন, আমি তো ভালোই আছি, ওমর সাহেব কেমন আছেন সেটা জানতেই ফোন করলাম।

ওমর সাহেব মানে মহিউদ্দিন ওমর, এক সময় অভিনয় করতেন, এখন নিউ ইয়র্কে থাকেন। তিনিও আশি ছুঁই ছুঁই, প্রায়শই অসুস্থ হয়ে পড়েন। মুত্তালিব ভাই ৮৩ বছরের এক তুর্কি তরুণ। এখনও মঞ্চে দাঁড়িয়ে চার ঘণ্টা গান করতে পারেন। শুধু এক দেড় ঘণ্টা পরে তার একটি সিগারেট ব্রেক লাগে, ব্যাস, আবার গাইতে শুরু করেন।

শুধু যে গান করেন তা-ই না, প্রতিটি গানের ইতিহাস নিখুঁতভাবে বর্ণনা করেন। কোন গান কে লিখেছেন, কবে এটি প্রথম গাওয়া হয়, কোন স্টুডিওতে রেকর্ড করা হয় ইত্যাদি। আমরা মন্ত্রমুগ্ধের মতো শুনি তার সঙ্গীত বয়ান।

অনেকেই হয়ত জানেন না এই মুত্তালিব বিশ্বাসই বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীতের স্বরলিপিটি তৈরি করেন। সেদিন ফোন করে জানতে চাইছিলেন ড. আশরাফ সিদ্দিকীর কথা। আজকাল তার কোনো খোঁজ-খবর পাই না। কেউ তাকে নিয়ে কিছু লেখেনও না, আপনি কিছু জানেন?

আমি জানি তিনি কী জানতে চাইছেন। আমি বলি, যতদূর জানি তিনি বেঁচে আছেন। তবে কতটা সুস্থ আছেন এই খবর জানি না। খোঁজ নিয়ে আপনাকে জানাবো।

এক সময় আশরাফ সিদ্দিকীর সাথে আমার নিবিড় সখ্য ছিল। মুত্তালিব ভাই ফোন করার পর আমি কবি মাহবুব হাসানকে ফোন করি। গত রোববারের (৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৮) ঘরোয়া রেস্টুরেন্টের আড্ডায় মাহবুব ভাইকে আবারও জিজ্ঞেস করি, এবং এই প্রসঙ্গে আশরাফ সিদ্দিকীর কর্মকাণ্ড নিয়ে আমরা কিছুক্ষণ আলাপও করি।

১৯২৭ সালের ১ মার্চ টাঙ্গাইলে তার জন্ম, মাহবুব ভাইয়ের বাড়িও টাঙ্গাইল, সেই সূত্রে লক্ষ করলাম কিছুটা বাড়তি টান রয়েছে তার আশরাফ সিদ্দিকীর প্রতি। কিছুটা আত্মীয়তার যোগসূত্র আছে, তাও জানালেন।

আশরাফ সিদ্দিকী
আশরাফ সিদ্দিকী

দেশবিভাগের পর এক দরিদ্র শিক্ষক তার পরিবারের সবাইকে নিয়ে আত্মহত্যা করেন। ঘটনাটি বেশ আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল তখন। এতে আশরাফ সিদ্দিকী খুবই মর্মাহত হন এবং সেই বৃদ্ধ শিক্ষককে নিয়ে লিখে ফেলেন তার জীবনের শ্রেষ্ঠ কবিতা ‘তালেব মাষ্টার’।

১৯৫০ সালে তার প্রথম কাব্যগ্রন্থ বের হয় ‘তালেব মাষ্টার ও অন্যান্য কবিতা’। এর পরে যদিও তার আরো বেশ কিছু কবিতার বই বের হয়েছে কিন্তু মানুষের হৃদয়ে আশরাফ সিদ্দিকী তালেব মাষ্টার হয়েই বেঁচে আছেন। তালেব মাষ্টার থেকে কিছু অংশ এখানে তুলে দিই।

যুদ্ধ থেমে গেছে। আমরা তো এখন স্বাধীন।

কিন্তু তালেব মাষ্টারের তবু ফিরল না তো দিন!

স্ত্রী ছয় মাস অসুস্থা

আমারও সময় হয়ে এসেছে: এই তো শরীরের অবস্থা!

পাঁচ মাস হয়ে গেছে: শিক্ষা বোর্ডের বিল নাই।

হয়ত এ-বারের টাকা আসতে আসতে শেষ হবে আয়ু তাই

শতচ্ছিন্ন জামাটা কাঁধে ফেলে এখনো পাঠশালায় যাই

ক্ষীণ কণ্ঠে পড়াই:

‘হে মোর চিত্ত পুণ্য তীর্থে জাগোরে ধীরে

এই ভারতের মহামানবের সাগর তীরে…’

মনে মনে বলি:

যদি ফোটে একদিন আমার এইসব সূর্যমুখীর কলি!

ইতিহাস সবই লিখে রেখেছে । রাখবে—

কিন্তু এই তালেব মাষ্টারের কথা কি লেখা থাকবে?

আমি যেন সেই হতভাগ্য বাতিওয়ালা

আলো দিয়ে বেড়াই পথে পথে কিন্তু

নিজের জীবনই অন্ধকারমালা।

মানিকবাবু! অনেক বই পড়েছি আপনার

পদ্মানদীর মাঝির ব্যথায় আমিও কেঁদেছি বহুবার

খোদার কাছে মুনাজাত করি: তিনি আপনাকে

দীর্ঘজীবী করুণ

আমার অনুরোধ: আপনি আরও একটা বই লিখুন

আপনার সমস্ত দরদ দিয়ে তাকে তুলে ধরুন

আর আমাকেই তার নায়ক করুণ!

কোথাও রোমান্স নেই! খাঁটি করুণ বাস্তবতা—

এবং এই বাংলাদেশের কথা।

আশির দশকের শেষের দিকে এবং নব্বই এর দশকের গোড়ার দিকে ঢাকা শহরে আমি এবং আমার খালাত ভাই কাজী কনক প্রচুর অনুষ্ঠান করতাম। বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র ছিল আমাদের নিয়মিত মঞ্চ। প্রায় সব অনুষ্ঠানেই আমাদের অবধারিত অতিথি থাকতেন আশরাফ সিদ্দিকী। সেই সুবাদে তার সঙ্গে আমাদের একটি নিবিড় সখ্য গড়ে ওঠে। তিনি মঞ্চে উঠে বেশ হাস্যরস তৈরি করতেন, দর্শকদের হাসাতেন। তার এই গুণটি আমার খুব ভালো লাগত।

একদিন তার সঙ্গে মঞ্চে লেখিকা রাবেয়া খাতুনও আছেন। তিনি মাইকের সামনে দাঁড়িয়ে বাঁ দিকে ঘাড় ঘুরিয়ে তাকিয়ে আছেন রাবেয়া খাতুনের দিকে। রাবেয়া খাতুন কি কিছুটা অস্বস্তি বোধ করছেন? আশরাফ সিদ্দিকী দীর্ঘশ্বাস ফেলার মত করে বলে উঠলেন, “রাবেয়া, হায় রাবেয়া।” এই বলার মধ্যে কিছুটা ব্যর্থ প্রেমের আহাজারি ছিল বলেই হয়ত দর্শক নড়ে-চড়ে বসলেন, কেউ কেউ হেসেও উঠলেন। তিনি মাথাটা ঝাঁকিয়ে বলেন, “কিছু হলে হতেও পারত। যৌবনে রাবেয়া বেশ সুন্দরী ছিলেন।”

রাবেয়া খাতুন তখন নিজের অস্বস্তি কাটাতেই একটি হাসির আভাস তোলেন মুখশ্রীতে। এরপর শুরু করেন ঢাকাইয়া জোকস। এক লোক জুতো কিনতে এসেছে। জুতোর দাম বারো টাকা, ক্রেতা দামাদামি করছে, ছয় টাকায় দেবেন? বিক্রেতা বলে, হ, দিমু। ক্রেতা বাড়িতে গিয়ে প্যাকেট খুলে দেখে বাক্সের ভেতরে এক পাটি জুতো। সে দোকানে ফিরে আসে। দোকানি বলে, দুইটার দাম তো বারো টেকা, ছয় টেকায় তো একটাই পাইবেন। পাশের দোকান থেকে আরেক ঢাকাইয়া দোকানদার বলে, হালায় বহুত বদ। কিছু মনে কৈরেন না ভাইজান। এক কাম করেন, হুগনা গু চিবায়া ওর মুখে থুক দেন।

আশরাফ সিদ্দিকী মূলত লোকবিজ্ঞানী। লোকজ সাহিত্য নিয়ে তিনি প্রচুর কাজ করেছেন। তিনি কবি জসীম উদদীনের ছাত্র ছিলেন। ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহর সাথেও ছিল তার সুসম্পর্ক, সেই সুবাদে মুহাম্মদ শহীদুল্লাহর সাথে কিছু কাজও তিনি করেন। তিনি দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ঘুরে বেড়িয়েছেন। সংগ্রহ করেছেন লোকজ সাহিত্য। আমাদের পল্লী সঙ্গীতের যে শতাধিক উপশাখা আছে এটা আশরাফ সিদ্দিকীই খুঁজে খুঁজে বের করেন। প্রায় সাড়ে তিনশর মত কবিতা লিখলেও ‘তালেব মাষ্টার’ ছাড়া তার অন্য কোনো কবিতা তেমন তরঙ্গ তুলতে পারে নি। বরং তার গল্প ‘গলির ধারের ছেলেটি’ অবলম্বনে নির্মিত সুভাস দত্তের চলচ্চিত্র ‘ডুমুরের ফুল’ তাকে অনেক বেশি পরিচিতি এনে দেয়। ছবিটি অনেকগুলো জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পায়।

বাড্ডায় একজন ইঞ্জিনিয়ার ছিলেন। তার নাম আবদুল বাকী। আবদুল বাকীর বাড়ি শেরপুরের ভায়াডাঙ্গায়। তার খুব ইচ্ছে আমরা তার বাড়িতে বেড়াতে যাই, ভায়াডাঙ্গা স্কুলের মাঠে কবিতা পড়ি। তিনি সব আয়োজন করে ফেলেছেন। দুটি মাইক্রোবাস ভাড়া করেছেন। ১৯ নভেম্বর ১৯৯৯, শুক্রবার ভোরে আমরা যাত্রা করলাম ভায়াডাঙ্গার উদ্দেশে। যেহেতু লোকজ সাহিত্যের প্রতিই ড. আশরাফ সিদ্দিকীর আগ্রহ বেশি ছিল, ঢাকার বাইরে যাবার কোনো নিমন্ত্রণ হাতছাড়া করতেন না। সেই সফরে তিনি সানন্দে আমাদের সঙ্গী হন। একসঙ্গে ভ্রমণ এবং রাত্রিযাপন তাকে আরো নিবিড়ভাবে চিনতে সাহায্য করে।

এই সময়েই তিনি আমাকে নাতি ডাকতে শুরু করেন। আমিও তাকে নানা ডাকতে লাগলাম। এর আগে অবশ্য তাকে আমি স্যার বলতাম। যেতে যেতে গাড়িতে তিনি একটার পর একটা জোকস বলে আমাদের হাসিয়েছেন। ভায়াডাঙ্গার অনুষ্ঠানে তিনিই প্রধান অতিথি। বয়সে তরুণ হলেও আমিও ছিলাম একজন বিশেষ অতিথি। নানা-নাতির নানান ঠাট্টা মশকরা গাড়ির ভেতরে চলছিল। আশরাফ সিদ্দিকী জোকস শুরু করেন, নাতি শোনো, এক লোক ঢাকাইয়া আমওয়ালার কাছে গেছে আম কিনতে। টুকরিতে সাজানো আমগুলো সে কিছুক্ষণ নেড়ে-চেড়ে দামে পোষায় নি বলে না কিনেই চলে যাচ্ছিল। বিক্রেতা তাকে ডেকে বলেন, ভাই কিনবেন না টিপেন কেলা, ঘরের বিবি পাইছেন নিহি? আমরা হো হো হো হো করে হাসি।

ভায়াডাঙা পৌঁছানোর পরে প্রায় কুড়িজনের দলটিকে কয়েকটি ছোটো দলে ভাগ করে বিভিন্ন বাড়ির অতিথি করা হল। কিন্তু আশরাফ সিদ্দিকী কাউকেই কোথাও যেতে দিচ্ছেন না। রাতের খাবার সবাই একসাথে খেলাম। খেয়ে-দেয়ে শুরু হল ম্যারাথন আড্ডা। সেই আড্ডা প্রায় ভোররাত অবধি চলল মূলত তারই উৎসাহে এবং নেতৃত্বে। ভায়াডাঙ্গায় আমরা খুব সফল এবং আনন্দদায়ক একটি কবিতাভ্রমণ করি। শত বছরের পুরনো ভায়াডাঙ্গা স্কুলের মাঠে সেই রোদেলা দুপুরে দশ হাজার মানুষ দাঁড়িয়ে কবিতা শুনেছে। এক তরুণ মাস দুয়েক আগে জনকণ্ঠে ছাপা হওয়া আমার একটি কবিতার পেপার কাটিং নিয়ে এসে অনুরোধ করছে এই কবিতাটি পড়ে শোনাতে। আনন্দে আমি কাঁদতে শুরু করি। আশরাফ সিদ্দিকী আমাকে কাছে টানেন, বলেন, কাইন্দো না কাইন্দো না নাতি, এইটাই হল কবিতার শক্তি।

একবার কবি জসীম উদদীন পরিষদ ড. মোহাম্মদ মনিরুজ্জামানকে জসীম উদদীন পুরস্কারের জন্য মনোনীত করে। নির্বাচকমণ্ডলীর সভাপতি ছিলেন ড. আশরাফ সিদ্দিকী। পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি করা হয় ড. আবুল কাশেম ফজলুল হককে। অনুষ্ঠান হবে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে। অনুষ্ঠান শুরুর আগে আমরা গল্প করছিলাম। তখন জানতে পারি আশরাফ সিদ্দিকীর ছাত্র মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান আর মনিরুজ্জামানের ছাত্র আবুল কাশেম ফজলুল হক। আবুল কাশেম ফজলুল হক কিন্তু তখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের চেয়ারম্যান। আমি কম বয়স থেকেই মানুষকে খোঁচাতাম। পরিষদের বর্ষীয়ান মহাসচিব ড. জিয়াউদ্দিনকে খোঁচা দিয়ে বলি, এত ছোটো মানুষকে প্রধান অতিথি করলেন? কথাটা আশরাফ সিদ্দিকী শুনে ফেলেছেন। আমি তো ভয়ে মূর্ছা যাই। তিনি না আবার রাগারাগি শুরু করেন, তাহলে ড. কাশেম শুনে ফেলবেন, আমাকে বেয়াদব ভাববেন। না, তিনি রাগারাগি তো করলেনই না, জিয়াউদ্দিন সাহেবের প্রশংসা করে বললেন, বয়স দিয়ে নয়, গুণ দিয়েই মানুষকে মূল্যায়ন করতে হয়। আপনারা ঠিক কাজই করেছেন।

তাকে দিয়ে আমরা সেই অনুষ্ঠান উদ্বোধন করিয়েছিলাম।

জীবনের অধিকাংশ সময় শিক্ষকতা করলেও ১৯৭৬ সালে তিনি বাংলা একাডেমীর মহাপরিচালক পদে যোগ দেন এবং ১৯৮৩ সাল পর্যন্ত এই পদে বহাল ছিলেন। এই সময়ে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে একটি কবিতা লিখে তা বাংলা একাডেমীর মঞ্চে পাঠ করেন নির্মলেন্দু গুণ। এই অপরাধে গুণদা’কে মহাপরিচালকের কক্ষে, মানে আশরাফ সিদ্দিকীর কক্ষে, ডেকে আনা হয়। কয়েকজন আন্ডার কভার সেনা কর্মকর্তা গুণদা’কে জেরা করেন। তার কাছে কবিতাটির কপি চান। তিনি বলেন, আমার কাছে কপি নেই। এই গল্প অন্য এক আড্ডায় গুণদা’র কাছে শুনেছি। গুণদা’কে নিয়ে যেদিন আড্ডার গল্প লিখব তখন আরো বিস্তারিত বলব।

১৯৮৯ সালে সওগাত সম্পাদক মোহাম্মদ নাসিরুদ্দীনের জীবদ্দশায় তার জন্ম শতবার্ষিকী পালন করেছি আমরা। আশরাফ সিদ্দিকীর বয়স এখন ৯১ বছর। আমি প্রার্থনা করি তিনি যেন কমপক্ষে আর ৯টি বছর বেঁচে থাকেন। আমরা অন্তত একজন প্রকৃত লেখকের জন্মশতবর্ষ উদযাপন করি।

আড্ডার সব গল্প >>