বেনজামিন ফ্র্যাংকলিন এর ডেইলি রুটিন

সমসাময়িক অন্যান্য মানুষদের চেয়ে তার অর্জন এত বেশি কীভাবে হলো? এই প্রশ্নের উত্তর তার দৈনন্দিন রুটিনের মধ্যেই পাওয়া যাবে।
Continue reading

জেরেমি বেন্থামের অদ্ভুত কল্পনা

বিখ্যাত ব্রিটিশ দার্শনিক জেরেমি বেন্থাম (১৭৪৮-১৮৩২) এমনই লাজুক ছিলেন যে যেকোনো প্রকারের সামাজিক যোগাযোগ এড়িয়ে চলতেন। কখনোই একই সময়ে একের অধিক সাক্ষাৎকারী সহ্য করতে পারতেন না তিনি। এমনকি কোনো আগন্তুকের সঙ্গে দেখা হওয়ার বিষয় থাকলে ভয়ে তার অবস্থা খারাপ হয়ে যেত। তিনি তার সমসাময়িক দার্শনিকদের প্রচুর চিঠি লিখতেন কিন্তু সেগুলি কখনোই পাঠাতেন না।

মানুষের সঙ্গের পরিবর্তে বেন্থাম প্রাণীদের সঙ্গ বেছে নিয়ে নিয়েছিলেন। বিশেষ করে তার অসংখ্য পোষা ইঁদুরগুলি দিয়ে। ইঁদুরগুলিকে সবখানে হেঁটে চলতে দিতেন, সেই ইঁদুরগুলি তার লেখা কাগজের উপর হেঁটে বেড়াত এবং তা কেটেকুটে নষ্ট করত। বেন্থামের মৃত্যুর পর তার বন্ধু আর ছাত্ররা অনেক কষ্টে ওই কেটেকুটে শেষ করা নষ্ট পাণ্ডুলিপিগুলি থেকে তার অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ উদ্ধার করেছেন।

তাছাড়া প্রাণহীন জিনিসপত্রকে নাম দেয়ার অদ্ভুত স্বভাব ছিল বেন্থামের। তার ব্যবহার্য গৃহস্থালির জিনিসপত্রের তিনি নাম রাখতেন। তার খুব প্রিয় একটা হাঁটার লাঠি ছিল, সেইটাকে তিনি ডাকতেন ‘ডেপল’ বলে। তার সঙ্গে নতুন সাক্ষাৎ করতে লোকেরা তো ভিমড়ি খেয়ে যেতেন যখন তাকে তার চায়ের পাত্রকে ‘ডিক’ বলে ডাকতে শুনতেন।

বেন্থাম লেখা থামিয়েছেন খুব কমই। যখনই মাথায় কোনো আইডিয়া আসত, সেটা সঙ্গে সঙ্গে লিখে ফেলতেন। আর লিখে সেটাকে পর্দা কিংবা দেয়ালে পিন দিয়ে আটকে দিতেন নইলে ফ্লোরে বিছিয়ে রাখতেন। এমন খুব কমই হয়েছে তিনি কিছু লিখছেন, তারপর লেখাটার কোথায় ছিলেন ভুলে গেছেন।

একদিন কিছু আইনি সংশোধনের কাগজ তার হাতে পড়ল। তিনি সেটার উপর লিখলেন, “এটা কী হতে পারে? এইটা কি সত্যি সত্যি কখনোই আমার বক্তব্য ছিল না?”

বেন্থাম যখন দিস্তার পর দিস্তা লিখছেন না, তখন তিনি উদ্ভাবনের কল্পনা করতেন। যেমন তিনি পানির রাইসের মত ‘কনভার্সেশন টিউব’- এর কথা ভেবেছিলেন, যেটা দুইটা বাড়ির মাঝখানে থাকবে। তারপর ‘ফ্রিজিডেরিয়াম’ ডিজাইন করেছিলেন। এটা হলো মাংস সংরক্ষণের জন্যে একধনের ইগলু আকতির ঠাণ্ডা ঘর। ঠিক যেমন তার ‘বুলক হার্টস, কাভস’, হৃৎপিণ্ড-যকৃৎ, খরগোশ-মুরগি, স্প্র্যাটস-স্মেল্টস, ওয়েস্টার-স্যামন ইত্যাদির জন্যে।

তিনি এমনকি তার উদ্ভাবিত পৃথিবীর প্রথম প্রাইভেট জেলখানা ‘পেনোপটিকন’ এর জন্যে অনেক পরিকল্পনা এঁকেছিলেন। একদম নতুন ধরনের এই জেলখানা। চাকার আকৃতির উপর ভিত্তি করে বানানো। যেটার কেন্দ্রে ইন্সপেক্টর বসানো ছিল। কিছু প্রতিফলকের সাহায্যে ভিতরে কী হচ্ছে না হচ্ছে দেখা যেত।

এই আইডিয়া তিনি পেয়েছিলেন প্যারিসের মিলিটারি স্কুলের সিস্টেম থেকে। পেনোপটিকনের উদ্দেশ্য ছিল কম খরচের এবং অল্প জিনিস ব্যবহারে পরিচালিত জেলখানা হওয়া। এর পেছনে তিনি প্রচুর সময় এবং শ্রম দেন। বহুবছর নানা রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ধকল পেরিয়ে অবশেষে পার্লামেন্ট থেকে এই জেলখানার জন্যে জমি কেনার অনুমতি পান। তবে ১৮১১ সালে রাজা তাকে সেই জমির অনুমতি দিতে অস্বীকৃতি জানান। প্রজেক্টটা সেখানেই চিরদিনের মত বন্ধ হয়ে যায়।

১৮১৩ সালে সেটার ক্ষতিপূরণ বাবদ বিপুল অর্থও দেয়া হয়। কিন্তু বেন্থাম তার উদ্ভাবনকে চোখের সামনে দেখতে চেয়েছিলেন কার্যকর হতে, সে স্বপ্ন পূরণ না হওয়ার দুঃখবোধ কোনো কিছই মেটাতে পারেনি।

বেন্থামের জীবদ্দশায় পেনোপটিকন কোনো বাস্তব রুপ না পেলেও একে বেশ গুরুত্বপূর্ণ ডেভেলপমেন্ট হিসাবে দেখা হয়। মিশেল ফুকো তার ‘ডিসিপ্লিন অ্যান্ড পানিশ’ বইয়ে পেনোপটিকনে আধুনিক ‘নিয়মানুবর্তী’ সমাজকাঠামোর রূপক হিসেবে দেখিয়েছেন।

পরবর্তীতে ‘Pentoville’, ‘Armagh Gaol’, ‘Eastern State Penitentiary’র মত আরো কতগুলি ভিক্টোরিয়ান জেলখানা নির্মাণে পেনোপটিকনের আইডিয়া ব্যবহৃত হয়েছে। এমনকি এর আইডিয়াকে ওপেন হসপিটাল ডিজাইনেও পরামর্শ করা হয়। এমনকি মডার্ন অনেক ডিজাইনই পেনোপটিকন দ্বারা উদ্বুদ্ধ হয়ে বানানো, যেমন, ‘পড্যুলার’ ডিজাইন।

ডায়াবেটিস থাকলে পায়ের ব্যাপারে যেসব সাবধানতা অবলম্বন করবেন

ডায়াবেটিস রোগীদের শরীরের অন্যতম সংবেদনশীল অঙ্গ হলো পা। নার্ভ ড্যামেজ বা নিউরোপ্যাথি হলে তারা পায়ে ব্যথা অনুভব করেন না। রক্ত চলাচলের গতি ধীর হয়ে যাওয়ার ফলে কোথাও ক্ষতের সৃষ্টি হলে তাও দ্রুত সারে না। ফলে তারা প্রতিমুহূর্তেই ইনফেকশনের ঝুঁকিতে থাকেন। তাই পায়ের পরিপূর্ণ খেয়াল না রাখলে ইনফেকশন থেকে ফুট আলসার পর্যন্ত হয়ে যেতে পারে। আবার না জানার ফলে পায়ের যত্ন নিতে গিয়ে অনেকের হিতে বিপরীত হয়। যাদের ডায়াবেটিস আছে, তাদের পায়ের যত্ন নিতে কী কী করা উচিৎ বা অনুচিত, তা নিয়ে কয়েকটি পয়েন্ট।

১. অতিরিক্ত গরম বা ঠাণ্ডা তাপমাত্রায় খালি পায়ে থাকবেন না

পা গরম করার জন্য হিটপ্যাড, হেয়ারড্রায়ার কিংবা গরম পানিতে ভেজানো জলপট্টি ব্যবহার করবেন না। একইভাবে আইসপ্যাক অথবা ঠাণ্ডা পানিতে ভেজানো জলপট্টিও ব্যবহার করা থেকে দূরে থাকবেন। এসবের ব্যবহার আপনার চামড়ার প্রদাহের কারণ হতে পারে।

কেন?

ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে পায়ের সংবেদনশীলতা হারানো খুবই স্বাভাবিক ঘটনা। যখন এমনটা হয়, সাধারণ মানুষের তুলনায় তাদের পায়ে গরম বা ঠাণ্ডার পার্থক্য অনেক কম অনুভূত হয়। এসময় হিটপ্যাড, হেয়ারড্রায়ার কিংবা লাইট থেরাপি নেওয়া ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। কেননা এসবের ব্যবহারে তাদের পায়ে স্কিনবার্ন দেখা দিতে পারে।

একইভাবে চিকিৎসকরা আইসপ্যাক কিংবা ঠাণ্ডা পানিতে ভেজানো জলপট্টি ব্যবহার থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেন। অতিরিক্ত ঠাণ্ডা তাপমাত্রার সংস্পর্শে এলে আমাদের স্কিনটিস্যু ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এমনকি বেশি সময় ঠাণ্ডা থাকলে পায়ের চামড়ায় আইসবার্ন হতে পারে।

বেশি সময় ধরে পা ভিজিয়ে রাখবেন না। এর ফলে আপনার চামড়া কুঁচকে অথবা ফেটে যেতে পারে। পা ডুবিয়ে রাখার জন্য ব্যবহৃত ফুট বেসিনগুলিতেও অনেক জীবাণু থাকে। যা আপনার পায়ের সূক্ষ্ম ফাটলে ঢুকে ইনফেকশনের সৃষ্টি করতে পারে।

এর পরিবর্তে কী করতে পারেন?

পায়ে যদি অনেক বেশি ঠাণ্ডা অনুভূত হয়, তাহলে পুরু একজোড়া সুতির মোজা পরে থাকুন। পা ভিজিয়ে রাখার আগে হাতের কনুই দিয়ে পানির তাপমাত্রা পরীক্ষা করে নিন। অথবা অন্য কাউকে পানির তাপমাত্রা নির্ণয়ে সাহায্য করতে বলুন।

২. খালি পায়ে কিংবা স্লিপার পায়ে দিয়ে বাইরে বের হবেন না

খালিপায়ে কিংবা স্যান্ডেল পরে চলাফেরা করলে পায়ের বেশিরভাগ অংশই খোলা থাকে। ফলে ঘরের বাইরে বহু জায়গায় ছড়িয়ে থাকা ধারালো বস্তুর সাথে লেগে আপনার পা কেটে কিংবা ছড়ে যেতে পারে। আর ক্ষতস্থান দিয়ে জীবাণু প্রবেশ করে ইনফেকশনের সৃষ্টি করতে পারে। বিশেষ করে পায়ের সংবেদনশীলতা হারানোর ফলে ডায়াবেটিস রোগীরা কেটে যাওয়া স্থানে ব্যাথা অনুভব নাও করতে পারেন। আর অধিক সময় ধরে খেয়াল না করার ফলে সেই ক্ষত ভবিষ্যতে ঝুঁকি হিসেবে দেখা দিতে পারে।

এর পরিবর্তে কী করতে পারেন?

বাইরে বের হওয়ার আগে একজোড়া মোজা পায়ে দিয়ে বের হতে চেষ্টা করুন। ঘাম শোষিত হতে পারে যাতে এজন্য জুতা পায়ে দেয়ার আগে সুতি মোজা পরে নিন। জীবাণুর বিস্তার ঠেকাতে প্রতিবার ব্যবহারের পরে মোজা পাল্টান। বাসায় থাকা অবস্থায় পা সুরক্ষিত রাখার জন্য নরম স্লিপার ব্যবহার করুন। তাছাড়াও নিয়মিত আয়নার সাহায্যে পা পরীক্ষা করে দেখুন, সেখানে নতুন কোনো ক্ষত কিংবা আঘাতের চিহ্ন আছে কিনা।

৩. নুড়ি বিছানো পথে হাঁটবেন না এবং ফুট রিফ্লেক্সোলজি ম্যাসাজ নিবেন না

গরমের দিনে নুড়ি পাথর বিছানো ফুট রিফ্লেক্সোলজির পথগুলো অনেক উষ্ণ হয়ে থাকে। এই ধরনের ম্যাসাজ আপনার পায়ে তীব্র প্রদাহ কিংবা ইনফেকশনের কারণ হতে পারে। ফুট রিফ্লেক্সোলজির অমসৃণ পথ অথবা নুড়ি পাথরের মাঝখানে লুকিয়ে থাকা কোনো ধারালো বস্তুতেও আপনার পা কেটে যেতে পারে। এমনকি এই ধরনের ম্যাসাজ গ্রহণের সময় পায়ের ওপর যেই পরিমাণ চাপ পড়ে, তাও আপনার পা আহত করতে পারে।

৪. সমুদ্রের পানিতে পায়ের ক্ষত পরিষ্কার কিংবা ফিশ-স্পা থেরাপি গ্রহণ করবেন না

সমুদ্রের পানি অথবা ফিশ-স্পা, কোনোটার পানিই জীবাণুমুক্ত না। সমুদ্রের পানি দিয়ে পা পরিষ্কার করলে পায়ে ইনফেকশন হওয়ার ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়। আর ফিশ-স্পা’গুলোতে একই মাছ একাধিক লোকের পায়ের মৃত চামড়া খুঁটে খুঁটে খায়। এভাবে একজন মানুষের শরীরের জীবাণু আরেকজনের শরীরে সংক্রমিত হওয়ার ঝুঁকি থাকে।

এর পরিবর্তে কী করতে পারেন?

ড্রেসিং করা কিংবা পট্টি বাঁধার আগে পায়ের ক্ষত জীবাণুমুক্ত পানি কিংবা স্যালাইন দিয়ে পরিষ্কার করে নিন।

৫. ক্ষত কিংবা কাটাছেঁড়া স্থান খোলা বাতাসে শুকাতে দিবেন না

এভাবে ক্ষতস্থানে জীবাণুর সংক্রমণ হয়। সেখানে মাছিও বসতে পারে। আর ফ্যান অথবা হেয়ার ড্রায়ারের সাহায্যে ক্ষত শুকানোর চেষ্টা বাস্তবে খুব একটা ফলদায়ক হয় না। পরিবর্তে সেখান থেকে নানারকম জটিলতার সৃষ্টি হতে পারে। বরং যত বেশি সময় ধরে ক্ষতস্থান খোলা অবস্থায় থাকবে, ইনফেকশন হওয়ার সম্ভাবনা ততই বাড়বে।

এর পরিবর্তে কী করতে পারেন আপনি?

ইনফেকশন থেকে বাঁচতে ক্ষতস্থান সবসময় জীবাণুমুক্ত ড্রেসিংয়ের মাধ্যমে ঢেকে রাখুন।

৬. প্রচলিত প্রাথমিক চিকিৎসা থেকে দূরে  থাকুন

বাজারে প্রচলিত মলম বা অয়েন্টমেন্ট ক্ষত সারানোর পক্ষে উপকারী এমন দাবির কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। এমনকি প্রচলিত এসব ওষুধে ব্যবহৃত অনেক উপাদান ক্ষতস্থানের অবস্থা আরো খারাপ দিকে নিয়ে যেতে পারে। ফলে এসব থেকে দূরে থাকুন।

এর পরিবর্তে কী করতে পারেন?

শরীরের কোথাও কাটাছেঁড়া হলে আগে আয়োডিন দিয়ে তা পরিষ্কার করুন। এরপর জীবাণুমুক্ত পরিষ্কার কাপড় দিয়ে ক্ষতস্থান ড্রেসিং করুন। ক্ষত যদি না শুকায় বা খারাপের দিকে যায় তাহলে জরুরি ভিত্তিতে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

দাঁত দিয়ে নখ কাটেন?—৪ ধরনের সমস্যা হতে পারে আপনার

ওনিকোফেজিয়া বা দাঁত দিয়ে নখ কাটা খুব কমন একটি অভ্যাস। পরিসংখ্যান মোতাবেক, বিশ্বের প্রায় ২০-৩০ শতাংশ মানুষ দাঁত দিয়ে নখ কাটে।

এই অস্বাস্থ্যকর অভ্যাসটির পেছনে অনেক কারণ থাকতে পারে। যেমন অস্থিরতা, দুঃশ্চিন্তা, চাপ কিংবা খুঁতখুঁতে স্বভাব। আবার অবসেসিভ কম্পালসিভ ডিজর্ডার (ওসিডি) থেকেও অনেকের নখ কামড়ানো শুরু হয়।

দাঁত দিয়ে নখ কাটার কারণে শরীরে ব্যাকটেরিয়া আর ফাংগাস যেমন প্রবেশ করতে পারে, তেমনি এটা রোজকার সেসব ক্ষতিকর অভ্যাসগুলির একটা যাতে আপনার স্বাভাবিক আয়ু কমে যাবার আশঙ্কা থাকে।

১. নখের মধ্যে রয়েছে ক্ষতিকর সব ব্যাকটেরিয়া

ই. কোলাই ব্যাকটেরিয়া আমাদের পাকস্থলীতে বিভিন্ন ধরনের রোগের উপদ্রব ঘটায়৷ গবেষণা থেকে জানা গেছে, যারা নখ কামড়ান, তাদের মুখের লালায় এ ব্যাকটেরিয়ার পরিমাণ অন্যদের চাইতে প্রায় তিন গুণ বেশি থাকে।

একবার ভেবে দেখুন, নখের নিচে ময়লা জমলে খালি চোখেই ওই জায়গা কতটা নোংরা মনে হয়। অথবা নেইলকাটার দিয়ে নখ কাটার পর কাটা নখগুলি একসাথে জড়ো করলেও সেসব ময়লার তীব্রতা বুঝতে পারবেন৷ তাহলেই চিন্তা করুন, আপনি দেখতে পারছেন না, এমন কত ধরনের জীবাণু সেখানে থাকতে পারে!

যে ব্যাকটেরিয়াগুলি সাধারণত চামড়ার ফাঁক দিয়ে আমাদের শরীরে ঢুকে পড়ে, সেগুলি আপনার দাঁত দিয়ে নখ কাটার কারণে সহজেই মুখ দিয়ে শরীরে প্রবেশের রাস্তা পেয়ে যায়।

শুধু তাই না, নখ কামড়ানোর এই ইচ্ছাও আপনি বোধ করেন এক প্রকার ডার্মাটোফাইটিক ফাংগাসের কারণে, যা চর্মরোগ ঘটায়।

২. নখ কামড়ানো ঠাণ্ডা লাগার অন্যতম কারণ

আমাদের চারপাশে সবসময় প্রায় ২০০টি ভিন্ন প্রজাতির ব্যাকটেরিয়া ঘুরে বেড়ায় যা আপনার ঠাণ্ডা লাগার কারণ হতে পারে। যদিও এটা নির্ভর করছে আপনার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কিংবা অসুস্থ কারো সংস্পর্শে থাকা-না থাকার ওপর, তারপরও হাতগুলি মুখ থেকে যতটা সম্ভব দূরে রেখে আপনি ঠাণ্ডা লাগার সমস্যা থেকে আরো বেশি নিরাপদ থাকতে পারবেন।

কেননা, ঠাণ্ডা লাগা ও বিভিন্ন ফ্লু হবার জন্য দায়ী ভাইরাসগুলি সচরাচর আমাদের চামড়ার ওপরই থাকে।

৩. এমনকি দাঁতও নষ্ট হয়ে যেতে পারে

নখ কামড়ানো দাঁত ও মাড়ি উভয়ের জন্যে ক্ষতিকর। এতে আপনার সামনের পাটির দাঁতগুলি ধীরে ধীরে ক্ষয় হয় ও ফেটে যায়৷ তাছাড়া মাড়ির টিস্যু আঘাতপ্রাপ্ত হয় এতে। যার কারণে নানা জায়গায় ফুলে গিয়ে ব্যথা হতে পারে। কাজেই দেখা যাচ্ছে, আপনার হাসির স্বাভাবিক সৌন্দর্যের ওপরও এই অভ্যাস যথেষ্ট ক্ষতিকর প্রভাব রাখে।

মাউথগার্ড পরে থাকলে নখ কামড়ানোর অভ্যাস প্রতিরোধ করতে পারবেন। এর জন্যে কোনো ডেন্টিস্টের সাথে যোগাযোগ করুন, তার পরামর্শ অনুযায়ী চলুন।

৪. আঙুলে ইনফেকশন হবার ঝুঁকি বাড়ে

অনেকে এমন আছেন শুধু নখ কামড়েই ক্ষান্ত হন না, নখের নিচে ও আশেপাশে থাকা চামড়াও তুলে ফেলেন। নখের আশপাশের চামড়ায় এসব ফাঁকফোকরের কারণে ব্যাকটেরিয়া ভেতরে ঢুকে যায় সহজে, ফলে ইনফেকশন ছড়ানোর আশঙ্কা বাড়ে। ‘ক্রনিক প্যারোনিকিয়া’ নামে পরিচিত চামড়ার এই ইনফেকশন সারাতে অনেক সময় সার্জারিও করতে হয়।

তাছাড়া আঙুলের অনেক গভীর পর্যন্ত নখ কামড়ানোতে আমাদের নখের স্বাভাবিক আকার নষ্ট হয়ে যায়, যা পরবর্তীতে আর কখনোই আগের আকৃতিতে ফিরে আসে না।

আপনার মৃত্যুর কারণ হতে পারে এই ১২টি খাবার

খাবার নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন গল্প থাকলেও খাবারের প্রশ্নে সবার আগে খেয়াল রাখা দরকার শরীরের জন্যে তা কতটুকু উপকারি। নতুন যোকোনো খাবার এমনকি পুরনো খাদ্যাভ্যাসের ক্ষেত্রেও মান আর উপাদান নিয়ে সবসময় সতর্ক থাকা দরকার। নিচের আলোচনায় কমন ১২টি খাবার কীভাবে বিষাক্ত হয় এবং এর তৈরি প্রক্রিয়ায় সমস্যা থাকলে কীভাবে তা খাওয়ার উপযোগিতা হারায় তার উল্লেখ থাকছে।

১২. জায়ফল
এক চা চামচ কাঁচা জায়ফলই আপনার হার্টবিট বাড়িয়ে দিতে পারে।

বহুল প্রচলিত এই মসলাটি ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ আর ইন্দোনেশিয়ায় প্রচুর পরিমাণে উৎপাদিত হয়। বীজের শ্বাসটুকুই মূলত জায়ফল হিসেবে পরিচিত। রান্নায় হালকা ঝাল মিষ্টি ধরনের স্বাদ আনে এটি।

কিন্তু এই মসলাটাই আবার দেহে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে। এক চা চামচ কাঁচা জায়ফলই আপনার হার্টবিট বাড়িয়ে দিতে পারে। মুখ শুকিয়ে যাওয়া কিংবা বমি বমি ভাবও তৈরি করতে পারে অল্প পরিমাণ অপরিপক্ক জায়ফল।

বড় কোনো অসুখ না হলেও এই ধরনের উপসর্গ কয়েক দিন পর্যন্ত ভোগাতে পারে আপনাকে। তবে উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই। আপনার মসলার কৌটায় থাকা জায়ফলগুলোর কোনোটাই আর কাঁচা নেই।

১১. মাশরুম
বিষাক্ত মাশরুম খাওয়ার সবচেয়ে ভয়ঙ্কর পরিণাম হতে পারে মৃত্যু।

জংলি মাশরুম খাওয়ার বিপদ সম্পর্কে অনেকেই জানেন না। এমনকি বিশেষজ্ঞরাও মাঝে মধ্যে খাওয়ার উপযোগী মাশরুম চিনতে ভুল করেন। বিষাক্ত মাশরুম খাওয়ার সবচেয়ে ভয়ঙ্কর পরিণাম হতে পারে মৃত্যু।

রোম সম্রাট ক্লডিয়াস, রাশিয়ার শাসক কিংবা পোপও বিষাক্ত মাশরুম খেয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন। অনেকেই বলেন, উজ্জ্বল রঙের মাশরুমই শুধু ক্ষতিকর। এই ধারণা সম্পূর্ণ ভুল।

মৃত্যু ছাড়াও বিষাক্ত মাশরুম খাওয়ার ফলে খিঁচুনি, ডায়রিয়া, অতিরিক্ত বমি হওয়া ছাড়াও কিডনি নষ্ট হয়ে যেতে পারে।

১০. কিডনি বিন (রাজমা)
শিমের বিচির প্রোটিন পাকস্থলির কোষ ধ্বংস করে।

কিডনি বিনের মতো খাদ্যবস্তুও যে বিষাক্ত হতে পারে তা ভাবা যায় না। তবে গবেষণায় উঠে এসেছে, এতে লেকটিন নামের একধরনের গ্লাইকোপ্রোটিন থাকে। এই প্রোটিন পাকস্থলির কোষ ধ্বংস করে।

এতে করে বমিভাব থেকে শুরু করে ডায়রিয়া পর্যন্ত হতে পারে। তবে এর বিষাক্ততা পরিহার করাও অনেক সোজা। কিডনি বিন রান্নার আগে অন্তত পাঁচ ঘণ্টা ভিজিয়ে রাখলে তা খাওয়ার জন্য নিরাপদ হয়। বিশেষ করে অল্প আঁচে রান্না করার আগে এই কাজটা করা উচিৎ।

৯. আপেল
বীজসহ আপেলের শ্বাস কিংবা মাঝের অংশ না খাওয়াই ভালো।

প্রবাদ আছে, দৈনিক একটা আপেল আপনাকে ডাক্তারের কাছ থেকে দূরে রাখবে। তবে এটা সবসময় সত্য না। প্রকৃতিগতভাবেই আপেলের বীজে অল্প পরিমাণে সায়ানাইড থাকে। সায়ানাইড বিষাক্ত পদার্থ হিসেবে পরিচিত। তাই বীজসহ আপেলের শ্বাস কিংবা মাঝের অংশ না খাওয়াই ভালো।

আবার চাষের সময় ব্যবহৃত কীটনাশক অনেক সময় আপেলের ত্বকে লেগে থাকে। খাওয়ার আগে তাই ফলটা ভালোভাবে ধুয়ে নেওয়া উচিৎ।

৮. পটকা মাছ
পটকা মাছের লিভার সহ অন্যান্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ অত্যন্ত বিষাক্ত।

যদি কখনও জাপান ভ্রমণে যান, তাহলে সেখানে প্রচলিত পটকা মাছ দিয়ে রান্না করা একধরনের রেসিপির দেখা পাবেন। উপযুক্ত উপায়ে রান্না করা না হলে ‘ফুগু’ নামে পরিচিত এই জাতের পটকা মাছ প্যারালাইসিস কিংবা মৃত্যুও ডেকে আনতে পারে।

এই মাছের লিভার সহ অন্যান্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ অত্যন্ত বিষাক্ত। অনেক শেফ রান্নার সময় অল্প পরিমাণে মাছের লিভার সহই রান্না করেন। এতে করে তাদের রেসিপিতে অন্যরকম স্বাদ আসে। তবে পরিমাণে তা একটু বেশি হলেই মৃত্যু নিশ্চিত।

৭. মধু
অপরিশোধিত মধুতে পাইরোলিজিডিন এলকালয়েড থাকতে পারে।

মধু সংগ্রহকারী মৌমাছিরা অনেক সময় পরাগ কিংবা রেণু বহন করার সময় বিষাক্ত উদ্ভিদের সংস্পর্শে আসে। ফলে অপরিশোধিত মধুতে পাইরোলিজিডিন এলকালয়েড থাকতে পারে। এই পদার্থ মানবদেহে লিভার সিরোসিস কিংবা ক্যান্সারের মতো রোগ সৃষ্টি করে। মধু পাস্তরিত করার মাধ্যমে বিষাক্ত এই পদার্থকে দূর করা হয়।

মধু সেবনের আরেক ঝুঁকি হলো বটুলিজম। প্রাপ্তবয়ষ্কদের ক্ষেত্রে যদিও এই প্রাণঘাতী রোগ হওয়ার সম্ভাবনা কম, তবে বাচ্চাদের ক্ষেত্রে তা খুব বেশি। তাই ১২ মাসের কম বয়সী বাচ্চাদের মধু খাওয়ানো অনুচিৎ। মধু গরম করে খাওয়ালেও এই ঝুঁকি থেকে যায়।

৬. সেলেরি
গবেষণায় সেলেরিতে প্রায় ৬৪ প্রকারের কেমিক্যাল পাওয়া গেছে।

সেলেরির মতো প্রাচীন আর রসালো উদ্ভিদে বিষাক্ত কিছু থাকতে পারে এই কথা সচরাচর কারো মাথায় আসবে না। কিন্তু গবেষণায় এতে প্রায় ৬৪ প্রকারের কেমিক্যাল পাওয়া গেছে।

বড় হওয়ার সময় সেলেরি গাছ মাটি থেকে প্রচুর পরিমাণে পানি টেনে নেয়। যেই পানিতে নানা প্রকারের কীটনাশক মিশে থাকে। সেটাই ওই শাকে থাকা কেমিক্যালের উৎস।

৫. ব্লুবেরি
ব্লুবেরিতে ৫২ ধরনের কীটনাশকের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে।

কীটনাশক আর সারের বিষক্রিয়ার আছে এমন আরেকটা খাবার হলো ব্লুবেরি। এর গাছে পোকার আক্রমণ বেশি হওয়ায় চাষীরা প্রচুর পরিমাণে কীটনাশক ব্যবহার করেন। আর ফলন বৃদ্ধির জন্যে অন্যান্য ফলের তুলনায় সারের প্রয়োগও হয় প্রচুর।

উত্তর আমেরিকার স্থানীয় ফল ব্লুবেরিতে ৫২ ধরনের কীটনাশকের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। যা একইসাথে মানবদেহ আর পরিবেশের জন্যে ক্ষতিকর।

৪. অ্যাকি ফল
কাঁচা কিংবা অতিরিক্ত পাকা অবস্থায় খেলেই শরীরে বিষক্রিয়া দেখা দেয়।

পশ্চিম আফ্রিকার স্থানীয় এই ফলটা কাঁচা কিংবা অতিরিক্ত পাকা অবস্থায় খেলেই শরীরে বিষক্রিয়া দেখা দেয়। ‘জ্যামাইকান ভমিটিং সিনড্রোম’ নামে একটা আলাদা রোগই আছে, যা শুধুমাত্র এই ফল খাওয়ার কারণেই হয়। এই রোগে এমনকি রোগীর মৃত্যু পর্যন্ত হয় অনেক সময়।

লিচু জাতীয় এই ফল জ্যামাইকার জাতীয় ফল। ফ্যাটি এসিড আর ভিটামিন সমৃদ্ধ অ্যাকি এমনিতে খেতে অনেক সুস্বাদু। এর স্বাদ অনেকটা তালের শ্বাসের মতো। ক্যালরির পরিমাণ কম থাকায় একই সাথে স্বাস্থ্যকরও।

৩. ব্রাজিল নাট
অতিরিক্ত ব্রাজিল নাট খেলে হার্ট ফেইলের সম্ভাবনা থাকে।

এই জাতের বাদামে প্রচুর পরিমাণে সেলেনিয়াম থাকে। সেলেনিয়াম দেহের জন্যে অনেক উপকারী। কয়েক ধরনের ক্যান্সার আর হৃদরোগ মোকাবেলায় সেলেনিয়ামের অবদান অনেক। থাইরয়েড গ্রন্থির কার্যক্ষমতা বাড়াতেও সেলেনিয়াম কাজে দেয়।

তবে অতিরিক্ত সেলেনিয়াম মানবদেহে নানা জটিলতা সৃষ্টির জন্যে দায়ী। মুখের দুর্গন্ধ থেকে শুরু করে হার্ট ফেইলেরও সম্ভাবনা তৈরি হয় অতিরিক্ত সেলেনিয়াম গ্রহণে। তাই ব্রাজিল নাট দিনে দুইটার বেশি খাওয়া উচিৎ না।

২. কাসু মারজু
অল্প সময়েই এই পনির খাওয়ার একদম অনুপযোগী হয়ে পড়ে।

এটা একধরনের ইতালিয়ান পনির। খাদ্য হিসেবে ইতালিতে অবৈধ। ভেড়ার দুধ থেকে তৈরি এই পনিরকে বিভিন্ন শূককীটের সংস্পর্শে রেখে গাঁজানো হয়। শূককীটদের দেহ নিঃসৃত পদার্থের প্রলেপ পড়ায় পনিরে চমৎকার একধরনের ফ্লেভার আসে।

তবে শূককীটেরা মারা গেলেই এই পনির খাওয়ার একদম অনুপযোগী হয়ে পড়ে। অর্থাৎ কাসু মারজু আপনাকে জীবন্ত শূককীট সহই খেতে হবে।

১. ফাস্ট ফুড
কয়েক ধরনের ক্যান্সার ফাস্টফুড খাওয়ার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত।

আমেরিকানদের আবিষ্কার করা এই ধরনের খাদ্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। প্রতিবছর অসংখ্য আমেরিকান নাগরিক মারা যান শুধুমাত্র ফাস্টফুড খেয়ে।

ফাস্টফুড জাতীয় খাবারগুলো ডিজাইন আর মার্কেটিং’ই করা হয় এমনভাবে যাতে ভোক্তারা আকৃষ্ট হন। ফ্যাট আর ক্যালোরিতে ভরা এই খাবার যেকোনো মানুষকে অসুস্থ বানিয়ে ফেলতে পারে। রক্তে বেশি পরিমাণে কোলেস্টরল, ডায়বেটিস, উচ্চ রক্তচাপ কিংবা স্থূলতার সমস্যাও তৈরি হয় ফাস্টফুড থেকে। আর এই রোগগুলোই একটা সময় হৃদরোগ হওয়ার পেছনে ভূমিকা রাখে। কয়েক ধরনের ক্যান্সারও ফাস্টফুড জাতীয় খাবার খাওয়ার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত।

বেঁচে থাকার জন্য আমরা খাদ্য গ্রহণ করলেও এই খাদ্যই আমাদের ক্ষতি করতে পারে। তাই খাওয়ার আগে যা খাচ্ছি তা নিয়ে আমাদের একটু ভাবা উচিৎ।

সূত্র: হেলথ অ্যান্ড হিউমেন রিসার্চ

খাদ্য ঘাটতি পূরণে থাইল্যান্ড যা করছে

কিছু প্রতিষ্ঠান কৃষকদের সাথে সরাসরি যোগাযোগ করে তাদেরকে প্রযুক্তিগত প্রশিক্ষণ দিচ্ছে। ফলে তাদের কৃষকরাও জৈবপ্রযুক্তির ব্যবহারে দক্ষ হয়ে উঠছে।

Continue reading