কেন বিকাল বেলায় মানুষ বেশি মিথ্যা বলে বা প্রতারণা করে!

যখন আপনার ইচ্ছাশক্তি অন্যান্য কারণে কমে যেতে থাকে তখন অনৈতিক কিছু করা ও সে ব্যাপারকে যুক্তিসঙ্গত করে দেখা আর কঠিন থাকে না আপনার কাছে।
Continue reading

যে ৫টি উপায়ে টু-ডু লিস্টে থাকা প্রতিটা কাজ শেষ করতে পারবেন

লিংকডইন গত বছর কর্মজীবী লোকেদের দৈনন্দিনকার কাজের তালিকার উপর একটা জরিপ প্রকাশ করেছে। জরিপের দেখা গেছে, তাদের প্রতিদিনকার কাজের তালিকা বা টু-ডু লিস্টে পরিবর্তন অানা প্রয়োজন। কেননা, যেই কাজগুলি করা উচিত বলে ভাবি তা করার ক্ষেত্রে অামরা তত পারদর্শী নই। শতকরা ৯০ ভাগ কর্মজীবী লোক এ কথা স্বীকার করেছেন, টু-ডু লিস্টে থাকা কাজগুলি বেশিরভাগ সময়ই তারা শেষ করতে পারেন না।

অাপনিও যদি এইরকম প্রতিদিন নতুন নতুন টু-ডু লিস্ট বানিয়েও কাজ শেষ করতে পারেন না বলে ক্লান্ত হয়ে গিয়ে থাকেন, তাহলে এ বিষয়ে অামাদের পরামর্শ হলো, টু-ডু লিস্টে একটু পরিবর্তন অানুন। তা করতে পারেন ৫টা উপায় অনুসরণ করে:

১. শুধুমাত্র একটা টু-ডু লিস্ট মেইন্টেইন করুন

সৎভাবে উত্তর দিন। ধরুন, এই মুহূর্তে অাজকে সারাদিনে অাপনি কি কি কাজ করবেন তা একবার দেখা দরকার, তাহলে কোন লিস্টটা দেখবেন? সম্ভাবনা হচ্ছে, এর জন্য কোনো নির্দিষ্ট তালিকাই অাপনার কাছে নেই। তার বদলে হয়ত দেখা যাবে, অালাদা অালাদা কাগজে বা নোটবুকে কিছু কাজের কথা লিখেছেন, ইমেইলে ড্রাফট অাকারে সেইভ করে রেখেছেন কিছু, কিছু স্টিকি নোটে লিখে কম্পিউটারে বা ডেস্কের কোথাও লাগিয়ে রেখেছেন বা এর জন্য কোনো অ্যাপ ব্যবহার করছেন তাতে কিছু লেখা অাছে।

এই ঝামেলা এড়ানোর সবচেয়ে ভালো উপায় হচ্ছে, সবগুলি কাজকে একসঙ্গে রাখা। তা অাপনার পছন্দমতো যে কোনো মাধ্যমে হতে পারে। যদি মনে করেন কাগজে থাকা ভালো তাহলে কাগজে লিখুন। না হলে মোবাইল বা কম্পিউটারে কোনো অ্যাপ ব্যবহার করুন। পরবর্তীতে যাতে চাইলে সেই লিস্টের কোনো কাজ বাদ দেয়া বা যোগ করা যায় এমন সুবিধা রাখুন।

 

২. ১-২-৫’এর নিয়ম অনুসরণ করুন

এখন আপনার কাজের একটা নির্দিষ্ট লিস্ট আছে। এটাকে এবার একটু সাজান। ধরুন, কালকে অাপনাকে একটা বড় কাজ, তিনটা মাঝারি এবং পাঁচটা ছোট করতে হবে-এই অনুসারে তালিকাটা সাজান।

এমন যদি হয়, দিনের বেশিরভাগ সময় অাপনার মিটিংয়েই কাটে, তাহলে মিটিংয়ের অাগে লিস্টটা একটু ভালোভাবে দেখে নিন।

লিস্টের কাজ সব শেষ করার পরে কয়েক মিনিট সময় নিন, পরের দিনও ওই একই নিয়মে অাপনার ১-৩-৫’এর কাজ কি কি হবে তা ঠিক করে ফেলুন। এর ফলে, পরের দিন সকালে এই জিনিসের পেছনে অাপনার সময় নষ্ট হবে না।

অার অাপনার কাজের ক্ষেত্র যদি এমন হয়, হুটহাট নানা রকম কাজ এসে হাজির হয়, তাহলে ১-৩-৫ তৈরির সময়ই চেষ্টা করুন ১টা মাঝারি এবং ২টা ছোট কাজের ঘর খালি রাখতে। তাতে, পরে গিয়ে নতুন কাজ করতে হলে তা লিস্টে যোগ করে নিতে পারবেন অার শেষ মুহূর্তে কি করবেন তা নিয়েও ভাবতে হলো না।

হ্যাঁ, এটা সত্যি কাজের তালিকার পরিসর গুরুত্ব অনুসারে ১-৩-৫’এর মতো ছোট লিস্টে নিয়ে অাসাটা কঠিন। তবে, এই লিস্ট অনুসারে কাজ শেষ করা অনেক সহজ। সময় নিয়ে ঝামেলা পোহাতে হয় না অার প্রতিটা কাজই শেষ করা যায়।

এরকম প্ল্যান করে অাগানোর অারেকটা অর্থ হচ্ছে, হাতে নতুন যে কাজ এসে পড়ল সে বিষয়ে অারো ভালোভাবে ভাবতে পারবেন। গুরুত্ব অনুসারে কোন কাজটা অাগে করা উচিত, কোন কাজটা পরে।

 

৩. দুপুরে খাওয়ার অাগে যেকোনো একটা গুরুত্বপূর্ণ কাজ শেষ করুন

লিস্টের বড় বা মাঝারি কাজগুলি থেকে সকালে সবার অাগে কোনটা নিয়ে বসবেন তা ঠিক করুন। লাঞ্চের অাগেই একটা বড় কাজ শেষ করে ফেলার অানন্দ অার কিছুতে নাই। লেখক ব্রায়ান ট্রেইসি এটাকে ‘ব্যাঙ খাওয়া’ বলেন। এটা তিনি নিয়েছেন মার্ক টোয়েইনের বিখ্যাত একটা উক্তি থেকে, ‘সকালে সবার অাগে একটা জ্যান্ত ব্যাঙ খেয়ে ফেলুন অার দিনের বাদবাকি সময় অাপনার সঙ্গে খারাপ কিছু ঘটবে না।

 

৪. ক্যালেন্ডারটাকে টু-ডু লিস্ট হিসাবে ব্যবহার করুন

সারাদিনে অাসলে যে পরিমাণ কাজ করতে পারেন, যদি দেখেন এই ব্যাপারে অাপনি সবসময় অতিরিক্ত ভেবে বসে থাকেন, তাহলে এর সমাধান হচ্ছে টু-ডু’গুলি ক্যালেন্ডারে রাখা। মিটিংয়ের জন্য যেভাবে মার্ক করে রাখেন, সেভাবে।

প্রতিটা কাজের জন্য পর্যাপ্ত সময় রেখে কাজগুলিকে ভাগ করে ক্যালেন্ডারে লিখে ফেলুন।

এই পদ্ধতি যখন ব্যবহার করছেন, খেয়াল রাখুন ইমেইল, চিন্তা ভাবনা করা বা জরুরী কিন্তু কাউকে পাঠাতে হবে না এমন কাজের জন্যও সময় রাখছেন কিনা। যেমন, সকালে এক ঘন্টা এবং বিকালে এক ঘন্টা ইনবক্স চেক করার জন্য রাখতে পারেন। এবং এই সময়ের বাইরে অন্য যেকোনো সময়ে বা কাজের মাঝখানে অার ইমেইল চেক করবেন না।

 

৫. মিটিংয়ের পরিমাণ কমিয়ে এনে কাজের সময় বাড়ান

উপরের সবকয়টা পদ্ধতি মেনেও যদি দেখেন প্রতিদিনে অাপনার যা যা করতে পারা উচিত তা কোনোভাবেই করে উঠতে পারছেন না, তাহলে একটু ভেবে দেখুন দিনের বেশিরভাগ সময় আপনার মিটিংয়ের পিছনেই ব্যয় হচ্ছে কিনা। অর্থনীতিবিদ জন কেনেথ গ্যালব্রেইথ যেমনটা বলেছিলেন একবার, “মিটিং অপরিহার্য যখন অাপনি কিছুই করতে চান না।” এই বিষয়ে অসংখ্য জরিপ হয়েছে, প্রতিটার ফলাফল একই। মিটিং-এ ব্যয় করা অর্ধেক বা তার বেশি সময় কোনো কাজেই দেয় না। অার কারো সঙ্গে যখন আপনাকে কথা বলতে হচ্ছে, অাপনি অাপনার অন্য কাজগুলিও করতে পারছেন না।

এর সমাধান হলো, মিটিংয়ের পরিমাণ নির্ধারণ করা। যেকোনো মিটিংয়ের পরিকল্পনা করার অাগে ভেবে দেখুন মিটিংয়ের কাজটা একটা ইমেইল পাঠিয়ে বা ফোন কলে বা কিছুক্ষণের জন্য কারো অফিসে গিয়ে সেরে ফেলা যায় কিনা। কিন্তু যদি এমন হয়, মিটিংটা করতেই হবে, তাহলে অাগে থেকে অালোচনার বিষয় এবং এতে কোন ব্যক্তিদের অংশগ্রহণ দরকার তা ঠিক করে ফেলুন। চেষ্টা করুন যত কম ব্যক্তি এবং সময়ের মধ্যে ব্যাপারটা শেষ করা যায়।

অার যদি অনেকগুলি মিটিং থাকে তাহলে বিরতি দিয়ে দিয়ে একটার পর একটা শেষ না করে সব একসঙ্গে শেষ করতে চেষ্টা করুন।

কাজ গোছানো এবং পরিকল্পনা করা-দুইটাই বিনিয়োগের অংশ। ভাবুন, এইভাবে প্রতিদিনকার কাজের লিস্টে থাকা প্রতিটা কাজ শেষ করতে পারলে কত ভালো হয়। তা সম্ভব যদি কাজগুলিকে গোছান। যা যা করতে হবে সব একটা লিস্টের মধ্যে নিয়ে অাসেন, মনোযোগ নষ্ট করে এমন জিনিসের পরিমাণ কমান এবং কাজ শুরু করে দেন।

পমোদরো টেকনিক — প্রডাক্টিভিটি বাড়াতে ভীষণ কার্যকর এক টেকনিক!

আপনার কি প্রায়ই মনে হয় আপনার প্রডাকটিভিটি একেক দিন একেক রকম হয়?

কোনো কোনোদিন আপনি চোখের নিমিষে সব কাজ সেরে ফেলেন। আবার এমনও দিন আসে, যতই চেষ্টা করেন কোনোভাবেই কোনো কাজ ঠিকঠাক মত শেষ করতে পারেন না।

প্রচলিত ভুল ধারণা হল, ব্যস্ত দিন পার করা আর দীর্ঘ সময় ধরে ডেস্কে বসে থাকা মানেই বেশি প্রডাকটিভিটি।

কিন্তু ২০০৮ সালে প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, একটানা দীর্ঘ সময় ধরে কাজে যুক্ত থাকা আপনার প্রডাকটিভিটি কমিয়ে দেয়। কাজে উৎসাহ আর মনোযোগ ধরে রাখতে ছোট ছোট নিয়মিত বিরতি নেয়া ভাল।

অনেকগুলি গবেষণায় দেখা গেছে, দীর্ঘ সময় ডেস্কে বসে থাকা স্বাস্থ্যের জন্য খুব খারাপ। দীর্ঘক্ষণ ওয়ার্কস্পেসে বসে থাকা আমাদের স্থূলতা, হৃদরোগ, ক্যান্সার, ডায়বেটিস ও মৃত্যুঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। এর সমাধান হিসেবে এতদিন পরামর্শ দেয়া হত নিয়মিত ভারি ব্যায়ামের।

তবে ২০১০ সালে প্রকাশিত এক গবেষণায় সুইডিশ স্পোর্টস সাইন্টিস্ট ড. এলিন একব্লম-বাক বলছেন অন্য কথা। তার মতে, সুস্বাস্থ্যের জন্য ব্যায়াম জরুরি হলেও জড়তা জনিত এইসব স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়ানোর জন্য সবচেয়ে কার্যকরী উপায় হচ্ছে ওয়ার্কস্পেস থেকে নেয়া ছোট ছোট নিয়মিত বিরতি।

ড. এলিন তার গবেষণাপত্রে পমোদরো টেকনিকের নানা দিক বর্ণনা করেছেন।

কাজের ফাঁকে ছোট ছোট বিরতি নিয়ে প্রডাকটিভিটি বাড়িয়ে তোলার খুব সহজ পদ্ধতির নাম পমোদরো টেকনিক।

পমোদরো টেকনিক কী

পমোদরো টেকনিক এর প্রবর্তক ফ্রানসেস্কো সিরিলো। ১৯৮০ সালে তিনি এই পদ্ধতি প্রবর্তন করেন। তার সাড়াজাগানো বেস্টসেলিং বই ‘পমোদরো টেকনিক’ ২০১৮ সালে নতুন সংস্করণে আবার প্রকাশিত হয়েছে।

‘পমোদরো’ ইতালিয়ান শব্দ। এর অর্থ টমেটো। এই পদ্ধতিতে আমাদের কাজকে ২৫ মিনিটের ছোট ছোট সেশনে ভাগ করে নিতে হয়। প্রত্যেক সেশনের পর রয়েছে ৫ মিনিটের ছোট বিরতি। যখন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন, সিরিলো তখন টমেটো ডিজাইনের কিচেন অ্যালার্ম ঘড়ি ব্যবহার করে তার সময় ভাগ করে কাজ করতেন। সেই থেকে এই পদ্ধতির নাম পমোদরো বা টমেটো।

পমোদরো টেকনিক খুবই সহজ এক পদ্ধতি। ২৫ মিনিট সমান এক পমোদরো। যখন এক পমোদরো শেষ হবে, অর্থাৎ যখন আপনি টানা ২৫ মিনিট কাজ করবেন, ৫ মিনিটের একটা ছোট্ট বিরতি নিবেন। তারপর পরের পমোদরো শুরু করবেন। এভাবে যখন আপনি ৪ টি পমোদরো শেষ করবেন, তখন ২০-৩০ মিনিটের একটা বড় বিরতি নিবেন।

আপাতদৃষ্টিতে মনে হবে সারাদিনে এত এত বিরতি নেয়া আসলে সময়েরই অপচয়। কিন্তু গবেষণা বলে, এই বিরতির পর যখন আপনি আবার আগের অসমাপ্ত কাজে বসেন, তখন আপনার মনোযোগ বৃদ্ধি পায়।

পমোদরো পদ্ধতির প্রবর্তক ফ্রানসেস্কো সিরিলো

পমোদরো টেকনিক কীভাবে ব্যবহার করবেন

ধাপ ১: প্রতিদিনের কাজ সাজানো

আপনার হাতে এই মুহূর্তে কী কী প্রজেক্ট আছে? কী কী জমানো অসমাপ্ত কাজ আছে? সবকিছু দেখে আজকে সারাদিন কী করবেন তার ঠিক করুন।

আপনার কাজের একক এখন এক পমোদরো। ২৫ মিনিটের এই সেশন অনুযায়ী প্রত্যেক কাজের জন্য কয়টা করে পমোদরো লাগবে তা হিসাব করুন। এবার সারাদিনে আপনার অন্যান্য অপরিহার্য পারিবারিক, ব্যক্তিগত ইত্যাদি কাজের সাথে সমন্বয় করে আপনার কাজের তালিকা ঠিক করুন।

একই সাথে, প্রতি ১ পমোদরো পর ৫ মিনিট এবং ৪ পমোদরো পর (কিংবা যে কোনো একটা কাজ সম্পূর্ণ হওয়ার পর) ২০থেকে ৩০ মিনিটের বিরতির জন্যও সময় রাখুন।

ধাপ ২: অ্যালার্ম সেট করুন

শুরুতে আপনার কাজের জন্য যা যা লাগবে তা যেন হাতের কাছেই থাকে তা নিশ্চিত করুন। সঙ্গে কাগজ ও কলম রাখুন। ২৫ মিনিটের টাইমার বা অ্যালাম সেট করুন।

অ্যালার্ম হিসেবে স্মার্টফোনের ডিফল্ট ক্লক অ্যাপ থেকে শুরু করে যে কোনো কিছুই ব্যবহার করতে পারেন। তবে অফিসের ক্ষেত্রে শব্দ করে এমন কিছু ব্যবহার না করাই ভাল।

অনলাইনে অসংখ্য অ্যালার্ম খুঁজে পাবেন। এমনকি আইফোন বা অ্যান্ড্রয়েডের জন্য ‘pomodoro’ সার্চ দিয়ে অনেক অ্যাপও খুঁজে পাবেন যা  ২৫ মিনিট সেশন অনুযায়ী সাজানো।

অ্যালার্ম সেট করার পর ঠিক করুন যে আগামি ২৫ মিনিট আপনি হাতে থাকা কেবল একটি কাজই করবেন।

ঠিক করুন আগামি ২৫ মিনিট আপনার সব মনোযোগ কেবল একটি কাজেই থাকবে।

মনে রাখবেন, একটানা মনোযোগ ধরে রাখতে হবে মাত্র ২৫ মিনিট। তারপর আপনার বিরতির সময়টুকুতে আপনি ফোন করা বা অন্য যে কোনো কাজ করতে পারবেন।

একই সাথে আপনার মনোসংযোগ ভাঙতে পারে এমন সবকিছু পরের ২৫ মিনিটের জন্য কমিয়ে ফেলুন। ফোন বন্ধ করুন। ইমেইল বা চ্যাট অ্যালার্ট বন্ধ রাখুন। আপনার সহকর্মীদের জানিয়ে দিন আগামি ২৫ মিনিট আপনি টানা কাজ করতে চান।

ধাপ ৩: কেবল একটি কাজে পূর্ণ মনোযোগ

পুরো ২৫ মিনিট জুড়ে আপনার পূর্ণ মনোযোগ হাতে থাকা কেবল মাত্র একটি কাজে ঢেলে দিন।

যদি এর মধ্যে অন্য কোনো নতুন বা পুরনো কাজের কথা মাথায় আসে, ঝেড়ে ফেলুন। এবং হাতের কাছে থাকা কাগজ কলমে সেই কাজগুলির কথা লিখে রাখুন। এই কাজগুলি আপনি পরে করতে পারবেন তাই সেগুলি এখন আপাতত পাশে সরিয়ে রাখুন। যদি খুব প্রয়োজন পড়ে তাও আপনি আপনার পরের সেশনে এই কাজে হাত দিতে পারবেন, কিন্তু এই মুহূর্তে যা করছেন কেবল সেটা করুন।

যদি ২৫ মিনিটের আগেই আপনার কাজ শেষ হয়ে যায় তাহলে বাকি সময়টুকুতে তালিকায় থাকা অন্য কোনো ছোট কাজ করে নিতে পারেন। প্রত্যেক কাজ শেষ করতে কয়টা পমোদরো লাগছে তার হিসেব রাখাটা জরুরি। এতে করে আপনি ভবিষ্যতে কাজের তালিকা সাজাতে পারবেন সহজে। আর নিজের প্রডাক্টিভিটির হার তুলনা করতে পারবেন সময়ের সাথে।

ধাপ ৪: ছোট্ট একটা বিরতি নিন

২৫ মিনিট শেষে যখন এক পমোদরো শেষ হবে আর আপনার অ্যালার্ম বেজে উঠবে, সাথে সাথে ৫ মিনিটের একটা ছোট্ট বিরতি নিন। যদি সেই মুহূর্তে আপনি কাজের গভীরে ডুবে থাকেন, এবং মনে হয় এখন বিরতি নেয়া ঠিক হবে না, তারপরও ঠিক তখনই বিরতি নিন।

কারণ কাজের সময় কাজ, বিরতির সময় বিরতি।

আপনার দেহযন্ত্রের ব্যাটারি রিচার্জ হওয়ার সময় এখন।

আপনার মনে হতে পারে যে এই বিরতি বরং সময়ের অপচয়। কিন্তু নিয়মিত বিরতি আপনার মনোসংযোগ ক্ষমতা আর আগ্রহকে চাঙা করে তুলে যেই হারে আপনার সামগ্রিক প্রডাক্টিভিটি বৃদ্ধি করে, এই ‘অপচয়’ সে তুলনায় নগণ্য।

সিরিলোর মতে সময়ের চাইতেও বেশি গুরুত্বপূর্ণ অ্যানার্জি লেভেল। পমোদরো পদ্ধতি এই অ্যানার্জি লেভেল বাঁচিয়ে আমাদের প্রডাক্টিভিটি বাড়িয়ে তোলে। যখন আমাদের মনোসংযোগ ক্ষমতা কম থাকে তখন যদি আমরা জোর করে কাজ করতে থাকি, তখনই বরং আমাদের সত্যিকারের সময়ের অপচয় ঘটে।

সবচেয়ে ভাল হয় বিরতির সময়গুলিতে আপনার ডেস্ক বা কাজের জায়গা ছেড়ে উঠে গেলে। ওয়ার্কস্পেসের চারপাশে একটু হেঁটে বেড়াতে পারেন। হাত-পা নাড়িয়ে হালকা ব্যায়াম করতে পারেন। এমনকি এক কাপ চা বা কফি বানিয়ে খেতে পারেন। বা এক গ্লাস পানি নিয়ে আসতে পারেন। বা পাশের রুমের প্রিন্টার থেকে ডকুমেন্টগুলি নিয়ে আসতে পারেন। এমন কোনো ছোট কাজই যথেষ্ট। এতে করে আপনার শরীরের বড় পেশিগুলির দীর্ঘ জড়তা কাটবে।

বিরতির ৫ মিনিটে গত ২৫ মিনিটে আপনি কী কাজ করেছেন তা নিয়ে একদম ভাববেন না। বিরতির এই সময়টুকুতে আপনার মস্তিস্ক গত ২৫ মিনিটে আপনি যা করেছেন বা শিখেছেন তা হজম করে থাকে। তাকে তা করতে দিন। তাকে আর বাড়তি চিন্তার বোঝা চাপিয়ে দিতে যাবেন না।

বিরতির সময়গুলিতে সোশাল মিডিয়া, ইমেইল বা ওয়েব ব্রাউজিং থেকেও বিরত থাকুন। দীর্ঘক্ষণ ইলেকট্রনিক পর্দায় তাকিয়ে থাকা চোখের জন্য ক্ষতিকর।

বিরতির সময়টুকু কাজে লাগিয়ে বরং অন্য কোনো কাজ সেরে ফেলুন। এই সময়ে আপনি আপনার অগোছালো ডেস্ক গুছিয়ে ফেলতে পারেন, একটু মেডিটেশন করে ফেলতে পারেন, পুরনো অদরকারি কাগজপাতি ফেলে দিতে পারেন বা কোনো সহকর্মীর সাথে একটু গল্প করে নিতে পারেন। যদি আপনি বাসায় কাজ করে থাকেন তাহলে একই ধরনের ছোট কোনো কাজ সেরে নিতে পারেন এই পাঁচ মিনিটে।

ধাপ ৫: সেশনগুলি চালিয়ে যান আর বড় একটা বিরতি নিন

বিরতি শেষ হলে আপনার অ্যালার্ম আবার সেট করুন পরবর্তী সেশনের জন্য। যখন ৪ পমোদরো শেষ হবে, ২০-৩০ মিনিটের মত বড় একটা বিরতি নিন। এই সময়ে বাইরে কোথাও হেঁটে আসুন, নাস্তা করুন, লান্চ করুন, বা বই পড়ুন। এক কথায় ডেস্ক থেকে দূরে গিয়ে কাজের চিন্তা একদম ভুলিয়ে দেয় এমন যে কোনো কিছু করুন।

মনে রাখবেন, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে অ্যানার্জি লেভেল আর মনোসংযোগ ক্ষমতা চাঙা করে তোলা। প্রত্যেক সেশন ঘড়ি ধরে ২৫ মিনিটই যে টানা কাজ করতে হবে, বা একটা বড় বিরতির আগে যে সবসময় ৪ পমোদরো কাজ করতে হবে এমন কোনো কঠোর নিয়ম নেই।

নিজের দেহঘড়ির সাথে সামঞ্জস্য রাখাটা সবচেয়ে জরুরি। যদি ২৫ মিনিটের আগেই আপনার মনোসংযোগ কমে আসে আর আপনি অন্য অনেক কিছু নিয়ে ভাবতে শুরু করেন বা আপনি ক্লান্ত হয়ে পড়েন, তাহলে জোর করে ২৫ মিনিট পর্যন্ত কাজ করবেন না।

কোন কম্বিনেশন আপনার শরীর ও মনের সাথে সবচেয়ে মানায় তা পরীক্ষা করে দেখতে পারেন। এমন হতে পারে যে ৩ পমোদরো শেষে ২০ মিনিটের বিরতি আপনার জন্য সবচেয়ে ভাল। বা ৫ পমোদরো শেষে ৩০ মিনিটের বিরতি।

একটু খেয়াল করলে এও বের করা সম্ভব যে দিনের কোন সময়ে আপনি কাজে সবচেয়ে বেশি মনোযোগ রাখতে পারেন। এমন হতে পারে যে সকালে আপনি বেশি মনোযোগী থাকতে পারেন আর দুপুরে আপনাকে অনেক বেশি নিয়মিত বিরতি নিতে হচ্ছে। নিজের এই প্যাটার্নটা যদি আপনি আবিষ্কার করে ফেলতে পারেন তাহলে একটি পূর্ণ কর্মদিবসে আপনি সময়ের অপচয় না করে কী পরিমাণ প্রডাকটিভ সময় কাটাতে পারেন তা দেখলে নিজেই অবাক হয়ে যাবেন।

পমোদরো টেকনিকের সুবিধাগুলি

ছোট ছোট সেশনে ভাগ করে ফেলার ফলে প্রত্যেক সেশনে আপনার মনোযোগ থাকে বেশি। আর এর ফলে অনেক বড় প্রজেক্টও শেষ করে ফেলা যায় সহজে। সেশন ভাগ পদ্ধতি ছাড়া পূর্ণ প্রজেক্ট হিসেবে ভাবলে যা শেষ করা অসম্ভব মনে হত।

মাল্টিটাস্কিং আর প্রক্রেস্টিনেশন আমাদের মনোযোগে বিঘ্ন ঘটায়। ফলে আমাদের প্রডাক্টিভিটি কমে যায়। পমোদরো টেকনিকে আপনি আপনার মনোযোগ নষ্ট করতে পারে এমন সব জিনিস দূরে সরিয়ে রাখছেন। আর মাল্টিটাস্কিং না করে এক সময়ে কেবল মাত্র একটা কাজ করছেন। এই কারণে প্রডাক্টিভিটি বৃদ্ধিতে এই পদ্ধতি কার্যকর।

নিয়মিত ছোট বিরতি স্বাস্থ্যের জন্য ভাল। নিয়মিত বিরতির ফলে মনোসংযোগ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। আর এর ফলে প্রডাক্টিভিটি বৃদ্ধি পায়। ADD (attention deficit disorder) বা ADHD ( attention deficit hyperactivity disorder) যাদের রয়েছে তারা দীর্ঘক্ষণ এক বিষয়ে মনোসংযোগ ধরে রাখতে পারেন না। সিরিলোর মতে, তাদের জন্য পমোদরো পদ্ধতি ভীষণ কার্যকর।

ছোট ছোট এইসব বিরতির সময়টুকুতে আমাদের মস্তিস্ক সব তথ্য-উপাত্ত হজম করে অভ্যস্ত হয়। ফলে এই সময়টুকুতে দুইয়ে দুইয়ে চার মিলিয়ে আপনার মাথায় নতুন কোনো ক্রিয়েটিভ আইডিয়া চলে আসতে পারে।

বিরতির মাধ্যমে রিচার্জ হওয়ার ফলে আপনি দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়বেন না।

পমোদরো পদ্ধতির অসুবিধাগুলি

এই পদ্ধতি সবার জন্য নয়। কারও কারও ক্ষেত্রে প্রতি সেশনের মধ্যবর্তী বিরতিটুকু বিরক্তিকর হতে পারে।

আপনি যদি খুব দ্রুত কাজ করা পছন্দ করে এমন কোনো প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন, তাহলে এই পদ্ধতি আপনার জন্য নয়। সহকর্মী বা কাস্টমারের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ করতে হয় এমন কোনো কাজ যাদের, তাদের ক্ষেত্রেও এই পদ্ধতি কাজে লাগবে না।

ধরুন আপনার একটা মিটিং আছে যা ২৫ মিনিটের কম সময়ের মধ্যেই শুরু হতে যাচ্ছে। সেই ক্ষেত্রে আপনি নতুন ১টা পমোদরো শুরু করতে পারছেন না। এই সমস্যাটিও এই পদ্ধতির একটি অসুবিধা।

অল্প কিছু অসুবিধা বাদ দিলে সব মিলিয়ে প্রডাক্টিভিটি বাড়িয়ে তোলার জন্য পমোদরো টেকনিক খুবই সহজ আর কার্যকর একটা পদ্ধতি।

একটা অ্যালার্ম আর সদিচ্ছা ছাড়া আর কিছুই লাগে না এই পদ্ধতিতে। এটুকু থাকলেই প্রডাক্টিভিটি বাড়িয়ে তোলার এমন স্বাস্থ্যকর সুযোগ কেন হেলায় হারাবেন? আজই চেষ্টা করে দেখুন এই পদ্ধতি আপনার প্রডাক্টিভিটি কতটুকু বাড়িয়ে তোলে।