কোভিড-১৯ এর প্রাদুর্ভাবের সময় ডায়াবেটিস রোগীদের জন্যে একজন চিকিৎসকের পরামর্শ

স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় ডায়াবেটিসের মাত্রা আরো নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করুন। স্ট্রেসের কারণে রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যায়, তা ঘন ঘন পরীক্ষা করুন।

Continue reading

কর্মস্থলে স্বাস্থ্য ঠিক রাখার ১০ উপায়

দিনে ৮ ঘণ্টা চেয়ারে কম্পিউটারের সামনে বসে থাকা শরীরের উপর খারাপ প্রভাব ফেলতে পারে। ডেস্কে বসে থেকে থেকে চোখের অস্বস্তি আর কাঁধ ব্যথা থেকে শুরু করে শরীরে বাড়তি ক্যলরি পর্যন্ত জমা হচ্ছে আপনার শরীরে।

এই ধকল সামলে উঠে হেলদি থাকতে পারবেন ১০ পরামর্শ মেনে চললে।

১. ডেস্কে আপনার সহকর্মীরা যেই স্ন্যাকসগুলি সাজিয়ে রেখে সুন্দরমতো, যদি এখনই সতর্ক না হন
“চোখের সামনে না থাকলেই এগুলির কথা আর আপনার মাথায় আসবে না। তাই, যখনই দেখবেন কারো কাছে এই ধরনের মজাদার কিছু আছে সঙ্গে সঙ্গে অন্যদিকে সরে যান যাতে তা আপনার খেতে ইচ্ছা না করে। ব্রেক নিন একটা, খোলা বাতাসে দাঁড়ান আর ওই খাবারটার এড়িয়ে যান। যদি ক্ষুধা লাগে তো চেরি বা আঙুর বা অন্য কোনো ফল রাখুন আপনার ডেস্কে।”, অ্যামেরিকান ডায়েটিক অ্যাসোসিয়েশনের রেজিস্টার্ড ডায়েটেশিয়ান ডন জ্যাকসন বলেন।

২. পর্যাপ্ত পানি খান। পানি আপনাকে হাইড্রেটেড রাখবে। অনেক খাবারও আছে যেগুলি পানির ভালো উৎস। যেমন, কমলা জাতীয় ফল, জাম্বুরা, আঙুর, তরমুজ এবং আপেল আপনাকে একই সঙ্গে হেলদি আর হাইড্রেটেড রাখবে।
ডিহাইড্রেশনের কারণে দুপুরবেলা আপনার ঝিমুনি হতে পারে। তাই পর্যাপ্ত পানি পান করুন। তা করতে গোল ঠিক করুন। মাঝারি পানির বোতল রাখুন সঙ্গে, তা একটা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে শেষ করে আবার ভরুন। তারপর আবার সময় নির্ধারণ করুন।
আরেকটা কাজ করতে পারে, কম্পিউটার বা মোবাইলে অ্যালার্ম দিয়ে রাখতে পারেন, যাতে ওই নির্ধারিত সময়ে পানি খেতে ভুলে না যান।

৩. ফিট থাকার সবচেয়ে ভালো উপায় হলো এক্সারসাইজ করা। দুপুরে খাওয়ার পরের সময়টা এইজন্য আদর্শ। এতে শুধুমাত্র আপনার ক্যালরি বার্নই হচ্ছে না, আপনার স্ট্রেস কমছে আর ফ্রেশ হওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন আপনি।
জ্যাকসন পরামর্শ দেন, হাঁটার একজন সঙ্গী ঠিক করতে। আপনি হাজার ব্যস্ততা দেখালেও যে আপনার জোর করে হাঁটতে নিয়ে যাবে। দুপুরে হাঁটতে না পারলে অন্য সময়ে হাঁটুন।

৪. দুপুরে স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া ব্যালেন্সড ডায়েটের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ। আরো গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে কতটুকু খাচ্ছেন।

জ্যাকসন বলেন, “স্বাস্থ্যকর খাবারের পাশাপাশি এর পরিমাণ ঠিক রাখতে পারা খুব জরুরি। এতে করে আপনার প্রয়োজনের তুলনায় বেশি ক্যালরি খেয়ে ফেলার সুযোগ থাকবে না। অনেক সময় জিনিসটা শুধুমাত্র স্বাস্থ্যকর খাওয়ার ওপর নির্ভশীল না, কতটুকু খাচ্ছেন সেটাও দেখার বিষয়।”

৫. টেনশন নেক সিনড্রোম (টিএনএস) হতে পারে যখন কাঁধ এবং ঘাড় একটা নির্দিষ্ট অবস্থায় দীর্ঘ সময় থরে আছে। এটা হতে পারে যেসব কর্মস্থলে দীর্ঘ সময় ফোনে কথা বলতে হয় বা অনেক টাইপ করতে হয় সেসব জায়গায়।

কর্নেল ইউনিভার্সিটির এগ্রোনোমিক্সের প্রফেসর অ্যালান হেজ বলেন, খেয়াল রাখুন ঘাড় যাতে দীর্ঘসময় ঝুঁকে না হয়ে থাকে। টেনশন নেক সিনড্রোম’এর কারণে কাঁধে ও ঘাড়ে ব্যথা, হতে পারে। তাই স্পিকার ফোন ব্যবহার করুন। যখন ফোনে থাকবেন তখন হেডসেট ব্যবহার করুন বা কাঁধের জন্য সাপোর্ট ব্যবহার করুন।

৬. কম্পিউটারের সামনে দীর্ঘ সময় বসে থাকার আরেক সমস্যা চোখে অস্বস্তি হওয়া। এর কারণে মাথা ব্যথা, মনোযোগে সমস্যা এবং আলোর প্রতি আপনার তীব্র সংবেদনশীলতা তেরি হতে পারে, ইউনিভার্সিটি অভ ক্যালিফোর্নিয়া অনুসারে।
চোখের সমস্যাগুলি দূরে রাখতে হেজ পরামর্শ দেন, আপনার চোখ থেকে স্ক্রিনের দুরত্ব হতে হবে কমপক্ষে এক হাত। চোখ না কুঁচকে সেখান থেকেই যাতে স্ক্রিনের লেখাগুলি পড়া যায় এমন ব্যবস্থা করুন। না গেলে কম্পিউটারের ফন্ট সাইজ বড় করে দিন।

৭. কর্মস্থলে হেলদি থাকার আরেকটা উপায় হলো ভ্রমণ। তা আপনাকে উজ্জীবিত করবে অনেকখানি। কারণ ভ্রমণ স্ট্রেস কমাতে এবং কাজের চিন্তা ভুলে যেতে সাহায্য করে। বিশেষত যখন কোনো ঝামেলায় আছেন। যেমন, বস বা সহকর্মীদের সঙ্গে গন্ডগোল, বা প্রজেক্টে ভালো ফলাফর না আনতে পারা।

ক্লিনিকাল সাইকোলজিস্ট জোনাথন ক্র্যামার বলেন, স্ট্রেসের কারণে আপনার রোধ-প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যেতে পারে। ভ্রমণ এই স্ট্রেস দূরে রাখার সবচেয়ে ভালো উপায়। তাই সুযোগ পেলে ভ্রমণ করে আসুন।

৮. দিনের পর পর দীর্ঘসময় টানা কাজ করা থেকে বিরত থাকুন। আপনার এর প্রভাব টেরও পাবেন না। কিন্তু আপনার স্ট্রেস বেড়ে যাবে এবং তা আপনার সম্পর্কগুলির উপর প্রভাব ফেলবে। এছাড়াও তা আপনার ইমিউন সিস্টেমের ক্ষতি করতে পারে, ঘুমে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে এবং কোনো কিছুতে মনোযোগ দেয়া কঠিন করে তুলতে পারে।

৯. কিবোর্ড, মাউস এবং মোবাইল ফোলে হাজার রকমের জীবাণু থাকে যা আপনাকে অসুস্থ করে তুলতে পারে। তাই জীবাণুনাশক ব্যবহার করুন।

অ্যামেরিকান সোসাইটি ফর মাইক্রোবায়োলজি’র ১০০তম জেনারেল মিটিংয়ে রিসার্চাররা বলেন, শক্ত তলে ভাইরাসরা ঘন্টার পর ঘন্টা এমনকি দিনের পর দিন বেঁচে থাকতে পারে। যদি ভাইরাসটা রোটাভাইরাসের মতো কিছু হয় (যেটার কারণে ডাইরিয়া হয়) এবং সেটা কোনো টেলিফোন রিসিভারের উপর থাকে, সেই রিসিভার ব্যবহারে যে কেউ খুব সহজেই অসুস্থ হয়ে পড়তে পারে।

১০. তবে কর্মস্থলে হেলদি থাকা সবার আগে শুরু হয় আত্ম- সচেতনতা দিয়ে। আপনি তখনই সুস্থ থাকতে পারবেন যখন সেই বিষয়ে সচেতন থাকবেন। নিজেকে এবং নিজের সীমাবদ্ধতাগুলি জানুন। সীমাবদ্ধতার মধ্যেই থেকেই কাজ করার চেষ্টা করুন। যখন ব্রেক নিতে হবে আর কখন ভ্রমণে যেতে হবে তা বোঝার চেষ্টা করুন। পর্যাপ্ত পানি পান করুন। নিয়মিত এক্সারসাইজ করুন, তা আপনার শরীর ও মন উভয়ই ভালো রাখতে সাহায্য করবে।

শ্বাসকষ্টের সময় ইনহেলার ছাড়া কোথাও আটকা পড়লে যা করবেন

অ্যাজমার চিকিৎসা সম্বন্ধে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালের সিনিয়র কনসালটেন্ট লু চিয়ান মিন কিছু পরামর্শ দিয়েছেন। তার মতে, অবস্থার উন্নতি হলেও শ্বাসকষ্টের রোগীদের কখনোই চিকিৎসা বন্ধ করা উচিৎ না।

শ্বাসকষ্টের রোগীদের নিয়মিত চিকিৎসা নেয়া দরকার। পাশাপাশি রোগের জন্য তাদের স্বাস্থ্যগত ব্যাপারেও যত্নবান হওয়া দরকার। কখনোই শ্বাসকষ্টের সমস্যা অবহেলা করা উচিৎ না। যেহেতু রোগীদের জীবন নির্ভর করে এর উপর।

আপনি যদি অ্যাজমার রোগী হন, তাহলে আপনার কাছে সবসময় ইনহেলার থাকাটাই স্বাভাবিক। তবে কখনো কখনো এমন পরিস্থিতিতেও আপনি পড়তে পারেন, যখন আপনার আশেপাশে কোথাও ইনহেলারের ব্যবস্থা হচ্ছে না। এদিকে আপনার ব্যক্তিগত ইনহেলারও নিজের কাছে নেই।

এই অবস্থায় পড়লে কিছু পরামর্শ আপনার কাজে লাগতে পারে। জেনে নিন, ইনহেলার না থাকলে শ্বাসকষ্ট কমাতে যেই ৬টি উপায় আপনি অবলম্বন করতে পারেন:

১. সোজা হয়ে বসুন

কাজকর্ম যা করছিলেন, তা বাদ দিয়ে কিছুক্ষণের জন্য সোজা হয়ে বসে থাকুন। শুয়ে পড়লে কিংবা ঝুঁকে থাকলে আপনার শ্বাসকষ্ট বাড়তে পারে। মেরুদণ্ড সোজা অবস্থায় থাকলেই আপনার দেহের পক্ষে শ্বাসকার্য চালানো সহজ হয়।

২. গভীর আর লম্বা শ্বাস নিন

শ্বাসকষ্ট শুরু হলে আপনার শ্বাসপ্রশ্বাসের গতি বেড়ে যায়। তাতে আপনার ফুসফুস হাইপারভেন্টিলেশনের অবস্থায় চলে যায়। এই অবস্থা এড়াতে স্থির হওয়ার চেষ্টা করুন আর লম্বা লম্বা শ্বাস নিন। তাতে করে আপনার শ্বাস প্রশ্বাসের গতি কমতে থাকবে। শ্বাস নেয়ার সময় মুখ খোলা রাখবেন না। নাক দিয়ে শ্বাস নিন আর মুখ দিয়ে ছাড়ুন।

৩. শান্ত থাকুন

দুশ্চিন্তা আর তাড়াহুড়া না করে শান্ত থাকার চেষ্টা করুন। তাতে করে আপনার বুকের পেশির সংকুচিত অবস্থা ঠিক হতে থাকবে। আর আপনার শ্বাসপ্রশ্বাসও স্বাভাবিক হওয়া শুরু করবে।

৪. কারণ থেকে দূরে থাকুন

ধুলাবালি অথবা সিগারেটের ধোঁয়া আপনার শ্বাসকষ্ট শুরু হওয়ার কারণ হতে পারে। অ্যামোনিয়া অথবা ক্লোরিনের মতো অনেক কেমিকেলের গন্ধও আপনাকে শ্বাসকষ্টে ফেলে দিতে পারে। শ্বাসকষ্ট উঠলে এমন পরিবেশ থেকে দ্রুত বেরিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করুন। খোলামেলা আর পরিষ্কার বাতাস সমৃদ্ধ জায়গায় যান।

৫. ক্যাফেইন সমৃদ্ধ গরম বেভারেজ পান করুন

কফির মতো গরম আর ক্যাফেইন সমৃদ্ধ পানীয় শ্বাসকষ্টের সময় আপনাকে সাহায্য করতে পারে। এই ধরনের ড্রিংকস আপনার দেহের বায়ুনালী খানিকটা প্রসারিত করে। এভাবে এক থেকে দুই ঘন্টার মতো সময় আপনি উপশম পেতে পারেন।

৬. জরুরিভিত্তিতে চিকিৎসা গ্রহণ করুন

শ্বাসকষ্টের সাথে কাশি কিংবা বুকে ব্যথার মতো লক্ষণ দেখা দিলে সম্পূর্ণ বিশ্রাম নিন। কিছুক্ষনের মধ্যে তা না কমলে জরুরিভিত্তিতে মেডিকেল সাহায্য নিন। অথবা আপনার চিকিৎসকের সাথে দ্রুত যোগাযোগ করুন।

ডায়াবেটিস থাকলে পায়ের ব্যাপারে যেসব সাবধানতা অবলম্বন করবেন

ডায়াবেটিস রোগীদের শরীরের অন্যতম সংবেদনশীল অঙ্গ হলো পা। নার্ভ ড্যামেজ বা নিউরোপ্যাথি হলে তারা পায়ে ব্যথা অনুভব করেন না। রক্ত চলাচলের গতি ধীর হয়ে যাওয়ার ফলে কোথাও ক্ষতের সৃষ্টি হলে তাও দ্রুত সারে না। ফলে তারা প্রতিমুহূর্তেই ইনফেকশনের ঝুঁকিতে থাকেন। তাই পায়ের পরিপূর্ণ খেয়াল না রাখলে ইনফেকশন থেকে ফুট আলসার পর্যন্ত হয়ে যেতে পারে। আবার না জানার ফলে পায়ের যত্ন নিতে গিয়ে অনেকের হিতে বিপরীত হয়। যাদের ডায়াবেটিস আছে, তাদের পায়ের যত্ন নিতে কী কী করা উচিৎ বা অনুচিত, তা নিয়ে কয়েকটি পয়েন্ট।

১. অতিরিক্ত গরম বা ঠাণ্ডা তাপমাত্রায় খালি পায়ে থাকবেন না

পা গরম করার জন্য হিটপ্যাড, হেয়ারড্রায়ার কিংবা গরম পানিতে ভেজানো জলপট্টি ব্যবহার করবেন না। একইভাবে আইসপ্যাক অথবা ঠাণ্ডা পানিতে ভেজানো জলপট্টিও ব্যবহার করা থেকে দূরে থাকবেন। এসবের ব্যবহার আপনার চামড়ার প্রদাহের কারণ হতে পারে।

কেন?

ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে পায়ের সংবেদনশীলতা হারানো খুবই স্বাভাবিক ঘটনা। যখন এমনটা হয়, সাধারণ মানুষের তুলনায় তাদের পায়ে গরম বা ঠাণ্ডার পার্থক্য অনেক কম অনুভূত হয়। এসময় হিটপ্যাড, হেয়ারড্রায়ার কিংবা লাইট থেরাপি নেওয়া ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। কেননা এসবের ব্যবহারে তাদের পায়ে স্কিনবার্ন দেখা দিতে পারে।

একইভাবে চিকিৎসকরা আইসপ্যাক কিংবা ঠাণ্ডা পানিতে ভেজানো জলপট্টি ব্যবহার থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেন। অতিরিক্ত ঠাণ্ডা তাপমাত্রার সংস্পর্শে এলে আমাদের স্কিনটিস্যু ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এমনকি বেশি সময় ঠাণ্ডা থাকলে পায়ের চামড়ায় আইসবার্ন হতে পারে।

বেশি সময় ধরে পা ভিজিয়ে রাখবেন না। এর ফলে আপনার চামড়া কুঁচকে অথবা ফেটে যেতে পারে। পা ডুবিয়ে রাখার জন্য ব্যবহৃত ফুট বেসিনগুলিতেও অনেক জীবাণু থাকে। যা আপনার পায়ের সূক্ষ্ম ফাটলে ঢুকে ইনফেকশনের সৃষ্টি করতে পারে।

এর পরিবর্তে কী করতে পারেন?

পায়ে যদি অনেক বেশি ঠাণ্ডা অনুভূত হয়, তাহলে পুরু একজোড়া সুতির মোজা পরে থাকুন। পা ভিজিয়ে রাখার আগে হাতের কনুই দিয়ে পানির তাপমাত্রা পরীক্ষা করে নিন। অথবা অন্য কাউকে পানির তাপমাত্রা নির্ণয়ে সাহায্য করতে বলুন।

২. খালি পায়ে কিংবা স্লিপার পায়ে দিয়ে বাইরে বের হবেন না

খালিপায়ে কিংবা স্যান্ডেল পরে চলাফেরা করলে পায়ের বেশিরভাগ অংশই খোলা থাকে। ফলে ঘরের বাইরে বহু জায়গায় ছড়িয়ে থাকা ধারালো বস্তুর সাথে লেগে আপনার পা কেটে কিংবা ছড়ে যেতে পারে। আর ক্ষতস্থান দিয়ে জীবাণু প্রবেশ করে ইনফেকশনের সৃষ্টি করতে পারে। বিশেষ করে পায়ের সংবেদনশীলতা হারানোর ফলে ডায়াবেটিস রোগীরা কেটে যাওয়া স্থানে ব্যাথা অনুভব নাও করতে পারেন। আর অধিক সময় ধরে খেয়াল না করার ফলে সেই ক্ষত ভবিষ্যতে ঝুঁকি হিসেবে দেখা দিতে পারে।

এর পরিবর্তে কী করতে পারেন?

বাইরে বের হওয়ার আগে একজোড়া মোজা পায়ে দিয়ে বের হতে চেষ্টা করুন। ঘাম শোষিত হতে পারে যাতে এজন্য জুতা পায়ে দেয়ার আগে সুতি মোজা পরে নিন। জীবাণুর বিস্তার ঠেকাতে প্রতিবার ব্যবহারের পরে মোজা পাল্টান। বাসায় থাকা অবস্থায় পা সুরক্ষিত রাখার জন্য নরম স্লিপার ব্যবহার করুন। তাছাড়াও নিয়মিত আয়নার সাহায্যে পা পরীক্ষা করে দেখুন, সেখানে নতুন কোনো ক্ষত কিংবা আঘাতের চিহ্ন আছে কিনা।

৩. নুড়ি বিছানো পথে হাঁটবেন না এবং ফুট রিফ্লেক্সোলজি ম্যাসাজ নিবেন না

গরমের দিনে নুড়ি পাথর বিছানো ফুট রিফ্লেক্সোলজির পথগুলো অনেক উষ্ণ হয়ে থাকে। এই ধরনের ম্যাসাজ আপনার পায়ে তীব্র প্রদাহ কিংবা ইনফেকশনের কারণ হতে পারে। ফুট রিফ্লেক্সোলজির অমসৃণ পথ অথবা নুড়ি পাথরের মাঝখানে লুকিয়ে থাকা কোনো ধারালো বস্তুতেও আপনার পা কেটে যেতে পারে। এমনকি এই ধরনের ম্যাসাজ গ্রহণের সময় পায়ের ওপর যেই পরিমাণ চাপ পড়ে, তাও আপনার পা আহত করতে পারে।

৪. সমুদ্রের পানিতে পায়ের ক্ষত পরিষ্কার কিংবা ফিশ-স্পা থেরাপি গ্রহণ করবেন না

সমুদ্রের পানি অথবা ফিশ-স্পা, কোনোটার পানিই জীবাণুমুক্ত না। সমুদ্রের পানি দিয়ে পা পরিষ্কার করলে পায়ে ইনফেকশন হওয়ার ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়। আর ফিশ-স্পা’গুলোতে একই মাছ একাধিক লোকের পায়ের মৃত চামড়া খুঁটে খুঁটে খায়। এভাবে একজন মানুষের শরীরের জীবাণু আরেকজনের শরীরে সংক্রমিত হওয়ার ঝুঁকি থাকে।

এর পরিবর্তে কী করতে পারেন?

ড্রেসিং করা কিংবা পট্টি বাঁধার আগে পায়ের ক্ষত জীবাণুমুক্ত পানি কিংবা স্যালাইন দিয়ে পরিষ্কার করে নিন।

৫. ক্ষত কিংবা কাটাছেঁড়া স্থান খোলা বাতাসে শুকাতে দিবেন না

এভাবে ক্ষতস্থানে জীবাণুর সংক্রমণ হয়। সেখানে মাছিও বসতে পারে। আর ফ্যান অথবা হেয়ার ড্রায়ারের সাহায্যে ক্ষত শুকানোর চেষ্টা বাস্তবে খুব একটা ফলদায়ক হয় না। পরিবর্তে সেখান থেকে নানারকম জটিলতার সৃষ্টি হতে পারে। বরং যত বেশি সময় ধরে ক্ষতস্থান খোলা অবস্থায় থাকবে, ইনফেকশন হওয়ার সম্ভাবনা ততই বাড়বে।

এর পরিবর্তে কী করতে পারেন আপনি?

ইনফেকশন থেকে বাঁচতে ক্ষতস্থান সবসময় জীবাণুমুক্ত ড্রেসিংয়ের মাধ্যমে ঢেকে রাখুন।

৬. প্রচলিত প্রাথমিক চিকিৎসা থেকে দূরে  থাকুন

বাজারে প্রচলিত মলম বা অয়েন্টমেন্ট ক্ষত সারানোর পক্ষে উপকারী এমন দাবির কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। এমনকি প্রচলিত এসব ওষুধে ব্যবহৃত অনেক উপাদান ক্ষতস্থানের অবস্থা আরো খারাপ দিকে নিয়ে যেতে পারে। ফলে এসব থেকে দূরে থাকুন।

এর পরিবর্তে কী করতে পারেন?

শরীরের কোথাও কাটাছেঁড়া হলে আগে আয়োডিন দিয়ে তা পরিষ্কার করুন। এরপর জীবাণুমুক্ত পরিষ্কার কাপড় দিয়ে ক্ষতস্থান ড্রেসিং করুন। ক্ষত যদি না শুকায় বা খারাপের দিকে যায় তাহলে জরুরি ভিত্তিতে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

দাঁত দিয়ে নখ কাটেন?—৪ ধরনের সমস্যা হতে পারে আপনার

ওনিকোফেজিয়া বা দাঁত দিয়ে নখ কাটা খুব কমন একটি অভ্যাস। পরিসংখ্যান মোতাবেক, বিশ্বের প্রায় ২০-৩০ শতাংশ মানুষ দাঁত দিয়ে নখ কাটে।

এই অস্বাস্থ্যকর অভ্যাসটির পেছনে অনেক কারণ থাকতে পারে। যেমন অস্থিরতা, দুঃশ্চিন্তা, চাপ কিংবা খুঁতখুঁতে স্বভাব। আবার অবসেসিভ কম্পালসিভ ডিজর্ডার (ওসিডি) থেকেও অনেকের নখ কামড়ানো শুরু হয়।

দাঁত দিয়ে নখ কাটার কারণে শরীরে ব্যাকটেরিয়া আর ফাংগাস যেমন প্রবেশ করতে পারে, তেমনি এটা রোজকার সেসব ক্ষতিকর অভ্যাসগুলির একটা যাতে আপনার স্বাভাবিক আয়ু কমে যাবার আশঙ্কা থাকে।

১. নখের মধ্যে রয়েছে ক্ষতিকর সব ব্যাকটেরিয়া

ই. কোলাই ব্যাকটেরিয়া আমাদের পাকস্থলীতে বিভিন্ন ধরনের রোগের উপদ্রব ঘটায়৷ গবেষণা থেকে জানা গেছে, যারা নখ কামড়ান, তাদের মুখের লালায় এ ব্যাকটেরিয়ার পরিমাণ অন্যদের চাইতে প্রায় তিন গুণ বেশি থাকে।

একবার ভেবে দেখুন, নখের নিচে ময়লা জমলে খালি চোখেই ওই জায়গা কতটা নোংরা মনে হয়। অথবা নেইলকাটার দিয়ে নখ কাটার পর কাটা নখগুলি একসাথে জড়ো করলেও সেসব ময়লার তীব্রতা বুঝতে পারবেন৷ তাহলেই চিন্তা করুন, আপনি দেখতে পারছেন না, এমন কত ধরনের জীবাণু সেখানে থাকতে পারে!

যে ব্যাকটেরিয়াগুলি সাধারণত চামড়ার ফাঁক দিয়ে আমাদের শরীরে ঢুকে পড়ে, সেগুলি আপনার দাঁত দিয়ে নখ কাটার কারণে সহজেই মুখ দিয়ে শরীরে প্রবেশের রাস্তা পেয়ে যায়।

শুধু তাই না, নখ কামড়ানোর এই ইচ্ছাও আপনি বোধ করেন এক প্রকার ডার্মাটোফাইটিক ফাংগাসের কারণে, যা চর্মরোগ ঘটায়।

২. নখ কামড়ানো ঠাণ্ডা লাগার অন্যতম কারণ

আমাদের চারপাশে সবসময় প্রায় ২০০টি ভিন্ন প্রজাতির ব্যাকটেরিয়া ঘুরে বেড়ায় যা আপনার ঠাণ্ডা লাগার কারণ হতে পারে। যদিও এটা নির্ভর করছে আপনার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কিংবা অসুস্থ কারো সংস্পর্শে থাকা-না থাকার ওপর, তারপরও হাতগুলি মুখ থেকে যতটা সম্ভব দূরে রেখে আপনি ঠাণ্ডা লাগার সমস্যা থেকে আরো বেশি নিরাপদ থাকতে পারবেন।

কেননা, ঠাণ্ডা লাগা ও বিভিন্ন ফ্লু হবার জন্য দায়ী ভাইরাসগুলি সচরাচর আমাদের চামড়ার ওপরই থাকে।

৩. এমনকি দাঁতও নষ্ট হয়ে যেতে পারে

নখ কামড়ানো দাঁত ও মাড়ি উভয়ের জন্যে ক্ষতিকর। এতে আপনার সামনের পাটির দাঁতগুলি ধীরে ধীরে ক্ষয় হয় ও ফেটে যায়৷ তাছাড়া মাড়ির টিস্যু আঘাতপ্রাপ্ত হয় এতে। যার কারণে নানা জায়গায় ফুলে গিয়ে ব্যথা হতে পারে। কাজেই দেখা যাচ্ছে, আপনার হাসির স্বাভাবিক সৌন্দর্যের ওপরও এই অভ্যাস যথেষ্ট ক্ষতিকর প্রভাব রাখে।

মাউথগার্ড পরে থাকলে নখ কামড়ানোর অভ্যাস প্রতিরোধ করতে পারবেন। এর জন্যে কোনো ডেন্টিস্টের সাথে যোগাযোগ করুন, তার পরামর্শ অনুযায়ী চলুন।

৪. আঙুলে ইনফেকশন হবার ঝুঁকি বাড়ে

অনেকে এমন আছেন শুধু নখ কামড়েই ক্ষান্ত হন না, নখের নিচে ও আশেপাশে থাকা চামড়াও তুলে ফেলেন। নখের আশপাশের চামড়ায় এসব ফাঁকফোকরের কারণে ব্যাকটেরিয়া ভেতরে ঢুকে যায় সহজে, ফলে ইনফেকশন ছড়ানোর আশঙ্কা বাড়ে। ‘ক্রনিক প্যারোনিকিয়া’ নামে পরিচিত চামড়ার এই ইনফেকশন সারাতে অনেক সময় সার্জারিও করতে হয়।

তাছাড়া আঙুলের অনেক গভীর পর্যন্ত নখ কামড়ানোতে আমাদের নখের স্বাভাবিক আকার নষ্ট হয়ে যায়, যা পরবর্তীতে আর কখনোই আগের আকৃতিতে ফিরে আসে না।

যেসব অজানা কারণে আপনার রক্তচাপ বেড়ে যেতে পারে

কিন্তু শুধু লবণ খাওয়া এবং দুঃশ্চিন্তা ও রাগারাগি করাই আপনার রক্তচাপ বাড়ার মূল কারণ না। আরো বেশ কিছু ঘটনা আপনার রক্তচাপ আকস্মিকভাবে বাড়িয়ে দিতে পারে।
Continue reading