আপনার মৃত্যুর কারণ হতে পারে এই ১২টি খাবার

খাবার নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন গল্প থাকলেও খাবারের প্রশ্নে সবার আগে খেয়াল রাখা দরকার শরীরের জন্যে তা কতটুকু উপকারি। নতুন যোকোনো খাবার এমনকি পুরনো খাদ্যাভ্যাসের ক্ষেত্রেও মান আর উপাদান নিয়ে সবসময় সতর্ক থাকা দরকার। নিচের আলোচনায় কমন ১২টি খাবার কীভাবে বিষাক্ত হয় এবং এর তৈরি প্রক্রিয়ায় সমস্যা থাকলে কীভাবে তা খাওয়ার উপযোগিতা হারায় তার উল্লেখ থাকছে।

১২. জায়ফল
এক চা চামচ কাঁচা জায়ফলই আপনার হার্টবিট বাড়িয়ে দিতে পারে।

বহুল প্রচলিত এই মসলাটি ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ আর ইন্দোনেশিয়ায় প্রচুর পরিমাণে উৎপাদিত হয়। বীজের শ্বাসটুকুই মূলত জায়ফল হিসেবে পরিচিত। রান্নায় হালকা ঝাল মিষ্টি ধরনের স্বাদ আনে এটি।

কিন্তু এই মসলাটাই আবার দেহে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে। এক চা চামচ কাঁচা জায়ফলই আপনার হার্টবিট বাড়িয়ে দিতে পারে। মুখ শুকিয়ে যাওয়া কিংবা বমি বমি ভাবও তৈরি করতে পারে অল্প পরিমাণ অপরিপক্ক জায়ফল।

বড় কোনো অসুখ না হলেও এই ধরনের উপসর্গ কয়েক দিন পর্যন্ত ভোগাতে পারে আপনাকে। তবে উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই। আপনার মসলার কৌটায় থাকা জায়ফলগুলোর কোনোটাই আর কাঁচা নেই।

১১. মাশরুম
বিষাক্ত মাশরুম খাওয়ার সবচেয়ে ভয়ঙ্কর পরিণাম হতে পারে মৃত্যু।

জংলি মাশরুম খাওয়ার বিপদ সম্পর্কে অনেকেই জানেন না। এমনকি বিশেষজ্ঞরাও মাঝে মধ্যে খাওয়ার উপযোগী মাশরুম চিনতে ভুল করেন। বিষাক্ত মাশরুম খাওয়ার সবচেয়ে ভয়ঙ্কর পরিণাম হতে পারে মৃত্যু।

রোম সম্রাট ক্লডিয়াস, রাশিয়ার শাসক কিংবা পোপও বিষাক্ত মাশরুম খেয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন। অনেকেই বলেন, উজ্জ্বল রঙের মাশরুমই শুধু ক্ষতিকর। এই ধারণা সম্পূর্ণ ভুল।

মৃত্যু ছাড়াও বিষাক্ত মাশরুম খাওয়ার ফলে খিঁচুনি, ডায়রিয়া, অতিরিক্ত বমি হওয়া ছাড়াও কিডনি নষ্ট হয়ে যেতে পারে।

১০. কিডনি বিন (রাজমা)
শিমের বিচির প্রোটিন পাকস্থলির কোষ ধ্বংস করে।

কিডনি বিনের মতো খাদ্যবস্তুও যে বিষাক্ত হতে পারে তা ভাবা যায় না। তবে গবেষণায় উঠে এসেছে, এতে লেকটিন নামের একধরনের গ্লাইকোপ্রোটিন থাকে। এই প্রোটিন পাকস্থলির কোষ ধ্বংস করে।

এতে করে বমিভাব থেকে শুরু করে ডায়রিয়া পর্যন্ত হতে পারে। তবে এর বিষাক্ততা পরিহার করাও অনেক সোজা। কিডনি বিন রান্নার আগে অন্তত পাঁচ ঘণ্টা ভিজিয়ে রাখলে তা খাওয়ার জন্য নিরাপদ হয়। বিশেষ করে অল্প আঁচে রান্না করার আগে এই কাজটা করা উচিৎ।

৯. আপেল
বীজসহ আপেলের শ্বাস কিংবা মাঝের অংশ না খাওয়াই ভালো।

প্রবাদ আছে, দৈনিক একটা আপেল আপনাকে ডাক্তারের কাছ থেকে দূরে রাখবে। তবে এটা সবসময় সত্য না। প্রকৃতিগতভাবেই আপেলের বীজে অল্প পরিমাণে সায়ানাইড থাকে। সায়ানাইড বিষাক্ত পদার্থ হিসেবে পরিচিত। তাই বীজসহ আপেলের শ্বাস কিংবা মাঝের অংশ না খাওয়াই ভালো।

আবার চাষের সময় ব্যবহৃত কীটনাশক অনেক সময় আপেলের ত্বকে লেগে থাকে। খাওয়ার আগে তাই ফলটা ভালোভাবে ধুয়ে নেওয়া উচিৎ।

৮. পটকা মাছ
পটকা মাছের লিভার সহ অন্যান্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ অত্যন্ত বিষাক্ত।

যদি কখনও জাপান ভ্রমণে যান, তাহলে সেখানে প্রচলিত পটকা মাছ দিয়ে রান্না করা একধরনের রেসিপির দেখা পাবেন। উপযুক্ত উপায়ে রান্না করা না হলে ‘ফুগু’ নামে পরিচিত এই জাতের পটকা মাছ প্যারালাইসিস কিংবা মৃত্যুও ডেকে আনতে পারে।

এই মাছের লিভার সহ অন্যান্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ অত্যন্ত বিষাক্ত। অনেক শেফ রান্নার সময় অল্প পরিমাণে মাছের লিভার সহই রান্না করেন। এতে করে তাদের রেসিপিতে অন্যরকম স্বাদ আসে। তবে পরিমাণে তা একটু বেশি হলেই মৃত্যু নিশ্চিত।

৭. মধু
অপরিশোধিত মধুতে পাইরোলিজিডিন এলকালয়েড থাকতে পারে।

মধু সংগ্রহকারী মৌমাছিরা অনেক সময় পরাগ কিংবা রেণু বহন করার সময় বিষাক্ত উদ্ভিদের সংস্পর্শে আসে। ফলে অপরিশোধিত মধুতে পাইরোলিজিডিন এলকালয়েড থাকতে পারে। এই পদার্থ মানবদেহে লিভার সিরোসিস কিংবা ক্যান্সারের মতো রোগ সৃষ্টি করে। মধু পাস্তরিত করার মাধ্যমে বিষাক্ত এই পদার্থকে দূর করা হয়।

মধু সেবনের আরেক ঝুঁকি হলো বটুলিজম। প্রাপ্তবয়ষ্কদের ক্ষেত্রে যদিও এই প্রাণঘাতী রোগ হওয়ার সম্ভাবনা কম, তবে বাচ্চাদের ক্ষেত্রে তা খুব বেশি। তাই ১২ মাসের কম বয়সী বাচ্চাদের মধু খাওয়ানো অনুচিৎ। মধু গরম করে খাওয়ালেও এই ঝুঁকি থেকে যায়।

৬. সেলেরি
গবেষণায় সেলেরিতে প্রায় ৬৪ প্রকারের কেমিক্যাল পাওয়া গেছে।

সেলেরির মতো প্রাচীন আর রসালো উদ্ভিদে বিষাক্ত কিছু থাকতে পারে এই কথা সচরাচর কারো মাথায় আসবে না। কিন্তু গবেষণায় এতে প্রায় ৬৪ প্রকারের কেমিক্যাল পাওয়া গেছে।

বড় হওয়ার সময় সেলেরি গাছ মাটি থেকে প্রচুর পরিমাণে পানি টেনে নেয়। যেই পানিতে নানা প্রকারের কীটনাশক মিশে থাকে। সেটাই ওই শাকে থাকা কেমিক্যালের উৎস।

৫. ব্লুবেরি
ব্লুবেরিতে ৫২ ধরনের কীটনাশকের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে।

কীটনাশক আর সারের বিষক্রিয়ার আছে এমন আরেকটা খাবার হলো ব্লুবেরি। এর গাছে পোকার আক্রমণ বেশি হওয়ায় চাষীরা প্রচুর পরিমাণে কীটনাশক ব্যবহার করেন। আর ফলন বৃদ্ধির জন্যে অন্যান্য ফলের তুলনায় সারের প্রয়োগও হয় প্রচুর।

উত্তর আমেরিকার স্থানীয় ফল ব্লুবেরিতে ৫২ ধরনের কীটনাশকের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। যা একইসাথে মানবদেহ আর পরিবেশের জন্যে ক্ষতিকর।

৪. অ্যাকি ফল
কাঁচা কিংবা অতিরিক্ত পাকা অবস্থায় খেলেই শরীরে বিষক্রিয়া দেখা দেয়।

পশ্চিম আফ্রিকার স্থানীয় এই ফলটা কাঁচা কিংবা অতিরিক্ত পাকা অবস্থায় খেলেই শরীরে বিষক্রিয়া দেখা দেয়। ‘জ্যামাইকান ভমিটিং সিনড্রোম’ নামে একটা আলাদা রোগই আছে, যা শুধুমাত্র এই ফল খাওয়ার কারণেই হয়। এই রোগে এমনকি রোগীর মৃত্যু পর্যন্ত হয় অনেক সময়।

লিচু জাতীয় এই ফল জ্যামাইকার জাতীয় ফল। ফ্যাটি এসিড আর ভিটামিন সমৃদ্ধ অ্যাকি এমনিতে খেতে অনেক সুস্বাদু। এর স্বাদ অনেকটা তালের শ্বাসের মতো। ক্যালরির পরিমাণ কম থাকায় একই সাথে স্বাস্থ্যকরও।

৩. ব্রাজিল নাট
অতিরিক্ত ব্রাজিল নাট খেলে হার্ট ফেইলের সম্ভাবনা থাকে।

এই জাতের বাদামে প্রচুর পরিমাণে সেলেনিয়াম থাকে। সেলেনিয়াম দেহের জন্যে অনেক উপকারী। কয়েক ধরনের ক্যান্সার আর হৃদরোগ মোকাবেলায় সেলেনিয়ামের অবদান অনেক। থাইরয়েড গ্রন্থির কার্যক্ষমতা বাড়াতেও সেলেনিয়াম কাজে দেয়।

তবে অতিরিক্ত সেলেনিয়াম মানবদেহে নানা জটিলতা সৃষ্টির জন্যে দায়ী। মুখের দুর্গন্ধ থেকে শুরু করে হার্ট ফেইলেরও সম্ভাবনা তৈরি হয় অতিরিক্ত সেলেনিয়াম গ্রহণে। তাই ব্রাজিল নাট দিনে দুইটার বেশি খাওয়া উচিৎ না।

২. কাসু মারজু
অল্প সময়েই এই পনির খাওয়ার একদম অনুপযোগী হয়ে পড়ে।

এটা একধরনের ইতালিয়ান পনির। খাদ্য হিসেবে ইতালিতে অবৈধ। ভেড়ার দুধ থেকে তৈরি এই পনিরকে বিভিন্ন শূককীটের সংস্পর্শে রেখে গাঁজানো হয়। শূককীটদের দেহ নিঃসৃত পদার্থের প্রলেপ পড়ায় পনিরে চমৎকার একধরনের ফ্লেভার আসে।

তবে শূককীটেরা মারা গেলেই এই পনির খাওয়ার একদম অনুপযোগী হয়ে পড়ে। অর্থাৎ কাসু মারজু আপনাকে জীবন্ত শূককীট সহই খেতে হবে।

১. ফাস্ট ফুড
কয়েক ধরনের ক্যান্সার ফাস্টফুড খাওয়ার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত।

আমেরিকানদের আবিষ্কার করা এই ধরনের খাদ্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। প্রতিবছর অসংখ্য আমেরিকান নাগরিক মারা যান শুধুমাত্র ফাস্টফুড খেয়ে।

ফাস্টফুড জাতীয় খাবারগুলো ডিজাইন আর মার্কেটিং’ই করা হয় এমনভাবে যাতে ভোক্তারা আকৃষ্ট হন। ফ্যাট আর ক্যালোরিতে ভরা এই খাবার যেকোনো মানুষকে অসুস্থ বানিয়ে ফেলতে পারে। রক্তে বেশি পরিমাণে কোলেস্টরল, ডায়বেটিস, উচ্চ রক্তচাপ কিংবা স্থূলতার সমস্যাও তৈরি হয় ফাস্টফুড থেকে। আর এই রোগগুলোই একটা সময় হৃদরোগ হওয়ার পেছনে ভূমিকা রাখে। কয়েক ধরনের ক্যান্সারও ফাস্টফুড জাতীয় খাবার খাওয়ার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত।

বেঁচে থাকার জন্য আমরা খাদ্য গ্রহণ করলেও এই খাদ্যই আমাদের ক্ষতি করতে পারে। তাই খাওয়ার আগে যা খাচ্ছি তা নিয়ে আমাদের একটু ভাবা উচিৎ।

সূত্র: হেলথ অ্যান্ড হিউমেন রিসার্চ

মাইকেল পোলান এর ‘ইন ডিফেন্স অফ ফুড’ থেকে

পুনরায় নিজের খাবারের উপর দখল নেয়া, ইন্ডাস্ট্রি এবং সায়েন্সের হাত থেকে একে মুক্ত করাটা কোনো ছোটখাটো ব্যাপার না।

Continue reading

মাইকেল পোলান এর মত করে রান্না করবেন যেভাবে

মাইকেল পোলান অডানবন ম্যাগাজিনকে সম্প্রতি দেওয়া একটা সাক্ষাৎকারে বলেন, একটা কাঁটা চামচও জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে শক্তিশালী অস্ত্র হয়ে উঠতে পারে। মাইকেল পোলান একজন লেখক, সাংবাদিক, অ্যাক্টিভিস্ট এবং হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটির প্র্যাকটিস অব নন-ফিকশন এবং ইউএস বার্কেলি গ্র্যাজুয়েট স্কুল অভ জার্নালিজমে জার্নালিজমের প্রফেসর।

তার মতে, পরিবেশে প্রতিনিয়ত যে ক্ষতিকর গ্রিন হাউজ গ্যাস তৈরি হচ্ছে তার জন্য অনেকাংশে দায়ী আমাদের ফুড সিস্টেম। এই ব্যাপারে আমরা একটু সচেতন হলেই পানি, বাতাস এবং মাটি দূষণ কমে আসবে। তার পরিবর্তে প্রকৃতির এই উপাদানগুলিই পরিবেশকে পরিচ্ছন্ন রাখবে, এখান থেকেই আমরা স্বাস্থ্যকর খাবার উৎপাদন করতে পারব।

মাইকেল পোলান বলেন, বাজার করা, সবজি চাষ করা এবং বাজার করতে কাপড়ের ব্যাগ ব্যবহার করা জলবায়ুর পরিবর্তনের দ্রুত প্রক্রিয়াকে আটকানোর সব থেকে ভাল উপায়। তিনি আরো কিছু সহজ পদ্ধতির কথা উল্লেখ করেন যেগুলি আমরা সচরাচর এড়িয়ে যাই। কিন্তু, এগুলি থেকেই আমরা অনেক উপকার পেতে পারি।

এ বিষয়ে তিনি ৪টি পরামর্শ দেন:

১. হিমায়িত খাবার কিনুন

প্রক্রিয়াজাত খাবার সাধারণত অতটা সস্তা না। তবে কাঁচা উপাদান ব্যবহার করে রান্না করলে খুব অল্প খরচেই খাবার পা‌ওয়া সম্ভব। তিনি বলেন, হিমায়িত ভেজিটেবল খারাপ না। তা দামেও সস্তা। আপনি যদি চাষীর কাছ থেকে টাটকা পালং শাক নাও কিনতে পারেন, এক বাক্স হিমায়িত পালং শাক কিনে নিন। জিনিসটা পণ্য হিসেবে যেমন ভাল, তেমনি প্যাকেট করার আগে ধুয়ে নেওয়া হয় বলে ব্যবহারও সুবিধাজনক আর রান্না হতেও বেশি সময় লাগে না।

আমার মনে হয় মানুষের প্রবণতা হচ্ছে, সবসময় ফাস্ট ফুড অথবা চাষীদের কাছ থেকে কিছু একটা বাছাই করে কিনতে চায়। কিন্তু বিষয়টা হওয়া উচিত আসল আর প্রক্রিয়াজাত খাবারের মধ্যে কোনটা খাবে সেইটা। আসল খাবার প্রক্রিয়াজাত খাবারের তুলনায় সস্তা। খাবার শুধু চাষীদের কাছ থেকে কিনতে পারলেই সেটা ভাল, এমন না। খাবার বাছাইয়ে ওই ছোট্ট পরিবর্তন এনেও আপনি ভাল খাবার পেতে পারেন।

২. কুকিং শোতে আছেন এমন ভঙ্গিতে রান্না করবেন না

টাটকা খাবার বানানো আর যতটা সম্ভব প্রসেসড বা প্রক্রিয়াজাত খাবার কম খাওয়া যায়—তা’ই খাওয়ার উদ্দেশ্য হওয়া উচিত। পোলান বলেন, কিন্তু অনেকেই এই সামান্য কাজটা করতে হিমশিম খান। হয় তারা রান্না করতে পারে না, নইলে টিভিতে এক্সপার্টদের রান্না করতে দেখে রান্না বিষয়ে ভয় ঢুকে গেছে তাদের মধ্যে। বা হাতে সময় নেই হয়ত, অথবা টিভির ওই কুকিং শোগুলি দেখে তারা ধরেই নিয়েছে রান্না অনেক সময়সাপেক্ষ জিনিস।

কিন্তু প্রত্যেক দিন রাতের জন্য রান্না করার অর্থ তো একটা পুরো বিয়ে বাড়ির খাবারের আয়োজন করা না। এর পিছনে আধা ঘণ্টার বেশি সময় দেওয়ার প্রয়োজন নাই। ভাল খাবার রান্না করার বদলে অনলাইনে বসে থাকা বা কুকিং শো উপভোগ করাটা স্মার্ট ডিসিশন না। আমাদের দেখতে হবে আমরা আসলে কোথায় সময় ব্যয় করছি, কোন জিনিসটা আমাদের জন্য বেশি জরুরি।

৩. ফ্রিজে কী আছে দেখুন

কুকিং শো দেখে এক হাজারটা উপকরণ নিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা রান্নাঘরে ব্যয় না করে সেখানে যা যা আছে তা দিয়ে ঝটপট কিছু একটা বানিয়ে ফেলুন। পোলান বলেন, যেমন আমার ফ্রিজে সবসময় আমি ফ্রোজেন পালং শাক রাখি। সঙ্গে ক্যান করা ওয়াইল্ড স্যামন মাছ আর পাস্তা থাকে। ওই তিনটা উপকরণ দিয়ে আর সাথে হয়ত একটু অলিভ অয়েল, রসুন সঙ্গে বাগানে যদি ওইসময় পুদিনা পাতা পাই তা দিয়েই মাত্র ২০ মিনিটের মধ্যে আমি আমার পছন্দের রেসিপি বানিয়ে ফেলি।

পালং শাকগুলি ফ্রিজ থেকে বের করে ডিফ্রস্ট হতে রেখে দেই, পাস্তাটা রান্না করি, পালং শাকগুলি পাস্তায় দিয়ে তার সঙ্গে ভেজে নেই, স্যামন মাছের ক্যান খুলে তার উপর দিয়ে দেই। এরপরে হয়ত একটু পুদিনা পাতা দেই বা একটু বাড়তি অলিভ অয়েল ছিটিয়ে দেই, ব্যস আমার খাবার রেডি। এইটা স্বাদেও অসাধারণ।

আসলে রান্নার অভ্যাস থাকলে, ঘরে সবসময়ই কিছু না কিছু থাকবে আপনার। একটু কৌশলী হলেই ব্যাপারটায় অভ্যাস হয়ে যায়, এর পিছনে সারা জীবন ব্যয় করতে হবে না।

৪. কাজ ভাগ করে নিন

রান্না নিয়ে মূল সমস্যাগুলির একটা হল, কাজটাকে সম্পূর্ণই মহিলাদের দায়িত্ব বলে ধরা হয়। এই কারণেই জিনিসটা করা এত কঠিন হয়ে দাঁড়ায়, তার উপর যিনি করছেন তিনি যদি হন কর্মজীবী। তাই, আমার মনে হয় পরিবারের পুরুষ আর বাচ্চাদেরকেও এতে অংশগ্রহণ করানো উচিত। ভাগাভাগি করে করলে কোনো কাজই আর অত কঠিন থাকে না।

রান্না নিয়ে এই সমস্যাটা তৈরি হয়েছে এটাকে যখন আমরা একজন নির্দিষ্ট মানুষের কাজ হিসাবে আলাদা করে দিয়েছি। কিন্তু, আপনি যদি একবার আপনার বাচ্চাদের নিয়ে কাজটা করে দেখেন, তাহলে দেখবেন রান্নাটা বরং একটা আনন্দদায়ক কাজ।

মাইকেল পোলানের মতো রান্না করবেন যেভাবে

সম্প্রতি অডানবন ম্যাগাজিনকে দেওয়া একটা সাক্ষাৎকারে মাইকেল পোলান বলেন, কীভাবে একটা কাঁটা চামচ জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে শক্তিশালী অস্ত্র হয়ে উঠতে পারে। মাইকেল পোলান একজন লেখক, সাংবাদিক, আ্যাকটিভিস্ট এবং ইউএস বার্কেলি গ্র্যাজুয়েট স্কুল অভ জার্নালিজমে জার্নালিজমের প্রফেসর।

তিনি বলেন, পরিবেশে প্রতিনিয়ত যে ক্ষতিকর গ্রীন হাউজ গ্যাস তৈরি হচ্ছে তার জন্য অনেকাংশে দায়ী অামাদের ফুড সিস্টেম। এই ব্যাপারে অামরা একটু সচেতন হলেই পানি, বাতাস এবং মাটি দূষণ কমে অাসবে। তার পরিবর্তে প্রকৃতির এই উপাদানগুলোই পরিবেশকে পরিচ্ছন্ন রাখবে, এখান থেকেই অামরা স্বাস্থ্যকর খাবার উৎপাদন করতে পারব। বাজার করা, সবজি চাষ করা এবং বাজারে কাপড়ের ব্যাগ ব্যবহার করা জলবায়ুর পরিবর্তনের দ্রুত প্রক্রিয়াকে অাটকানোর সব থেকে ভালো উপায়। তিনি অারো কিছু সহজ পদ্ধতির কথা উল্লেখ করেন যেগুলো অামরা সচরাচর এড়িয়ে যাই। কিন্তু, এগুলো থেকেই অামরা অনেক উপকার পেতে পারি-

 

১. হিমায়িত খাবার কিনুন

প্রক্রিয়াজাত খাবার সাধারণত অতটা সস্তা না। তবে কাঁচা উপাদান ব্যবহার করে রান্না করলে খুব অল্প খরচেই খাবার পা‌ওয়া সম্ভব। তিনি  বলেন, হিমায়িত ভেজিটেবল খারাপ না। তা দামেও সস্তা। অাপনি যদি চাষীর কাছ থেকে টাটকা পালংশাক নাও কিনতে পারেন, এক বাক্স হিমায়িত পালংশাক কিনে নিন। জিনিসটা পণ্য হিসেবে যেমন ভালো, তেমনি প্যাকেট করার আগে ধুয়ে নেওয়া হয় বলে ব্যবহারও সুবিধাজনক আর রান্না হতেও বেশি সময় লাগে না।

অামার মনে হয় মানুষের প্রবণতা হচ্ছে, সবসময় ফাস্ট ফুড অার চাষীদের কাছ থেকে কেনা যেকোনো একটা বাছাই করতে চায়। কিন্তু বিষয়টা হওয়া উচিত অাসল অার প্রক্রিয়াজাত খাবারের মধ্যে কোনটা খাবে সেইটা। অাসল খাবার প্রক্রিয়াজাত খাবারের তুলনায় সস্তা। খাবার শুধু চাষীদের কাছ থেকে কিনতে পারলেই সেটা ভালো, এমন না। খাবার বাছাইয়ে ওই ছোট্ট পরিবর্তন এনেও আপনি ভালো খাবার পেতে পারেন।

 

২. কোনো কুকিং শোতে আছেন এমন ভেবে রান্না করবেন না

টাটকা খাবার বানানো আর যতটা সম্ভব প্রসেসড বা প্রক্রিয়াজাত খাবার কম খাওয়া যায়-তা’ই খাওয়ার উদ্দেশ্য হওয়া উচিত। পোলান বলেন, কিন্তু অনেকেই এই সামান্য কাজটা করতে হিমশিম খান। হয় তারা রান্না করতে পারে না, নইলে টিভিতে এক্সপার্টদের রান্না করতে দেখে দেখে রান্না বিষয়ে ভয় ঢুকে গেছে তাদের মধ্যে। বা তাদের হাতে হয়ত সময় নেই, বা টিভির কুকিং শোগুলো দেখে তারা ধরেই নিয়েছে রান্না অনেক সময়সাপেক্ষ জিনিস। কিন্তু প্রত্যেক রাতের খাবার রান্নার অর্থ তো একটা পুরো বিয়ে বাড়ির খাবারের অায়োজন করা না। এর পিছনে অাধাঘন্টার বেশি সময় দেওয়ার প্রয়োজন নাই। ভালো খাবার রান্না করার চাইতে অনলাইনে বসে থাকা বা কুকিং শো উপভোগ করাটা স্মার্ট ডিসিশন না। অামাদের দেখতে হবে অামরা অাসলে কোথায় সময় ব্যয় করছি, কোন জিনিসটা অামাদের জন্য বেশি জরুরী।

 

৩. ফ্রিজে কি অাছে দেখুন

কুকিং শো দেখে এক হাজারটা উপকরণ নিয়ে ঘন্টার পর ঘন্টা রান্না ঘরে ব্যয় না করে রান্নাঘরে যা আছে তা দিয়ে ঝটপট কিছু একটা বানিয়ে ফেলুন। পোলান বলেন, যেমন আমার ফ্রিজে সবসময় অামি ফ্রোজেন পালংশাক রাখি। সঙ্গে ক্যান করা ওয়াইল্ড স্যামন মাছ অার পাস্তা থাকে। ওই তিনটা উপকরণ দিয়ে আর সাথে হয়তো একটু অলিভ অয়েল, রসুন অার বাগানে যদি ওইসময় পুদিনা পাতা থাকে তা দিয়েই মাত্র ২০ মিনিটের মধ্যে অামি অামার পছন্দের রেসিপি বানিয়ে ফেলি।

পালংশাকগুলো ফ্রিজ থেকে বের করে ডিফ্রস্ট হতে রেখে দেই, পাস্তাটা রাস্তা করি, পালংশাকগুলো পাস্তায় দিয়ে তার সঙ্গে ভেজে নেই, স্যামন মাছের ক্যান খুলে তার উপর দিয়ে দেই। এরপরে হয়তো একটু পুতিনা পাতা দেই বা একটু বাড়তি অলিভ অয়েল ছিটিয়ে দেই, ব্যস অামার খাবার রেডি। এটা স্বাদেও অসাধারণ।

অাসলে রান্নার অভ্যাস থাকলে, ঘরে সবসময়ই কিছু না কিছু থাকবে অাপনার। একটু কৌশলী হলেই ব্যাপারটায় অভ্যাস হয়ে যায়, এর পিছনে অাপনাকে সারা জীবন ব্যয় করতে হবে না।

 

৪. কাজ ভাগ করে নিন

রান্না নিয়ে মূল সমস্যাগুলোর একটা হলো এটা সম্পূর্ণই মহিলাদের দায়িত্ব বলে ধরা হয়। এই কারণেই কাজটা করা এত কঠিন হয়ে দাড়ায়, তার উপর যিনি করছেন তিনি যদি কর্মজীবী হন। তাই, আমার মনে হয় পরিবারের পুরুষ অার বাচ্চাদেরকেও এতে অংশগ্রহণ করানো উচিত। ভাগাভাগি করে করলে কোনো কাজই অার অত কঠিন না।

রান্না নিয়ে মূল সমস্যাটা তৈরি হয়েছে যখন এটাকে অামরা একজন নির্দিষ্ট মানুষের কাজ হিসাবে অালাদা করে দিয়েছি। কিন্তু, অাপনি যদি একবার অাপনার বাচ্চাদের নিয়ে কাজটা করে দেখেন, তাহলে দেখবেন রান্নাটা বরং একটা আনন্দদায়ক কাজ।