“গণতন্ত্রে একজন ভোটারের অজ্ঞতাও সবার নিরাপত্তাকে দুর্বল করে দেয়।”
— জন এফ. কেনেডি
জন এফ. কেনেডি (১৯১৭–১৯৬৩) ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের ৩৫তম প্রেসিডেন্ট এবং আধুনিক আমেরিকার অন্যতম প্রভাবশালী নেতা। তিনি ১৯৬১ সালে প্রেসিডেন্ট হিসাবে দায়িত্ব নেন এবং কোল্ড ওয়্যার-এর কঠিন সময়ে দেশকে নেতৃত্ব দেন। কিউবান মিসাইল সংকট মোকাবিলায় তার ভূমিকা ইতিহাসে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। তিনি নাগরিক অধিকার আন্দোলনকে সমর্থন করেছিলেন এবং বৈষম্য দূর করার পক্ষে জোরালোভাবে কথা বলেছিলেন।
তিনি পারমাণবিক অস্ত্র পরীক্ষার সীমাবদ্ধতা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেন। ১৯৬৩ সালে তার নেতৃত্বেই Partial Nuclear Test Ban Treaty স্বাক্ষরিত হয়, যা বায়ুমণ্ডলে পারমাণবিক পরীক্ষা বন্ধ করতে সাহায্য করে এবং ভবিষ্যতের অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ চুক্তির ভিত্তি তৈরি করে।
তিনি মানসিক স্বাস্থ্যসেবা সংস্কার নিয়ে উদ্যোগ নিয়েছিলেন। সে সময় মানসিক রোগীদের প্রতি সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি ছিল কঠোর ও অবহেলাপূর্ণ। কেনেডি কমিউনিটি-ভিত্তিক মানসিক স্বাস্থ্য কেন্দ্র গড়ার পরিকল্পনা করেন, যা পরবর্তীতে বড় পরিবর্তনের সূচনা করে।
তার স্ত্রী জ্যাকলিন কেনেডি (জ্যাকি) ছিলেন অত্যন্ত জনপ্রিয় ও আলোচিত ফার্স্ট লেডি। তিনি তার রুচিশীল ব্যক্তিত্ব, সাংস্কৃতিক আগ্রহ এবং হোয়াইট হাউসকে ঐতিহাসিকভাবে সংরক্ষণ ও সাজানোর উদ্যোগের জন্য বিখ্যাত ছিলেন। ১৯৬৩ সালে কেনেডি আততায়ীর গুলিতে নিহত হলেও তিনি আজও তরুণ নেতৃত্ব, সাহসী দৃষ্টিভঙ্গি এবং পরিবর্তনের প্রতীক হিসাবে স্মরণীয়। কেনেডি শুধু একজন জনপ্রিয় নেতা নন—তিনি এমন কিছু নীতিগত ভিত্তি রেখে গেছেন, যেগুলি আজও বিশ্ব রাজনীতি ও সমাজ উন্নয়নের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব রেখে চলেছে।
ভোট — জন এফ. কেনেডি

