৭৬তম বার্লিন চলচ্চিত্র উৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান, ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

বার্লিন চলচ্চিত্র উৎসব ২০২৬ শুরু হওয়ার আগেই উৎসবটি বড় ধরনের রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে চলে এসেছে। এবারের প্রতিযোগিতা বিভাগের জুরি, যাদের নেতৃত্বে রয়েছেন বিখ্যাত জার্মান পরিচালক ভিম ভেন্ডার্স, সংবাদ সম্মেলনে গাজায় চলমান যুদ্ধ এবং ইসরায়েলের প্রতি জার্মান সরকারের সমর্থন নিয়ে একাধিক প্রশ্নের মুখোমুখি হন।


সাম্প্রতিক ডেস্ক


এই পরিস্থিতির মধ্যেই ভারতীয় ঔপন্যাসিক ও অধিকারকর্মী অরুন্ধতী রায় ঘোষণা করেন, তিনি বার্লিনালে ২০২৬-এ অংশ নেবেন না। কারণ হিসাবে তিনি জুরি সদস্যদের বক্তব্যকে “অমার্জনীয়” এবং মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ নিয়ে আলোচনা বন্ধ করার প্রচেষ্টা বলে উল্লেখ করেন।

ভেন্ডার্স ব্যাখ্যা করেন, চলচ্চিত্র পৃথিবী বদলাতে পারে, কিন্তু রাজনৈতিকভাবে নয়।

অরুন্ধতী রায়ের বিবৃতিতে উঠে আসে ব্যক্তিগত আবেগ, শিল্পের দায়িত্ব এবং গাজা প্রসঙ্গে তার স্পষ্ট রাজনৈতিক অবস্থান।

অরুন্ধতী রায়ের সম্পূর্ণ বিবৃতি

নিচে রায়ের বক্তব্যটি অপরিবর্তিতভাবে দেওয়া হল

“In Which Annie Gives It Those Ones, একটি কল্পনাময় ও মজার চলচ্চিত্র, যেটি আমি ৩৮ বছর আগে লিখেছিলাম, সেটি বার্লিন চলচ্চিত্র উৎসব ২০২৬-এর ক্লাসিকস বিভাগে প্রদর্শনের জন্য নির্বাচিত হয়েছে। বিষয়টি আমার কাছে খুবই মিষ্টি এবং আনন্দের ছিল।

যদিও ফিলিস্তিন বিষয়ে জার্মান সরকার এবং বিভিন্ন জার্মান সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের অবস্থান আমাকে গভীরভাবে বিচলিত করেছে, তবুও গাজায় চলমান গণহত্যা সম্পর্কে আমার মতামত যখনই আমি জার্মান দর্শকদের সামনে তুলে ধরেছি, আমি সবসময় রাজনৈতিক সংহতি পেয়েছি। এই সমর্থনই আমাকে বার্লিনালে গিয়ে Annie-র প্রদর্শনীতে উপস্থিত থাকার কথা ভাবতে সাহায্য করেছিল।

আজ সকালে, বিশ্বের কোটি কোটি মানুষের মত আমিও বার্লিন চলচ্চিত্র উৎসবের জুরি সদস্যদের সেই অমার্জনীয় বক্তব্য শুনলাম, যখন তাদের গাজায় সংঘটিত গণহত্যা নিয়ে মন্তব্য করতে বলা হয়েছিল। তাদের মুখে শুনলাম যে শিল্প রাজনৈতিক হওয়া উচিত নয়—এটা সত্যিই বিস্ময়কর এবং হতবাক করে দেওয়ার মত।

এটা এমন এক কৌশল, যার মাধ্যমে মানবতার বিরুদ্ধে সংঘটিত একটি ভয়াবহ অপরাধ নিয়ে আলোচনা বন্ধ করে দেওয়া হয়, ঠিক তখনই যখন সেই অপরাধ আমাদের চোখের সামনে বাস্তব সময়েই ঘটছে—যখন শিল্পী, লেখক এবং চলচ্চিত্র নির্মাতাদের উচিত ছিল তাদের সব শক্তি দিয়ে এটিকে থামানোর চেষ্টা করা।

আমি একেবারে স্পষ্ট করে বলছি: গাজায় যা ঘটেছে—এবং যা এখনও ঘটছে—তা হল ইসরায়েল রাষ্ট্রের দ্বারা ফিলিস্তিনি জনগণের বিরুদ্ধে পরিচালিত একটি গণহত্যা। এই যুদ্ধকে সমর্থন ও অর্থায়ন করছে যুক্তরাষ্ট্র এবং জার্মানির সরকার, পাশাপাশি ইউরোপের আরও কয়েকটি দেশ। ফলে তারা সবাই এই অপরাধে জড়িত এবং দায়ী হয়ে দাঁড়িয়েছে।

যদি আমাদের সময়ের সবচেয়ে বড় চলচ্চিত্র নির্মাতা ও শিল্পীরা দাঁড়িয়ে এই সত্য বলতে না পারেন, তাহলে তাদের জানা উচিত, ইতিহাস তাদের বিচার করবে। আমি স্তম্ভিত এবং গভীর ঘৃণায় আক্রান্ত।

অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে আমাকে বলতে হচ্ছে, আমি বার্লিন চলচ্চিত্র উৎসবে উপস্থিত থাকতে পারব না।”

অরুন্ধতী রায়
১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

‘In Which Annie Gives It Those Ones’ সম্পর্কে

অরুন্ধতী রায়ের চিত্রনাট্যে নির্মিত ‘In Which Annie Gives It Those Ones’ (১৯৮৯) একটি টেলিভিশন চলচ্চিত্র, যা ভারতের স্থাপত্যবিদ্যা শিক্ষার্থীদের জীবন নিয়ে তৈরি। চলচ্চিত্রটিতে অভিনয় করেছিলেন শাহরুখ খান, অরুন্ধতী রায় নিজে এবং অন্যান্যরা। প্রদীপ কৃষেণ পরিচালিত এই চলচ্চিত্রটি ভারতীয় টেলিভিশনে একটি কাল্ট ক্লাসিক হিসাবে বিবেচিত।


ইউটিউবে In Which Annie Gives It Those Ones

জুরির বক্তব্য ঘিরে বিতর্কের সূত্রপাত

এই বিতর্কের সূচনা হয় ১৩ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত বার্লিন চলচ্চিত্র উৎসবের জুরি সংবাদ সম্মেলনে। ভিডিও সাংবাদিক টিলো ইয়ুং জুরিকে প্রশ্ন করেন কেন উৎসব ইরান ও ইউক্রেনের মানুষের প্রতি সংহতি দেখালেও ফিলিস্তিনিদের ক্ষেত্রে সেই সংহতি নির্বাচিতভাবে প্রয়োগ করা হচ্ছে।

তিনি পরে সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্স (X)-এ টুইট করে লেখেন:

“বার্লিনালে ফিলিস্তিন নিয়ে প্রশ্ন করবেন না!… ভিম ভেন্ডার্স সত্যিই বলেছেন: ‘আমাদের রাজনীতি থেকে দূরে থাকতে হবে।'”

টিলো ইয়ুং একজন জার্মান ভিডিও সাংবাদিক, যিনি তার ইউটিউব চ্যানেল ‘Jung & Naiv’ (ইয়ং অ্যান্ড নেইভ”) এর জন্য পরিচিত। মূলধারার সাংবাদিকরা যেখানে সরকারি সংবাদ সম্মেলনে সাজানো প্রশ্ন করেন, ইয়ুং সেখানে সরাসরি এবং অস্বস্তিকর প্রশ্ন তোলার জন্য পরিচিত। তিনি কোনো বড় মিডিয়া প্রতিষ্ঠানের অধীনে নন, দর্শকদের অর্থায়নে স্বাধীনভাবে কাজ করেন।

তার প্রশ্নটি আসলে একটি সহজ পর্যবেক্ষণকে সামনে এনেছিল। বার্লিন চলচ্চিত্র উৎসব ২০২৬ শুরুই হয়েছে একজন ইরানি-আমেরিকান পরিচালকের চলচ্চিত্র দিয়ে। কারণ ইরানে চলচ্চিত্র নির্মাতারা রাষ্ট্রীয় নির্যাতনের শিকার এবং উৎসব সেই বার্তাটি দিতে চেয়েছে। ইউক্রেন যুদ্ধের সময়ও একইভাবে প্রকাশ্যে সংহতি জানানো হয়েছিল। কিন্তু গাজার কথা উঠতেই বলা হল “শিল্প রাজনৈতিক নয়।”

ইয়ুং মূলত এটাই জিজ্ঞেস করছিলেন—একটি নির্যাতনের পাশে দাঁড়ানো হবে, আরেকটির বেলায় চুপ থাকা হবে, এই বাছাইটা নিজেই একটা রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত। নীরব থাকাও একটা পক্ষ নেওয়া।

ভিম ভেন্ডার্সের অবস্থান: “চলচ্চিত্র রাজনৈতিক নয়”

গাজা যুদ্ধ এবং জার্মান সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠলে জুরি চেয়ারম্যান ভিম ভেন্ডার্স (Wim Wenders) বলেন, চলচ্চিত্র নির্মাতাদের উচিত রাজনীতির বাইরে থাকা।

ভেন্ডার্স, যিনি জার্মান নিউ সিনেমার অন্যতম প্রধান পরিচালক এবং ‘Paris, Texas’ (১৯৮৪) ও ‘Wings of Desire’ (১৯৮৭)-এর মত কালজয়ী চলচ্চিত্রের স্রষ্টা, ২০২৩ সালে তার ডকুমেন্টারি ‘Anselm’-এর জন্য অসংখ্য আন্তর্জাতিক পুরস্কার পেয়েছেন। তিনি কান চলচ্চিত্র উৎসবে পালমে দ’অর এবং বার্লিন চলচ্চিত্র উৎসবে গোল্ডেন বিয়ার জয়ী পরিচালক।

ভেন্ডার্স ব্যাখ্যা করেন, চলচ্চিত্র পৃথিবী বদলাতে পারে, কিন্তু রাজনৈতিকভাবে নয়। তার মতে, কোনো চলচ্চিত্র রাজনীতিবিদদের সিদ্ধান্ত বদলাতে পারে না, তবে সাধারণ মানুষের চিন্তাভাবনা এবং জীবনযাপনের ধারণা বদলাতে পারে।

ভেন্ডার্স বলেন, পৃথিবীতে সাধারণ মানুষ যেভাবে জীবন কাটাতে চায় এবং সরকারগুলি যেভাবে ভাবতে চায়—এই দুইয়ের মধ্যে বড় ফারাক রয়েছে। চলচ্চিত্র সেই ফারাকের জায়গাতেই কাজ করে।

ইওয়া পুশ্চিন্সকার মন্তব্য: প্রশ্ন “কিছুটা অন্যায্য”

জুরি সদস্য ইওয়া পুশ্চিন্সকা (Ewa Puszczynska) প্রথমে উত্তর দিয়ে বলেন, প্রশ্নটি তার কাছে “কিছুটা অন্যায্য” মনে হয়েছে।

পুশ্চিন্সকা একজন প্রভাবশালী পোলিশ প্রযোজক, যিনি ‘Ida’ (২০১৩) চলচ্চিত্রের জন্য অস্কার এবং বাফটা পুরস্কার জিতেছেন। তিনি পাভেল পাভলিকোভস্কির সাথে দীর্ঘদিনের সহযোগী এবং ইউরোপীয় আর্ট হাউস সিনেমায় একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব।

তিনি বলেন, শিল্পীরা দর্শকদের ভাবতে উদ্বুদ্ধ করতে পারেন, কিন্তু দর্শক রাজনৈতিকভাবে কাকে সমর্থন করবে—ইসরায়েল না ফিলিস্তিন—সেই সিদ্ধান্তের দায় শিল্পীদের ওপর চাপানো যায় না।

তিনি আরও যোগ করেন, পৃথিবীতে আরও অনেক যুদ্ধ ও গণহত্যা ঘটছে, কিন্তু সব বিষয়ে আলোচনা হয় না, তাই বিষয়টি অত্যন্ত জটিল।

লাইভ সম্প্রচার বন্ধ হওয়া এবং বার্লিনালের ব্যাখ্যা

এই প্রশ্নোত্তরের সময় সংবাদ সম্মেলনের লাইভ সম্প্রচারে প্রযুক্তিগত সমস্যা দেখা দেয়। সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকেই প্রশ্ন করেন, ইচ্ছাকৃতভাবে‌ই কি সম্প্রচার বন্ধ করা হয়েছিল?

তবে বার্লিন চলচ্চিত্র উৎসব কর্তৃপক্ষ পরে জানায়, এটি ছিল কেবল প্রযুক্তিগত সমস্যা এবং পুরো ভিডিও রেকর্ডিং দ্রুত ওয়েবসাইট ও ইউটিউবে প্রকাশ করা হবে।

ভেন্ডার্সের নিজের কথার বিপরীতে তার বক্তব্য: একটি বিতর্ক

ভেন্ডার্সের “রাজনীতি থেকে দূরে থাকার” এই আহ্বান সোশ্যাল মিডিয়ায় তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে, বিশেষত যখন চলচ্চিত্র সমালোচক ও সাংবাদিকরা তার নিজের লেখা তুলে ধরেন।

১৯৯১ সালে প্রকাশিত তার বই “The Logic of Images: Essays and Conversations”-এ ভেন্ডার্স লিখেছিলেন:

“প্রতিটি চলচ্চিত্রই রাজনৈতিক। সবচেয়ে বেশি রাজনৈতিক হল সেই চলচ্চিত্রগুলি যারা রাজনৈতিক না হওয়ার ভান করে—’বিনোদন’ চলচ্চিত্রগুলি। এসবই সবচেয়ে রাজনৈতিক চলচ্চিত্র, কারণ এগুলি পরিবর্তনের সম্ভাবনাকে অস্বীকার করে। প্রতিটি ফ্রেমে তারা আপনাকে বলে যে সবকিছু যেমন আছে ঠিক তেমনই ভাল আছে।”

এই উদ্ধৃতি ব্যাপকভাবে শেয়ার করা হয় এবং অনেকে এটিকে বর্তমান প্রেক্ষাপটে গভীর বিদ্রূপাত্মক বলে উল্লেখ করেন। চলচ্চিত্র বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন যে, ভেন্ডার্স নিজেই একসময় বিশ্বাস করতেন যে রাজনৈতিক না হওয়ার দাবি আসলে একটি রাজনৈতিক অবস্থান—যা বিদ্যমান ক্ষমতা কাঠামোকে সমর্থন করে।

‘Hyperallergic’ ম্যাগাজিনে ২০২৫ সালে প্রকাশিত একটি প্রবন্ধে উল্লেখ করা হয়েছিল যে ভেন্ডার্সের সাম্প্রতিক কাজেও এই স্ববিরোধিতা লক্ষ্য করা যায়—তার ‘Anselm’ (২০২৩) ডকুমেন্টারিতে রাজনৈতিক প্রসঙ্গ এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে, যদিও শিল্পী আনসেলম কিফারের কাজ জার্মানির যুদ্ধ-পরবর্তী ইতিহাস ও ট্রমার সঙ্গে গভীরভাবে সংযুক্ত। উল্লেখ্য, ‘Anselm’ চলচ্চিত্রটি জার্মান ভিজ্যুয়াল শিল্পী আনসেলম কিফারের জীবন ও কাজের ওপর নির্মিত একটি ডকুমেন্টারি, যেখানে কিফারের শিল্পকর্মে নাৎসি যুগ, হলোকস্ট এবং জার্মান জাতীয় পরিচয়ের মত গভীর রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক বিষয়াবলী উঠে আসে।

এই বিতর্ক উত্থাপন করে যে, শিল্প কি সত্যিই রাজনীতি থেকে আলাদা থাকতে পারে? নাকি “নিরপেক্ষ” থাকার দাবি নিজেই একটি রাজনৈতিক অবস্থান?

সমালোচকরা আরও উল্লেখ করেছেন যে, “রাজনীতি থেকে দূরে থাকার” এই আহ্বান অনেকটা ১৯৫০-এর দশকের ম্যাকার্থিবাদী নীতির কথা মনে করিয়ে দেয়—যখন আমেরিকার রিপাবলিকান সিনেটর জোসেফ ম্যাকার্থির নেতৃত্বে শিল্পী ও বুদ্ধিজীবীদের নির্দিষ্ট কিছু রাজনৈতিক বিষয়ে কথা বলতে নিরুৎসাহিত করা হত এবং সমালোচনা করলে তাদের ‘কালো তালিকাভুক্ত’ করা হত। এমনকি যাদের ওপর সন্দেহ হত, তাদের চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হত এবং ভবিষ্যতে অন্য কোথাও যেন তারা কাজ না পায়, সেই ব্যবস্থা করা হত। বিশেষ কোনো রাজনৈতিক আদর্শ বা দেশের বিরুদ্ধে কথা বললে তাকে ‘রাষ্ট্রের শত্রু’ হিসাবে চিহ্নিত করে সামাজিক বা পেশাগতভাবে একঘরে করে দেওয়া হত।

এখনও বিশ্বের অনেক দেশে এই পরিস্থিতি বিরাজ করে। তবে জার্মানিতে চলচ্চিত্র নির্মাতা ও বুদ্ধিজীবীদের মাধ্যমে একই ধরনের পরিবেশ সৃষ্টির চেষ্টা দেখা যাচ্ছে—যা অত্যন্ত হতাশাজনক।

উৎসবের শুরু ও সময়সীমা

বার্লিন আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের ৭৬তম আয়োজন শুরু হয় ১৩ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার রাতে ইরানি-আমেরিকান পরিচালক শাহরবানু সাদাতের চলচ্চিত্র “No Good Men”-এর প্রিমিয়ার দিয়ে। উৎসব চলবে ২২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।

এই বিতর্ক বার্লিন চলচ্চিত্র উৎসবের ৭৬তম আসরে শিল্প, রাজনীতি এবং মানবিক সংকট নিয়ে শিল্পীদের দায়বদ্ধতা সম্পর্কে বৃহত্তর প্রশ্ন উত্থাপন করেছে।