Subscribe Now
Trending News

Blog Post

গৃহপালিত হওয়ার কারণে ছোট হয়ে আসছে গরুর মস্তিষ্ক
নিউজ

গৃহপালিত হওয়ার কারণে ছোট হয়ে আসছে গরুর মস্তিষ্ক 

জুরিখ বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক খুঁজে বের করেছেন যে, গরু পালনের কারণে প্রাণীটির মস্তিষ্কের আকার ছোট হচ্ছে। ‘প্রসিডিংস অফ দি রয়্যাল সোসাইটি বি’ জার্নালে তাদের প্রকাশিত গবেষণাপত্রে এই গবেষক দল বিলুপ্ত এবং প্রাচীন গরুর খুলির সঙ্গে আধুনিক গরুর তুলনা করে এই সিদ্ধান্তে এসেছে।

পূর্বে করা গবেষণায় দেখা গেছে যে, গৃহপালনের ফলে প্রাণীর মস্তিষ্কের আকার ছোট হয়ে আসে। যেমন, কুকুর, বিড়াল, শূকর, ভেড়া এবং ঘোড়ার মস্তিষ্ক তাদের পূর্বপুরুষদের চেয়ে ছোট। সাম্প্রতিক গবেষণায় অংশ নেয়া গবেষকরা আশ্চর্য হয়েছেন যে, পোষা গরুর ক্ষেত্রেও একই ব্যাপার ঘটে। এটি জানতে তারা বছরের পর বছর ধরে পাওয়া অরোক (Auroch) নামের এক প্রজাতির গরুর ১৩ টি খুলি সংগ্রহ করেছিল। অরোক হলো বিলুপ্ত বাইসনের মতো মধ্যপ্রাচ্যের এক প্রাণী, যাকে অনেকে আধুনিক গরুর পূর্বপুরুষ হিসেবে ধারণা করে।

গবেষকরা সমস্ত নমুনার মাথার খুলির অভ্যন্তরীণ অংশগুলি পরিমাপ করেন। এবং প্রতিটি মস্তিষ্কের আকার নির্ণয়ের জন্যে এই পরিমাপগুলি ব্যবহার করেন। দেহের সামগ্রিক আকার নির্ণয় করার জন্যে তারা প্রাণীদের চোয়ালের আকারের সাথে তুলনা করেছিলেন। তারপরে তারা আধুনিক গৃহপালিত গরুর ৭১টি জাতের ৩১৭টি খুলির সাথে তুলনা করেন।

গবেষকরা দেখেছেন যে, গড়ে গরুগুলির মস্তিস্ক তাদের পূর্বপুরুষদের চেয়ে ২৬ শতাংশ ছোট ছিল। তারা আরও লক্ষ্য করেছেন যে, যেসব গরু মানুষের আশেপাশে থাকে, তাদের মধ্যে গৃহপালিত গরুর মস্তিষ্ক সবচেয়ে ছোট হয়। যেমন, খামারের গরুরা মানুষের চারপাশে প্রচুর সময় ব্যয় করে, তাই তাদের মস্তিস্ক সবচেয়ে ছোট হয়ে থাকে। অন্যদিকে ষাঁড়ের লড়াইয়ের জন্যে ব্যবহৃত গবাদি পশুর মস্তিষ্ক বড়। কারণ তাদের লড়াইয়ের তেজ বাঁচিয়ে রাখতে মানুষের কাছ থেকে দূরে রাখা হয়। গবেষক দল উল্লেখ করেছেন যে, ষাঁড়ের লড়াইয়ে অংশ নেয়া গবাদি পশুর মস্তিষ্ক প্রাচীন কালের গরুর মস্তিষ্কের সমানই বড় হয়ে থাকে।

গবেষকরা লক্ষ্য করেছেন যে, গাভীর তুলনায় মাংসের চাহিদা মেটাতে যেসব গরু পালন করা হয়, সেসব গরু মানুষের সাথে বেশি থাকে। অথচ গাভীর মস্তিষ্কই আকারে ছোট হয়ে থাকে। তাদের মতে, এর কারণ হলো গৃহপালিত প্রাণীদের মধ্যে মস্তিষ্কের সঙ্কোচনের সাথে তারা কতটা অনুগত বা সহজে বশ মানে, তার মাত্রা সম্পর্কিত। প্রজননের সময় গাভীর ক্ষেত্রে অনুগত এবং বশ মানা প্রাণী অনেক মূল্যবান। কারণ এতে তাদের দুধ দোয়ানো সহজ হয়। অন্যদিকে মাংসের চাহিদা মেটাতে যেসব গরু পালন করা হয়, তাদের ক্ষেত্রে অনুগত থাকাটা এত বেশি গুরুত্বপূর্ণ না।

Related posts

সাম্প্রতিক © ২০২১ । সম্পাদক. ব্রাত্য রাইসু । ৮১১ পোস্ট অফিস রোড, বাড্ডা, ঢাকা ১২১২