এরপর তারা রুজভেল্টকে আমন্ত্রণ জানায় ভালুকটিকে গুলি করতে।

বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলনাগুলির একটি টেডি বিয়ার। যার নামকরণ হয়েছিল মার্কিন প্রেসিডেন্ট থিওডোর রুজভেল্টের সম্মানে। ১৯০২ সালের নভেম্বরে মিসিসিপি অঙ্গরাজ্যের বনে শিকার করতে গিয়ে একটি অসহায় ভালুককে গুলি না করায় তাকে এই সম্মাননা দেয়া হয়।

শিকারের সময় গাইডরা একটি ভালুককে ধরে একটি গাছের সাথে বেঁধে রাখে। এরপর তারা রুজভেল্টকে আমন্ত্রণ জানায় ভালুকটিকে গুলি করতে। কিন্তু রুজভেল্ট ছিলেন একজন সত্যিকারের শিকারি। যিনি বনে-জঙ্গলে প্রচুর সময় কাটাতেন। তাই তিনি অসহায় ভালুকটিকে গুলি করতে রাজি হন নি। তিনি বলেন, আত্মরক্ষার সুযোগহীন একটি প্রাণীকে মারা অশিকারিসুলভ কাজ হবে।

ঘটনাটি মার্কিনিদের জাতীয় মনোযোগ কাড়ে এবং ক্লিফোর্ড বেরিম্যান এটি নিয়ে একটি কার্টুন আঁকেন। যা বেশ জনপ্রিয় হয়েছিল। কিছু সূত্রের মতে, “ড্রইং দ্যা লাইন ইন মিসিসিপি” শীর্ষক ঐ কার্টুনটি শুধু ভালুকটিকে গুলি না করার ঘটনা নিয়েই ছিল না। বরং এতে মিসিসিপি এবং লুইসিয়ানার মধ্যে সীমানা নিয়ে বিরোধ মীমাংসার বিষয়টিও ছিল।

অন্য কিছু সূত্র বলেছে যে, কার্টুনটি জাতিগত সম্পর্কের বিষয়ে রুজভেল্টের প্রগতিশীল অবস্থান সম্পর্কে একটি মন্তব্য ছিল। যাই হোক, ঐ কার্টুনটি দেখেই অনুপ্রাণিত হয়ে নিউ ইয়র্কের ব্রুকলিনের দোকানদার মরিস মিচটম এবং তার স্ত্রী রোজ আমেরিকার ২৬ তম কমান্ডার-ইন-চীফ রুজভেল্টের সম্মানে সুতা দিয়ে বুনে একটি ভাল্লুক তৈরি করেন। এবং সেটি তাদের দোকানের জানালায় “টেডি’স বিয়ার” নাম দিয়ে প্রদর্শন করেন। সেখান থেকেই এটি গ্রাহকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিল। এরপর ওই দোকানদার দম্পতি মার্কিন রাষ্ট্রপতি রুজভেল্টকে লিখিত ভাবে বিষয়টি জানান এবং তার নামটি তাদের সৃষ্টির জন্য ব্যবহারের অনুমতি চান।

রুজভেল্ট খুশি মনে তাদেরকে অনুমতি দিয়ে দেন। এরপর মিচটম দম্পতি একটি সফল কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন যা টেডি বিয়ার এবং অন্যান্য খেলনা তৈরি করত।

ওদিকে জার্মানিতেও একই সময়ে মার্গারেট স্টিফ নামের এক দর্জি তার কোম্পানিতে দামি সুতা দিয়ে ভালুকের পুতুল বানানো শুরু করেন। তিনি তার কোম্পানিটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন ১৮৮০ সালে। ১৯০২ সালে স্টিফের ভাতিজা রিচার্ড চিড়িয়াখানায় ভালুক দেখে সেটির মতো করে একটি পুতুলের ডিজাইন করেছিলেন। মার্গারেট স্টিফের কোম্পানি সেই ডিজাইন অনুযায়ী ছাগলের লোম দিয়ে ভালুকের পুতুল বানায় এবং ১৯০৩ সালে জার্মানির একটি খেলনা মেলায় তা প্রদর্শন করা হয়।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি খেলনা কোম্পানির এক ক্রেতা সেই মেলা থেকে বিশাল সংখ্যক ভালুকের পুতুল কেনার অর্ডার করেন। এরপর মার্গারেট স্টিফের তৈরি ঐ ভালুকের পুতুল ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। যা ১৯০৬ সালে টেডি বিয়ার হিসাবে পরিচিতি পায় এবং আন্তর্জাতিকভাবে টেডি বিয়ারের ক্রেজ তৈরি করে। অন্য কোম্পানিগুলিও টেডি বিয়ার বানানো শুরু করে।

এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে স্টিফ টেডি বিয়ারের তুমুল ব্যবসা করেন। এমনকি তার পুরোনো মডেলের পুতুলগুলিও সৌখিন সংগ্রহকারীরা নিলামে অত্যধিক চড়া দামে কিনে নেয়।