Subscribe Now
Trending News

Blog Post

ড্যানিয়েল গোলম্যান-এর লিডারশিপের স্বতন্ত্র ৬টি কৌশল
ক্যারিয়ার

ড্যানিয়েল গোলম্যান-এর লিডারশিপের স্বতন্ত্র ৬টি কৌশল 

সুপরিচিত মনোবিজ্ঞানী ড্যানিয়েল গোলম্যান বিশ্বাস করেন যে নেতৃত্বের জন্যে ৬টি স্বতন্ত্র কৌশল রয়েছে। আর এর প্রত্যেকটির কার্যকারিতা নির্ভর করে যেকোনো ব্যক্তির অবস্থা ও আকাঙ্ক্ষার ওপর।

আধুনিক সমাজে আমরা প্রায় সব কাজই দল বেঁধে করি। এ কারণেই নেতৃত্ব এমন মৌলিক একটি দক্ষতা। অনেক মনোবিজ্ঞানী এই বিষয়টি নিয়ে অধ্যয়ন করেছেন। আর ড্যানিয়েল গোলম্যান তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য। ড্যানিয়েল গোলম্যান ইমোশনাল ইন্টেলিজেন্স নিয়ে তার কাজের জন্য সর্বাধিক পরিচিত। তবে তিনি নেতৃত্বের শৈলী বা কৌশল নিয়েও লেখালেখি এবং গবেষণা করেন।

বিভিন্ন ক্ষেত্রে ড্যানিয়েল গোলম্যানের নেতৃত্বের ৬টি ভিন্ন শৈলীর শ্রেণিবিন্যাস ব্যাপক হারে ব্যবহৃত হয়। যেমন, অনেক সিইও এবং ব্যবসা পরিচালকরা তাদের নেতৃত্বের দক্ষতা আরো উন্নত করতে তার কাজ অধ্যয়ন করেন।

 

ড্যানিয়েল গোলম্যানের নেতৃত্বের শৈলীগুলি কী কী?

তার লিডারশিপ দ্যাট গেট রেজাল্টস বইয়ে ড্যানিয়েল গোলম্যান ৬টি ভিন্ন ধরনের নেতৃত্ব বর্ণনা করেছেন। প্রতিটি টাইপ ইমোশনাল ইন্টেলিজেন্সের একেকটি উপাদানের উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে।

গোলম্যানের মতে, নেতৃত্বের এই ৬টি শৈলী অসঙ্গতিপূর্ণ নয়। বরং ঠিক এর উল্টা। শ্রেষ্ঠ নেতারা উপস্থিত পরিস্থিতিকে আয়ত্তে আনতে প্রতিটি শৈলীর উপাদানগুলি কার্যকরভাবে ব্যবহার করতে সক্ষম হন।

যাই হোক, পরিস্থিতি অনুযায়ী সবচেয়ে ভালো কৌশলটি গ্রহণ করার আগে আপনাকে জানতে হবে যে কৌশলগুলি কী কী। এগুলি হল:

  • অথরিটেটিভ বা কর্তৃত্বপরায়ণ
  • ডেমোক্রেটিক বা গণতান্ত্রিক
  • অ্যাফিলিয়েটিভ
  • ভিশনারি বা অন্তর্দৃষ্টি সম্পন্ন
  • পেইস-সেটিং
  • কোচিং বা নির্দেশনামূলক

 

১. অথরিটেটিভ বা কর্তৃত্বপরায়ণ নেতৃত্ব

নেতৃত্বের এই প্রথম কৌশলটি শৃঙ্খলার উপর নির্ভর করে। যারা এই কৌশলটি অনুসরণ করে তারা শৃঙ্খলা বজায় রাখাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়।

সে লক্ষ্যে তারা সাধারণত সংক্ষিপ্ত, বলিষ্ঠ এবং সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দেয়। সাধারণভাবে বলতে গেলে তাদের নির্দেশাবলী অনুসরণ না করার পরিণাম বেশ কঠোর হয়। এই ধরনের নেতারা অন্যের খারাপ আচরণকে উদাহরণ হিসেবে দাঁড়া করানোর চেষ্টা করেন। যেন অন্যেরা এই ভুলগুলি করা থেকে বিরত থাকে।

নেতৃত্বের এই কৌশলটি সাধারণত দলকে অনুপ্রাণিত করে না। কর্মীদের মনে হয় তাদের কাজের ওপর তাদের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। তাদের মনে এই ধারণাটি গড়ে ওঠে যে তারা কাজ করার মেশিন ছাড়া আর কিছুই না।

তাই বলা যায়, শুধুমাত্র চরম পরিস্থিতিতেই নেতৃত্বের এই কৌশলটি ব্যবহার করা উচিত।

আপনার যদি খুব দৃঢ় পদক্ষেপ নেওয়ার দরকার পড়ে বা আপনার সংস্থা বা দল যদি প্রচুর সমস্যার সম্মুখীন হয় তবেই এটি কার্যকর কৌশল হতে পারে। যেমন, জরুরি মুহূর্তে বা একটি অত্যন্ত জটিল কাজের জন্য, যেখানে নিখুঁত ভাবে কাজ সম্পন্ন করাটা গুরুত্বপূর্ণ।

 

২. ডেমোক্রেটিক বা গণতান্ত্রিক নেতৃত্ব

নেতৃত্বের এই কৌশল অনুযায়ী, সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় প্রত্যেকের মতামত নেয়াটা খুবই জরুরি। এর অর্থ সাধারণত প্রচুর সভা, বিতর্ক এবং আলোচনার আয়োজন করা । এই স্টাইলটি বিশেষভাবে কার্যকর যদি কোনো নির্দিষ্ট পথ বেছে নেওয়ার জন্য কারো হাতে প্রচুর সময় থাকে। গ্রুপের সদস্যদের ব্যাকগ্রাউন্ড যদি একই হয় তাহলেও এটি বেশ কাজে আসে।

আপনি যখন পরস্পর সংযুক্ত দলের সাথে কাজ করছেন তখন গণতান্ত্রিক নেতৃত্ব বেশ সহায়ক হয়ে উঠতে পারে। এই ক্ষেত্রে, প্রকল্পটি এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য আপনাকে বিভিন্ন শাখার বা দলের মধ্যে মিশ্রণ ঘটাতে হবে। অন্য কথায়, আপনাকে সেই জায়গাগুলি সন্ধান করতে হবে যেখানে বিভিন্ন শাখাগুলি ওভারল্যাপ করে এবং মিলিত হয়, ফলে প্রত্যেকের কাজের মধ্যে সামঞ্জস্য তৈরি হয়।

 

৩. অ্যাফিলিয়েটিভ লিডারশিপ

নেতৃত্বের এই তৃতীয় ধরনটি দলের সদস্যদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা তৈরির উপর জোর দেয়। এইভাবে, তারা একই সাথে কাজ করতে এবং সাদৃশ্যপূর্ণভাবে সহযোগিতা করতে সক্ষম হয়।

যেসব নেতারা এই শৈলীটি ব্যবহার করেন তারা একটি আদর্শ কর্ম পরিবেশ নিশ্চিত করার চেষ্টা করেন। কারণ তারা তাদের কর্মীদের উপর এর প্রভাবটি বোঝেন।

এই ধরনের নেতাদের প্রধান সমস্যাটি দেখা দেয় যখন শৃঙ্খলা ও নিয়মানুবর্তিতার উল্লেখযোগ্য অভাব তৈরি হয়। সংঘাত চলাকালীন সময়ে তারা সমস্যার মুখোমুখি হতে পারেন কারণ সবাই তখন ব্যাপকভাবে আবেগতাড়িত হয়ে পড়তে পারে।

 

৪. ভিশনারি 

যেসব নেতারা এই নেতৃত্বের স্টাইলটি ব্যবহার করেন তারা তাদের কর্মীদের একটি পরিষ্কার এবং উদ্দীপনাপূর্ণ লক্ষ্য দিয়ে উদ্বুদ্ধ করেন।

তারা প্রতিটি ব্যক্তিকে সেই লক্ষ্য বা উদ্দেশ্যের মধ্যে নিজেদের ভূমিকা খুঁজে পেতে সহায়তা করেন। এই জাতীয় নেতৃত্বের প্রধান সুবিধাটি হ’ল, প্রত্যেকের কাছেই চূড়ান্ত লক্ষ্যটির একটি পরিষ্কার চিত্র থাকে। এটি প্রত্যেককে আরও অনুপ্রাণিত বোধ করতে সাহায্য করে।

মোট কথা, এই নেতৃত্বের কৌশলটি বর্তমানে অন্যতম জনপ্রিয় একটি কৌশল।

 

৫. পেইস-সেটিং লিডারশিপ

একজন পেস-সেটিং নেতার ভূমিকা হল কাজের একটি গতিপথ নির্ধারণ করা। এছাড়াও তাদের নিশ্চিত করতে হবে যে সবাই এটি অনুসরণ করছে।

একজন পেইসসেটার অন্য সবার জন্য উদাহরণ স্থাপন করতে চায়। সাধারণভাবে, এরা হল কোন সংস্থার পরিচালক কিংবা কর্তা যারা কোনো প্রকল্পে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে চায়।

এই নেতৃত্বের শৈলীতে সমস্যাটি হল দলের পক্ষে নতুন কিছু প্রস্তাব করা অসম্ভব হয়ে পড়ে। বিশেষ করে পেসসেটার ইতিমধ্যে যা নির্ধারণ করেছে তার সাথে যা সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এমন কিছু।

এই ধরনের নেতৃত্ব বিশেষত কার্যকর যখন নেতা তার কাজের ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ হন। এরফলে গ্রুপের বাকি সদস্যদের কাছে এই প্রকল্পটি নতুন কিছু শেখার সুযোগ হয়ে উঠতে পারে।

 

৬. কোচিং বা দিক নির্দেশনামূলক নেতৃত্ব

এই তালিকায় শেষ ধরনের নেতৃত্বের ধারণাটি তৈরি হয়েছে কোনো গ্রুপের সদস্যদের তাদের শক্তি এবং দুর্বলতা খুঁজে পেতে সহায়তা করার উপর ভিত্তি করে। তারপরে, কোচ প্রতিটি ব্যক্তিকে তাদের সম্পূর্ণ সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে সহায়তা করেন। এই শৈলীর পিছনের ধারণাটি হল, একজন ভাল কর্মীর কাছ থেকে অনেক বেশি কিছু পাওয়ার আছে। আর যারা নিজেদের সম্ভাবনাকে পূর্ণমাত্রায় কাজে লাগায়নি তাদের কাছ থেকে ভালো কাজ পাওয়ার সম্ভাবনাও কম।

*

ড্যানিয়েল গোলম্যানের নেতৃত্বের প্রতিটি স্টাইলের সুবিধা এবং অসুবিধা উভয়ই রয়েছে। এজন্য পরিস্থিতি সাবধানে বিশ্লেষণ করা এবং সেই অনুযায়ী সঠিক কৌশলটি গ্রহণ করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

নেতৃত্বের দক্ষতা বিকাশ করা কেবল পরিচালক এবং সুপারভাইজারদের জন্যই প্রয়োজনীয় নয়। যারা লক্ষ্য অর্জনের উদ্দেশ্যে দলবদ্ধভাবে কাজ করতে ইচ্ছুক তাদের জন্যেও এই দক্ষতা বিকাশ করা প্রয়োজন।

Related posts

সাম্প্রতিক © ২০২১ । সম্পাদক. ব্রাত্য রাইসু । ৮১১ পোস্ট অফিস রোড, বাড্ডা, ঢাকা ১২১২