Subscribe Now
Trending News

Blog Post

বঙ্গের মহৎপ্রাণ ইংরেজি ভাষা কর্মচারী
যেইটা সেইটা

বঙ্গের মহৎপ্রাণ ইংরেজি ভাষা কর্মচারী 

এখন পর্যন্ত যতগুলি বাংলাদেশী বাচ্চা দেখছি ইংলিশ মিডিয়ামে পড়ে, তাদের বাপ মা’দের মধ্যে প্রত্যেকবার একটা ব্যাপার কমন খেয়াল করছি। বাচ্চাগুলি যতটা বাংলা না বইলা ইংরেজি বলতে চায়, বাপ মায়েরা বরং আরো বেশি চায় বাচ্চাগুলি বাংলা না-বলুক, যা বলার ইংরেজিতেই বলুক।

বাচ্চা যখন প্রপার ইংরেজি বলতে শুরু করে, গর্বের সহিত তারা বাচ্চাকে বুকে টাইনা নেয় এবং বলে যে তাকে নিয়া তারা কত গর্বিত। বাংলার ক্ষেত্রে আদৌ তারা তা করে না। কেননা তাদের কাছে, বাচ্চা কথা বলতে পারল কিনা তার চাইতে অধিক গুরুত্বপূর্ণ বাচ্চা ইংরেজিতে কথা বলতে পারল কিনা। ফলে, ওদের বাংলা আর ডেভেলপ করে না।

একজন ভালো ইংরেজি পারা মা’কে দেখছি, বাচ্চার সঙ্গে আহ্লাদ করতে গিয়া জিগায়, হোয়াট আর ইউ ডুয়িং মাই ডারলিং?

ডারলিংয়ে সমস্যা নাই, সমস্যা বাচ্চা যখন রিপ্লাই দিতে যায়। সে বাংলা বললে তার বাপ-মা পরের বাক্য সচেতনভাবে ইংরেজিতে বলে। বা একই ভাবে বাচ্চা যখন বাপ মা’কে জিগায়, বাবা কী করতেছ বা মা কী করতেছ—তারা তখন উত্তরটা ইংরেজিতে দেয়। পরের বাক্যটা যাতে তার সন্তান বাংলায় বলতে উৎসাহিত না হয়।

ইংলিশ মিডিয়ামে পড়ানো বাপ-মায়েদের এমন অল্প জানা এবং বোঝার কারণে এইভাবে নতুন নতুন ইংরেজির শিশু কর্মচারী তৈরি হইতে থাকে।

তবে আশার কথা, এই বাচ্চারা ইংরেজি উচ্চারণের ভঙ্গিতে মাঝে মধ্যে দুই একটা বাংলা শব্দও বলে।

বাংলা বলার ভঙ্গিতে কেউ ইংরেজি বললে দেখবেন এই ইংরেজি ভাষাকর্মীরা হাসাহাসি করবে। মিশবেই না ওই লোকের সঙ্গে। কিন্তু এরাই আবার বাংলা কথাগুলি ইংরেজি বলার মত কইরা নির্দ্বিধায় বলতে থাকবে।

কেন প্রথমটা তাদের কাছে ওকে, পরেরটাকে তারা নিজের ক্লাসের মনে করে না?

এই ইংরেজি বলা দিয়া আসলে তারা কী চায়?

আমেরিকা-ইউরোপে যাদের মাতৃভাষা ইংরেজি তাদের কমিউনিটিতে এরা নিজের একটা অবস্থান তৈরি করতে চায়। কিন্তু যেই পদ্ধতিতে কাজটা করে সেইটা তাদেরকে ওই ইংরেজি ভাষার গাছের আগায় পৌঁছতে দেয় না।

কারণ, আমেরিকা বা ইউরোপে যাদের মাতৃভাষা ইংরেজি, তারা ভিন্ন ভাষাভাষী পোলাপাইনের মুখে নিজেদের উচ্চারণের ইংরেজি শুইনা তো কোনোপ্রকার উত্তেজনা বোধ করে না। ফলে, ওই কমিউনিটিতেও তাদের আর জায়গা পাওয়া হয় না।

বঙ্গের এই এতিম ইংরেজি ভাষাভাষীরা, বৃটিশ বা আমেরিকান অ্যাকসেন্টের আদলে বইলা বাংলাটাকেও ইংরেজির কাছাকাছি একটা ক্লাস দেওয়ার চেষ্টা করে। এইটাকে বাংলা ভাষার প্রতি তাদের সেবা বলতে পারেন।

দিনের পর দিন ধরে সেবা দানের মাধ্যমে আমাদের ফকিন্নি বঙ্গে বাহে’রা একটি স্মার্ট শুদ্ধ উচ্চারণের ইংরেজি ভাষা উপনিবেশ গড়ে তোলার চেষ্টা করছেন। যেই উপনিবেশের মূলভাষা হবে আমেরিকান কিংবা ব্রিটিশ ইংরেজি আর সাব ভাষা হবে—তাদের উদ্ভট ইংরেজি উচ্চারণের বাংলা।

দুঃখের বিষয়, আমেরিকা বা ইউরোপের ইংরেজি ভাষার মালিকদের অনাগ্রহের কারণে—এই ইংরেজি আবৃত্তি শিল্পীরা মালিকবিহীন ইংরেজি ভাষা কর্মচারী আকারেই থাইকা যায়, পশ্চিমাদের পাশের চেয়ারটিতে আর বসা হইয়া ওঠে না।

২৭ মার্চ, ২০২০

Related posts

সাম্প্রতিক © ২০২১ । সম্পাদক. ব্রাত্য রাইসু । ৮১১ পোস্ট অফিস রোড, বাড্ডা, ঢাকা ১২১২