Subscribe Now
Trending News

Blog Post

বিশ্বের প্রথম থ্রি-ডি প্রিন্টেড আবাসিক এলাকা হচ্ছে মেক্সিকোতে
পরিবেশ

বিশ্বের প্রথম থ্রি-ডি প্রিন্টেড আবাসিক এলাকা হচ্ছে মেক্সিকোতে 

মেক্সিকোর গ্রামীণ অঞ্চল তাবাস্কোতে থ্রি-ডি প্রিন্টারের মাধ্যমে ৫০টি কমিউনিটি হোম নির্মাণাধীন রয়েছে। যা হবে বিশ্বের প্রথম থ্রি-ডি প্রিন্টেড আবাসিক এলাকা।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক অলাভজনক প্রতিষ্ঠান নিউ স্টোরি প্রযুক্তি সংস্থা আইসিওএন-এর সাথে মিলে বিশ্বের এই প্রথম থ্রিডি প্রিন্টেড পাড়াটি নির্মাণ করছে। বিশ্বব্যাপী গৃহহীনতার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে আইসিওএন-এর যে প্রকল্প রয়েছে তারই অংশ এই থ্রিডি প্রিন্টেড কমিউনিটি হোম নির্মাণের উদ্যোগ।

নিউ স্টোরির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এবং সহ-প্রতিষ্ঠাতা ব্রেট হ্যাগলার বলেছেন, “একটি মেশিন যা এক্স-ওয়াই অক্ষের মধ্যে স্থাপিত তা থেকে একটি নজেলের মাধ্যমে তরল সিমেন্টের মিশ্রণ বেরিয়ে আসবে। এই মিশ্রণকে প্রায় নরম-পরিবেশিত আইসক্রিমের মতো দেখাবে।”

মেশিনটি প্রথমে বাড়ির একেবারে তলা থেকে শুরু করে স্তরে স্তরে সিমেন্ট ঢেলে ছাদ পর্যন্ত কাঠামোটি তৈরি করে ফেলে। এরপর ছাদটি স্থাপন করা হয়। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পুরো পক্রিয়াটি শেষ হতে মাত্র ২৪ ঘণ্টা সময় লাগে।

হ্যাগলার বলেন, শারীরিক শ্রমের কাজগুলি করার জন্য কোম্পানি স্থানীয় শ্রমিকদেরকে ভাড়া করে। থ্রি-ডি প্রযুক্তি এবং অটোমেশন বাড়ি নির্মাণের কাজকে অনেক দ্রুততর করেছে। কিন্তু এরপরও ছাদ এবং দরজা স্থাপন ও পানির লাইন স্থাপনের জন্য শারীরিক শ্রমের দরকার হয়।

তিনি বলেন, “নির্মাণ কাজকে দ্রুততর, সস্তা এবং চূড়ান্তভাবে আরও ভাল পণ্য তৈরি করার জন্যই আমরা এই প্রযুক্তিটি নিয়ে এসেছি। এবং তারপর প্রয়োজনীয় অন্যান্য উপাদানগুলিকে যুক্ত করার জন্য স্থানীয় শ্রমিকদেরকেও কাজে লাগানো হবে।”

হ্যাগলার বলেন, থ্রি-ডি প্রিন্টারে তৈরি করা প্রতিটি বাড়িতে দুটি বেড রুম, একটি লিভিং রুম, রান্নাঘর এবং বাথরুম থাকবে। প্রতিটি বাড়ি হ্যারিকেনের মতো প্রবল সামুদ্রিক ঝড় প্রতিরোধ এবং ভূমিকম্পও মোকাবিলা করতে পারবে। তিনি বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় যথেষ্ট শক্তিশালী হওয়ার ফলে বাড়িগুলি কয়েক প্রজন্ম ধরে টিকে থাকবে এবং পরিবারগুলি এক প্রজন্ম থেকে আরেক প্রজন্মের হাতে ঘরগুলি অক্ষত অবস্থাতেই হস্তান্তর করতে পারবে।”

২০১০ সালে ৭ মাত্রার এক ভয়াবহ ভূমিকম্পে পুরো হাইতি বিধ্বস্ত এবং লাখ লাখ মানুষ আহত ও গৃহহীন হওয়ার পর যাত্রা শুরু করে নিউ স্টোরি নামের কোম্পানিটি। হ্যাগলার বলেন, হাইতির ধ্বংসযজ্ঞ দেখে “আমার হৃদয় ভেঙে গিয়েছিল।” তিনি বলেন, যখন তিনি হাইতিতে অনুদান দিতে গিয়েছিলেন, তখন তিনি এমন কোনো অগ্রগামী চিন্তার দাতব্য সংস্থা দেখেন নি যারা ওই অঞ্চলে কোনো উদ্ভাবনী প্রযুক্তি প্রয়োগ করছিল এবং সত্যিকার উন্নয়ন করেছিল।

প্রচলিত পদ্ধতিতে কাজ করার বদলে তিনি নিউ স্টোরি প্রতিষ্ঠা করেন। যার উদ্দেশ্য ছিল এমন কোনো নতুন রোবোটিক প্রযুক্তি দিয়ে কাজ করা যাতে জরুরি প্রয়োজনের মধ্যে থাকা জনগোষ্ঠীকে পুনর্গঠন কাজে দ্রুত সহায়তা দেয়া যায়।

মেক্সিকোর তাবাস্কো অঞ্চলের একটি পরিবার মাত্র ৩ ডলারেরও কম অর্থ দিয়ে প্রতিদিনের জীবন যাপন করে। এখন নিউ স্টোরির থ্রি-ডি প্রিন্টার ভালকান-২ ব্যবহার করে তারা অল্প সময়ের মধ্যেই নিরাপদ ও টেকসই ঘরও বানাতে পারছে। হ্যাগলার বলেন, এখনই তারা থ্রি-ডি প্রিন্টার দিয়ে বাড়ি বানানোর খরচ জনসম্মুখে প্রকাশ করবেন না। তবে তারা তাদের এই আবিষ্কার জনমানুষের কাজে না লাগিয়ে শুধু নিজেদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ করে রাখতে চান না।

তাবাস্কোর প্রকল্প শেষ হওয়ার পর তারা বিশ্বব্যাপী গৃহহীনতা দূর করার জন্য নিয়োজিত অন্যান্য অলাভজনক সংস্থাগুলির জন্যও কাজ করবেন।

হ্যাগলার বলেন, “আমাদের বড় স্বপ্নটি হল এই প্রযুক্তি সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া, গণতান্ত্রিকীকরণ করা এবং সেসব অলাভজনক সংস্থা এবং সরকারের হাতে এই প্রযুক্তি তুলে দেওয়ার চেষ্টা করা যারা তাদের শহর এবং নগরগুলির মারাত্মক সমস্যাগুলি সমাধানের জন্য কাজ করছে।”

Related posts

সাম্প্রতিক © ২০২১ । সম্পাদক. ব্রাত্য রাইসু । ৮১১ পোস্ট অফিস রোড, বাড্ডা, ঢাকা ১২১২