মাইন ক্যাম্ফ বইটিতে একটা গণহত্যাকারী শাসনামলের নীল নকশা ফুটে ওঠে এবং তা অনুসরণ করেই ১৯৩৩ সালে নাৎসি সরকার ক্ষমতায় আসে।

২০১০ সালে নিউ ইয়র্কে প্রথম দিককার একটি সংস্করণ নিলামে ওঠে

মিউনিখের একদল একাডেমিকস টীকা এবং সংযুক্তিসহ মাইন ক্যাম্ফের নতুন একটি সংস্করণ প্রস্তুত করেছেন। এই সংস্করণটি স্বৈর শাসক হিটলারের প্রতিটা মিথ্যা ফাঁস করে দিবে।

বইটাতে ৩৫০০ টা একাডেমিক নোট থাকবে যার কারণে হিটলারের অ্যান্টি-সেমেটিক ফাঁপা কথাবার্তাগুলি চ্যালেন্জের র মুখে পড়বে।

বইটির নামের অনুবাদ—’আমার সংগ্রাম’, প্রথম লেখা হয়েছিল ১৯২৪ সালে। নতুন জার্মান প্রজাতন্ত্রের বিরুদ্ধে একটি ব্যর্থ অভ্যুত্থানের কারণে হিটলার তখন জেলে ছিলেন।

সারা বিশ্ব জুড়ে বইটি একজন ভবিষ্যৎ স্বৈরাচারীর রাজনৈতিক ইশতেহার হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বইটিতে হিটলার ইহুদি এবং স্ল্যাভিক লোকদের প্রতি তার ঘৃণা এবং পূর্বদিকে জার্মানিকে সম্প্রসারিত করার পরিকল্পনার কথা বর্ণনা করেছেন।

মাইন ক্যাম্ফ বইটিতে একটা গণহত্যাকারী শাসনামলের নীল নকশা ফুটে ওঠে এবং তা অনুসরণ করেই ১৯৩৩ সালে নাৎসি সরকার ক্ষমতায় আসে।

মিউনিখের ইনস্টিটিউট ফর কনটেম্পরারি হিস্টোরির চারজন একাডেমিকের একটি দল তিন বছরে এই ১৯৪৮ পাতার সংস্করণটি তৈরি করেছেন।

৭০ বছরের পুরোনো একটি কপিরাইটের মালিক স্টেট অব ব্যাভারিয়া—নতুন কোনো নাৎসি দল বা আবার ধ্বংসযজ্ঞ শুরু হওয়ার ভয়ে তারা বইটি নিষিদ্ধ করেছে। ২০১৬ এর জানুয়ারিতে এই বইটির নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে এবং যে কেউ এই বইটি ছাপতে পারবে।

চারজন একাডেমিকের দলনেতা, ডক্টর ক্রিশ্চিয়ান হার্ট্মান বলেছেন, যে কেউই যদি এই বইটি পুনর্মুদ্রণ করতে পারে তাহলে একটি বিশেষজ্ঞদের তৈরি করা সংস্করণ থাকা ভালো যা তার মিথ্যাগুলিকে আর টিকতে দিবে না।

তিনি আরো বলেছেন, “আমরা হিটলারের লেখার সাথে আমাদের মন্তব্যের শক্তিশালী সংযোগ ঘটিয়েছি, ফলে একই ডাবল পেজে দুটি জিনিসই থাকবে। সামরিক টার্মে বললে আমি এটাকে বলব ‘নির্মূল করার যুদ্ধ’—আমরা আমাদের টীকা এবং সংযুক্তি দিয়ে হিটলারকে বৃত্তবন্দি করছি।

“আমাদের মূল লক্ষ্য ছিল জটিল টীকা এবং নোট ছাড়া হিটলারের একটা টেক্সটও যাবে না। হিটলারের কথায় বিঘ্ন ঘটছে, সে সমালোচিত হচ্ছে, প্রয়োজন অনুযায়ী তাকে যুক্তি দিয়ে খণ্ডন করা হচ্ছে।”